| কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বন্ধু সে পরেশ মণি আমার বঁধু সে পরশমণি ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ খট॥ বন্ধু সে পরেশ মণি। সো অঙ্গ পরশে এ অঙ্গ আমার সোণার বরণ খানি॥ কতনা আদর করয়ে নাগর কত উঠে তার মনে। পালঙ্ক শয়নে না রাখে কখন আপন হৃদয় বিনে॥ দুবাহু পসারি কোরেতে আগোরি বয়ান নিরখে শ্যাম। আপনি নাগর যাবক পরাইয়া লেখই আপন নাম॥ চরণের রেণু আপনি মাখয়ে জুড়ানু জুড়ানু বলে। একথা কহিতে দাস যদুনাথে তিতিল নয়ান জলে॥ এই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ খট॥ বন্ধু সে পরেশমণি। সে অঙ্গ পরশে এ অঙ্গ আমার সোণার বরণখানি॥ ধ্রু॥ কত না আদর করয়ে নাগর কত উঠে তার মনে। পালঙ্কশয়ন না রাখে কখন আপন হৃদয় বিনে॥ দুবাহু পসারি কোরেতে আগোরি বয়ান নিরখে শ্যাম। আপনি নাগর যাবক পরাইয়া লেখই আপন নাম॥ চরণের রেণু আপনি মাখিয়ে জুড়ানু জুড়ানু বলে। এ কথা কহিতে দাস যদুনাথে তিতল নয়ন জলে॥ এই পদটি সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী ধানশী - তাল দশকুশি॥ আমার বঁধু সে পরশমণি। সে অঙ্গ পরশে, এ অঙ্গ আমার, সোনার বরণখানি॥ কত না আদর, করয়ে নাগর, কত উঠে তার মনে। পালঙ্ক শয়নে, না রাখে কখনে, আপন হৃদয় বিনে॥ দুবাহু পসারি, কোলেতে আগুরি, বয়ান নিরখে শ্যাম। আপনি নাগর, যাবক পরায়ে, লিখয়ে আপন নাম॥ চরণের ধূলি আপনি মাখয়ে, জুড়ানু জুড়ানু বলে। এ কথা কহিতে, দাস যদুনাথ, তিতিল নয়নজলে॥ ভাবার্থ - সখি, বঁধু আমার স্পর্শমণি। (স্পর্শমণি পরশে লৌহ সোনা হয়।) আমার এই যে স্বর্ণ বর্ণ দেখ, ইহা আমার বঁধুর স্পর্শে হইয়াছে। আমাকে কখন শয্যায় শুইতে দেয় না, নিজের বক্ষস্থলে সুয়াইয়া রাখে। কি আর বলিব, আমার মুখপানে এমনিভাবে চাহিয়া থাকে যেন কখনও দেখে নাই। ---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানু সে বিনোদ রায় ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ কানু সে বিনোদ রায়। বিনোদ চিকুরে বিনোদ বরিহা উড়িছে বিনোদ বায়॥ বিনোদ কপালে বিনোদ তিলক বিনোদ বিনোদ সাজে। কোন বিনোদিনী বিনোদ গাথনী গেথেছে বিনোধ ফুলে॥ বিনোদ কাটিতে বিনোদ ধটি বিনোদ বিনোদ সাজে। বিনোদ চরণে বিনোদ নূপুর বিনোদ বিনোদ বাজে॥ কহে যদুনাথ বিনোদ হেরিয়া বিনোদ কদম্ব মূলে। কত বিনোদিনী বিনোদ হেরিয়া কলসী ভাসাইল জলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অট্টালিকা পরি বসিয়া কিশোরী ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাই-রাখাল ॥ ধানশী॥ অট্টালিকা পরি বসিয়া কিশোরী ভাবে শ্যামরূপ খানি। শ্রীদাম সুদাম ভাইয়া বলরাম করতহি বেণু ধ্বনি॥ শুনি বেণু রব স্তব্ধমান সব হইল আহীরী বালা। শ্বাস নাহি বহে প্রাণ নাহি দেহে বাঢ়ল বিরহ জ্বালা॥ হেন কালে তথা আইল ললিতা বিশাখারে লৈয়া সঙ্গে। দেখি কমলিনী পড়ল ধরণী ধুলি ধূসর অঙ্গে॥ দেখিয়া ললিতা হইয়া ব্যথিতা তুলিয়া করিল কোলে। শুন বিনোদিনী নিবেদন বাণী অবধান কর বোলে॥ শ্যাম গোঠে গেল মোরা যাই চল ধরিয়া রাখাল বেশে। শুনিয়া বচন হরষিত মন কহে যদুনাথ দাসে॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোপী গোষ্ঠ। অট্টালিকা ’পরি বসিয়া কিশোরী, ভাবে শ্যামরূপখানি। শ্রীদাম সুদাম, ভায়্যা বলরাম, করতহি বেণুধ্বনি॥ শুনি বেণুরব, স্তব্ধমান সব, হইল আহিরী-বালা। শ্বাস নাহি বহে, প্রাণ নাহি দেহে, বাঢ়ল বিরহ-জ্বালা॥ হেনকালে তথা, আইল ললিতা, বিশাখারে লয়্যা সঙ্গে। দেখি কমলিনী, পড়িল ধরণী ধূলি ধূসর অঙ্গে॥ দেখিয়া ললিতা, হইয়া বেথিতা, তুলিয়া করিলা কোলে। শুন বিনোদিনী, নিবেদন-বাণী, অবধান কর বোলে॥ শ্যাম গোঠে গেল, মোরা যাই চল, ধরিয়া রাখাল বেশে। শুনিয়া বচন, হরষিত মন, কহে যদুনাথ দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ॥ বিভাস - একতালা॥ অট্টালিকা উপরি, বসিয়া কিশোরী, ধেয়ায় শ্যামরূপ খানি। শ্রীদাম সুদাম, ভাইয়া বলরাম, করতহিঁ বেণু-ধ্বনি॥ শুনি বেণু রব, স্তব্ধমান সব, আহিরীগণ-বালা। শ্বাস নাহি বহে, প্রাণ নাহি দেহে, বাঢ়ল বিরহ জ্বালা॥ হেনকালে তথা, আইল ললিতা, বিশাখারে লইয়া সঙ্গে। দেখি কমলিনী, পড়িয়া ধরণী, ধূলি-ধূসর অঙ্গে॥ দেখিয়া ললিতা, হইয়া ব্যথিতা, তুলিয়া করিল কোলে। শুন বিনোদিনী, নিবেদন বাণী, অবধান কর বোলে॥ শ্যাম গোঠে গেল, মোরা যাই চল, ধরিয়া রাখাল বেশে। শুনিয়া বচন, হরষিত মন, কহে যদুনাথ দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঐ না বেশে এস আমার ঘরে ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গৌরী॥ ঐ না বেশে এস আমার ঘরে। ঐ না বেশে এস তুমি দাঁড়ায়ে রয়েছি আমি তুয়া বন্ধু লইবার তরে॥ রবি যখন বৈশে পাটে মুই গেনু যমুনার ঘাটে তুয়া লাগি চাহি চারি পাশে১। ব্রজের বালক যত সব চলি যাওত আজি তুমি সবার পাছে কেনে॥ চঞ্চল ধবলী সনে কত না হেটেছ বনে চাঁদ মুখ গিছে শুখাইয়া। আমার মন্দিরে যাইয়া কর্পূর তাম্বুল খাইয়া আলিস করহ তাহা গিয়া॥ আমার হৃদয় মাঝে বিচিত্র পালঙ্ক আছে আসে পাশে রসের বালিশ। তাহাতে শুতিবে তুমি চরণ চাপিব আমি দূরে যাবে বনের আলিস॥ এখন আমি যাই ঘরে মায়ে যে আরতি করে সখা সব করল পয়ান। কহে দাস যদুনাথ পূরাও মনের সাধ পাছে তুমি করহ গমন॥ ১ - “পাশে” - সম্ভবত “পানে” হবে। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |