কবি কবিরঞ্জনের বৈষ্ণব পদাবলী
*
এ ধনি এক নিবেদন তোয়
কবি কবিরঞ্জন
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদা-রত্নাবলী” নামক পদাবলীর সংলন , পৃষ্ঠা ৫।
এখানে পদটি বিদ্যাপতির বলে উল্লখ করা রয়েছে। এই পদটি সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথির পদ।


শ্রীকৃষ্ণের স্বয়ং-দৌত্য

॥ ধানশ্রী॥

“এ ধনি এক নিবেদন তোয়।
কনক-শম্ভু এক                                        ভেখ বিলোকন
দোসর দেখায়বি মোয়॥
কর-পল্লবে হম                                          ইহ হর পূজব
কোলহ নীল-নিচোল।
পাণিক তলে হম                                      কপোল বজাওব
করতালি তুহুঁ কর বোল॥”
“শুন ব্রজবল্লভ                                        ইথে কিয়ে সম্ভব
সহজই জাতি অহীর।
আদি বিশেশর                                           দেব পুরন্দর
কৈছে পরশবি উহ শীর॥”
“দেব বিশেশর                                           আদি পুরুন্দর
আকুল জন নাহি জান।”
নিবেদয়ে পুন পুন                                      কহে কবিরঞ্জন
দেহ আলিঙ্গন দান॥

এই পদের প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ কলি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি এবং তৃতীয় কলিটি শ্রীরাধার প্রত্যুক্তি।

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হার-উর মরকত-মুকুরক জোতি
কবি কবিরঞ্জন
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদা-রত্নাবলী” নামক পদাবলীর
সংলন, পৃষ্ঠা ৫। এখানে পদটি বিদ্যাপতির বলে উল্লখ করা রয়েছে। এই পদটি সাহিত্য
পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথির পদ।


শ্রীকৃষ্ণের স্বয়ং-দৌত্য

॥ ধানশ্রী॥

হার-উর মরকত-মুকুরক জোতি।
তাহি পেখলি ধনি অপন মুরূতি॥
গরুয় দূখ কিছু ফুরতন বোল।
বৈঠলি সুধামুখি পাণি কপোল॥
ঢর ঢর ঢরকত নয়নক লোর।
নখ দুই লীখত ধরণিক ওর॥
কহ কবিরঞ্জন দৈবক রীত।
সজল মনমথ দৈবহি কীত॥

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যামুন কুঞ্জে রহল বনমালি
কবি কবিরঞ্জন
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, অষ্টম কোরক, নায়িকা বিভাগ, পৃষ্ঠা
১১৫।


অথ অভিসার-দিবা---

যামুন কুঞ্জে রহল বনমালি।
তুহু ধনি কি কহব গুণ বিথারি॥ ধ্রু॥
তুহু ধনি সহজই পদুমিনি জাতি।
তোহার বিলাস উচিত নহ রাতি॥
সুন্দরী মা কুরু মনোরথ ভঙ্গ।
অহ অভিসারে দ্বিগুণাধিক রঙ্গ॥
ভুখল জন যব না পায়ল অন্ন।
বিফল ভোজন দিবস অবসন্ন॥
আরতি রতি দুহু নহে সমতুল।
গাহক আদর সবহু মূল॥
পদুমিনি নায়রি যদুমণি নাহ।
কহে কবিরঞ্জন রস নিরবাহ॥


ই পদটিই সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা
সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২৬৭-তে
এভাবে দেয়া রয়েছে।

দিবা-অভিসার---

॥ আসোআরি॥

দড় বিসআসে তুআ পন্থ নেহারি।
জামুনকুঞ্জ রহল বনআরি॥
সুন্দরী মা কুরু মনোরথ ভঙ্গ।
অহ অভিসারে দ্বিগুণাধিক রঙ্গ॥
তুহুঁ ধনি সহজহিঁ পদুমিনী জাতি।
তোহার বিলম্ব উচিত নহে আতি॥
ভুখল জন জদি না পাঅব অন্ন।
বিফল ভোজন দিন অবসন্ন॥
আরতি রতি দুহু নহে সমতুল।
গাহক আদর সবহু বহু মূল॥
গাহ মিলি নাগরী জদুমণি পাহ।
কহে কবিরঞ্জন রস-নিরবাহ॥


৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সংকলিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীপদ-রত্ন-মালা
গ্রন্থের পৃষ্ঠা ১৮৮-তে পদটি এভাবে রয়েছে।

দিবা অভিসার।

॥ আসোবারি রাগ॥

দৃঢ় বিশআশে তুয়া পন্থ নেহারি।
যমুনা কূঞ্জে রহল বনয়ারি॥
সুন্দরি মা করু মনোরথ ভঙ্গ।
অহ অভিসারে দ্বিগুণাধিক রঙ্গ॥
তুহু ধনি সহজে হি পদুমিনী জাতি।
তোহার বিলাস উচিত নহে রাতি॥
ভুখল জল যদি না পাওব অন্ন।
বিফল ভোজন দিন অবসন্ন॥
আরতি রতি দুহুঁ নহে সমতুল।
গাহক আদর সবহু বহু মূল॥
গৃহ মিলি নাগরি যাদুমণি পাহ।
কহ কবিরঞ্জন রস নিরবাহ॥

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পন্থ পিছর নিশি কাজর কাঁতি
কবি কবিরঞ্জন
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, অষ্টম কোরক, নায়িকা বিভাগ, পৃষ্ঠা
১১৭। এই পদটিতে বহু স্থানে গোবিন্দদাস ভণিতা পাওয়া যায়।


অথ দূতী উক্তি---

পন্থ পিছর নিশি কাজর কাঁতি।
পাতরে ভৈগেল দীগ ভরাতি॥
চরণে বেঢ়ল অহি তাহে নাহি শঙ্ক।
সুন্দরী হৃদয়ে নূপুর পরিবঙ্ক॥
কি কহব মাধব পিরিতি তোহারি।
তুয়া অনুরাগে না জিয়ে বরনারি॥
বরাহ মহিষ মৃগি পালে পালায়।
অনুরাগিনি দেখি বাঘ ডরায়॥
কহে কবিরঞ্জন না করিহ রোষ।
আজুক বিলম্বে ক্ষেম সব দোষ॥


ই পদটিই সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা
সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২৬৮-তে
এভাবে দেয়া রয়েছে।

অথ বর্ষাভিসার---
পন্থ পিছর নিশি কাজর কাতি।
পাতরে ভৈগেল দীগ ভরাতি॥
চরণে বেঢ়ল অহি তাহে নাহি শঙ্ক।
সুন্দরী হৃদয়ে নূপুর পরিপঙ্ক॥
কি কহব মাধব পিরিতি তুহারি।
তুয়া অভিসারে না জিএ বরনারী॥
বরাহ মহিষ মৃগ দেখি ভয় পায়।
দেখি অনুরাগিনি বাঘ ডরায়॥
ফণি-মণি-দীপ ভরমে দেই ফুক।
কত বেরি নাগিনীর মুখে দেই মুখ॥
কহে কবিরঞ্জন করহ সন্তোষ।
আজুকার গমনে বিলম্বে নাহি দোষ॥

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নব দরশনে নবীন নারী
কবি কবিরঞ্জন
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, ষষ্ঠ কোরক, বিপ্রলম্ভের দিগ্ দরশন,
পৃষ্ঠা ৮৫। এই পদটিতে কোনো ভণিতা নেই, তবে এটা যে কবিরঞ্জনের পদ তা শুরুতেই
লেখা রয়েছে।

তথাহি পদম্ শ্রীকবিরঞ্জন---

নব দরশনে নবীন নারী।
হৃদয় বুঝল গতি নেহারি॥
কাহিনী কহত লাগহুঁ লাজ।
নয়নে নয়নে গঢ়ল কাজ॥
নিজ অঙ্গের মাল্য কভু করে আলিঙ্গন।
বিকাশ কমল কভু করিয়ে চুম্বন॥
কদম্বকোরক কভু করে আকর্ষণ।
নানা প্রকার করিঞা গোপীর হরে মন॥
নখরক রেখে কভু গেড়ুয়া বিদারে।
নব কিশলয় কভু দংশন করে॥

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিয়ে পেখনু অপরূপ রামা
কবি কবিরঞ্জন
আনুমানিক ১৮৭০ সাল পর্যন্ত, নদীয়া জেলার শান্তিপুর নিবাসী, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা সংগৃহীত ও
১৯২২ সালে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ১৬৯।


কিয়ে পেখনু অপরূপ রামা।
কুটিল কটাক্ষ,                                  লাখশর বরিখত,
বান্ধল বিনি দামা॥
পহিল বয়েস ধনি,                             মুনি-মনোমোহিনী,
গতি গজরাজ জিনি মন্দা।
বদন ভানু জনু,                                  কনকলতা তনু,
উপরহি উজ্জ্বল চন্দা॥
কাঁচা কাঞ্চন,                                   সাঁচ ভরি দুকুচ,
কঞ্চুক মরকত শোভা।
বিকশিত কমলে,                                  মধুরে শুতল,
তা হেরি রহল মনোলোভা॥
কহে কবিরঞ্জন,                                ত্রিপুরচরণে মন,
অবধান কর তুহুঁ কান।
সহচরী কহে কথা,                        ত্বরিতে পাঠাও তথা,
তবে সে হইবে সমাধান॥

.       *************************          
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর