| কবি কমলাকান্ত দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| শ্রীবিদ্যাপতি কবি-বর-শেখর কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৪৮। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। পূর্ব্ব-পদকর্ত্তৃ-গণের বন্দনা ॥ কামোদ মল্লার॥ শ্রীবিদ্যাপতি কবি-বর-শেখর কয়লহি বহুবিধ গীত। শ্রীগোবিন্দ- কবীন্দ্র-শিরোমণি জগভরি যাহাক চরীত॥ শ্রীজয়দেব বিবিধ রস-বর্ণন কবিশেখর চণ্ডীদাস। রামানন্দ রায় কবি সাগর নাটক করল প্রকাশ॥ শ্রীল সনাতন সুললিক-বর্ণন গীতাবলি রস-পূর। বলরাম দাস কয়ল বহু বর্ণন প্রেম-বিলাস প্রচূর॥ সরহরি দাস সুগড় কবি-ভূপতি গোবিন্দ ঘোষ কবি-সিন্ধু। দাস বৃন্দাবন বাসুদেব কবি সকল কবীশ্বর-ইন্দু॥ জ্ঞানদাস কবি রচিল পদাবলি কোমল পরম উদার। শ্রীজগন্নাথ দাস কবি-সায়র শ্রীবল্লভ কবি-সার॥ ঠাকুর নরোত্তম কয়ল বর্ণন প্রার্থনাদি বহু গান। বংশীবদন সকল-কবি-ভূষণ সুমধুর পদ অনুপাম॥ রাধাবল্লভ কবি-চূড়ামণি যদুনাথ দাস অনুপ। গোপীরমণ সুধা সম বর্ণন নটবর কবি-কুল-ভূপ॥ শ্রীঘনশ্যাম দাস কবি-শশধর গোবিন্দ কবি-সম ভাস। ললিত পদাবলি কয়লহি বর্ণন কবিবর লোচন দাস॥ দাস অনন্ত কয়ল বহু বর্ণন সুললিত রসময় গীত। সুবলানন্দ সকল-কবি-রঞ্জন বিরচিল মধুর সঙ্গীত॥ নয়নানন্দ মিশ্র কবি পুঙ্গব শ্রবণ-রসায়ন গান। বসু-কুল-ভূষণ বিরচিল সুমধুর রামানন্দ গুণ-ধাম॥ ইহ সব কবি-কুল- চরণে শিরে ধরি কমল করয়ে প্রতি আশ। নিজ-নিজ-কৃত-পদ- কমল-কুসুম-রসে পূরণ কর অভিলাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীচৈতন্য অভিন্ন কলেবর কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৪৯। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। অভীষ্ট-দেব-বন্দনা ॥ কামোদ মল্লার॥ শ্রীচৈতন্য অভিন্ন কলেবর দ্বিজ-কুল-জলনিধি-ইন্দু। বীর গদাধর মহিমা-সাগর দীন-হীন-জন-বন্ধু॥ তছু শাখা-বর অখিল-গুণাকর শিবানন্দ গুণ-রাশি। রূপ-সনাতন সঙ্গে অনুক্ষণ বৃন্দাবন-বন-বাসী॥ তত্কুল-জলধি- সমুদ্ভব-শশধর নটবর-পুত্র স্বরূপ। নন্দ-গ্রাম নিজ- ধামে প্রকট ভেল নন্দাত্মজ নিজ-রূপ॥ পামর-পাবন পতিত-পরায়ণ এ জন তাহে পরমাণ। অজ্ঞানান্ধ পতিত হেরি পামরে জ্ঞানাঞ্জন দিল দান॥ সো পদ-কমলে কমল-মন-মধুকর অনুখণ মধু করু পান। সো রুপ-মাধুরি হৃদয়-মাঝে হেরি নিশি-দিশি গুণ করু গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পদ-রত্নাকর অখিল-রসাকর কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৪৯। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। অভীষ্ট-দেব-বন্দনা ॥ কামোদ মল্লার॥ পদ-রত্নাকর অখিল-রসাকর যাকর শ্রুতি-যুগ পরশে। চির-দিন শুষ্ক- সরোবর-মানস পূরই হরি-গুণ-সরসে॥ অবিচল-আনন্দ-কারি। মঙ্গল-কুমুদে কুমুদ-কুল-বান্ধব ভবদাবানল-বারি॥ ধ্রু॥ মায়া-জরতী হরতি সব মানসে বিদ্যা-কমলিনি সূর। অনুখণ নব-নব রস-আস্বাদন শ্যামামৃত-রস-পূর॥ কীর্ত্তন-জনক সকল-সুখ-সম্পদ তব-ভয়-ভঞ্জন-হার। কলি-মল-মথন কুমতি-কুল-বারণ আগম নিগমক সার॥ ত্রিভূবন-তারণ তাপ-বিনাশন অখিল-আনন্দ-আধার। কমলাকান্ত দাস কহে জগ ভরি অমিয়া-সিন্ধু বিথার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কদম্ব-কাননে উঠিছে সঘনে কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫০। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। শ্রীরাধার পূর্ব্ব-রাগ ॥ তুড়ী॥ কদম্ব-কাননে উঠিছে সঘনে একি ধ্বনি অনুপাম। শ্রুতি-পথ দিয়া অন্তরে পশিয়া চঞ্চল করিল প্রাণ॥ সই এ তোরে কহিলুঁ সার। হেন সুমধুর ধ্বনি রস-পূর ভুবনে না শুনি আর॥ ধ্রু॥ না জানি সজনি হেন ধ্বনি শুনি কেন কাঁপে মোর গা। বসন খসিল কেশ আউলাইল চলিতে না চলে পা॥ নয়নের বারি নিবারিতে নারি বয়ানে না সরে কথা। না জানি কেমন করিছে জীবন মরমে হইল বেথা॥ সঙ্গের সঙ্গিনী যতেক রমণী সভাই শুন্যাছে ধ্বনি। একা কেন মোর দহে কলেবর যেমন দংশিল ফণী॥ হেন লয় চিতে আমারে মোহিতে কোন সুনাগর-রাজ। এ ধ্বনি মিশালে মন্ত্র পড়ে ছলে নাশিতে ধৈরজ লাজ॥ এতেক শুনিয়া আশ্বাস করিয়া বিশাখা সুন্দরী কহে। মোহন মুরলী বাজয়ে সুন্দরি অন্য কোন শব্দ নহে॥ শুনি বেণু নাদ এত পরমাদ হৃদয়ে ভাবছি কেনে। স্থির কর মন নহ উচাটন কমল কাতরে ভণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মলয়জ-লেপন মন্দ সমীরণ কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫০। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। সখীর উক্তি ॥ সুহই॥ মলয়জ-লেপন মন্দ সমীরণ কোকিল-অলিকুল-গানে। উপনিত অতনু- বিকার লুকাওত কত কত সে সব ভানে॥ হরি হরি বিষম কুসুম-শর-জ্বালা। নব-অনুরাগ- ভার-ভরে সুন্দরি দিনে দিনে দূররি ভেলা॥ ধ্রু॥ কারণ বিনু ঘন অম্বুকণা গণ লোচনে বহে অনিবার। নিভৃত নিকেতনে সব সখিগণ সনে করতহি পিরিতি-বিথার॥ ঘন ঘন বাহির ঘন অভ্যন্তর কতহ ভবমময় ভাষ। করতলে সঘন বদন অবলম্বন ঘন ঘন দীঘ নিশাস॥ সুখময় শয়ন নয়নে নাহি হেরই ধরণী-শয়নে ঘন সাধ। কমল কহত ধনি নব-অনুরাগিণি অতয়ে সে এত অবসাদ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চাচর-চিকুর কবরি পর শোহন কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫০। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। স্রীরাধার অভিসার ॥ ধানশী॥ চাচর-চিকুর কবরি পর শোহন কুসুমাবলি অনুপাম। কালিন্দি-নীর-তরঙ্গে বিরাজিত জনু ঘন-ফেনক দাম॥ মধুর-বিহারিণি বালা। মন্থর-গমনে বিলোলিত উর পর মঞ্জুল মণিময় মালা॥ ধ্রু॥ রঙ্গিণি-সঙ্গিনি-কর-অবলম্বিনি উজ্জ্বল-অনুপম-বেশ। স্পন্দই বাম-নয়ন জনু মনমথে করত নটন-উপদেশ॥ লজ্জা-ভয়-যুত লোচন-অঞ্চলে চঞ্চল চাহনি থোর। কুবলয়-চয় উপহার দেই জনু ভেটলি নন্দ-কিশোর॥ প্রথম সমাগমে দুহুঁ দোহাঁ দরশনে ভাবে ভূষিত ভেল অঙ্গ। কমল কহত দুহুঁ অন্তরে উপজল মনসিজ-সিন্ধু-তরঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখী-করে ধরি চলল সুন্দরী কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫১। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। স্রীরাধার অভিসার ॥ ধানশী॥ সখী-করে ধরি চলল সুন্দরী নিকুঞ্জ-মন্দির মাঝে। গমন মন্থর হেরি করি-বর চলিতে না পারে লাজে॥ অনঙ্গ-মোহিনী বালা। অঙ্গের ছটায় সঙ্গিনী-ঘটায় নিকুঞ্জ করিল আলা॥ ধ্রু॥ হসিত-বদনে নয়নের কোণে নাগরের পানে চাঞা। নীল-নলিনী দিয়া যেন ধনী নিকুঞ্জে ভেটল গিয়া॥ রাই-প্রতিবিম্ব পাঞা শ্যাম-অঙ্গ হইল হরিত-আভা। সব সখীগণ চকিত নয়ন দেখিয়া দোহাঁর শোভা॥ অনিমিখে হেরি রাধার মাধুরি নয়নে করিয়া পান। ভুখিল চকোর যেন সুধাকর পাইয়া পূরল কাম॥ দুহুঁ দোহাঁ হেরি আনন্দে আগরি বিহ্বল হইল জনি। বিশেষে রাধিকা অবশ অধিকা জড়িমা হইল তনু॥ অবশ হইয়া অঙ্গ হেলা দিয়া ললিতা-সুন্দরী-গায়। সভয়-অন্তর কাঁপে কলেবর চলিতে না চলে পায়॥ বিশাখা দেখিয়া খেদিত হইয়া কহে কেনে সুধামুখি। নাগরে হেরিয়া ভয়ে ভীত হৈয়া মেলিতে না পার আঁখি॥ যে বন্ধু লাগিয়া সদা তব হিয়া তিলেক না বান্ধে থেহ। সে শ্যাম দেখিয়া বিবশ হইয়া কাঁপিছে সকল দেহ॥ ধন্য অন্য-বামা শ্যামের সুষমা হেরে হরষিত-মনে। হাস-পরিহাসে নব-নব রসে বিহরে শ্যামের সনে॥ অতয়ে সুন্দরি ভয় পরিহরি ধৈরজ ধরহ চিতে। এত বলি তারে ধরি দুই করে সোঁপিল শ্যামের হাতে॥ সমাদরে হেরি আগে আগুসরি ধরিয়া ধনীর করে। পরম-যতনে কুসুম-শয়নে বসাইল উরু পরে॥ দুহুঁ রূপ হেরি সকল সুন্দরী সুখের সায়রে ভাসে। সে শোভা দেখিয়া কমলের হিয়া ডুবল আনন্দ রসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্যাম গুণ-ধাম বিনে কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫২। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। উত্কণ্ঠিতা ॥ গুর্জ্জরী॥ শ্যাম গুণ- ধাম বিনে যাম যুগ ভেল। কাম-শর- দাম অব ভেল মুঝে শেল॥ ভ্রমর-কুল- নাদে অব- সাদ মঝু প্রাণ। কুঞ্জ মন- রঞ্জ ভয়- পুঞ্জ সম ভান॥ কোকিল-কল- ভাষে অব ত্রাস ভেল চীত। সঙ্গ-সুখ লাগি মম অঙ্গ ভয় ভীত॥ গন্ধ সহ গন্ধবহ মন্দ-গতি ভেল। ইহ সুখদ বিপিন-দ্রুম- দাম সুখ দেল॥ বিকচ ফুল- বৃন্দ চিত গন্ধ হরি গেল। সবল-হৃদি কমল অব তরল-মতি ভেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাইয়ের দশমী দশা দেখি জীবনের আশা কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫২। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। মাথুর-সখী-সংবাদ ॥ সুহই॥ রাইয়ের দশমী দশা দেখি জীবনের আশা তেজিয়াছে সকল সুন্দরী। ভূতলে পড়িয়া কান্দে কেশ-পাশ নাহি বান্ধে উচ্চ স্বরে হাহাকার করি॥ শ্যাম কুলিন-সমান তোর হিয়া। হেন প্রেমবতী-জনে না জানি কেমন-মনে কেমনে রয়্যাছ পসরিয়া॥ ধ্রু॥ ললিতা বিরহানলে পড়িয়া ধরণী-তলে নিশি-দিশি নাহিক চেতন। বিশাখা আপন শিরে কঙ্কণ আঘাত করে মুক্ত-কণ্ঠে করেয় রোদন॥ চিত্রা চম্পকলতা পড়ি আছে মুরছিতা সব অঙ্গ শিথিল হইয়া। তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা রঙ্গদেবী সুদেবিকা মৃত যেন আছয়ে পড়িয়া॥ অনেক-স্ত্রীবধ-পাপ তোমারে হইবে লাভ যদ্যপি বিলম্ব কয় যাত্যে। কমল কাতরে কয় বিলম্ব উচিত নয় শীঘ্র গতি চল মোর সাথে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্যামক শয়ন-সমীপে সুধা-মুখি কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫২। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। মাথুর-বিরহান্তে মিলন ॥ কামোদ॥ শ্যামক শয়ন- সমীপে সুধা-মুখি চলইতে সুমধুর মঞ্জির বাজ। রাই-মুখ হেরি সমাদকে অগুসরি করে ধরি মালল নাগর-রাজ॥ অপরুপ দুহুঁক বিলাস। দুহুঁ দোহা-পরশ- সুধা-রস-লালসে কুসুম-শয়নে করু বাস॥ ধ্রু॥ নিবিড় আলিঙ্গনে তনু তনু মিলনে দুহুঁ তনু ভেল অভেদ। দুহুঁ মিলিত জনি কীলিত স্মর শরে মীটল চির-দিন-খেদ॥ দুহুঁ বিম্বাধর দশনে বিখণ্ডিত মণ্ডিত নখ-পদে অঙ্গ। গুরুতর-শ্বাস- সমীরণে উথলল মনসিজ-সিন্ধু-তরঙ্গ॥ চরণে চরণ ঘন ভুজে ভুজে বন্ধন মনমথ সমর বিশাল। কমল কহত জনু তড়িত জড়িত ভেল অসিত-অম্বুধর জাল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হে কৃষ্ণ করুণা-সিন্ধু শ্রীরাধার প্রাণ-বন্ধু কবি কমলাকান্ত দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৫৩। কমলাকান্ত দাস সংকলিত ও বিরচিত “পদরত্নাকর” গ্রন্থের পদ। প্রার্থনা ॥ কামোদ॥ হে কৃষ্ণ করুণা-সিন্ধু শ্রীরাধার প্রাণ-বন্ধু ব্রজ-বনিতার প্রাণনাথ। মো হেন পামর-জীবে কাতর দেখিয়া কবে কৃপায় করিবে আত্মসাথ॥ হে রাধিকা বিনোদিনি শ্যাম-মন-বিমোহিনি মো বড় অধম অতি-দুখী। কবে নিজ-নাথ সনে দেখা দিয়া দুখী-জনে শীতল করিবে দুই আঁখি॥ হে রাধার সখীগণ মুঞি বড় অকিঞ্চন করুণা করিবে কবে মোরে। বৃন্দা-দেবী কবে মোরে বান্ধিয়া করুণা-ডোরে আকর্ষিয়া লবে ব্রজ-পুরে॥ ভব কবলিত-চিত নাহি জানে হিতাহিত সুখ মানে নরকে পড়িয়া। হে যমুনা বৃন্দাবন রাধা-কুণ্ড গোবর্দ্ধন কেশে ধরি লহ উদ্ধারিয়া॥ হে গৌরাঙ্গ গদাধর কৃপাময় কলেবর কৃপাময় তার ভক্তগণ। কমল কাতর জীবে এ ভীষণ ভবার্ণবে কবে দিবে করুণাবলম্বন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |