কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রূপেতে ভ্রমরা গুণে ননীচোরা
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

রূপেতে ভ্রমরা                         গুণে ননীচোরা
বিভব ধবলি বসতি গাছে।
জাতিতে গোয়াল                        রাখ ধেনুপাল
রাখালিয়া মতি কভু না ঘোচে॥
হেদে হে ত্রিভঙ্গ                            ছার রসরঙ্গ
কেন কোলাহল করিছ মিছে।
যদি কর গোল                        শিরে ঢালি ঘোল
দিব প্রতিফল বুঝিবে পাছে॥
যদি চাহ ভাল                        ওহে চিকণ কাল
ঘনায়ে ঘনায়ে এসো না কাছে।
কহে যদুনাথ                             মথুরার নাথ
জান কি রাজা কংস আছে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহিলে বিধুমুখি আমি মাঠে ধেনু রাখি
কি কহিলে সুধামুখি আমি মাঠে ধেনু রাখি
কি বলিলে সুধামুখি আমি মাঠে ধেনু রাখি
ভণিতা যদুনাথ, যদুনাথ / যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
৩১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি কহিলে বিধুমুখি                    আমি মাঠে ধেনু রাখি
পুরুষে সকলি শোভা পায়।
রাজার নন্দিনী হয়ে                        মাথায় পসরা লয়ে
মাঠে হাটে কে ধেয়ে বেড়ায়॥
পদ্মগন্ধ উড়ে গায়                        মধুলোভে অলি ধায়
অপরূপ শোভা আহিরীণী।
দেখিতে চাঁদের সাধ                        কোটিকাম উনমাদ
নিরুপম অমিয় নিছনী॥
তোমার নিজ পতি যে                        কেমন ধরেছে দে
এ বেশে পাঠায়ে দিয়ে হাটে।
এমন রূপসী যদি                         মোরে মিলাইত বিধি
বসায়ে রাখিতাম সোণার খাটে॥
কানু কহে শুন রাই                        সব পুরুষের ধন চাই
ধন কর্ম্ম সকলি কপালে।
যদুনাথ কহে এবে                        দূরে বিকে কেন যাবে
বিকি কিনি কর তরুমুলে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি কহিলে বিধুমুখি                    আমি মাঠে ধেনু রাখি
পুরুষে সকলি শোভা পায়।
রাজার নন্দিনী হয়ে                        মাথায় পসরা লয়ে
মাঠে হাটে কে ধেয়ে বেড়ায়॥
পদ্মগন্ধ উড়ে গায়                        মধুলোভে অলি ধায়
অপরূপ শোভা আহীরিণী।
দেখিতে চাঁদের সাধ                        কোটিকাম উনমাদ
নিরুপম অমিয়া নিছনী॥
তোমার নিজ পতি যে                       কেমন ধরেছে দে
তোমারে পাঠায়ে দিয়ে হাটে।
এমন রূপসী যদি                        মোরে মিলাইত বিধি
বসায়ে রাখিতাম সোণার খাটে॥
কানু কহে শুন রাই                        যে পুরুষের ধন চাই
ধন ধর্ম্ম সকলি কপালে।
যদুনাথ কহে এবে                        দূরে বিকে কেন যাবে
বিকি কিনি কর তরুমুলে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ২৯১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সূহই - ছোট দশকুশী॥

কি বলিলে সুধামুখি                    আমি মাঠে ধেনু রাখি
পুরুষে সকলি শোভা পায়।
রাজার নন্দিনী হইয়ে                        দধির পসরা লয়ে
হাটে মাঠে কে ধেয়ে বেড়ায়॥
পদ্মগন্ধ উড়ে গায়                        মধু লোভে অলি ধায়
অপরূপ শোভা আহিরিণী।
দেখিতে চাঁদের সাধ                        কোটী কাম উনমাদ
নিরুপম অমিয়া নিছনি॥
তোমার নিজ পতি যে                        কেমন ধরেছে দে
তোমারে পাঠাইয়া দিয়া হাটে।
এমন রূপসী যদি                         মোরে মিলাইত বিধি
বসাইয়া রাখিতাম সোনার খাটে॥
কানু কহে শুন রাই                        যে পুরুষের ধন নাই
ধন ধর্ম্ম সকলি কপালে।
যদুনাথ কহে এবে                       দূরে বিকে কেনে যাবে
বিকি কিনি কর তরুতলে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৫৭-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সুহই - ছোট দশকুশী॥

কি বলিলে সুধামুখি,                    আমি মাঠে ধেনু রাখি,
পুরুষে সকলি শোভা পায়।
রাজার নন্দিনী হইয়ে,                        দধির পসরা লয়ে,
হাটে মাঠে কে ধেয়ে বেড়ায়॥
পদ্ম গন্ধ উড়ে গায়,                       মধু লোভে অলি ধায়,
অপরূপ শোভা আহিরিণী।
দেখিতে চাঁদের সাধ,                        কোটী কাম উনমাদ,
নিরুপম অমিয় নিছনি॥
তোমার নিজ পতি যে,                        কেমন ধরেছে দে,
তোমারে পাঠাইয়া দিয়া হাটে।
এমন রূপসী যদি,                         মোরে মিলাইত বিধি,
বসাইয়া রাখিতাম সোণার খাটে॥
কানু কহে শুন রাই,                        যে পুরুষের ধন নাই,
ধন ধর্ম্ম সকলি কপালে।
যদুনাথ কহে এবে,                      দুরে বিকে কেনে যাবে,
বিকি কিনি কর তরুতলে॥


ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

কি কহিলে সুধামুখি                    আমি মাঠে ধেনু রাখি
পুরুষে সকলি শোভা পায়।
রাজার নন্দিনী হয়ে                        মাথায় পসরা লয়ে
হাটে মাঠে কে ধেয়ে বেড়ায়॥
পদ্ম গন্ধ উড়ে গায়                        মধুলোভে অলি ধায়
অপরূপ শোভা আহিরিণী।
দেখিতে চাঁদের সাধ                       কোটি কাম উনমাদ
নিরুপম অমিয় নিছনি॥
তোমার নিজ পতি যে                       কেমন ধরেছে দে
এ বেশে পাঠায়্যা দিয়া হাটে।
এমন রূপসী যদি                        মোরে মিলাইত বিধি
বসায়ে রাখিতাম সোণার খাটে॥
কানু কহে শুন রাই                      সব পুরুষের ধন চাই
ধন কর্ম্ম সকলি কপালে।
যদুনাথ দাসে ভণে                     দূর বিকে যাবে কেনে
বিকিকিনি কর তরুর্মূলে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মথুরার হাট হৈতে ফিরিয়া আসিতে পথে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথি থেকে।

॥ সুহই॥

মথুরার হাট হৈতে                    ফিরিয়া আসিতে পথে
কাণে-কাণে বহিছে যমুনা।
কুমারের চাক যেন                        ঘুরণি উঠিছে হেন
দেখি সভে হইল বিমনা॥
বড়াই কহ কি উপায়ে হৈব পার।
সাঁতারের নদী নয়                       নামিতে লাগিছে ভয়
দেখি প্রাণ কাঁপিছে আমার॥ ধ্রু॥
জল নহে কালো মেঘ                     পবন জিনিয়া বেগ
দেখি তনু কাঁপয়ে তরাসে।
ভজঙ্গ কুম্ভীর ভাসে                        মীন পলায় ত্রাসে
নামি ইথে কেমন সাহসে।
এক-হাটু জল দেখে                      এখনি গিয়াছি বিকে
কোথা হৈতে আল্য এত পানি।
হেন সভে অনুমানি                      জপিয়া সে মন্ত্র-খানি
এত-খানি কৈল সেই দানী॥
প্রণাম তাহার পায়                       তাই দিব যাহা চায়
কৃপা করি পার করুক আনি।
যদুনাথ দাসে বোলে                   তরি সাজি হেন বেলে
দিল দেখা গোকুলের মণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ সুহই॥

মথুরার হাট হৈতে                    ফিরিয়া আসিতে পথে
কানে কানে বহিছে যমুনা।
কুমারের চাক যেন                        ঘুরণি উঠিছে হেন
দেখি সভে হইল বিমনা॥
বড়াই কহ কি উপায়ে হৈব পার।
সাঁতারের নদী নয়                      নামিতে লাগিছে ভয়
দেখি প্রাণ কাঁপিছে আমার॥ ধ্রু॥
জল নহে কালো মেঘ                     পবন জিনিয়া বেগ
দেখি তনু কাঁপয়ে তরাসে।
ভজঙ্গ কুম্ভীর ভাসে                        মীন পলায় ত্রাসে
নামি ইথে কেমন সাহসে।
এক-হাঁটু জল দেখে                      এখনি গিয়াছি বিকে
কোথা হৈতে আল্য এত পানি।
হেন সভে অনুমানি                     জপিয়া সে মন্ত্র-খানি
এত-খানি কৈল সেই দানী॥
প্রণাম তাহার পায়                      তাই দিব যাহা চায়
কৃপা করি পার করুক আসি।
যদুনাথ দাস বোলে                    তরী সাজি হেন বেলে
দিল দেখা গোকুলের শশী॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৬৮-পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মথুরার হাট হৈতে                    ফিরিয়া আসিতে পথে
কানে কানে বহিছে যমুনা।
কুমারের চাক যেন                        ঘুরণি উঠিছে হেন
দেখি সভে হইল বিমনা॥
(বড়াই) কহ কি উপায়ে হৈব পার।
সাঁতারের নদী নয়                      নামিতে লাগিছে ভয়
দেখি প্রাণ কাঁপিছে আমার॥
জল নহে কালো মেঘ                     পবন জিনিয়া বেগ
দেখি তনু কাঁপয়ে তরাসে।
ভজঙ্গ কুম্ভীর ভাসে                        মীন পলায় ত্রাসে
নামি ইথে কেমন সাহসে।
এক হাঁটু জল দেখি                      এখনি গিয়াছি বিকি
কোথা হৈতে আল্য এত পাণি।
হেন সভে অনুমানি                     জপিয়া সে মন্ত্রখানি
এতখানি কৈল সেই দানী॥
প্রণাম তাহার পায়                      তাই দিব যাহা চায়
কৃপা করি পার করুক আনি।
যদুনাথ দাস বোলে                   তরী সাজি হেন বেলে
দিল দেখা গোকুলের মণি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দরি বেরি এক কর অবধান
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথি থেকে।

কৃষ্ণের আপ্ত-দূতী
॥ ধানশী॥

সুন্দরি বেরি এক কর অবধান।
নয়ন-কোণে যদি                             নিরীখসি
জিবন সফল করি মান॥ ধ্রু॥
খণে মুরছই খণে                   আবেশে আলিঙ্গই
সঘনে আপনা নিহানে।
কত বর-রমণী                          যতনে নেহারই
তুয়া বিনু জিবন নিদানে॥
তুহারি বৃন্দাবন                        তুহুঁ সরবস-ধন
তো বিনু আন না চায়।
যদুনাথ দাস ভণে                        চল বৃন্দাবনে
রাখহ নাগর রায়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তবে দোঁহে আনন্দিত-মনে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে।

মিলন
॥ সুহই॥

তবে দোঁহে আনন্দিত-মনে।
ভ্রমণ করয়ে বনে বনে॥
বিকসিত নানা-জাতি ফুল।
প্রফুল্লিত যমুনা দো-কুল॥
কক্খটি ডাকয়ে ডালে চড়ি।
ধাই আইল ভ্রমরা ভ্রমরী॥
মটর নাচিছে ফিরি ঘুরি।
রাধা-কৃষ্ণ বোলে শুক-সারী॥
পৈঠল নিকুঞ্জক পাশ।
কহয়ে যদুনাথ দাস॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধনি তুহুঁ দূতি! ধনি তুয়া কান
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, নবম ক্ষণদা - কৃষ্ণা নবমী, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাহ।
॥ ধানশী॥

ধনি তুহুঁ দূতি! ধনি তুয়া কান।
ধনি ধনি সো পিরীতি ধনি পাঁচ-বাণ॥
বিধি মোহে কতই কুবুধি কিয়ে দেল।
দুহুঁ-কুল-দুরযশ-রব রহি গেল॥
না কহ না কহ ধনি কানু-পরথাব।
ঐছন পিরীতি দ্বিগুণ দুখ লাভ॥
পহিলে মিলন মধু-মাখন বাণী।
গগনকো চাঁদ হাতে দিল আনি॥
অব অবধারলুঁ বুঝনু নিদান।
কপট পিরীতি কিয়ে রহে পরিণাম॥
মনকো মনোরথ মনে ভেল দূর।
যদুনাথ দাস কহে আরতি না পূর॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


ধনি তুহুঁ দূতি! ধনি তুয়া কান।
ধনি ধনি সো পিরীতি ধনি পাঁচ-বাণ॥
বিধি মোহে কতই কুবুধি কিয়ে দেল।
দুহুঁ-কুল-দুরযশ-রব রহি গেল॥
না কহ না কহ ধনি কানুপরথাব।
ঐছন পিরীতি দ্বিগুণ দুখ লাভ॥
পহিলে মিলন মধু-মাখন বাণী।
গগনকো চাঁদ হাতে দিল আনি॥
অব অবধারলুঁ বুঝনু নিদান।
কপট পিরীতি কিয়ে রহে পরিণাম॥
মনকো-মনোরথ মনে ভেল দূর।
যদুনাথ দাস কহে আরতি না পূর॥

টীকা -
ধনি --- ধন্য। দূতি! তুমি ধন্য, তোমার কানুও ধন্য। ধন্য ধন্য সেই প্রেম, আর ধন্য পঞ্চবাণ
(কামদেব)।
মোহে --- আমাকে। বিধাতা আমাকে কি দুষ্টবুদ্ধি দিল যে তাহার সঙ্গে প্রেম করিলাম।
তাহার ফলে শুধু দুই রুলে (পিতৃকুলে ও শ্বশুরকুলে) কলঙ্কধ্বনি রহিয়া গেল।
কানুপরথাব --- কানুর প্রস্তাব, কানুর কথা। ঐরূপ ভালবাসায় যতটুকু সুখ পাওয়া যায়,
তাহার দুইগুণ হয় দুঃখ। প্রথম মিলনের সময় কত মধুমাখা কথা, যেন আকাশের চাঁদ
হাতে আনিয়া দিল।  এখন নিশ্চয় করিয়া জানিলাম যে আমার নিদান বা শেষ অবস্থা
নিকট। কপটের ভালবাসা কি কখনও স্থায়ী হয়? মনের অভিলাষ মনে নিকট হইতে দূরে
চলিয়া গেল। যদুনাথ দাস বলেন যে, আর্তি পূর্ণ হইল না।
---বিমান বিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি তুহুঁ দূতি! ধনি তুয়া কান।
ধনি ধনি সো পিরীতি ধনি পাঁচ-বাণ॥
বিধি মোহে কতই কুবুধি কিয়ে দেল।
দুহুঁ-কুল-দুরযশ-রব রহি গেল॥
না কহ না কহ ধনি কানুপরথাব।
ঐছন পিরীতি দ্বিগুণ দুখ লাভ॥
পহিলে মিলন মধু-মাখন বাণী।
গগনকো চাঁদ হাতে দিল আনি॥
অব অবধারলুঁ বুঝনু নিদান।
কপট পিরীতি কিয়ে রহে পরিণাম॥
মনকো মনোরথ মনে ভেল দূর।
যদুনাথ দাস কহে আরতি না পূর॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই! কত পরখসি আর
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, নবম ক্ষণদা - কৃষ্ণা নবমী, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণ আহ।
॥ শ্রীরাগ॥

রাই! কত পরখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান তপ যপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানকো বোল॥
বিনোদিনি! হাসিয়া বোলাও।
ফুল-শরে জর জর জনেরে জীয়াও॥
কুটিল কুন্তল বেঢ়ি কুসুমকো জাদ।
নয়ন-কঠাক্ষ তোমার বড় পরমাদ॥
সীঁথের সিন্দূর দেখি দিনমণি ঝুরে।
এত রূপ গুণ যার সে কেন নিঠুরে॥
বিনোদিনি! চাহ মুখ তুলি।
(তোমার) নয়ন-নাচে নাচে পরাণ-পুতলী॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
হিয়ার মাঝারে উঠে রসের হিলোলি।
পরশিতে করি সাধ (তোর) পায়ের অঙ্গুলি॥
যদুনাথ দাস কহে এ নহে যুকতি।
কানু কাতর বড় রাখহ পিরীতি॥

ই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কত পরিখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ, দান, জপ, তপ সব তুয়া মোর।
মোহন মুরলী আর নয়ানক লোর॥
বিনোদিনি চাহ মুখ তুলি।
তোমার নয়ন নাচিলে নাচে পরাণপুতলি॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষ।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাস॥
বিনোদিনী হাসিয়া বোলায়।
ফুলশর-জরজর জনেরে জীয়ায়॥
কুটিল কুন্তল বেঢ়ি কুসুমকো জাদ।
নয়ান কটাক্ষ তোমার বড় পরমাদ॥
সিঁথের সিন্দুর দেখি দিনকর ঝুরে।
এত রূপ গুণ যার সে কেন নিঠুরে॥
হিয়ার মাঝারে উঠে রসের হিল্লোলি।
পরশিতে করি সাধ তুয়া পায়ের অঙ্গুলি॥
যদুনাথ দাস কহে এ নহে যুকতি।
কানু কাতর বড় রাখহ পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


রাই! কত পরখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান তপ জপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানেকা বোল॥
বিনোদিনি হাসিয়া বোলাও।
ফুলশরে জরজর জনেরে জীয়াও॥
কুটিল কুন্তল বেঢ়ি কুসুমকো জাদ।
নয়নে কটাক্ষ তোমার বড় পরমাদ॥
সীঁথের সিন্দুর দেখি দিনমণি ঝুরে।
এত রূপ গুণ যার সে কেন নিঠুরে॥
বিনোদিনি! চাহ মুখ তুলি।
(তোমার) নয়ন-নাচনে নাচে পরাণ-পুতলী॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
হিয়ার মাঝারে উঠে রসের হিলোলি।
পরশিতে করি সাধ (তোর) পায়ের অঙ্গুলি॥
যদুনাথ দাস কহে এ নহে যুকতি।
কানু কাতর বড় রাখহ পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই! কত পরখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥২
যজ্ঞ দান তপ জপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানেকা বোল॥৪
বিনোদিনী হাসিয়া বোলাও।
ফুলশরে জরজর জনেরে জীয়াও॥৬
কুটিল কুন্তল বেঢ়ি কুসুমকো জাদ।
নয়নে কটাক্ষ তোমার বড় পরমাদ॥৮
সীঁথের সিন্দুর দেখি দিনমণি ঝুরে।
এত রূপ গুণ যার সে কেন নিঠুরে॥১০
বিনোদিনি! চাহ মুখ তুলি।
(তোমার) নয়ন-নাচনে নাচে পরাণ-পুতলী॥১২
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥১৪
হিয়ার মাঝারে উঠে রসের হিলোলি।
পরশিতে করি সাধ (তোর) পায়ের অঙ্গুলি॥১৬
যদুনাথ দাস কহে এ নহে যুকতি।
কানু কাতর বড় রাখহ পিরীতি॥         ক্ষণদা ১০|৯

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মোরে উপেখিল শ্যাম সুনাগর
ভণিতা যদুনন্দন দাস / যদুনাথ দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি যদুনাথ ও যদুনন্দন, দুটি ভণিতাতেই পাওয়া গিয়েছে বলে দুই পাতাতেই রাখা হোলো।

॥ যথারাগ॥

মোরে তেয়াগিল, শ্যামল সুন্দর, শুনিব এসব কাণে।
দুরাশা বিরোধি, হঞা নিরবধি, তথাপি দগধে মনে॥
সই দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ, না হয় সুলভ, মরণে সে প্রতিকার॥ ধ্রু॥
কালিন্দী গভীর, জলের ভিতর, প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি, রহয়ে কি রীতি, নিশ্চয় জানিহ তুমি॥
বিশাখা শুনিয়া, দুঃখি ভেল হিয়া, বুঝিয়া ধৈরজ রহ।
(এই পংক্তিটি দেওয়া নেই)
এমতে রাধিকা, ব্যাকুলা অধিকা, ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগে মন, ধৈর্য্য নহে পুন, ভণে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”,
২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মোরে উপেখিল    শ্যাম সুনাগর    এ সব সুনিলু কাণে।
দুরাশা বিরোধী    হইয়া নিরবধি    তথাপি দগধে প্রানে॥
সখি হে দড়াইলু এই সার।
সে অতি দুর্ল্লভ    না হয় সুলভ    মরণ সে প্রতিকার॥ ধ্রু॥
কালিন্দী গভীর    জলের ভিতর    প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরীতি    রহয়ে কিরীতি    নিচয় জানিহ তুমি॥
এতেক কহিয়া    গরগর হিয়া    প্রেমের তরঙ্গে ভাসে।
নারে থির হৈতে    সে দশা দেখিতে    কান্দে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৮৪-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল                                শ্যাম সুনাগর
এ সব শুনিলুঁ কাণে।
দুরাশা বিরোধী                               হৈয়া নিরবধি
তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ                                  না হয় সুলভ
মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর                                জলের ভিতর
প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি                            রহয়ে কি রিতি
নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা                              ব্যাকুল অধিকা
ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন                                 ধৈর্য্য গেল ভণ
এ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল    শ্যাম সুনাগর    ও সব সুনিনু কানে।
দুরাশা বিরোধী    হইয়া নিরবধি    তথাপি দগধে মনে॥
সখী হে দড়াইলু এই সার।
সে হরিবল্লভ    না হএ সুলভ    মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গভীর    জলের ভিতর    প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি    রহএ কি রিতি    নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা    ব্যাকুল অধিকা    ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন    ধৈর্য গেল . . . ভনুএ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মোরে উপেখিল, শ্যামসুনাগর, এ সব শুনিনু কাণে।
দুরাশ বিরোধী, হৈয়া নিরবধি, তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইনু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ, না হয় সুলভ, মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর, জলের ভিতর, প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরীতি, রহয়ে কি রীতি, নিচয় জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা, ব্যাকুল অধিকা, ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন, ধৈর্য্য গেল ভণ, এ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল                                শ্যাম সুনাগর
এ সব শুনিলুঁ কাণে।
দুরাশা বিরোধী                                হৈয়া নিরবধি
তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ                                   না হয় সুলভ
মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর                                  জলের ভিতর
প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি                                রহয়ে কিরিতি
নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এ মতে রাধিকা                               ব্যাকুল অধিকা
ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন                                   ধৈর্য্য গেল ভণ
এ যদুনন্দন দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কে যাবে মথুরা বিকে যাব তারসনে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

কে যাবে মথুরা বিকে যাব তারসনে।
ভেটি নাগর কানু সাধ আছে মনে॥ ধ্রু॥
পরক্ষে পরের মুখে শুনি কানুগুণ।
শুনিয়া আমার চিতে বিন্ধিলেক ঘুণ॥
নিতি নিতি অনুরাগে হারাব আপনা।
যেহকু সেহকু দেখিব কেনে সোণা॥
অলখে লখিব কানুরে না দিব পরিচয়।
বি@@ হইয়া যাব গুরুকুলের ভয়॥
না পরিব অভরণ না করিব নাস।
তনু আচ্ছাদিয়া লব নিজ নীলবাস॥
যদিবা নাগর দিঠে দিঠি পড়ে মোর।
রাখিতে নারিব তনু হইব বিভোর॥
তোমরা যতেক সখী মোরে রাখিহ গোপেতে।
রাধা বলি কানু যেন না পারে লখিতে॥
যদুনাথ দাস বলে একি মনে লয়।
পূর্ণিমার চাঁদ কভু হাত আড়ে রয়॥


@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কে যাবে মথুরা বিকে যাব তার সনে।
ভেটিব নাগর কানু সাধ আছে মনে॥ ধ্রু॥
পরক্ষে পরের মুখে শুনি কানু গুণ।
শুনিয়া আমার চিতে বিন্ধিলেক ঘুণ॥
নিতি নিতি অনুরাগে হারাব আপনা।
যে হকু সে হকু দেখিব কেলেসোণা॥
অলখে লখিব কানুরে না দিব পরিচয়।
বিচ্ছিন্ন হইয়া যাব গুরুকুলের ভয়॥
না পরিব অভরণ না করিব লাজ।
তনু আচ্ছাদিয়া লব নিজ নীলবাস॥
যদি বা নাগর দিঠে দিঠি পড়ে মোর।
রাখিতে নারিব তনু হইব বিভোর॥
তোমরা যতেক সখী মোরে রাখিহ গোপেতে।
রাধা বলি কানু যেন না পারে লখিতে॥
যদুনাথ দাস বলে এ কেমনে হায়।
পূর্ণিমার চাঁদ কভু হাত আড়ে রয়॥

ই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কে যাবে মথুরা দিকে যাব তার সনে।
ভেটিব নাগর কানু সাধ আছে মনে॥ ধ্রু,
পরোক্ষে পরের মুখে শুনি কানু গুণ।
শুনিয়া আমার চিতে বিন্ধিলেক ঘুণ॥
নিতি নিতি অনুরাগে হারাব আপনা।
যে হকু সে হকু দেখিব কেলেসোণা॥
অলখে লখিব কানুরে না দিব পরিচয়।
বিচ্ছিন্ন হইয়া যাব গুরু কুলের ভয়॥
না পরিব অভরণ না করিব বাস।
তনু আচ্ছাদিয়া লব নিজ নীলবাস॥
যদি বা নাগর দিঠে দিঠি পড়ে মোর।
রাখিতে নারিব তনু হইব বিভোর॥
তোমরা যতেক সখী মোরে রাখিহ গোপেতে।
রাধা বলি কানু যেন না পারে লখিতে॥
যদুনাথ দাস বলে একি মনে লয়।
পূর্ণিমার চাঁদ কভু হাত আড়ে রয়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন সজনী বড় রভসের কথা
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধনাশ্রী॥

শুন সজনী বড় রভসের কথা।
অতি সে সকাল বেলে মুঞি গেলু যমুনা জলে কালিয়া গো যাইয়া ছিল তথা॥ ধ্রু॥
জানিয়ে কতেক কলা লইয়া চন্দন মালা দাঁড়াইয়া ছিল পথ পাশে।
আমার গমন দেখি উলসিত দুটি আঁখি রসের হিল্লেলে কত ভাষে॥
নিকটে আসিয়া বলে পরহ চন্দন মালে কোথাও না শুনি হেন বোল।
নাজানি পিরীতি করি ঘরে আস্যে হাস্যে মরি যমুনার ঘাটে মাগে কোল॥
অতি মতি দুরাশয় কাহারে না করে ভয় কদম্ব কাননে বৈসে একা।
যদুনাথ দাসে বলে আর না যাইও জলে নূতন যৌবনে দিবে দাগা॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

শুন সজনি বড় রভসের কথা।
অতি সে সকাল বেলে, মুঞি গেনু যমুনা জলে, কালিয়া গো গিয়াছিল তথা॥ ধ্রু॥
জানে যে কতেক কলা, লইয়া চন্দন মালা, দাঁড়াইয়া ছিল পথপাশে।
আমার গমন দেখি, উলসিত দুটী আঁখি, রসের হিল্লোলে কত ভাসে॥
নিকটে আসিয়া বলে, পরহ চন্দন মালে, কোথাও না শুনি হেন বোল।
না জানি পিরিতি করি, ঘরে এসে হেসে মরি, যমুনার ঘাটে মাগে কোল॥
অতি মতি দুরাশয়, কাহারে না করে ভয়, কদম্ব-কাননে বৈসে একা।
যদুনাথ দাসে বলে, আর না যাইও জলে, নূতন যৌবনে দিবে দাগা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর