কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ললিতা বচন শুনিয়া তখন
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ললিতা বচন, শুনিয়া তখন, কদম্ব আনিয়া দিল।
গুরু পয়োধু, কদম্বের হার, পরিতে লুকায়ে গেল॥
সুমধুর স্বরে, শিঙ্গা বেণি পুরে, নীপমূলে ধেনু রাখি।
সে তান শুনিয়া, চমকিত হইয়া, যদুনাথ দাস সাখি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীদাম ধরিল ছত্র পাত্র সুদাম
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৬১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীদাম ধরিল ছত্র পাত্র সুদাম। জয় জয় রাজটীকা দিল ঘনশ্যাম॥
দুন্দুভি ভেঙর বাজে বাজয়ে সানাই। আজু বনে রাজা হইল ঠাকুর কানাই॥
শিঙ্গা বেণি মুরলী, উঠিল ঘন রোল। কোকিল কুহরে ডালে কেহ বাজায় ঢোল্॥
শিঙ্গা বেণি পূরি আনে যমুনার জলে। অভিষেক ছলেরে কানাইঞের শিরে ঢালে॥
নানাবিধ বেশ করে নানা ফুল দিয়ে। আনন্দে রাখালগণ বনে নেচে গেয়ে॥
যদুনাথ দাসের মনে আনন্দ বাড়িল। অরণ্যের মৃগ পাখী নাচিতে লাগিল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীদাম বলে ধ ধবলী ফিরারে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

শ্রীদাম বলে ধ ধবলী ফিরারে।
কার খাইবে খন্দ বলিবে মন্দ, মারি খেতে খাবি কেরে॥
একি চরণে চরণ থুঞা। বসে আছ রাজা হঞা॥
একবার গেলাম, দুবার গেলাম। এবার তোমার পালি দিলাম॥
হারে রে রে রব শুনি গাভী আগে ধায়। ক্ষণে ক্ষণে রহিয়া গোবিন্দ মুখ চায়॥
গোবিন্দ দেখি ধেনুর আনন্দ বাড়িল। প্রেমে পুলকিত অঙ্গ চাটিতে লাগিল॥
কানাই ভাই যমুনা তীরে। শিশুগণ তোরা যেন ফিরে॥
কেহ কেহ জল পানে ধায়। অঞ্জলি পূরিয়া জল খায়॥
কেহ দেখে নিজ অঙ্গ-ছায়া। যদু কহে রাখালের মায়া॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি আমি আর না যাব যমুনা
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১২৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

সখি আমি আর না যাব যমুনা। কে আর ধৈরজ ধরে দেখিয়া সে জনা॥
পথের নিকটে ঘাটে যমুনার কূলে। অনুপম শ্যাম নাগর রহে তরুমূলে॥
অবিকল কলানিধি দেখিয়া বয়ান। হাসিতে নাশিতে পাবে রমণী পরাণ॥
তাহে অতি সুমধুর মুরলীর গীত। শুনি পশু পাখী কান্দে পাষাণ মিলিত॥
আপনা রাখিতে যার আছে অভিলাষ। সে জন দেখিতে তারে না করে প্রয়াস॥
এক অঙ্গ হেরইতে লাখ অঙ্গ কান্দে। দৈবে যদুনাথ দাস স্থির নাহি বান্ধে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেন কালে বড়াই ফিরয়ে ঘরে ঘরে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

হেন কালে বড়াই ফিরয়ে ঘরে ঘরে। কে যাবি কে যাবি আয় মথুরার বাজারে॥
দধি দুগ্ধ গৃত ঘোল সাজাও পসার। মথুরায় বিকে ঝাট কর অভিসার॥
যেখানে বসিয়ে ধনি বিনোদিনী রাই। তথা উপনীত ভেল রঙ্গিয়া বড়াই॥
সম্ভ্রমে উঠিয়া ধনি দিলেন আসন। আশীষ করিয়া বড়াই বসিল তখন॥
বিরস-বদন দেখি পুছয়ে বড়াই। শ্যামের লাগিয়া বুঝি কান্দ ধনি রাই॥
যদুনাথ দাস বলে শুন কুলবালা। বিকির ছলে নীপতলে মিলাইব কালা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হের দেখ পুলিন সুন্দর
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হের দেখ পুলিন সুন্দর। ইহা বলি ভাবেতে বিভোর॥
গদাধর সংহতি করিয়া। সংকীর্ত্তনে মিলিবে আসিয়া॥
রাধাকুণ্ডের ভাব হইল মনে। চাহে গোরা সুরধুনি পানে॥
তবে মোর পূর্ণ হবে আশ। কহতহি যদুনাথ দাস॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কেলিবিলাস দোহে করি সমাধান
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কেলিবিলাস দোহে করি সমাধান। একাসনে মেলি বৈঠলি রাধাকান॥
বিনোদের করে ধরি বিনোদ কিশোরী। আপন মরমকথা কহএ উগারি॥
সুন হে পরাণবন্ধু নিবেদিএ পায়। না হেরি তোমার মুখ যুগ বহি জায়॥
জে বলুক সে বলুক লোকে তাহে নাহি ডরি। দাসী বলে দয়া না ছাড়িহ বংশীধারী॥
বিধির পাএতো এই বর মাগি আমি। জনমে জনমে প্রাণনাথ হয়ো তুমি॥
যদুনাথ দাস কহে এই কথা দড়। দুই জনা এক তনু কেহু নহে পর॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি রূপ হেরিলাম সই নিকুঞ্জমাঝারে
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি রূপ হেরিলাম সই নিকুঞ্জমাঝারে। সুঞাছে গরবি রাধা নাগরের কোরে॥
কি হেরিলাম সখি অপরূপ রঙ্গ। রাই কানু দুহু তনু হঞা এক অঙ্গ॥
বেড়িআছে ভুজলতা খসেচে কবরী। নাসার নিশ্বাসে দোলে মুকুতার ঝুরি॥
বন্ধুর বালিস বাহু আলিসের ভরে। যদুনাথ দাস কহে জাগিছে অন্তরে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দরী এই বেলা ঝাঁট কর বেশ
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


সুন্দরী এই বেলা ঝাঁট কর বেশ।
সময় হইল আসি    বাজিবে সঙ্কেত বাঁশি    ধৈরজ না থাকিবে লেশ॥
ত্বরাএ চলিতে হবে    কবরী এলাঞে জাবে    ঝাঁটি কর বেণীর রচনা।
শ্রমজলে জাবে ভাসি    কালো হবে মুখশশী    কাজর পরিতে করি মানা॥
নূপুর পরিতে বলি    পুন তাহা নিষেধ করি    চলিতে চরণ হবে ভার।
আর এক ভয় আছে    গুরুজনা জাগে পাছে    কলরব সুনিয়াঁ তাহার॥
সলত করি পর টাড়    পাইবে পুলক চার    ফাটীঞা না পড়ে সেই বেলে।
কাঁচলি পরিঞা তার    ভিতরে রাখহ হার    ছিণ্ডিলে রহএ জেন গলে॥
নীলবাস দড় করি    আঁটিয়া পরহ গৌরী    খসিয়া না পড়ে পথে জাইতে।
যদুনাথ দাসে কয়    জা বল তাই হয়    বিলম্ব না কর কুঞ্জে জাইতে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মনে বিচারিএ ধনি শ্যাম অঙ্গ চায়
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


মনে বিচারিএ ধনি শ্যাম অঙ্গ চায়। শ্যাম অঙ্গে নিজ অঙ্গ দেখিবারে পায়॥
বন্ধুর দোষ নাহি মিছা করিলাম ভত্সনে। শ্যাম করে ধরে ধনি কহে সকরুণে॥
সুন হে বন্ধু বিনোদিয়া রায়। দাসী বলে কোন দোষ না লইহ পায়॥
এত বলি দুই জন বসি একাসনে। তড়িৎ মিললও জেন হয় নবঘনে॥
শ্যামকোরে শোভে রাই রসের মঞ্জরী। যদুনাথদাস কহে জাউ বলিহারি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর