কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্যাম রূপের কথা কইতে ছিল সখি সঙ্গে বসি
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “রূপের কথা কইতে ছিল
সঙ্গী সঙ্গে বসি” এবং “শ্যাম রূপের কথা কইতে ছিল সখি সঙ্গে বসি”,  এই দুটি পদের
কেবল প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও রাখা হচ্ছে।

॥ শ্রীসুহই - নটেশেখর বা ছোট দশকুশী॥

শ্যাম রূপের কথা কইতে ছিল সখি সঙ্গে বসি।
হেন কালে রাধা বলে বাজে শ্যামের বাঁশী॥
আর না বাজিহ বাঁশী করি অহঙ্কার।
সর্প হইয়া দংশিলি শ্রবণে আমার॥
তরলে জনম তোর কিছু লাজ নাই।
ঝড়ের লাগাল পেলে সাগরে ভাসাই॥
আর না বাজিহ বাঁশী নীরব হইয়া থাক।
সাজিয়া বেরালাম আমি আর নাহি ডাক॥
কি ধন পাইয়া বাঁশী কর দূতপনা।
পার কি জানয়ে বাঁশী পরের বেদনা॥
তরলে জনম তোর হৃদয় সরল।
খলের বদনে থাকি উগার গরল॥
যদুনাথ দাস বলে বাঁশীর দোষ কি।
যা বলায় খল জন তাই বলে বাঁশী॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বংশীধ্বনি শুনিয়া
॥ তাল দশপাহিড়া॥

রূপের কথা কইতে ছিল সঙ্গী সঙ্গে বসি।
হেন কালে রাধা বলে বাজে শ্যামের বাঁশী॥
আর না বাজিহ বাঁশী করি অহঙ্কার।
সর্প দংশিল যেন শ্রবণে আমার॥
তরলে জনম তোর কিছু লাজ নাই।
ঝড়ের নাগাল পেলে সাগরে ভাসাই॥
আর না বাজিহ বাঁশী নীরব হয়ে থাক।
সাজিয়া বেড়ালাম আমি আর নাহিক ডাক॥
কি ধন পাইয়া বাঁশী কর দূতপনা।
পার কি জানয়ে বাঁশী পরের বেদনা॥
তরলে জনম তোর হৃদয় সরল।
খলের বদনে থাকি উগার গরল॥
যদুনাথ দাস বলে বাঁশীর দোষ কি।
যা বলয়ে খলজন তাই বলে বাঁশী॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপ দেখিলে এমন হবে জানিব কেমনে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভূপালী - তাল মধ্যম একতালা॥

রূপ দেখিলে এমন হবে জানিব কেমনে।
এত কি সহিতে পারে অবলা পরাণে॥
দ্বিগুণ দহয়ে তনু মুরলীর স্বরে।
কুলীল সাপিণী১ যেন গরল উগরে॥
আর তাহে তাপ দেয় পাপ ননদিনী।
ব্যাধের মন্দিরে যেন কম্পিতা হরিণী॥
নবীন পাউসের২ মান মরণ না জানে।
নব অনুরাগে চিত ধৈরজ না মানে॥
আর ঘরে রইতে কহনা বিচার।
যদুনাথ দাস বলে কর অভিসার॥

১ - কুলীন সাপিনী --- গর্ত্ত মধ্যে অবস্থিতা সাপিনী।
২ - নবীন পাউস --- নূতন জলস্রোত যখন পুকুরে পতিত হয় তাহাকে পাউস বলে।

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
রূপের কথা কইতে ছিল সঙ্গী সঙ্গে বসি
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৯৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  “রূপের কথা কইতে ছিল সঙ্গী সঙ্গে বসি” এবং “শ্যাম রূপের
কথা কইতে ছিল সখি সঙ্গে বসি”, এই দুটি পদের কেবল প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে
দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও রাখা হচ্ছে।

বংশীধ্বনি শুনিয়া
॥ তাল দশপাহিড়া॥

রূপের কথা কইতে ছিল সঙ্গী সঙ্গে বসি।
হেন কালে রাধা বলে বাজে শ্যামের বাঁশী॥
আর না বাজিহ বাঁশী করি অহঙ্কার।
সর্প দংশিল যেন শ্রবণে আমার॥
তরলে জনম তোর কিছু লাজ নাই।
ঝড়ের নাগাল পেলে সাগরে ভাসাই॥
আর না বাজিহ বাঁশী নীরব হয়ে থাক।
সাজিয়া বেড়ালাম আমি আর নাহিক ডাক॥
কি ধন পাইয়া বাঁশী কর দূতপনা।
পার কি জানয়ে বাঁশী পরের বেদনা॥
তরলে জনম তোর হৃদয় সরল।
খলের বদনে থাকি উগার গরল॥
যদুনাথ দাস বলে বাঁশীর দোষ কি।
যা বলয়ে খলজন তাই বলে বাঁশী॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীসুহই - নটেশেখর বা ছোট দশকুশী॥

শ্যাম রূপের কথা কইতে ছিল সখি সঙ্গে বসি।
হেন কালে রাধা বলে বাজে শ্যামের বাঁশী॥
আর না বাজিহ বাঁশী করি অহঙ্কার।
সর্প হইয়া দংশিলি শ্রবণে আমার॥
তরলে জনম তোর কিছু লাজ নাই।
ঝড়ের লাগাল পেলে সাগরে ভাসাই॥
আর না বাজিহ বাঁশী নীরব হইয়া থাক।
সাজিয়া বেরালাম আমি আর নাহি ডাক॥
কি ধন পাইয়া বাঁশী কর দূতপনা।
পার কি জানয়ে বাঁশী পরের বেদনা॥
তরলে জনম তোর হৃদয় সরল।
খলের বদনে থাকি উগার গরল॥
যদুনাথ দাস বলে বাঁশীর দোষ কি।
যা বলায় খল জন তাই বলে বাঁশী॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
*
কিয়ে শুভ দরশনে উলসিত লোচনে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৩৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিয়ে শুভ দরশনে, উলসিত লোচনে, দোহে দোঁহা হেরি মুখ চাঁদে।
তৃষিত চাতকী যেন, জলধরে মিলায়ল, ভুখিল চকোর চারু ছান্দে॥
আধ নয়নে দুহুরূপ নেহারই, চাহনিঞা নহি ভাঁতি।
রসের আবেশে দোহ অঙ্গ হেলি বিছুরল প্রেম-সাঙ্গাতি॥
শ্যাম সুখময় দে গোরি পরশে মিশায়ল যেন কাঁচা ননী।
রাইতনু ধরিতে নারে, এলাইয়া নিদ ভরে, শিরিষ কুসুম কমলিনী॥
কিয়ে অতসী সম শ্যাম সুনায়র, নায়রী চম্পক গোরি।
নব জলধরে যেন চাঁদে আগোরল, ঐছন রহল শ্যাম কোরি॥
বিগলিত কেশ, বেশ কুসুমাবলী, বিগলিত নীল নিচোল।
দুঁহুজন প্রেমরসে, ভাসল নিধুবন, অবিরত প্রেমের হিল্লোল॥
ললিতা বিশাখা সখী দেখি সভে মহাসুখী, ভ্রমর কোকিল উতরোল।
যদুনাথ দাস কহে, কিবা শুভ দরশনে, আনন্দ-হিল্লোল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গবাক্ষের দ্বারে সব নেত্র আরোপিয়ে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গবাক্ষের দ্বারে সব নেত্র আরোপিয়ে। সখীগণ লীলা হেরে প্রেমে মত্ত হয়ে॥
গলিত চিকুর মিলিত মুখখানি। নব জলধরে যেন স্থির সৌদামিনী॥
রাইরূপ হেরি শ্যামের নয়ন ডুবে গেল। অধর সুধাপানে নিমগন ভেল॥
শ্যাম হিয়া পরে রাই হিয়ার দোলনা। নব মেঘে ঝলমল চান্দের চলনা॥
রাই হেম গিরি হৈতে ধারা চুঙাইয়া। শ্যামগিরি ভিজি চলে কালিন্দী বহিয়া॥
সমভাবে দুহুঁ অঙ্গে ঘাম বহি যায়। প্রিয়নর্ম্ম সখী যাই চামর ঢুলায়॥
রস অবসান জানি সেবাসহচরী। চরণ সেবই কেহ সুবাসিত বারি॥
নানাবিধ মিষ্টান্ন সার কেহ সমর্পিলা। কর্পূর তাম্বুল কেহ বদনেতে দিলা॥
মদন অলস ভরে দুহুঁ ঘুম যায়। শুতল সব সখী যদুনাথে গায়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বড়াই কহিছে বাণী শোন শোন কমলিনি
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বড়াই কহিছে বাণী, শোন শোন কমলিনি, মথুরার দিকে চল যাই।
পসরা সাজায়ে রঙ্গে, বেশ ভূষা কর অঙ্গে, ভেটিবারে নন্দের কানাই॥
শুনিয়া বড়াইয়ের কথা, চিত্রা চম্পক লতা, হাসিয়ে বসল দুই পাশে।
নানা আভরণ আনি, সাজাইছে বিনোদিনী, গগনে দামিনী যেন হাসে॥
দুই করে হেম চুড়ি, পরাইল নীল সাড়ি, গলে দিল হেম মণিহার।
বিচিত্র চাঁচর কেশ, বান্ধিল নোটন বেশ, স্বর্ণ চাঁপা তাহে দোলে ভার॥
নাসায় বেশর সাজে, কটিতে কিঙ্কিণী বাজে, ভালে দিছে চন্দনের বিন্দু।
সীঁথায় সিন্দূর ভাতি, তাহাতে অলকাপাঁতি, রবি-কোরে যেন শোভে ইন্দু॥
সোনার নূপুর পাতা মল, রাঙ্গা পায়ে ঝল মল্, চলইতে সুমধুর ধ্বনি।
যদুনাথ দাস ভণে, রঙ্গিয়ে বড়াই সনে, মথুরার বিকে চলে ধনি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিরস বদনে কাহে বংশী না আলাপই
ভণিতা যদুনাথ        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৮২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরস বদনে কাহে, বংশী না আলাপই, না কহসি মরমকি ভাষ।
অধোমুখ হোই, রোই ঘন কাঁপসি, অব তাহে দীরঘ নিশ্বাস॥
আলু থালু ভেল পীতবাস।
তছু মুখ হেরি, যবহু জিউ ফাটত, দশদিগ লাগত উদাস॥
সহচর বাণী, শুনি মৃদু বোলত, পেখনু অপরূপ নারী।
মঝু মুখ হেরি, মধুর মৃদু হাসই,আকুল মরম হামারি॥
নব যৌবন ধনি, রমণি শিরোমণি, হেম কমল জিনি অঙ্গ।
কহে যদুনাথ, আশ হৃদে অতিশয়, কবহুঁ মিলব তছু সঙ্গ॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বেলি অবসান কালে একা গিয়াছিলাম জলে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বেলি অবসান কালে, একা গিয়াছিলাম জলে, জলের ভিতরে শ্যাম রায়।
মোহন চূড়াটী মাথে, মোহন মুরলী হাতে, ক্ষণে শ্যাম জলেতে লুকায়॥
যমুনাতে ঢেউ দিতে, বিম্ব উঠে আচম্বিতে, বিম্ব মধ্যে শ্রীনন্দের নন্দন।
কর বাড়াই ধরিতে চাই, ধরিবারে নাহি পাই, মনে ভাবি এ আর কেমন॥
দেখি রূপ ক্ষণে ক্ষণে, অদর্শন হয় ক্ষণে, জীবনে দাঁড়ায়ে রহিলাম।
ঢেউ মোর হল কাল, না পাইলাম নন্দলাল, কান্দিয়া ঘরেতে ফিরে এলাম॥
যদুনাথ দাসের বাণী, শুন রাধে বিনোদিনী, কেনে তুমি গিয়াছিলে জলে।
বুঝিতে নারিলে মায়া, জলে লেগেছিল ছায়া, শ্যাম ছিল কদম্বের ডালে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিশাখারে সুবল সাজায় বিনোদিনী
ভণিতা যদুনাথ        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিশাখারে সুবল সাজায় বিনোদিনী। ললিতারে বলরাম কানাই আপনি॥
যোগমায়া পৌর্ণমাসী আপনি আসিয়া। চলিল হরের শিঙ্গা অমনি লইয়া॥
সবার সুন্দর বেশ হইল রামকানু। বংশী না হইলে কেন ফিরিবেক ধেনু॥
ললিতারে বিনোদিনী শীঘ্র পাঠাইল। নবীন পদ্মের কুঁড়ি তুলিয়া আনিল॥
মৃণালেতে সারি সারি রন্ধ্র করিয়া। সাজাইল বিনোদিনী তাতে ফুক দিয়া॥
সুন্দর বাঁশীর গান গগন ভেদিল। বৃষভানুপুর হইতে ধেনু বত্স এলো॥
যমুনার তীরে গিয়া দিয়া জয় জয়। পয়োধর কাল হৈল যদুনাথ কয়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিহানে বরজবাসী আঙ্গিনা ঘেরিল আসি
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহানে বরজবাসী, আঙ্গিনা ঘেরিল আসি, কেনে গো কান্দিছে নীলমণি।
এ ক্ষীর নবনী চিনি, চেয়েছিল নীলমণি, ইহারই কিছুই না জানি॥
শুনিয়া রোহিণী বলো, একবার আমার কোলে, দিয়া সাধ পূরাও আমার।
রোহিণীর কোলে দিয়ে, প্রাণেতে আকুল হয়ে, দিয়ে চেয়ে নিল আর বার॥
আনন্দিত হয়ে হরি, জননীর কণ্ঠ ধরি, হাসি হাসি নীলমণি দোলে।
রজতের গুণে রাণী, গাঁথি ইন্দ্রনীলমণি, হার করি পরিলেক গলে॥
কত মুনি ধ্যান করে, যে পদ পাবার তরে, যে পদে জন্মিল সুরধুনি।
যদুনাথ দাস বলে, আনন্দে যশোদার কোলে, চাঁদমুখ দেখে নন্দরাণী॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর