| কবি যশোরাজ খানের বৈষ্ণব পদাবলী |
| এক পঅধর চন্দন লেপিত কবি জশোরাজ খান সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অভিসার বর্ণন, পৃষ্ঠা ২৭১। ॥ ধানসী॥ এক পঅধর চন্দনে লেপিত আরে সহজই গৌর। হিম ধরাধর কোলে মিলল ভূধরাধর যোর॥ মাধব, তুয়া দরসন কাজে। আধ পদ চালান করিঞা সুন্দরী বাহির দেহলী মাঝে॥ ডাহিন লোচন কাজরে রঞ্জিত ধবল রহল কর বাম। নীলধবল কমল দুঅ চান্দ পূজল কত কোটি কাম॥ শ্রীযুত হুসন জগতভূষণ সোহ এ রস জান। পঞ্চগৌড়েশ্বর ভোগ পুরন্দর ভণে জসরাজ খান॥ টীকা বা ব্যাখ্যা - শ্রীরাধা প্রসাধন করিতেছিলেন, বুকে চন্দন ও নয়নে কাজল লাগাইতেছিলেন, এমন সময় শুনিতে পাইলেন যে, মাধব তাঁহার বাড়ীর সামনে দিয়া যাইবেন। অমনি প্রসাধন করা ছাড়িয়া দিয়া তিনি বাড়ীর দেউড়ীতে আসিয়া পায়চারি করিতে লাগিলেন। তিনি এক স্তনে চন্দন দিয়াছিলেন, অন্য স্তন খালিই থাকিল। চন্দনচর্চিত স্তনের সঙ্গে তুষারমণ্ডিত হিমালয়ের ও অপর স্তনের সহিত স্বর্ণবর্ণের পর্বতের তুলনা করিয়া কবি বলিতেছেন যে, উভয়ে যেন রাধার কোলে মিলিত হইল। রাধার দক্ষিণ চক্ষুতে কাজল পরা হইয়াছিল, অন্য চক্ষু সাদাই রহিল। দুই চক্ষুকে নীল পদ্ম ও শ্বেত পদ্মের সঙ্গে তুলনা করিয়া কবি বলিতেছেন যে, কামদেব যেন এই দুইটি পদ্ম দিয়া রাধার মুখরূপ চন্দ্রকে পূজা করিল। হুসেন শাহের রাজত্যকাল ১৪৯৩- ১৫১৯ খৃষ্টাব্দ। --- বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০”। এই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, তৃতীয় খণ্ড, প্রকীর্ণক, পৃষ্ঠা ১০৫০-য় এভাবে রয়েছে। উন্মত্ত অভিসারিকা এক পয়োধর চন্দন লেপিত আরে সহজই গোর। হিম ধরাধর কনক ভূধর কোরে মিলল জোড়॥ মাধব তুয়া দরশন কাজে। আধ পদচারি করত সুন্দরী বাহির দেহলী মাঝে॥ ডাহিন লোচন কাজরে রঞ্জিত ধবল রহল বাম। নীল ধবল কমল যুগলে চাঁদ পূজল কাম॥ শ্রীযুত হুসন জগৎ ভূষণ সেহ ইহ রস জান। পঞ্চ গৌড়েশ্বর ভোগ পুরন্দর ভণে যশোরাজ খান॥ এই পদটিই, ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, সঞ্চার অভিসার, পৃষ্ঠা ১৯৪-য় এভাবে রয়েছে। ॥ ধানশী॥ এক পয়োধর চন্দন লেপিত আর পয়োধর গোর। হিম ধরাধর কনক ভূষণ কোলে মিলল জোর॥ মাধব তুয়া দরশন কাজে। আধ পদ চালন করত সুন্দরী বাহির দেহলি মাঝে॥ ধ্রু॥ ডাহিন লোচন কাজরে রঞ্জিত ধবল রহল বাম। নীল ধবল কমল যুগলে চাঁন্দ পূজল কাম॥ শ্রীযুক্ত হসন জগত ভূষণ সোই ইহ রস জান। পঞ্চ গৌড়েশ্বর ভোগ পুরন্দর ভণে যশরাজ খান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |