| কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সুবলে করিয়া সঙ্গে বিপিন বিহার রঙ্গে ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ সুবল করিয়া সঙ্গে, বিপিনবিহারী রঙ্গে, বিদগধ রসময় শ্যাম। রাধাকুণ্ড তীরে আসি, কুসুম কাননে বসি, শোভা দেখে অতি অনুপাম॥ বৃন্দাদেবী হেন কালে, সেখানে আসিয়া বলে, চম্পক কুসুম করে করি। সুবলের করে দিল, তেঁই কৃষ্ণের কর্ণে দিল, উদ্দীপন রাধার মাধুরী॥ প্রেমে চতুর্দ্দিকে চায়, অরুণ লোচন তায়, পুলকে পুরিল সব অঙ্গ। ধরিয়া সুবলের করে, মিনতি করিয়া বলে, মিলাইয়া দেরে তার সঙ্গ॥ রাই বিনে বৃন্দারণ্য, সব দিক লাগে শূন্য, মোর মন তাহারে ধিয়ায়। শুনিয়া কানুর কথা, সুবল চলিল তথা, যদুনাথ দাস ইহা কয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি। সুবলমিলন ২ ॥ ধানশী॥ সুবলে করিয়া সঙ্গে বিপিন বিহার রঙ্গে রসময় বিদগধ শ্যাম। রাধা কুণ্ডতীরে আসি কুসুম কাননে বসি শোভা দেখে অতি অনুপাম॥ বৃন্দাদেবী হেন কালে আসি সেইখানে মিলে চম্পকের মালা করে করি। সুবলেরে সমর্পিল তিঁহ কৃষ্ণ গলে দিল উদ্দীপনে রাধার মাধুরী॥ প্রেমে চতুর্দিকে চায় অরুণ নয়ান তায় পুলকে পুরিল প্রতি অঙ্গ। থরিয়া সুবল করে কহে গদগদ স্বরে মিলাইয়া দে রে রাইএর সঙ্গ॥ তাহা বিনে বৃন্দাবন শূন্য হেরি সর্ব্বক্ষণ মোর মন তাহার ধিয়ানে। যদি নাহি আসে প্যারী রাধা রাধা রাধা বলি যদুনাথ ত্যজিবে পরাণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |