কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
প্রেমময়ী আগো রাই তোমারে মিলিল গুণনিধি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

প্রেমময়ী আগো রাই তোমারে মিলিল গুণনিধি।
জনমে জনমে কত তপ করিলে সে ফল সফল কৈল বিধি॥ ধ্রু॥
করে কর ধরি যতেক বলিল হরি সে সব কহিব কত।
তো বিনে কান আন নাহি জানে রাধা রাধা জপে অবিরত॥
বিলয় @কর বৃন্দাবনে আগুসর নাগর রহল তুয়া আশে।
যদুনাথ দাসে কয় যদি বা আজ্ঞা হয় কানুরে আনিয়ে তুয়া পাশে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

প্রেমময়ি আগো রাই, তোমারে মিলিল গুণনিধি।
জনমে জনমে কত তপ করিলে, সে ফল সফল কৈল বিধি॥ ধ্রু॥
করে কর ধরি, যতেক বলিল হরি, সে সব কহিব কত।
তো বিনে আন নাহি জানে, রাধা রাধা জপে অবিরত॥
বিলম্ব না কর, বৃন্দাবনে আগুসার, নাগর রহল তুয়া আশে।
যদুনাথ দাসে কয়, যদি বা আজ্ঞা হয়, কানুরে আনি যে তুয়া পাশে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্ধু সে পরেশ মণি
আমার বঁধু সে পরশমণি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ খট॥

বন্ধু সে পরেশ মণি।
সো অঙ্গ পরশে এ অঙ্গ আমার সোণার বরণ খানি॥
কতনা আদর করয়ে নাগর কত উঠে তার মনে।
পালঙ্ক শয়নে না রাখে কখন আপন হৃদয় বিনে॥
দুবাহু পসারি কোরেতে আগোরি বয়ান নিরখে শ্যাম।
আপনি নাগর যাবক পরাইয়া লেখই আপন নাম॥
চরণের রেণু আপনি মাখয়ে জুড়ানু জুড়ানু বলে।
একথা কহিতে দাস যদুনাথে তিতিল নয়ান জলে॥

ই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ খট॥

বন্ধু সে পরেশমণি।
সে অঙ্গ পরশে এ অঙ্গ আমার
সোণার বরণখানি॥ ধ্রু॥
কত না আদর করয়ে নাগর
কত উঠে তার মনে।
পালঙ্কশয়ন না রাখে কখন
আপন হৃদয় বিনে॥
দুবাহু পসারি কোরেতে আগোরি
বয়ান নিরখে শ্যাম।
আপনি নাগর যাবক পরাইয়া
লেখই আপন নাম॥
চরণের রেণু আপনি মাখিয়ে
জুড়ানু জুড়ানু বলে।
এ কথা কহিতে দাস যদুনাথে
তিতল নয়ন জলে॥

ই পদটি সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল দশকুশি॥

আমার বঁধু সে পরশমণি।
সে অঙ্গ পরশে, এ অঙ্গ আমার, সোনার বরণখানি॥
কত না আদর, করয়ে নাগর, কত উঠে তার মনে।
পালঙ্ক শয়নে, না রাখে কখনে, আপন হৃদয় বিনে॥
দুবাহু পসারি, কোলেতে আগুরি, বয়ান নিরখে শ্যাম।
আপনি নাগর, যাবক পরায়ে, লিখয়ে আপন নাম॥
চরণের ধূলি আপনি মাখয়ে, জুড়ানু জুড়ানু বলে।
এ কথা কহিতে, দাস যদুনাথ, তিতিল নয়নজলে॥

ভাবার্থ -
সখি, বঁধু আমার স্পর্শমণি। (স্পর্শমণি পরশে লৌহ সোনা হয়।) আমার এই যে স্বর্ণ বর্ণ দেখ, ইহা আমার
বঁধুর স্পর্শে হইয়াছে। আমাকে কখন শয্যায় শুইতে দেয় না, নিজের বক্ষস্থলে সুয়াইয়া রাখে। কি আর
বলিব, আমার মুখপানে এমনিভাবে চাহিয়া থাকে যেন কখনও দেখে নাই।
---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু সে বিনোদ রায়
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কানু সে বিনোদ রায়।
বিনোদ চিকুরে                        বিনোদ বরিহা
উড়িছে বিনোদ বায়॥
বিনোদ কপালে                        বিনোদ তিলক
বিনোদ বিনোদ সাজে।
কোন বিনোদিনী                        বিনোদ গাথনী
গেথেছে বিনোধ ফুলে॥
বিনোদ কাটিতে                          বিনোদ ধটি
বিনোদ বিনোদ সাজে।
বিনোদ চরণে                           বিনোদ নূপুর
বিনোদ বিনোদ বাজে॥
কহে যদুনাথ                          বিনোদ হেরিয়া
বিনোদ কদম্ব মূলে।
কত বিনোদিনী                        বিনোদ হেরিয়া
কলসী ভাসাইল জলে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অট্টালিকা পরি বসিয়া কিশোরী
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই-রাখাল
॥ ধানশী॥

অট্টালিকা পরি                    বসিয়া কিশোরী
ভাবে শ্যামরূপ খানি।
শ্রীদাম সুদাম                        ভাইয়া বলরাম
করতহি বেণু ধ্বনি॥
শুনি বেণু রব                           স্তব্ধমান সব
হইল আহীরী বালা।
শ্বাস নাহি বহে                      প্রাণ নাহি দেহে
বাঢ়ল বিরহ জ্বালা॥
হেন কালে তথা                       আইল ললিতা
বিশাখারে লৈয়া সঙ্গে।
দেখি কমলিনী                            পড়ল ধরণী
ধুলি ধূসর অঙ্গে॥
দেখিয়া ললিতা                        হইয়া ব্যথিতা
তুলিয়া করিল কোলে।
শুন বিনোদিনী                           নিবেদন বাণী
অবধান কর বোলে॥
শ্যাম গোঠে গেল                       মোরা যাই চল
ধরিয়া রাখাল বেশে।
শুনিয়া বচন                              হরষিত মন
কহে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোপী গোষ্ঠ।

অট্টালিকা ’পরি                    বসিয়া কিশোরী,
ভাবে শ্যামরূপখানি।
শ্রীদাম সুদাম,                        ভায়্যা বলরাম,
করতহি বেণুধ্বনি॥
শুনি বেণুরব,                            স্তব্ধমান সব,
হইল আহিরী-বালা।
শ্বাস নাহি বহে,                      প্রাণ নাহি দেহে,
বাঢ়ল বিরহ-জ্বালা॥
হেনকালে তথা,                        আইল ললিতা,
বিশাখারে লয়্যা সঙ্গে।
দেখি কমলিনী,                            পড়িল ধরণী
ধূলি ধূসর অঙ্গে॥
দেখিয়া ললিতা,                        হইয়া বেথিতা,
তুলিয়া করিলা কোলে।
শুন বিনোদিনী,                          নিবেদন-বাণী,
অবধান কর বোলে॥
শ্যাম গোঠে গেল,                    মোরা যাই চল,
ধরিয়া রাখাল বেশে।
শুনিয়া বচন,                           হরষিত মন,
কহে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ বিভাস - একতালা॥

অট্টালিকা উপরি,                বসিয়া কিশোরী,
ধেয়ায় শ্যামরূপ খানি।
শ্রীদাম সুদাম,                     ভাইয়া বলরাম,
করতহিঁ বেণু-ধ্বনি॥
শুনি বেণু রব,                        স্তব্ধমান সব,
আহিরীগণ-বালা।
শ্বাস নাহি বহে,                    প্রাণ নাহি দেহে,
বাঢ়ল বিরহ জ্বালা॥
হেনকালে তথা,                      আইল ললিতা,
বিশাখারে লইয়া সঙ্গে।
দেখি কমলিনী,                        পড়িয়া ধরণী,
ধূলি-ধূসর অঙ্গে॥
দেখিয়া ললিতা,                      হইয়া ব্যথিতা,
তুলিয়া করিল কোলে।
শুন বিনোদিনী,                        নিবেদন বাণী,
অবধান কর বোলে॥
শ্যাম গোঠে গেল,                    মোরা যাই চল,
ধরিয়া রাখাল বেশে।
শুনিয়া বচন,                           হরষিত মন,
কহে যদুনাথ দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মৃগমদ কস্তুরী দিয়া অঙ্গ কৈল কালা
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মৃগমদ কস্তুরী দিয়া অঙ্গ কৈল কালা।
গলায় গাঁথিয়া দিল কদম্বের মালা॥
কপালে তিলক দিল সিন্দূর মুছিয়া।
কটিতলে পীতধরা পরয়ে আঁটিয়া॥
মস্তকে বান্ধিল চূড়া শিখিপুচ্ছ তায়।
তাহাতে কতেক শোভা কহনে না যায়॥
বিনোদিনী কহে যদি সাজালে বনমালী।
শোভা নাহি করে কর বিনা গো মুরলী॥
ললিতা চতুরা ছিল বুদ্ধি সিরজিল।
নব নব পদ্মের ডাল তুলিয়া আনিল॥
তাহার উপরে সপ্ত ছিদ্র বানাইয়া।
বাজাইল বিনোদিনী তাহে ফুঁক দিয়া॥
শ্রীদাম নামেতে সখা কহে প্রাণ কানু।
কি লৈয়া বিপিনে যাবে কোথা পাইবে ধেনু॥
বৃষভানু পুর হৈতে ধেনু আনাইল।
হৈ হৈ রব দিয়া পাল চালাইল॥
বিনোদিনী হৈল কৃষ্ণ ললিতা বলরাম।
বিশাখা হইল সুবল চিত্রা হইল দাম॥
রাধিকার যত সখী রাখাল হইল।
বলরামের শিঙ্গা নাই ভাবিতে লাগিল॥
হেনকালে পৌর্ণমাসী মনেতে জানিয়া।
আনিল হরের শিঙ্গ হরষিত হৈয়া॥
শিঙ্গা দেখি বিনোদিনী হরষিত মন।
যদুনাথ দাস কহে করহ গমন॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মৃগমদ কস্তুরী দিয়া অঙ্গ কৈল কালা।
গলায় গাঁথিয়া দিল কদম্বের মালা॥
কপালে তিলক দিল সিন্দুর মুছিয়া।
কটীতটে পীতধড়া পরয়ে আঁটিয়া॥
মস্তকে বান্ধিল চূড়া শিখিপুচ্ছ তার।
তাহাতে কতেক শোভা কহনে না যায়॥
বিনোদিনী কহে যদি সাজাল বনমালী।
শোভা নাহি ধরে করে বিনা গো মুরলী॥
ললিতা চতুরা ছিল বুদ্ধি সিরজিল।
নবীন পদ্মের নাল তুলিয়া আনিল॥
তাহার উপরে সপ্ত ছিদ্র বানাইয়া।
বাজাইল বিনোদিনী তাহে ফুঁক দিয়া॥
শ্রীদাম নামেতে সখা কহে প্রাণ-কানু।
কি লয়্যা বিপিনে যাবে কোথা পাইবে ধেনু॥
বৃষভানু-পুর হইতে ধেনু আনাইল।
হৈ হৈ রব দিয়া পাল চালাইল॥
বিনোদিনী হৈল কৃষ্ণ ললিতা বলরাম।
বিশাখা হইল সুবল চিত্রা হইল দাম॥
রাধিকার যত সখী রাখাল হইল।
বলরামের শিঙ্গা নাই ভাবিতে লাগিল॥
হেনকালে পৌর্ণমাসী মনেতে জানিয়া।
আনিল হরের শিঙ্গা হরষিত হৈয়া॥
শিঙ্গা দেখি বিনোদিনী হরষিত মন।
যদুনাথ দাস কহে করহ গমন॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১৫-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ শ্রীরাগ - ডাঁশপাহিড়া॥

মৃগমদ কস্তুরী দিয়া অঙ্গ কইল কালা।
গলায় গাঁথিয়া দিলা কদম্বের মালা॥
কপালে তিলক দিল সিন্দূর মুছাইয়া।
কটিতটে পীতধরা পরায় আঁটিয়া॥
মস্তকে বাঁধিল চূঁড়া শিখি-পুচ্ছ তায়।
তাহাতে কতেক শোভা কহনে না যায়॥
বিনোদিনী কহে যদি সাজাইলা বনমালী।
শোভা নাহি করে মোর বিনা গো মুরলী॥
ললিতা চতুরা ছিল বুদ্ধি সিরজিল।
নবীন পদ্মের নাল তুলিয়া আনিল॥
তাহার উপরে সপ্ত ছিদ্র বনাইয়া।
বাজাইল বিনোদিনী তাহে ফুঁক দিয়া॥
শ্রীদাম নামেতে সখী কহে প্রাণ কানু।
কি লইয়া বিপিনে যাবে কোথা পাইবে ধেনু॥
বৃষভানু পুর হইতে ধেনু আনাইল।
হৈ হৈ রব দিয়া পাল চালাইল॥
বিনোদিনী হৈল কৃষ্ণ ললিতা বলরাম।
বিশাখা হইল সুবল চিত্রা হইল শ্রীদাম॥
রাধিকার যত সখি রাখাল হইল।
বলরামের শিঙ্গা নাহি ভাবিতে লাগিল॥
হেনকালে পূর্ণমাসি মনেতে জানিয়া।
আনিল হরের শিঙ্গা হরষিত হইয়া॥
শিঙ্গা দেখি বিনোদিনী হরষিত মন।
যদুনাথ দাস কহে করহ গমন॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঐ না বেশে এস আমার ঘরে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

ঐ না বেশে এস আমার ঘরে।
ঐ না বেশে এস তুমি                       দাঁড়ায়ে রয়েছি আমি
তুয়া বন্ধু লইবার তরে॥
রবি যখন বৈশে পাটে                     মুই গেনু যমুনার ঘাটে
তুয়া লাগি চাহি চারি পাশে১।
ব্রজের বালক যত                                সব চলি যাওত
আজি তুমি সবার পাছে কেনে॥
চঞ্চল ধবলী সনে                             কত না হেটেছ বনে
চাঁদ মুখ গিছে শুখাইয়া।
আমার মন্দিরে যাইয়া                      কর্পূর তাম্বুল খাইয়া
আলিস করহ তাহা গিয়া॥
আমার হৃদয় মাঝে                          বিচিত্র পালঙ্ক আছে
আসে পাশে রসের বালিশ।
তাহাতে শুতিবে তুমি                        চরণ চাপিব আমি
দূরে যাবে বনের আলিস॥
এখন আমি যাই ঘরে                    মায়ে যে আরতি করে
সখা সব করল পয়ান।
কহে দাস যদুনাথ                            পূরাও মনের সাধ
পাছে তুমি করহ গমন॥

১ - “পাশে” - সম্ভবত “পানে” হবে।

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবরে নবরে নব নবঘন শ্যাম
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, ৪১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
॥ তিরোথা ধানসী - মধ্যম একতালা॥

নব রে নব রে নব নব ঘনশ্যাম।
তোমার পীরিতিখানি অতি অনুপাম॥
তোমার পীরিতি বন্ধু সুখ-সাগরের মাঝ।
তাহাতে ডুবিল মোর কুল শীল লাজ॥
কি দিব কি দিব বঁধু মনে করি আমি।
যে ধন তোমারে দিব সেই ধন তুমি॥
তুমি যে আমার বঁধু আমি যে তোমার।
তোমার ধন তোমাকে দিব কি যাবে আমার॥
বাঁচি কি না বাঁচি বঁধু থাকি কি না থাকি।
অমূল্য ও রাঙ্গা চরণ জীবন্তে যেন দেখি॥
যদুনাথ দাসে কহে করুণার সিন্ধু।
কিসের অভাব তার তুমি যার বঁধু॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী - একতালা॥

নব রে নব রে নব নব ঘনশ্যাম।
তোমার পিরিতিখানি অতি অনুপাম॥
তোমার পিরিতি বন্ধু সুখ-সাগরের মাঝ।
তাহাতে ডুবিল মোর কুল শীল লাজ॥
কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।
যে ধন তোমারে দিব সে ধন তামার তুমি॥
তুমি যে আমার বন্ধু আমি যে তোমার।
তোমার ধন তোমারে দিব কি যাবে আমার॥
বাঁচি কি না বাঁচি বন্ধু, থাকি কি না থাকি।
অমূল্য চরণ পাই জীয়ন্তে যেন দেখি॥
যদুনাথ দাসে কহে করুণার সিন্ধু।
কিসের অভাব তার তুমি যার বন্ধু॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও
শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

নবরে নবরে নব নবঘন শ্যাম।
তোমার পিরীতিখানি অতি অনুপাম॥
তোমার পিরীতি-সুখ-সায়রের মাঝ।
তাহাতে ডুবিল মোর কুল-শীল-লাজ॥
কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।
যে ধন তোমারে দিব সে ধন আমার তুমি॥
তুমি যে আমার বন্ধু, আমি যে তোমার।
তোমার ধন তোমারে দিব কি যাবে আমার॥
বাঁচি কি না বাঁচি বন্ধু, থাকি কি না থাকি।
অমূল্য ও রাঙ্গাচরণ জীয়ন্তে যেন দেখি॥
যদুনাথ দাসে কহে করুণার সিন্ধু।
কিসের অভাব তার তুমি যার বন্ধু॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


নবরে নবরে নব নবঘন শ্যাম।
তোমার পিরীতিখানি অতি অনুপাম॥
তোমার পিরীতি-সুখ-সায়রের মাঝ।
তাহাতে ডুবিল মোর কুল-শীল-লাজ॥
কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।
যে ধন তোমারে দিব সে ধন আমার তুমি॥
তুমি যে আমার বন্ধু, আমি যে তোমার।
তোমার ধনে তোমারে দিব কি যাবে আমার॥
বাঁচি কি না বাঁচি বন্ধু, থাকি কি না থাকি।
অমূল্য ও রাঙাচরণ জীয়ন্তে যেন দেখি॥
যদুনাথ দাস কহে করুণার সিন্ধু।
কিসের অভাব তার তুমি যার বন্ধু॥

ব্যাখ্যা -
তোমার প্রেম-সমুদ্রের মাঝে ডুব দিয়েছি। ভোসে গেছে আমার কুল-শীল-লাজ। তোমার এই
বিপুল প্রেমের বিনিময়ে কী তোমাকে দিতে পারি বলো। তোমাকে যা দিতে পারি সে
তোমারই দান। তোমাকে দিলেও তা আমারই থাকে। তাই আমার কোনো অন্যতর প্রার্থনা
নেই---যেন তোমার রাঙাচরণ দুখানি সারা জীবন আঁখির সম্মুখে দেখি।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকালে গোধন লইয়া গোঠে গেল বিনোদিয়া
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৫৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতী রাধারাণীর অভিসার
॥ রাগিণী মাথুর - তাল তেওট॥

সকালে গোধন লইয়া, গোঠে গেল বিনোদিয়া, দিয়া শিঙ্গা বেণুর নিশান।
গুরুজন আঙ্গিনাতে, না পারিনু বাহিরিতে, না হেরিনু সে চাঁদ বয়ান॥
কোন পথে গেল শ্যাম রায়।
যে মোর হরিছে মন, প্রাণ করে উচাটন, চাঁদ মুখ দেখিলে জুড়ায়॥
যশোমতি নন্দঘোষ, তাহারে কি দিব দোষ, গোকুলে গোধন হইল কাল।
আমা সবার প্রাণধন, গোকুলের জীবন, গোঠে গেল মদন গোপাল॥
চল যাই সেই পথে, পশরা লইয়া মাথে, যেখানে আছেন শ্যামরায়।
যদুনাথ দাস কয়, বিলম্ব নাহিক সয়, তুরিতে গমন কর তায়॥

ভাবার্থ -
শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী দুঃখ করিয়া বলিতেছেন যে, প্রাতে গোধন লইয়া আমার প্রাণবল্লভ
গোঠে গেল। কিন্তু গুরুজন আঙ্গিনায় থাকাতে চাঁদ মুখ দেখিতে পারিলাম না। সখী যে পথে
বঁধু গিয়াছেন চল সেই পথে আমরা যাইয়া তাহার সহিত মিলিত হই। তখনি পশরা
সাজাইয়া বিকির ছলে বাহির হইলেন।
---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পথ ছাড় ওহে কানাই রিবা রঙ্গ কর
ভণিতা যদুনাথ        
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল দশপাহিড়া॥

পথ ছাড় ওহে কানাই রিবা রঙ্গ কর।
যার বাতাস নিতে না পাও তার করে ধর॥
এখনি মরণ হউক এই ছিল কপালে।
বৃষভানু লুতা তনু ছুইবে রাখালে॥
একে ত তোমারে ভালবাসে কংসাসুর।
ঐ বোল শুনিলে হবে দেশ হইতে দূর॥
কে তোমায় করিল দানী ফেল দেখি পাটা।
তুমি হে নূতন দানী আমরা নহি ঝুটা॥
থাকিবা খাইবা যদি যমুনার পানি।
গোপীগণে না ছুইও না হইও দানী॥
যদুনাথ কহে যদি ভাল সে চাহিবে।
আর কভু গোপীগণ কাছে না আসিবে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার বঁধু সে পরশমণি
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল দশকুশি॥

আমার বঁধু সে পরশমণি।
সে অঙ্গ পরশে, এ অঙ্গ আমার, সোনার বরণখানি॥
কত না আদর, করয়ে নাগর, কত উঠে তার মনে।
পালঙ্ক শয়নে, না রাখে কখনে, আপন হৃদয় বিনে॥
দুবাহু পসারি, কোলেতে আগুরি, বয়ান নিরখে শ্যাম।
আপনি নাগর, যাবক পরায়ে, লিখয়ে আপন নাম॥
চরণের ধূলি আপনি মাখয়ে, জুড়ানু জুড়ানু বলে।
এ কথা কহিতে, দাস যদুনাথ, তিতিল নয়নজলে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর