কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ধেনু লৈয়া প্রবেশ করিলা বৃন্দাবনে
নিজ নিজ ধেনু লৈয়া সব শিশুগণে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে। আমরা
সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ১
॥ ধানশি॥

ধেনু লৈয়া প্রবেশ করিলা বৃন্দাবনে॥
নিজ নিজ ধেনু লৈয়া সব শিশুগণে।
সুবলের কর ধরি করিলা গমন।
রাধা-কুণ্ড-তীরে আসি দিলা দরশন॥
দেখিয়া কুণ্ডের শোভা আনন্দ অন্তরে।
বিবিধ কুসুম-কুল গাঁখি নিজ-করে॥
নব নব পল্লবে সেজ বিছাইয়া।
রাধা রাধা বলি কানু কান্দে ফুকারিয়া॥
রাই-রূপ সোঙরিয়া ছাড়য়ে নিশ্বাস।
বড়ই আনন্দে কহে যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলমিলন ১
॥ ধানশি॥

নিজ নিজ ধেনু লৈয়া সব শিশুগণে।
হৈ হৈ রবেতে প্রবেশে বৃন্দাবনে॥
সুবলে লইয়া শ্যাম গমন করিল।
রাধা-কুণ্ড-তীরে আসি দরশন দিল॥
দেখিয়া কুণ্ডের শোভা আনন্দ অন্তরে।
বিবিধ কুসুমে মালা গাঁখি নিজ করে॥
নব নব পল্লবে সেজ বিছাইয়া।
রাধা রাধা বলি কানু কান্দে ফুকারিয়া॥
রাই-রূপ সোঙরিয়া ছাড়য়ে নিশ্বাস।
বড়ই আনন্দে কহে যদুনাথ দাস॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলে করিয়া সঙ্গে বিপিন বিহার রঙ্গে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

সুবল করিয়া সঙ্গে, বিপিনবিহারী রঙ্গে, বিদগধ রসময় শ্যাম।
রাধাকুণ্ড তীরে আসি, কুসুম কাননে বসি, শোভা দেখে অতি অনুপাম॥
বৃন্দাদেবী হেন কালে, সেখানে আসিয়া বলে, চম্পক কুসুম করে করি।
সুবলের করে দিল, তেঁই কৃষ্ণের কর্ণে দিল, উদ্দীপন রাধার মাধুরী॥
প্রেমে চতুর্দ্দিকে চায়, অরুণ লোচন তায়, পুলকে পুরিল সব অঙ্গ।
ধরিয়া সুবলের করে, মিনতি করিয়া বলে, মিলাইয়া দেরে তার সঙ্গ॥
রাই বিনে বৃন্দারণ্য, সব দিক লাগে শূন্য, মোর মন তাহারে ধিয়ায়।
শুনিয়া কানুর কথা, সুবল চলিল তথা, যদুনাথ দাস ইহা কয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে।
আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ২
॥ ধানশী॥

সুবলে করিয়া সঙ্গে                      বিপিন বিহার রঙ্গে
রসময় বিদগধ শ্যাম।
রাধা কুণ্ডতীরে আসি                      কুসুম কাননে বসি
শোভা দেখে অতি অনুপাম॥
বৃন্দাদেবী হেন কালে                   আসি সেইখানে মিলে
চম্পকের মালা করে করি।
সুবলেরে সমর্পিল                         তিঁহ কৃষ্ণ গলে দিল
উদ্দীপনে রাধার মাধুরী॥
প্রেমে চতুর্দিকে চায়                        অরুণ নয়ান তায়
পুলকে পুরিল প্রতি অঙ্গ।
থরিয়া সুবল করে                           কহে গদগদ স্বরে
মিলাইয়া দে রে রাইএর সঙ্গ॥
তাহা বিনে বৃন্দাবন                        শূন্য হেরি সর্ব্বক্ষণ
মোর মন তাহার ধিয়ানে।
যদি নাহি আসে প্যারী                   রাধা রাধা রাধা বলি
যদুনাথ ত্যজিবে পরাণে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন হে সুবল সখা কি করি উপায়
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে। আমরা
সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৩
॥ ধানশী॥

শুন হে সুবল সখা কি করি উপায়।
রাধা বিনে মোর প্রাণ বিদরিয়া যায়॥
কত-ক্ষণে পাব আমি রাধা-দরশন।
রাধা-রূপ না হেরিলে না রহে জীবন॥
হা রাধা হা রাধা বলি পড়ে ভূমি-তলে।
মুখে নাহি বাণী শ্বাস কিছু কিছু চলে॥
দেখিয়া অঙ্গের ভাব মনেতে বুঝিল।
কৃষ্ণকে তুলিয়া সুবল কোলে বসাইল॥
নিজ বাস দিয়া সুবল অঙ্গ মুছাইল।
কান্দিতে কান্দিতে সুবল কহিতে লাগিল॥
চাঁদ-মুখ পানে চাঞা ছাড়য়ে নিশ্বাস।
কান্দিতে কান্দিতে কহে যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলমিলন ৩
॥ ধানশী॥

শুন হে সুবল সখা কি করি উপায়।
রাধা বিনে মোর প্রাণ বিদরিয়া যায়॥
কত-খনে পাব আমি রাধা দরশন।
রাধা-রূপ না হেরিলে না রহে জীবন॥
হা রাধা হা রাধা বলি পড়ে ভূমি-তলে।
মুখে নাহি বাণী শ্বাস কিছু কিছু চলে॥
দেখিয়া অঙ্গের ভাব মনেতে বুঝিল।
কৃষ্ণকে তুলিয়া সুবল কোলে বসাইল॥
নিজ বাস দিয়া সুবল অঙ্গ মুছাইল।
কান্দিতে কান্দিতে সুবল কহিতে লাগিল॥
চাঁদ-মুখ পানে চাঞা ছাড়য়ে নিশ্বাস।
কান্দিতে কান্দিতে কহে যদুনাথ দাস॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা রাধা বলি নাগর পড়ে ভূমিতলে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৪
॥ ধানশী॥

রাধা রাধা বলি নাগর পড়ে ভূমিতলে।
বাহু পসারিয়ে সুবল শ্যাম নিল কোলে॥
হায় আমি চাঁপার মালা কেন গলে দিলাম।
চম্পক বরণী রাধা মনে পড়াইলাম॥
ধীরে ধীরে রাধা নামজপে কৃষ্ণ কানে।
রাধা নাম শ্রবণেতে পাইল চেতনে॥
রাধা আনি দিব আমি সুবল বলিল।
যদুনাথ দাসের মনে আনন্দ বাড়িল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেথা বসি থাক তুমি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৫
॥ ধানশী॥

হেথা বসি থাক তুমি।
রাই আনিতে যাই আমি॥
রাধাকুণ্ডে কেবা আছে।
রেখে যাব কার কাছে॥
দেখ ওরে শুক সারী।
একা রৈল বংশীধারী॥
মাধবী এক কার্য্য কর।
বংশীধরে তুমি ধর॥
আপন লতাস করি ডুরী।
বেঁধে রাখ বংশীধারী॥
রাই বিরহে কাতর প্রাণ।
জপরে শ্রীরাধার নাম॥
রাধা রাধা রাধা বলে।
ধীরে ধীরে সুবল চলে॥
রাধার মন্দির পাশে।
গেল যদুনাথ দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মন্দিরে যাইয়া সুবল রাই না পাইল
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে
তুলেছি।

সুবলমিলন ৬
॥ ধানশী॥

মন্দিরে যাইয়া সুবল রাই না পাইল।
কান্দিতে কান্দিতে সুবল গমন করিল॥
খুঁজিতে খুঁজিতে যায় কদলীর বন।
যেথা বিনোদিনী রাই ক্রোধাবেশ মন॥
ললিতা বলয়ে সুবল দেখ রে কানন।
কৃষ্ণের ধবলী চোয়া কৈল বিনাশন॥
রাজার কি রাজ্য নহে এ কি অবিচার।
কোন্ গর্ব্ব করে সেই নন্দের কুমার॥
কংস রাজা মহাতেজা তাহার প্রজাই।
ঘরে ঘরে জোগাই কর মজুরা না খাই॥
যাব রাজা কংসের কাছে ভেঙ্গে দিব ভূর।
গরুবাছুর বিকাইব গর্ব হবে চূর॥
এ কথা শুনিয়া সুবল দূরে পলাইল।
যদুনাথ ভণে রাই সুবলে ডাকিল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার মন্দিরে সুবল কভু না দেখিয়ে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৭
॥ ধানশী॥

আমার মন্দিরে সুবল কভু না দেখিয়ে।
আজি আসিয়াছ বল কিসের লাগিয়ে॥
সখারে লইয়া গোষ্ঠ করিলে গমন।
কি লাগিয়া হেথা পুন তব আগমন॥
তোমার কুণ্ডে তোমার শ্যাম তোমা না দেখিয়া।
তব নাম জপে নাগর পড়ে মূরছিয়া॥
রা রা রা রা বলি ধা বলিতে না পারে।
মনের কামনা তার তোমা দেখিবারে॥
হাতসানে ডাকে ওরে সুবল শুনে যা।
যদুনাথ দাসে বলে রাই আন গা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলরে সুবল আমি কি বুদ্ধি করিব
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৮
॥ ধানশী॥

বলরে সুবল আমি কি বুদ্ধি করিব।
দিবা অভিসারেতে আমি কেমনেতে যাব॥
সুবল বলয়ে রাই শুনহ বচন।
পরিধান কর তুমি মোর আভরণ॥
তোমার বেশ আমায় দাও আমি রহি ঘরে।
আমার বেশে যাও তুমি কানু ভেটিবারে॥
আপনার বেশভূষা সুবলেরে দিল।
সুবলের বসন রাই আপনি পরিল॥
রাই কহে দেখ সুবল বেশ নাহি হইল।
যদুনাথ দাস বলে প্রমাদ পড়িল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলের ধরা রাই কটিতে আঁটিল
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ৯
॥ ধানশী॥

সুবলের ধরা রাই কটিতে আঁটিল।
কনক কিঙ্কিণী লয়ে তাহাতে বাঁধিল॥
মাথায় বাঁধিল চূড়া শিখিপুচ্ছ তায়।
উচ্চতায় পয়োধর ঢাকা নাহি যায়॥
হাসিয়া সুবল বলে শুনগো সুন্দরী।
কোলেতে করিয়া লেহ নবীন বাছুরি॥
শিঙ্গা বেণু করে নিল চরণে নূপুর।
পিয়ারে ভেটিতে যায় রঙ্গরস পূর॥
যেখানে বসিয়া আছে শ্যাম নট রায়।
সুবলের বেশে রাই সেউখানে যায়॥
নাগর দেখিয়া দুখী সুবল ফিরে আইল।
যদুনাথ দাসের মনে আনন্দ বাড়িল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বত্স কোলে করি রাই রাধাকুণ্ডে যায়
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ১০
॥ ধানশী॥

বত্স কোলে করি রাই রাধাকুণ্ডে যায়।
শ্যামলী ধবলী বলি পাঁচনি ঘুরায়॥
সুবলের বেশে শ্যাম চিনিতে নারিল।
না আইল কিশোরী সুবল ফিরে আইল॥
কহ রে কহ রে সুবল কহ সমাচার।
কেনে কুণ্ডে না আইল কিশোরী আমার॥
রাধিকার অঙ্গ গন্ধে বিকল হইয়া।
ভূমিতলে পড়ে শ্যাম হা রাই বলিয়া॥
শ্যাম চান্দে দেখি রাই মুচকি হাসিল।
প্রেমাবেশে আসি তবে বঁধু কোলে নিল॥
রাধা অঙ্গ পরশেতে পাইল চেতন।
যদুনাথ দাস হইল আনন্দে মগন॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
*
ধনী কহে প্রাণ-নাথ শুন মোর বাণী
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাসের সুবলমিলন
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে। সুবলমিলন পালার এই পদগুলি একত্রে পাওয়া গিয়েছে। আমরা
সেভাবেই মিলনসাগরে তুলেছি।

সুবলমিলন ১১
॥ ধানশী॥

ধনী কহে প্রাণ-নাথ শুন মোর বাণী।
বিদায় দেহ প্রাণ-নাথ গৃহে যাই আমি॥
কানু-মনোরথ ধনী করিলা পূরণ।
সুবল-বেশেতে ধনী করিলা গমন॥
বিদায় হইয়া ধনী যায় ধীরে ধীরে।
উপনীত হৈলা ধনী রন্ধন-মন্দিরে॥
রাই দেখি আনন্দিত সুবল হইলা।
নিজ নিজ আভরণ তুরিতে পরিলা॥
ধণীরে কহিয়া সুবল আনন্দে চলিলা।
রাধা-কুণ্ড তীরেতে আসি উপনীত হৈলা॥
রাধা-কুণ্ড তীরেতে বসিয়া শ্যাম রায়।
নাচিতে নাচিতে সুবল মিলিলা তথায়॥
সুবল দেখিয়া তবে কহিলা মুরারি।
তোমার কারণে আজি পাইলাম কিশোরী॥
হাস্য পরিহাস্য করে সুবল লইয়া।
সঙ্গের রাখাল সব মিলিলা আসিয়া॥
যমুনার তীরে কৃষ্ণ করিলা পয়াণ।
সুবল-মিলন-রস যদুনাথ-গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলমিলন ১১
॥ ধানশী॥

ধনী কহে প্রাণ-নাথ শুন মোর বাণী।
দাসীরে বিদায় দেহ গৃহে যাই আমি॥
কানু-মনোরথ ধনী করিলা পূরণ।
সুবল-বেশেতে ধনী করিলা গমন॥
বিদায় হইয়া ধনী যায় ধীরে ধীরে।
উপনীত হৈলা ধনী রন্ধনমন্দিরে॥
রাই দেখি আনন্দিত সুবল হইলা।
নিজ নিজ আভরণ তুরিতে পরিলা॥
ধণীরে কহিয়া সুবল আনন্দে চলিলা।
রাধা-কুণ্ড তীরে আসি উপনীত হৈলা॥
রাধা-কুণ্ড তীরেতে বসিয়া শ্যাম রায়।
নাচিতে নাচিতে সুবল মিলিলা তথায়॥
সুবল দেখিয়া তবে কহিলা মুরারি।
তোমার কারণে আজি পাইলাম কিশোরী॥
হাস্য পরিহাস্য করে সুবল লইয়া।
সঙ্গের রাখাল সব মিলিলা আসিয়া॥
যমুনার তীরে কৃষ্ণ করিলা পয়ান।
সুবল-মিলন রস যদুনাথ-গান॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কোলেতে করিয়া নিল নবীন বাছুরী
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।

কোলেতে করিয়া নিল নবীন বাছুরী। রাধা কুঞ্জে চলিলেন সুবল বেশ ধরি॥
সুবল বেশে বিনোদিনী যায়। জটিলার সঙ্গে দেখা হইল তথায়॥
প্রণতি করিয়া তারে কহয়ে বচন। জল পান করি মোর স্থির হইল মন॥
জটিলা কহয়ে তবে যাওরে কাননে। তোমাদের জয় জয় হউক সঘনে॥
রাখালের বেশে ধনি করিলা গমন। আপনার কুঞ্জে আসি দিল দরশন॥
নাগর কহয়ে হেরি কি হলো কি হলো। নাহি এল বিনোদিনী সুবল ফিরে এল॥
নাগর কহয়ে শুন আমার প্রাণ-সখা। তুমিত একেলা এলে রাই মোর কোথা॥
এত বলি যায় কানু মরিবার তরে। বাহু প্রসারিয়া রাই শ্যাম নিল কোরে॥
নিজবেশ ব্যক্ত করি রাই দেখাইল। যদুনাথ দাসের মনে আনন্দ বাড়িল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধর সুবল এই লহ মোর আভরণ
ভণিতা যদুনাথ দাস        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধর সুবল এই লহ মোর আভরণ। নীল বসন পর রতন ভূষণ॥
নূপুর পরয়ে কিঙ্কিণী তাড়। যতনে পরায়ে দি মুকুতার হার॥
সুবলের বেশ ভূষা অঙ্গেতে পড়িল। কনক কিঙ্কিণী তাড় তাহাতে পরিল॥
মাখায় বান্ধিল চূড়া শিখিপুচ্ছ তায়। তাহাতে কতেক শোভা কহনে না যায়॥
রাঙ্গা লাঠি নিল হাতে চরণে নূপুর। প্রেমাবেশে চলে রাই আনন্দে অন্তর॥
নবীন পয়োধর রহিল উজোর। দেখ দেখ নারীর বেশ, নাহি গেল মোর॥
বুদ্ধে বৃহস্পতি সুবল রসিক চতুর। কোলেতে আনিয়া দিল নবীন বাছুর॥
নবীন সুরভিসুত হার করি গলে। আবা আবা রব দিয়া রাধাকুণ্ডে চলে॥
যথা রাধাকুণ্ডে শ্যাম আছেন অচেতনে। সুবল মিলনে যায় যদুনাথ দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রন্ধন শালাতে সুবল ভাবে মনে মনে
ভণিতা যদুনাথ        
কবি যদুনাথ দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রন্ধন শালাতে সুবল ভাবে মনে মনে। বিনোদিনী কুণ্ডতীরে আছে কৃষ্ণ সনে॥
পৌর্ণমাসী এই সব বুঝি অনুমানে। ললিতাকে ডাকি কহে যত বিবরণে॥
সুবলের বেশে রাধা কুণ্ডপাশে গেল। রাধিকার বেশে সুবল মন্দিরে রহিল॥
রসাল লাডুকা লয়ে চল মোর সনে। তথায় রহি দোঁহায় করি দরশনে॥
কুন্দলতা ছিল তথা, তাহারে কহিলা। শুনি কুন্দলতা মনে ভাবিতে লাগিলা॥
কুন্দলতা কহে কথা শুন মোর আই। আজ্ঞা দেও রাধা লয়ে যমুনাতে যাই॥
যমুনার জলে যেতে জটিলা কহিলা। এতেক চাতুরী করি বাহির হইলা॥
সুবর্ণের কলসী লইয়া জনে জনে। রাধাকুণ্ড পথে সবে করিলা গমনে॥
যথা রাধা কুণ্ড তীরে আছেন কৃষ্ণ সনে। সুবল মিলিল যাইয়া যদুনাথ ভণে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর