কবি দুখী কৃষ্ণদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাঢ়দেশে নাম একচক্রা গ্রাম
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় শাখা, ১৭শ পল্লব,
জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১৬। এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ততঃ শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রাবির্ভাবঃ।

॥ শ্রীরাগ॥

রাঢ়দেশে নাম                                একচক্রা গ্রাম
হাড়াই পণ্ডিত-ঘর।
শুভ মাঘ-মাসি                                শুক্লা ত্রয়োদশী
জনমিলা হলধর॥
হাড়াই পণ্ডিত                                 অতি হরষিত
পুত্র-মহোত্সব করে।
ধরণী-মণ্ডল                                     করে টলমল
আনন্দ নাহিক ধরে॥
শান্তিপুর-নাথ                                   মনে হরষিত
করি কিছু অনুমান।
অন্তরে জানিলা                                বুঝি জনমিলা
কৃষ্ণের অগ্রজ রাম॥
বৈষ্ণবের মন                                    হৈল পরসন্ন
আনন্দ-সাগরে ভাসে।
এ দীন পামর                                   হইবে উদ্ধার
কহে দুখী কৃষ্ণদাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড,  ৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্ম*।

॥ শ্রীরাগ - মধ্যম একতালা॥

রাঢ় দেশে নাম,                                এক চাকা গ্রাম,
হারাই পণ্ডিত ঘর।
শুভ মাঘ মাসি                                 শুক্লা ত্রয়োদশী
জনমিলা হলধর॥
হারাই পণ্ডিত,                                  অতি হরষিত,
পুত্র মহোত্সব করে।
ধরণী মণ্ডল,                                      করে টলমল,
আনন্দ নাহিক ধরে॥
শান্তিপুর-নাথ,                                   মনে হরষিত,
করি কিছু অনুমান।
অন্তরে জানিলা,                                বুঝি জনমিলা,
কৃষ্ণের অগ্রজ রাম॥
বৈষ্ণবের মন,                                    হৈল পরসন্ন,
আনন্দ সায়রে ভাসে।
এ দীন পামর,                                   হইবে উদ্ধার,
কহে দুখী কৃষ্ণ দাসে॥

*
১৩৯৫ শকে অর্থাৎ ১৪৭৩ খৃষ্টাব্দে বীরভূমের মধ্যে এক চাকা গ্রামে হাড়াই পণ্ডিতের ঔরসে পদ্মাবতীর
গর্ভে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্ম হয়


ই পদটি, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭৩-পৃষ্ঠায় “দীন কৃষ্ণদাস” ভণিতায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাঢ় দেশে নাম, একচক্রা গ্রাম, হাড়াই পণ্ডিত-ঘর।
শুভ মাঘ মাসি, শুক্লা ত্রয়োদশী, জনমিলা হলধর॥
হাড়াই পণ্ডিত, অতি হরষিত, পুত্র-মহোত্সব করে।
ধরণী মণ্ডল, করে টলমল, আনন্দ নাহিক ধরে॥
শান্তিপুর-নাথ, মনে হরষিত, করি কিছু অনুমান।
অন্তরে জানিলা, বুঝি জনমিলা, কৃষ্ণের অগ্রজ রাম॥
বৈষ্ণবের মন, হৈল প্রসন্ন, আনন্দ-সাগরে ভাসে।
এ দীন পামর, হইবে উদ্ধার, কহে দীন কৃষ্ণদাসে॥

ই পদটি, ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪১-পৃষ্ঠায় “দীন কৃষ্ণদাস” ভণিতায় এই রূপে দেওয়া হয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাঢ়দেশে নাম                                 একচাকা গ্রাম
হারাই পণ্ডিত ঘর।
শুভ মাঘ মাসি                                শুক্লা ত্রয়োদশী
জনমিলা হলধর॥
হারাই পণ্ডিত                                  অতি হরষিত
পুত্র মহোত্সব করে।
ধরণী মণ্ডল                                      করে টলমল
আনন্দ নাহিক ধরে॥
শান্তিপুর নাথ,                                    মনে হরষিত,
করি কিছু অনুমান।
অন্তরে জানিলা,                                বুঝি জনমিলা,
কৃষ্ণের অগ্রজ রাম॥
বৈষ্ণবের মন                                       হৈল প্রসন্ন
আনন্দ সাগরে ভাসে।
এ দীন পামর,                                     হইবে উদ্ধার
কহে দীন কৃষ্ণদাসে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চিরদিনে গোরাচাঁদের আনন্দ অপার
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৫শ পল্লব, শরত্কালোচিত বিরহ, পদসংখ্যা ২০১৮। এই পদটি, ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সমৃদ্ধমৎ-সম্ভোগস্য রসোদ্গারঃ।

তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।।


চিরদিনে গোরাচাঁদের আনন্দ অপার।
কহয়ে ভকতগণে পুরব-বিহার॥
পুলকে পুরল তনু আপাদ-মস্তক।
সোণার কেশর জনু কদম্ব-কোরক॥
ভাবে ভরল মন গদগদ ভাষ।
অনেক যতনে বিহি পূরায়ল আশ॥
শচীর নন্দন গোরা জাতি প্রাণ ধন।
শুনি চাঁদ-মুখের কথা জুড়াইল মন॥
গোরাচাঁদের লীলায় যার হইল বিশ্বাস।
দুখী কৃষ্ণদাস তার দাস-অনুদাস॥

ই পদটি, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫০-
পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া রয়েছে।

তস্য রসোদ্গার।

তদুচিত গৌরচন্দ্র॥

॥ রাগিনী সুহই। তালোচিত॥

চিরদিনে গৌরাঙ্গচান্দের অপার।
কহয়ে ভকতগণে পূরূব বেহার॥
পুলকে পূরল তনু আপাদমস্তক।
শোণার কেশর জনু কদম্বকোরক॥
ভাবে ভরল মন গদগদ ভাষ।
অনেক যতনে বিহি পূরাওল আশ॥
শচীর নন্দন গোরা জাতি প্রাণ ধন।
সুনি চান্দমুখের কথা জুড়াইল মন॥
গোরাচান্দের লীলায় জার হইল বিশ্বাস।
দুখি কৃষ্ণদাস তার দাসানুদাস॥

ই পদটি, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

চিরদিনে গোরাচাঁদের আনন্দ অপার।
কহয়ে ভকতগণে পূরব বিহার॥
পুলকে পূরল তনু আপাদমস্তক।
সোনার কেশর যেন কদম্ব-কোরক॥
ভাবে ভরল মন গদগদ ভাষ।
অনেক যতনে বিহি পূরল আশ॥
শচীর নন্দন গোরা জাতি প্রাণধন।
শুনি চাঁদমুখের কথা জুড়াইল মন॥
গোরাচাঁদের লীলায় যার হইল বিশ্বাস।
দুঃখী কৃষ্ণদাস তার দাস অনুদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানায়েরে মাঝে করি চলে বলাই ধিরি ধিরি
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪০
পৃষ্ঠা।

॥ ধানশী॥

কানায়েরে মাঝে করি                                চলে বলাই ধিরি ধিরি
উপনিত যমুনা পুলিনে।
সখা গণ ধেয়ে গিয়ে                                     যমুনার পানি পিয়ে
নিজ নিজ মুখ নিরীক্ষণে॥
নির্মল যমুনার জলে                                      মুখ দেখে কুতূহলে
কার মা কেমন সাজায়েছে ভাই।
রাখাল সব এক সঙ্গে                                   মুখ দেখে নানা রঙ্গে
কানায়ের মুখের বালাই যাই॥
আসিয়া তরুর তলে                                  খেলে রাখাল নানাছলে
সুবল চতুর বলে ভাইরে।
আনন্দে চড়ুক ধেনু                                      শুন ওরে প্রাণ কানু
লুকোলুকি খেল এই ঠাঁইরে॥
রাখাল সব যূথে যূথে                                আঁখি বান্ধ কানাই হাতে
লুকাইব বনের ভিতরে।
কানাই মোদের ছোট ভাই                                  বংশীবটের ছায়
বসি থাকি দাওরে বান্ধিয়ে॥
আগে যে ছুঁইবে কানাই                                  তার হার কভু নাই
এ দুঃখী কৃষ্ণদাস কইয়ে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানাই বংশীবটের তলে বসি
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪১ পৃষ্ঠা।

.        ॥ টোড়ি॥

কানাই বংশীবটের তলে বসি।
কানাই বান্ধয়ে আঁখি বলাই মহাখুসি॥
রাখালগণ লুকাইল বনে।
আঁখি ছাড়ি দিল বলাই করে নিরীক্ষণে॥
একে মাতোয়ারা বলাই চান্দে।
জা-জারে ছুঁইব কা-কারে না ছাড়িব তা-তাহার চড়িব কান্ধে॥
খুঁজিতে চলিল বলাই বনের ভিতরে।
আর একদিগে আসি সব শিশু ধরিল কানায়ের করে॥
পুন পুন খেলই রাখাল সব।
বাঁশীবটের তলে আনন্দ উত্সব॥
পুনঃ আঁখি বান্ধে হলধর।
লুকাওত সব গাছের উপর॥
খুঁজিতে চলিল বলাই নিবিড় বনেতে।
দুখী কৃষ্ণদাস হাসে দাঁড়ায়ে এক ভিতে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গাছ হইতে নামিয়া সভে ছুঁইল কৃষ্ণেরে
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪১ পৃষ্ঠা।

.        ॥ টোড়ি॥

গাছ হইতে নামিয়া সভে ছুঁইল কৃষ্ণেরে।
কুক দেয় রাখালগণে অতি উচ্চস্বরে॥
শুনিয়া রাখালের রব আইল হলধর।
কে কোথা ছিলে ভাই কহত সত্বর॥
পুনরায় আঁখি বান্ধি ধর ভাই কানাই।
লুকাগ কন্দরে রাখাল না দেখে বলাই॥
খুঁজিবারে যায় বলাই সমুখে ছিদাম।
ধরিয়া চড়িল কান্ধে শিঙ্গায় ধরে গান॥
কান্ধে চড়ি বলাই চাঁদ আইসে বংশীবটে।
ছিদাম বলায়ে লয়ে ধীরে ধীরে হাঁটে॥
দুখী কৃষ্ণদাস বলে কেমন রে ছিদাম।
ছিদামের অঙ্গে ঝরে ঘম যেন মুকুতার দাম॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলাই দাদা এই বার আমার
কবি দুখী কৃষ্ণদাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪১ পৃষ্ঠা।

.        ॥ সারঙ্গ॥

বলাই দাদা এই বার আমার।
আঁখি বান্ধি ধররে।
লুকাগ রে রাখালগণে
করি আমি অন্বেষণে
.                ধরে এনে দিব তোমার করে রে॥
আমি একবার যারে ছোঁব
তার সঙ্গে পোস লিব
.                একে একে চড়িব সব কান্ধে রে।
শুনরে কানাই ভাই
রাখালে ধরতে পারিবে নাই
.                ভুলিয়া যাই বা কোন খানে রে॥
পথ ভুলিবরে যখন
বাঁশিতে গাইব তখন
.                এইবার দাদা লয়ে যাও মোরে রে।
বলাই কোলে বসিল কানাই
মরি শোভার বালাই যাই
.                চাঁদে মেঘে উদয় যেমন রে॥
আঁখি বান্ধে বলাই চান্দ
লুকায় রাখাল করি সুছান্দ
.                লুকায় সবে নিবিড় কাননে।
আঁখি ছাড়ি দিল বলাই
সব রাখালে ছোঁগা কানাই
.                দুঃখী কৃষ্ণদাস নিরক্ষণে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অভিষেকে গোরাচাঁদের আনন্দ অপার
কবি দুঃখী কৃষ্ণদাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৫১-পৃষ্ঠা।

.        ॥ সুহই॥

অভিষেকে গোরাচাঁদের আনন্দ অপার।
কহয়ে ভকতগণে পূরব বিহার॥
পুলকে পূরল তনু আপাদ মস্তক।
সোনার কেশর জিনে কদম্বকোরক॥
ভাবে ভরল মন গদ গদ ভাষ।
অনেক যতনে বিধি পূরায়ল আশ॥
শচীর নন্দন গোরা জাতি প্রাণধন।
শুনি চাঁদ মুখের কথা জুড়াইল মন॥
গোরাচাঁদের লীলায় যার হইল বিশ্বাস।
দুঃখী কৃষ্ণদাস তার দাস অনুদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর