| কবি কানাই খুটিয়ার বৈষ্ণব পদাবলী |
| মন-চোরা বাঁশী বাজিও ধীরে ধীরে কবি কানাই খুটিয়া ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে সতীশচন্দ্র রায় প্রকাশিত অপ্রকাশিত পদত্নাবলী সংকলন, ১৩৫-পৃষ্ঠা। আনুমানিক উনবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৪৩৪ সংখ্যক পদ। আক্ষেপ-অনুরাগ ॥ সুহই॥ মন-চোরা বাঁশী বাজিও ধীরে ধীরে। আকুল করিল তোমার সুমধুর স্বরে॥ ধ্রু॥ আমরা কুলের নারী হই, গুরু-জনার মাঝে রই না বাজিও খলের বদনে। আমার বচন রাখ নীরব হইয়া থাক না বধিও অবলার প্রাণে॥ যেবা ছিল কুলাচার সে গেল যমুনার পার কেবল তোমার এই ডাকে। যে আছে নিলজ প্রাণ শুনিয়া তোমার গান পথে যাইতে থাকে বা না থাকে॥ তরলে জনম তোর সবল হৃদয় মোর ঠেকিয়াছ গোঙারের হাতে। কানাই খুটিয়া কয় মোর মনে হেন লয় বাঁশী হৈল অবলা বধিতে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপ-অনুরাগ ॥ সুহই॥ মন-চোরা বাঁশী বাজিও ধীরে ধীরে। আকুল করিল তোমার সুমধুর স্বরে॥ ধ্রু॥ আমরা কুলের নারী হই, গুরুজনার মাঝে রই না বাজিও খলের বদনে। আমার বচন রাখ নীরব হইয়া থাক না বধিও অবলার প্রাণে॥ যেবা ছিল কুলাচার সে গেল যমুনার পার কেবল তোমার এই ডাকে। যে আছে নিলাজ প্রাণ শুনিয়া তোমার গান পথে যাইতে থাকে বা না থাকে॥ তরলে জনম তোর সরল হৃদয় মোর ঠেকিয়াছ গোঙারের হাতে। কানাই খুটিয়া কয় মোর মনে হেন লয় বাঁশী হৈল অবলা বধিতে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৮৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। মন-চোরা বাঁশী বাজিও ধীরে ধীরে। আকুল করিল তোমার সুমধুর স্বরে॥ আমরা কুলের নারী হই গুরুজনার মাঝে রই না বাজিও খলের বদনে। আমার বচন রাখ নীরব হইয়া থাক না বধিও অবলার প্রাণে॥ যেবা ছিল কুলাচার সে গেল যমুনার পার কেবল তোমার এই ডাকে। যে আছে নিলাজ প্রাণ শুনিয়া তোমার গান পথে যাইতে থাকে বা না থাকে॥ তরলে জনম তোর সরল হৃদয় মোর ঠেকিয়াছি গোঙারের হাতে। কানাই খুঁটিয়া কয় মোর মনে হেন লয় বাঁশী হৈল অবলা বধিতে॥ টীকা - তরলে জনম মোর - তরল বাঁশ বা তল্লা বাঁশ নামে ভেতরে ফাঁপা একরকম সরু বাঁশ। এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মন-চোরা বাঁশী বাজিও ধীরে ধীরে। আকুল করিল তোমার সুমধুর স্বরে॥ আমরা কুলের নারী হই গুরুজনার মাঝে রই না বাজিও খলের বদনে। আমার বচন রাখ নীরব হইয়া থাক . না বধিও অবলার প্রাণে॥ যেবা ছিল কুলাচার সে গেল যমুনার . পার কেবল তোমার এই ডাকে। যে আছে নিলাজ প্রাণ শুনিয়া তোমার গান পথে যাইতে থাকে বা না থাকে॥ তরলে জনম তোর সরল হৃদয় মোর . ঠেকিয়াছ গোঙারের হাতে। কানাই খুটিয়া কয় মোর মনে হেন লয় . বাঁশী হৈল অবলা বধিতে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ওরে বাঁশী বাজিহ খলের বদনে কবি কানাই খুটিয়া এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মাধুরী নাম্নী ব্যাখ্যা সম্বলিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুরটলল্লার - তেওট॥ ওরে বাঁশী বাজিহ খলের বদনে। আমার শপতি রাখ, নীরব হইয়া থাক, না বধিহ অবলার পরাণে॥ যে আছিল কুলাচার, সে গেল যমুনা পার, তোমার বাঁশীর ডাকে ডাকে। যে আছে নিলজ প্রাণ, শুনিয়া তোমার গান, পথে যেতে থাকে বা না থাকে॥ তরলে জনম তোর, সরল হৃদয় মোর, ঠেকিয়াছি গোঁয়ারের হাতে। কানাই খুটিয়া কয়, বাঁশী গেলে ভাল হয়, খল বাঁশী না রাখিহ হাতে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |