কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
গঞ্জে গঞ্জুক গুরুজন তাহে না ডরাই
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

গঞ্জে গঞ্জুক গুরূ-জন তাহে না ডরাই।
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ-পতি আপদ এড়াই॥
বলে বলুক পাড়ার লোক তাহে নাহি ডর।
না বলে না ডাকুক না যাব তার ঘর॥
ধরম-করম যাউক তাহে না ডরাই।
মনের ভরমে পাছে বন্ধুরে হারাই॥
কালা-মণিকের মালা গাঁথি নিব গলে।
কানু গুণ যশ আমি পরিব কুণ্ডলে॥
কানু-অনুরাগ-রাঙ্গা বসন পরিয়া।
দেশে দেশে ভরমিব যোগিনী হইয়া॥
যদুনাথ দাসে কহে এহি মনে সাধ।
হয় হউক জগ ভরি কালা পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ধানশী॥

গঞ্জে গঞ্জুক গুরুজন তাহে না ডরাই।
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ পতি আপদ এড়াই॥
বলে বলুক পাড়ার লোক তাহে নাহি ডর।
না বলে না ডাকে নাহি যাব তার ঘর॥
ধরম করম যাউক তাহে না ডরাই।
মনের ভরমে পাছে বন্ধুরে হারাই॥
কালা মণিকের মালা গাঁথি নিব গলে।
কানুগুণযশ কানে পরিব কুণ্ডলে॥
কানু অনুরাগ রাঙ্গা বসন পরিয়া।
দেশে দেশে ভরমিব যোগিনী হইয়া॥
যদুনাথ দাসে কহে এহি মনে সাধ।
হয় হউক জগ ভরি কালা পরিবাদ॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্ধু হে কি আর বলিব
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের
২০১ পুথি থেকে।

॥ সুহই॥

বন্ধু হে কি আর বলিব।
তুমি যে এমন এত-দিবসে জানিল॥
যখন তোমার সনে না ছিল মিলন।
আমারে দেখিতে কত কব়্যাছ যতন॥
বিপিনে আমার লাগি জাগিলে রজনি।
তিলে আমায় না দেখিলে তেজহ পরাণি॥
এবে আমা দেখি তুমি ফিরিয়া না চাও।
তুলিয়া রসের ডিঙ্গায় পাথারে ডুবাও॥
এবে সতী সাধে তোমায় না পাই দেখিতে।
মরুক যে পিরীতি করে খলের সহিতে॥
পহিল মিলনে যত কহিলে আমারে।
আকাশের চাঁদ দিলে হাতের উপরে॥
কত সুধা ঢাল বন্ধু কলসে কলসে।
যদুনাথ দাসে কহে বিন্দু না পরশে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বন্ধু হে কি আর বলিব।
তুমি যে এমন আগে কেমনে জানিব॥
যখন তোমার সনে না ছিল মিলন।
আমারে দেখিতে কত কব়্যাছ যতন॥
বিপিনে আমার লাগি জাগিলে রজনি।
তিলে আমায় না দেখিলে তেজহ পরাণি॥
এবে আমা দেখি তুমি ফিরিয়া না চাও।
তুলিয়া রসের ডিঙ্গায় পাথারে ডুবাও॥
এবে সতী-সাধে তোমায় না পাই দেখিতে।
মরুক যে পিরিতি করে খলের সহিতে॥
পহিল মিলনে যত কহিলে আমারে।
আকাশের চাঁদ দিলে হাতের উপরে॥
কত সুধা ঢাল বন্ধু কলসে কলসে।
যদুনাথ দাসে কহে বিন্দু না পরশে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সজনি ও বড় বিষম প্রেমজ্বালা
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সজনী ও বড় বিষম প্রেম-জ্বালা।
তাসনে না কহিও কথা যার বরণ কালা॥ ধ্রু॥
যদিবা কহিবে কথা পাষাণে বান্ধ হিয়া।
তিলে তিলে দণ্ডে দণ্ডে মরিবে বুঝিয়া॥
যে জন না জানে পিরীতি সে জন আছে ভাল।
হাসিয়া পিরীতি করিয়া জনম পুড়িতে গেল॥
যদুনাথ দাসে কহে এই বোল বটে।
পিরীতি বদরি আনল ছুইতে জ্বলিয়া উঠে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ
দাসের পদরসসার পুথি থেকে।

॥ বরাড়ী॥

সজনি ও বড় বিষম প্রেম-জ্বালা।
তা সনে না কৈয় কথা যার বরণ কালা॥
যদি বা কহিবে কথা পাষাণে বান্ধ হিয়া। ধ্রু॥
তিলে তিলে দণ্ডে দণ্ডে মরিবে বুঝিয়া॥
যে জন না জানে পিরিত সে জন আছে ভাল।
হাসিয়া পিরিতি করি কান্দি জনম গেল॥
যদুনাথ দাসে কহে এই বোল বটে।
পিরিতি বদরি-আনল ছুইতে জ্বল্যা উঠে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সজনি ও বড় বিষম প্রেমজ্বালা।
তা সনে না কৈয় কথা যার বরণ কালা॥ ধ্রু॥
যদি বা কহিবে কথা পাষাণে বান্ধ হিয়া।
তিলে তিলে দণ্ডে দণ্ডে মরিবে বুঝিয়া॥
যে না জানে পিরীতি সে জন আছে ভাল।
হাসিয়া পিরীতি করি কান্দি জনম গেল॥
যদুনাথ দাসে কহে এই বোল বটে।
কুলের অঙ্গার প্রেম ছুঁলে জ্বলি উঠে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ও বড় নিঠুর শ্যামরায়
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি থেকে।

॥ সুহই॥

ও বড় নিঠুর শ্যাম-রায়।
যার লাগি মোর মন                        সদা করে উচাটন
তারে নাকি এমতি যুয়ায়॥ ধ্রু॥
পূরুব পিরিতি যত                        তাহা না কহিব কত
কহিলে কে যায় পরতীত।
এবে সে জানিল দড়                        পিরিতি বিষম বড়
অন্তরে আকুল কৈল চীত॥
শুনিয়া বাঁশরী গীত                       স্থির নহে মোর চীত
দুখের উপরে আরো দুখ।
চিতে পরবোধ দিয়া                      পাষাণে বান্ধিব হিয়া
আর না দেখিব চাঁদ-মুখ॥
পিরিতি এমতি রস                        যাহাতে সকলি বশ
পিরিতি পরশ-সমতুল।
যদুনাথ দাসে কয়                          পিরিতি এমতি হয়
পিরীতে মজিল জাতি-কুল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ও বড় নিঠুর শ্যামরায়।
যার লাগি মোর মন                        সদা করে উচাটন
তারে নাকি এমতি যুয়ায়॥ ধ্রু॥
পূরুব পিরীতি যত                        তাহা না কহিব কত
কহিলে কে যায় পরতীত।
এবে সে জানিল দড়                        পিরীতি বিষম বড়
অন্তরে আকুল কৈল চীত॥
শুনিয়া বাঁশরী গীত                       স্থির নহে মোর চীত
দুখের উপরে আরে দুখ।
চিতে পরবোধ দিয়া                      পাষাণে বান্ধিব হিয়া
আর না দেখিব চাঁদ-মুখ॥
পিরীতি এমতি রস                        যাহাতে সকলি বশ
পিরীতি পরশ-সমতুল।
যদুনাথ দাসে কয়                        পিরীতি এমতি হয়
পিরীতে মজিল জাতি-কুল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এমন কালিয়া চান্দে কে আনিল দেশে
এমন কালিয়া চাঁদের কে বানাল বেশ
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এমন কালিয়া চাঁদ কে আনিল দেশে।
অকলঙ্ক কুলেতে কলঙ্ক পরবেশে॥
গগনেতে একই চাঁদ ইহাই মোরা জানি।
ঘাটের কূলে চাঁদের গাছ কে রোপিল আনি॥
চাঁদের গাছে চাঁদের পাতা চাঁদের ফুল ফলে।
এমন কভু দেখি নাই চাঁদের গাছ চলে॥
দশ চাঁদ নাচে গায় মুরলীর রন্ধে।
আর দশ চাঁদ তার চরণার বৃন্দে॥
চূড়াতে কতেক চাঁদ দেখি লাগে ধাঁধা।
কপালে কতেক চাঁদ মন রইল বাঁধা॥
যদুনাথ দাসে কহে দেখ না যাইয়া।
চাঁদ নহে নন্দ সুত আছে দাঁড়াইয়া॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন
গাঁড়াদহের পুথি থেকে।

শ্রীরাধার রূপোল্লাস
॥ ধানশী॥

এমন কালিয়া চান্দে কে আনিল দেশে।
অকলঙ্ক কুলেতে কলঙ্ক রৈল শেষে॥
চান্দের উপরে চান্দ চান্দের টালনি।
তিন চান্দ এক ঠাঁই কভু নাহি শুনি॥
দশ চান্দ নাচে গায় মুরলীর রন্ধে।
আর দশ চান্দ রাঙ্গা-চরণারবিন্দে॥
গগনেতে এক চান্দ তাই মোরা জানি।
ঘাটের মাঝে চান্দের গাছ কে রুপিল আনি॥
হাতে চান্দ পায়ে চান্দ আর চান্দ কপালে।
এমন কভু শুনি নাই যে চান্দের গাছ চলে॥
যদুনাথ দাসে কয় হরষিত হৈয়া।
চান্দ নহে নন্দ-সুত আছে দাঁড়াইয়া॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সিন্ধুরা মিশ্র - তাল দশপাহিড়া॥

এমন কালিয়া চাঁদের কে বানাল বেশ।
অকলঙ্ক কুলেতে কলঙ্ক পরবেশ॥
গগনেতে একই চাঁদ এইমাত্র জানি।
ঘাটের কূলে চাঁদের গাছ কে রুপিল আনি॥
চাঁদের গাছ চাঁদের পাতা চাঁদের ফুল ফলে।
এমন কভু দেখি নাই চাঁদের গাছ চলে॥
দশ চাঁদ নাচে গায় মুরলীর রন্ধ্রে।
আর দশ চাঁদ তার চরণ অরবিন্দে॥
চূড়ায় কতেক চাঁদ দেখি লাগে ধান্ধা।
কপালে কতেক চাঁদ মন রইল বান্ধা॥
যদুনাথ দাসে কহে দেখ না যাইয়া।
চাঁদ নহে নন্দসুত রয়েছে দাঁড়াইয়া॥

অর্থ -
দশ চাঁদ নাচে মুরলীর রন্ধ্রে --- দশটি অঙ্গুলীতে দশটি নখরূপ চন্দ্র ঝলমল করিতেছে।
চরণের অঙ্গুলীতেও দশটি নখ-চাঁদ স্বরূপ।
চূড়ায় চন্দ্র --- ময়ূরপুচ্ছের মধ্যে যে চন্দ্রাকৃতি থাকে, তাহা দেখিয়া যদুনাথ দাস
বলিতেছেন, এ চাঁদ নয় দেখ নন্দনন্দন দাঁড়াইয়া আছেন।
---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপোল্লাস
॥ ধানশী॥

এমন কালিয়া চান্দে কে আনিল দেশে।
অকলঙ্ক কুলেতে কলঙ্ক রৈল শেষে॥
চান্দের উপরে চান্দ চান্দের টালনি।
তিন চান্দ এক ঠাঁই কভু নাহি শুনি॥
দশ চান্দ নাচে গায় মুরলীর রন্ধ্রে।
আর দশ চান্দ রাঙ্গা চরণারবিন্দে॥
গগনেতে এক চান্দ তাই মোরা জানি।
ঘাটের মাঝে চান্দের গাছ কে রুপিল আনি॥
হাতে চান্দ পায়ে চান্দ আর চান্দ কপালে।
এমন কভু শুনি নাই যে চান্দের গাছ চলে॥
যদুনাথ দাসে কয় হরষিত হৈয়া।
চান্দ নহে নন্দসুত আছে দাঁড়াইয়া॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বেণুরব শুনি কানে চিতে না ধৈরজ মানে ব্যস্ত
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

বেণু-রব শুনি কানে                        চিতে না ধৈরজ মানে
ব্যস্ত হৈয়া অমনি উঠিল।
কে যাবি কে যাবে আয়                    আর ত না রহা যায়
বলি ধনী আপনি সাজিল॥
সুচতুর সহচরী                             বুঝাইছে বেরি বেরি
চল যাব মথুরার বিকে।
গোবিন্দ গোধন লৈয়া                    পথ পানে আছে চাঞা
বড়াইরে আমি আনি ডেকে॥
সঙ্গে গেলে বড়াই আই                      পথে কিছু ভয় নাই
গুরু-জনা অনুমতি দিবে।
পুরিবে সকল সাধ                           যাইতে না হবে বাদ
শ্যাম সঙ্গে পথে দেখা হবে॥
শুনিয়া আনন্দে ধনী                           কহে সুমধুর বাণী
তবে সভে সাজাও পসরা।
আসিবে বড়াই আই                           তাহার বিলম্ব নাই
বেশ ভূষা করি গো আমরা॥
বান্ধে কেশ বস্ত্র পরে                           কুঙ্কুম চন্দন উরে
সিন্দুরের বিন্দু দিল ভালে।
কবরী কানাড়া-ছান্দে                        মুকুতার ঝুরি বান্ধে
চম্পক-কুসুম তায় দোলে॥
কাঁচলি বান্ধিল আঁটি                        অঞ্চলে ফাঁদিয়া কটি
রঙ্গিয়া উড়নী দিল গায়।
যদুনাথ দাসে কয়                                হৃদয় আনন্দময়
ঘৃত ঘোলে পসরা সাজায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

বেণিরব শুনি কানে                        চিতে না ধৈরজ মানে
চমকিয়া অমনি উঠিল।
কে যাবি কে যাবে আয়                    আর ত না রহা যায়
বলি ধনী আপনি সাজিল॥
সুচতুর সহচরী                             বুঝাইছে বেরি বেরি
চল যাব মথুরার বিকে।
গোবিন্দ গোধন লৈয়া                     পথ পানে আছে চাঞা
বড়াইরে আমি আনি ডেকে॥
সঙ্গে গেলে বড়াই আই                     পথে কিছু ভয় নাই
গুরুজনা অনুমতি দিবে।
পুরিবে সকল সাধ                           যাইতে নাহিবে বাদ
শ্যাম সঙ্গে পথে দেখা হবে॥
শুনিয়া আনন্দে ধনী                            কহে সুমধুর বাণী
তবে সভে সাজাও পসরা।
আসিবে বড়াই আই                           তাহার বিলম্ব নাই
বেশ ভূষা করি গো আমরা॥
বান্ধে কেশ বস্ত্র পরে                           কুঙ্কুম চন্দন উরে
সিন্দুরের বিন্দু দিল ভালে।
কবরী কানাড়া ছান্দে                        মুকুতার ঝুরি বান্ধে
চম্পক কুসুম তায় দোলে॥
কাঁচলি বান্ধিল আঁটি                      অঞ্চলে ফেলিয়া কটি
রঙ্গিয়া উড়নী দিল গায়।
যদুনাথ দাসে কয়                             হৃদয় আনন্দময়
ঘৃত ঘোলে পসরা সাজায়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাঁশী রব লাগিল কানে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৮০-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।“বেণুরব শুনি কানে” এবং “বাঁশী রব লাগিল কানে”, এই দুটি পদের কেবল
প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখা হচ্ছে।

বংশী খণ্ড
॥ শ্রীরাগ মিশ্র কেদার - মধ্যম দশকুশী॥

বাঁশী রব শুনিল কানে                 চিতে না ধৈরয মানে
অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবে আমার সাথে                    ফুলধনু লও হাতে
ভেটি গিয়ে গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে                     সাজাব মনের সাধে
অমনি যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখি সঙ্গে                       নাগর ভেটিব রঙ্গে
যেতে হবে তাও মোরা জানি॥
দুসুতি মুকুতা-মালা                      গাঁথি এক ব্রজবালা
আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন                     বিধু পাশে তারা যেন
উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী                        তনু যেন কাঁচা ননী
তাহে হোল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে                        প্রতিবিম্ব বিলোকনে
ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ                           কহে সব সখীগণ
কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়                             এখন উচিত হয়
বঁধু পাশে করিতে গমন॥


ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭৪-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “বেণুরব শুনি কানে” এবং “বাঁশী রব
লাগিল কানে”, এই দুটি পদের কেবল প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে পদ দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখা
হচ্ছে।

॥ মায়ূর - মধ্যম দশকুশী॥

বাঁশী রব লাগিল কানে,                  চিতে না ধৈরয মানে,
অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবে আমার সাথে,                      ফুলধন লও হাতে
ভেটি গিয়ে গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে,                      সাজাব মনের সাধে,
অমনি যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখি সঙ্গে,                        নাগর ভেটিব রঙ্গে,
যেতে হবে তাও মোরা জানি॥
দুসুতি মুকুতা মালা,                       গাঁথি এক ব্রজবালা,
আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন,                      বিধু পাশে তারা যেন,
উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী,                           তনু যেন কাঁচা ননী,
তাহে হ’ল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে,                          প্রতিবিম্ব বিলোকনে,
ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ,                            কহে সব সখীগণ,
কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়,                              এখন উচিত হয়,
বঁধুপাশে করিতে গমন॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী মাথুর - তাল তেওট॥

বেণুরব শুনি কানে, চিত ধৈরজ নাহি মানে, অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবি আমার সাথে, ফুলধনু লও হাতে, ভেটি গিয়া গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে, সাজাব মনের সাধে, অমনে যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখীসঙ্গে, নাগর বেটিব রঙ্গে, যেতে হবে তাও আমরা জানি॥
দুসূতি মুকুতা মালা, গাঁথি এক ব্রজবালা, আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন, বিধু পাশে তারা যেন, উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী, তনু যেন কাঁচা ননী, তাহে হল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে, প্রতিবিম্ব বিলোকনে, ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ, কহে সব সখীগণ, কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়, এখন উচিত হয়, বন্ধু পাশে করিতে গমন॥

ভাবার্থ -
শ্রীমতী রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণের বাঁশী শুনিয়া অধৈর্য্য হইয়া দরশনের জন্য ব্যাকুল হইলেন। বলিলেন---সখি, শীঘ্র
চল কৃষ্ণকে দেখি গিয়া --- হাতে ফুল ধনু লও। শুনিয়া ললিতা সখী বলিতেছেন, ওগো রাধে, যাইতে হইবে---
তাহা আমরাও জানি, কিন্তু ভূষণাদি বর্জিত হইয়া গেলে তোমার বঁধু মনে করিবেন যে রাধার কেহ নাই।
তাহা আমরা কেন সহ্য করিব ? এস অগ্রে তোমাকে মনমোহিনী করিয়া সাজাইয়া দিই। এই বলিয়া সখীগণ
শ্রীমতীকে নানা বেশভূষায় বিভূষিত করিল। শ্রীমতী দর্পণে নিজরূপ দেখিয়া নিজেই মোহিত হইলেন। মনে
আনন্দ হইল।---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বেণুরব শুনি কানে চিত ধৈরজ নাহি মানে অমনি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। “বেণুরব শুনি কানে” এবং “বাঁশী রব লাগিল কানে”, এই দুটি পদের কেবল প্রথম
পংক্তির ভিন্নতার কারণে দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখা হচ্ছে।

॥ রাগিণী মাথুর - তাল তেওট॥

বেণুরব শুনি কানে, চিত ধৈরজ নাহি মানে, অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবি আমার সাথে, ফুলধনু লও হাতে, ভেটি গিয়া গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে, সাজাব মনের সাধে, অমনে যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখীসঙ্গে, নাগর বেটিব রঙ্গে, যেতে হবে তাও আমরা জানি॥
দুসূতি মুকুতা মালা, গাঁথি এক ব্রজবালা, আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন, বিধু পাশে তারা যেন, উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী, তনু যেন কাঁচা ননী, তাহে হল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে, প্রতিবিম্ব বিলোকনে, ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ, কহে সব সখীগণ, কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়, এখন উচিত হয়, বন্ধু পাশে করিতে গমন॥

ভাবার্থ -
শ্রীমতী রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণের বাঁশী শুনিয়া অধৈর্য্য হইয়া দরশনের জন্য ব্যাকুল হইলেন। বলিলেন---সখি, শীঘ্র
চল কৃষ্ণকে দেখি গিয়া --- হাতে ফুল ধনু লও। শুনিয়া ললিতা সখী বলিতেছেন, ওগো রাধে, যাইতে হইবে---
তাহা আমরাও জানি, কিন্তু ভূষণাদি বর্জিত হইয়া গেলে তোমার বঁধু মনে করিবেন যে রাধার কেহ নাই।
তাহা আমরা কেন সহ্য করিব ? এস অগ্রে তোমাকে মনমোহিনী করিয়া সাজাইয়া দিই। এই বলিয়া সখীগণ
শ্রীমতীকে নানা বেশভূষায় বিভূষিত করিল। শ্রীমতী দর্পণে নিজরূপ দেখিয়া নিজেই মোহিত হইলেন। মনে
আনন্দ হইল।

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৮০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বংশী খণ্ড
॥ শ্রীরাগ মিশ্র কেদার - মধ্যম দশকুশী॥

বাঁশী রব শুনিল কানে                  চিতে না ধৈরয মানে
অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবে আমার সাথে                    ফুলধনু লও হাতে
ভেটি গিয়ে গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে                      সাজাব মনের সাধে
অমনি যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখি সঙ্গে                      নাগর ভেটিব রঙ্গে
যেতে হবে তাও মোরা জানি॥
দুসুতি মুকুতা-মালা                       গাঁথি এক ব্রজবালা
আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন                    বিধু পাশে তারা যেন
উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী                        তনু যেন কাঁচা ননী
তাহে হোল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে                        প্রতিবিম্ব বিলোকনে
ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ                           কহে সব সখীগণ
কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়                             এখন উচিত হয়
বঁধু পাশে করিতে গমন॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর - মধ্যম দশকুশী॥

বাঁশী রব লাগিল কানে,                 চিতে না ধৈরয মানে,
অমনি উঠিল রসবতী।
কে যাবে আমার সাথে,                     ফুলধন লও হাতে
ভেটি গিয়ে গোকুলের পতি॥
ললিতা বলিছে রাধে,                      সাজাব মনের সাধে,
অমনি যাইবে কেন ধনি।
শেষে সব সখি সঙ্গে,                       নাগর ভেটিব রঙ্গে,
যেতে হবে তাও মোরা জানি॥
দুসুতি মুকুতা মালা,                        গাঁথি এক ব্রজবালা,
আনি দিল শ্রীমতীর গলে।
অনুমানে বুঝি হেন,                      বিধু পাশে তারা যেন,
উদয় হইল মেঘের কোলে॥
অভিনব কমলিনী,                          তনু যেন কাঁচা ননী,
তাহে হ’ল ভূষণে ভূষিত।
নিজ অঙ্গ দরপণে,                        প্রতিবিম্ব বিলোকনে,
ধনি ভেল আপনে মোহিত॥
করি বেশ বিভূষণ,                           কহে সব সখীগণ,
কি লাগিয়া বিলম্ব এখন।
যদুনাথ দাসে কয়,                           এখন উচিত হয়,
বঁধুপাশে করিতে গমন॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এত শুনি এক সখী মনেতে হইয়া সুখী
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

এত শুনি এক সখী                        মনেতে হইয়া সুখী
যায়্যা বলে শুন গো বড়াই।
বিকি কিনি করিবারে                     কৃষ্ণ-মুখ দেখিবারে
তোমারে নিতে পাঠাইছে রাই॥
বড়াই আসিয়া বলে                        অতি বড় কুতূহলে
শুন গো রাজার নন্দিনি।
মথুকার বিকে যাহ                        পসরা সাজাও রাই
তোরে শিখাইব বিকি-কিনি॥
সুবর্ণের ভাণ্ড তথি                             খীর নবনী দধি
সারি সারি পসরা উপরে।
বিচিত্র নেতের ফালি                    তাহাতে উড়নি ভালি
দাসী-শিরে ঝলমল করে॥
রঙ্গিয়া-বড়াই সঙ্গে                        পথে যায় নানা-রঙ্গে
মন্দ-গতি জিনিয়া করিণী।
লোটন লুটায় পিঠে                        কাঁকালি লুকায় মুঠে
নিতম্বে সোণার রুনঝুনি॥
মুখে চুয়াইছে ঘাম                           যেন মুকুতার দাম
হেন-মণি কুমুদের সখা।
যদুনাথ দাসে ভণে                            ব্রজের রমণীগণে
যমুনার তীরে দিল দেখা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এত শুনি এক সখী                        মনেতে হইয়া সুখী
যায়্যা বলে শুন গো বড়াই।
বিকি কিনি করিবারে                     কৃষ্ণমুখ দেখিবারে
তোমারে নিতে পাঠাইছে রাই॥
বড়াই আসিয়া বলে                       অতি বড় কুতূহলে
শুন গো রাজার নন্দিনী।
মথুকার দিকে যাই                        পসরা সাজাও রাই
তোরে শিখাইব বিকিকিনি॥
সুবর্ণের ভাণ্ড তথি                             খীর নবনী দধি
সারি সারি পসরা উপরে।
বিচিত্র নেতের ফালি                    তাহাতে উড়নি ভালি
দাসী শিরে ঝলমল করে॥
রঙ্গিয়া বড়াই সঙ্গে                        পথে যায় নানা রঙ্গে
মন্দ গতি জিনিয়া করিণী।
লোটন লুটায় পিঠে                        কাঁকালি লুকায় মুঠে
নিতম্বে সোণার রুনঝুনি॥
মুখে চুয়াইছে ঘাম                           যেন মুকুতার দাম
হেন মানি কুমুদের সখা।
যদুনাথ দাস ভণে                             ব্রজের রমণীগণে
যমুনার তীরে দিল দেখা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আগো বড়াই তরণীতে তরুণ-তমাল
আগো বড়াই পথ মাঝে তরুণ তমাল
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

আগো বড়াই, তরণীতে তরুণ তমাল।
কিয়ে নব জলধর                        অঙ্গে কত সুধাকর
দু-কুল করিয়া আছে আল॥ ধ্রু॥
গলে নব ফুল-হার                           মণিময় অলঙ্কার
দামিনী দমক ঘুচাইল।
অলক তিলক ভালে                        শ্রবণ-যুগল-মূলে
মকর-কুণ্ডল দোলে ভাল॥
পরিধান পীত ধড়া                     চূড়া-বেড়া গুঞ্জা-ছড়া
তাহে আর শোভে নানা ফুল।
দেখিয়া বদন-চাঁদে                       মদন পড়িল ফাঁদে
যুবতী কেমনে রাখে কুল॥
এত আভরণ যার                      কিসের অভাব তার
সে কেনে ঘাটের ঘাটোয়াল।
যদুনাথ দাসের বাণী                    শুন রাধা বিনোদিনী
পরিচয় পাইবে তত্কাল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আগো বড়াই পথ মাঝে তরুণ তমাল।
কিয়ে নব জলধর                    অঙ্গে কত সুধাকর
ভুবন করিয়া আছে আলো॥ ধ্রু॥
গলে নব ফুলহার                        মণিময় অলঙ্কার
দামিনী দমক ঘুচাইল।
অলক তিলক ভালে                     শ্রবণ যুগল মূলে
মকর কুণ্ডল দোলে ভাল॥
পরিধান পীত ধড়া                  চূড়া বেড়া গুঞ্জা ছড়া
তাহে আর শোভে নানা ফুল।
দেখিয়া বদনচাঁদে                     মদন পড়িল ফাঁদে
যুবতী কেমনে রাখে কুল॥
এত আভরণ যার                   কিসের অভাব তার
সে কেনে ঘাটের ঘাটোয়াল।
যদুনাথ দাসের বাণী                 শুন রাধা বিনোদিনী
পরিচয় পাইবে তত্কাল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর