কবি শ্যামানন্দের (দুখী কৃষ্ণদাস) বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাই কনক-মকুর-কাঁতি
কবি শ্যানন্দ পুরী
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব,
অভিসারোত্কণ্ঠা, পদসংখ্যা ১০২৪। এই পদটি, ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত
“পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১২৭-পৃষ্ঠায় এবং ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত
“ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪১৫-পষ্ঠায়, একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম বিলাসিতে                                সুন্দর তনু
সাজয়ে কতেক ভাতি॥
নীল বসন                                       রতন ভূষণ
জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের                                  বিচিত্র বেণী
দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
রসের আবেশে                                  গমন মন্থর
হেলি দুলি চলি যায়।
আধ ওঢ়নি                                  ঈষত হাসিয়া
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সি থায় সিন্দুর                              নয়ানে কাজর
তাহে চন্দনের রেখা।
নব জলধরে                                  অরুণ-কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
শ্যামানন্দ ভণে                                নিকুঞ্জ-ভবনে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের আবেশে                           বৈসে বিনোদিনী
শ্যাম নাগরের কোরে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সর্ব্বকালোচিত কৃষ্ণাভিসার।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই-কনক মুকুর কাঁতি।
শ্যাম দরশনে                                সে সুন্দর তনু
তাহাতে কতেক ভাঁতি॥
নীল-বসন                                        রতন ভূষণ
জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের                                  বিচিত্র বেণী
দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
সীথায় সিন্দুর                                নয়ানে কাজর
তাহে চন্দন রেখা।
নব জলধরে                                  অরুণ কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
রসের আবেশে                                 গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি ধনী যায়।
আধ ওড়ণী                                   ঈষৎ হাসিয়া
বঙ্কিম নয়ানে চায়॥
শ্যামানন্দ ভনে                              নিকুঞ্জ কাননে
কল্পতরুর মূলে।
রসের আবেশে                           বৈসে বিনোদিনী
শ্যাম নাগরের কোলে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি
থেকে। যেহেতু এই দুটি পদের প্রথম পংক্তি দুটির পার্থক্য এতটাই যে অন্যরূপের পদটির
সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের, পদটি খুঁজে বার করতে অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য আমরা এই দুটি পদকে
দুটি পৃথক পদ হিসেবেও এখানে উপস্থাপন করলাম।

বিনোদিনী কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম-বিলাসে                                   সুন্দর তনু
সাজাঞা কতেক ভাঁতি॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                                  গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি চলি চায়।
আধ ওঢ়নি                                   ঈষত হাসনি
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সিথের সিন্দুর                                    মদন মুগধ
তাহে চন্দনের রেখা।
নব-জল রে                                অরুণের কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
নীল বসন                                        রতন-ভূষণ
জলদে দামিনী সাজ।
চাঁচর কেশে                                   বিচিত্র বেণী
দুলিছে পিঠের মাঝ॥
শ্যামানন্দ-পহুঁ                                আনন্দ-মন্দিরে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের ঢল ঢল                                বসিলা নাগরী
শ্যাম-নাগরের কোলে॥  

ই পদটি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল দোঠুকি॥

রাই কনক মুকুর কাঁতি।
শ্যাম বিলাসের সুন্দর তনু, সাজয়ে কতেক ভাঁতি॥
নীল বসন, রতন ভূষণ, জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের, বিচিত্র বেণী, দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
সিঁথায় সিন্দুর, নয়নে কাজর, তাহে চন্দনেরি রেখা।
অরুণের কোণে, নব জলধর, নবীন চাঁদের দেখা॥
রসের আবেশে, গমন মন্থর, ভাবে ধনী চলি যায়।
আধ উড়নি, ঈষৎ হাসিনী, বঙ্কিম নয়নে চায়॥
শ্যামানন্দ ভণে, নিকুঞ্জ কাননে, কলপ তরুর মূলে।
রসের আবেশে, বৈসে বিনোদিনী, শ্যাম নাগরেরি কোলে॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর ২০০৬-এ প্রকাশিত পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ১৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই, কনক মুকুর কাঁতি।
শ্যাম বিলাসিতে সুন্দর তনু
সাজরে কতেক ভাঁতি॥
নীলবসন রতন ভূষণ
.                        জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের বিচিত্র বেণী
.                        দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
রসের আবেশে গমন মন্থর
.                        হেলি দুলি চলি যায়।
আধ ওড়নি ঈষৎ হাসিয়া
.                        বঙ্কিম নয়ানে চায়॥
সিঁথায় সিন্দুর নয়নে কাজর
.                        তাহে চন্দনের রেখা।
নবজলধরে অরুণ কোরো
.                        নবীন চাঁদের দেখা॥
শ্যামানন্দ ভণে নিকুঞ্জ ভবনে
.                        কলপ তরুর মূলে।
রসের আবেশে বৈসে বিনোদিনী
.                        শ্যাম নাগরের কোলে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মঙ্গল-আরতি যুগল কিশোর
কবি শ্যানন্দ পুরী
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮৪৩।

.        ॥ ভৈরবী॥

মঙ্গল-আরতি যুগল কিশোর।
জয় জয় করতহিঁ সখিগণ ভোর॥
রতন-প্রদীপ করে টলমল থোর।
নিরখত মুখ-বিধু শ্যাম সুগৌর॥
ললিতা বিশাখা সখি প্রেমে আগোর।
করু নিরমঞ্ছন দোহোঁ দুহুঁ ভোর॥
বৃন্দাবন-কুঞ্জ-ভবন উজোর।
নিরুপম যুগল-মুরতি বনি জোর॥
গাওত শুক পিকু নাচত মোর।
চাঁদ উপেখি মুখ নিরখে চকোর॥
বাজত বিবিধ যন্ত্র ঘন ঘোর।
শ্যামানন্দ আনন্দে বাজায়ত তোর॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভৈরবী॥

মঙ্গল-আরতি যুগল কিশোর।
জয় জয় করতহিঁ সখীগণ ভোর॥
রতন প্রদীপ করে টলমল থোর।
নিরখত মুখ বিধু শ্যাম সুগৌর॥
ললিতা বিশাখা সখী প্রেম আগোর।
করত নিরমঞ্জন দোহে দুহু ভোর॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ ভবন উজোর।
নিরুপম যুগল মুরতি বনি জোর॥
গাওত শুক পিক নাচত ময়ূর।
চাঁদ উপেখি মুখ নিরখে চকোর॥
বাজত বিবিধ যন্ত্র ঘন ঘোর।
শ্যামানন্দ আনন্দে বাজায়ে জয় তোর॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী” তৃতীয় খণ্ড, ৫৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভৈরবী - তেওট॥

মঙ্গল আরতি যুগল কিশোর।
জয় জয় করতহি সখিগণ ভোর॥
রতন প্রদীপ করে টলমল থোর।
নিরখত মুখ-বিধু শ্যাম সুগোর॥
ললিতা বিশাখা সখি প্রেমে আগোর।
করত নিরমঞ্ছন দোহেঁ দুহুঁ ভোর॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ ভবন উজোর।
নিরুপম যুগল মুরতি বনি জোর॥
গাওত শুক পিকু নাচত মোর।
চাঁদ উপেখি মুখ নিরখে চকোর॥
বাজত বিবিধ-যন্ত্র ঘন ঘোর।
শ্যামানন্দ আনন্দে বাজায়ত তোর॥

ই পদটি, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

মঙ্গল আরতি যুগল কিশোর।
জয় জয় করতহি সখীগণ ভোর॥
রতন প্রদীপ করে টলমল ভোর।
নিরখত শ্যাম বিধুমুখ সুগোর॥
ললিতা বিশাখা সখী প্রেমে আগোর।
করূ নিরমঞ্চন দুহু দুহু ভোর॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ ভবন উজোর।
নিরুপম যুগল মুরুতি বলি ওর॥
গাওত শুক পিক নাচত মৌর।
চাঁন্দ উপেখি মুখ নিরখে চকোর॥
বাজত বিবিধ জন্ত ঘন ঘোর।
শ্যামানন্দে আনন্দে বাজায়ত ভোর॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভজ ভাই শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য নিত্যানন্দ
কবি শ্যানন্দ পুরী
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৪০।

.        ॥ তথা রাগ॥ ( তুড়ী )

ভজ ভাই শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য নিত্যানন্দ।
ঘুচিবে সকল জ্বালা পাইবে আনন্দ॥ ধ্রু॥
বদন ভরিয়া ভাই বল হরি বোল।
আপনে বৈষ্ণবগণ ধরি দিবে কোল॥
মিনতি করিয়া কহি শুন সর্ব্বজনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ-লীলা করহ ভাবনা॥
এমন জনম ভাই না হইবে আর।
শ্যামানন্দ কহে কেহো নহে আপনার॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনোদিনী কনক-মুকুর-কাঁতি
কবি শ্যামানন্দ পুরী
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৯২-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি থেকে।

বিনোদিনী কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম-বিলাসে                                  সুন্দর তনু
সাজাঞা কতেক ভাঁতি॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                                গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি চলি যায়।
আধ ওঢ়নি                                  ঈষত হাসনি
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সিথের সিন্দুর                                  মদন মুগধ
তাহে চন্দনের রেখা।
নব-জল রে                               অরুণের কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
নীল বসন                                      রতন-ভূষণ
জলদে দামিনী সাজ।
চাঁচর কেশে                                    বিচিত্র বেণী
দুলিছে পিঠের মাঝ॥
শ্যামানন্দ-পহুঁ                                আনন্দ-মন্দিরে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের ঢল ঢল                                 বসিলা নাগরী
শ্যাম-নাগরের কোলে॥  

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

বিনোদিনী কনকমুকুরকাঁতি।
শ্যামবিলাসে                                  সুন্দর তনু
সাজাঞা কতেক ভাঁতি॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                                গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি চলি যায়।
আধ ওঢ়নি                                  ইষত হাসনি
বঙ্কিম নয়নে চায়॥
সীঁথের সিন্দুর                                   মদন মুগধ
তাহে চন্দনের রেখা।
নবজলধরে                                অরুণের কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
নীল বসন                                       রতনভূষণ
জলদে দামিনী সাজ।
চাঁচর কেশে                                   বিচিত্র বেণী
দুলিছে পিঠের মাঝ॥
শ্যামানন্দ পহুঁ                               আনন্দমন্দিরে
কলপতরুর মূলে।
রসের ঢলল                                 বসিলা নাগরী
শ্যামনাগরের কোলে॥  

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব,
অভিসারোত্কণ্ঠা, পদসংখ্যা ১০২৪। যেহেতু এই তিনটি পদের প্রথম পংক্তি দুটির পার্থক্য এতটাই যে
অন্যরূপের পদটির সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের, পদটি খুঁজে বার করতে অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য
আমরা এই দুটি পদকে দুটি পৃথক পদ হিসেবেও এখানে উপস্থাপন করলাম।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম বিলাসিতে                                সুন্দর তনু
সাজয়ে কতেক ভাতি॥
নীল বসন                                      রতন ভূষণ
জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের                                 বিচিত্র বেণী
দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
রসের আবেশে                                 গমন মন্থর
হেলি দুলি চলি চায়।
আধ ওঢ়নি                                   ঈষত হাসিয়া
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সি থায় সিন্দুর                               নয়ানে কাজর
তাহে চন্দনের রেখা।
নব জলধরে                                   অরুণ-কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
শ্যামানন্দ ভণে                                নিকুঞ্জ-ভবনে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের আবেশে                             বৈসে বিনোদিনী
শ্যাম নাগরের কোরে॥

ই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে রয়েছে। যেহেতু এই
তিনটি পদের প্রথম পংক্তি দুটির পার্থক্য এতটাই যে অন্যরূপের পদটির সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের, পদটি
খুঁজে বার করতে অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য আমরা এই দুটি পদকে দুটি পৃথক পদ হিসেবেও এখানে
উপস্থাপন করলাম।

বিনোদিনীর কনয়া মুকুর জিনি কাঁতি।
শ্যাম বিলাসের সুন্দর তনু রাই সাজয়ে কতেক ভাঁতি॥
নীলিম বসন রতন ভূষণ জলদ দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের বিচিত্র বেণী রাএর দোলিছে পিঠের মাঝে॥
সিঁথায় সিন্দুর নয়ানে কাজর তাহে চম্পকের রেখা।
নব জলধর অরুণ কোলে নবীন চাঁদের দেখা॥
রসের আবেশে গমন মন্থর হেলি দুলি চলি যায়।
আধ উড়ানি ইষদ হাসি রাই বঙ্কিম নয়নে চায়॥
সখীর সমাজে অতি সুবিরাজে কলপ তরুর মূলে।
শ্যামানন্দের পহু আনন্দ মন্দিরে পরাণ নাথের কোলে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ মাই নাচত নন্দদুলাল
কবি শ্যামানন্দ পুরী
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৬৪-
পৃষ্ঠা।

বাল্য-লীলা

॥ রামকেলি॥

দেখ মাই নাচত নন্দদুলাল।
মণিময় নূপুর                                কটি পর ঘাঘর
মোহন উর বনমাল॥ ধ্রু॥
গোপিনি শত শত                            বালক যুথ যুথ
গাওত বোলত ভাল।
তিন্দ্র দামক ধ্বনি                            তথৈ তথৈ শুনি
নিগধী তৃগধী তাল॥
লহু লহু হাস                                ভাষ মৃদু বোলত
নিকসব দশন রসাল।
শ্যামানন্দ ভণ                                  জগজন জীবন
গোপাল পরম দয়াল॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু সে বিনোদ রায়
কবি শ্যামানন্দ পুরী
১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১২১-পৃষ্ঠা।

কানু সে বিনোদ রায়।
বিনোদ চূড়ায় বিনোদ বরিহা উড়িছে বিনোদ বায়॥ ধ্রু॥
বিনোদ কপালে বিনোদ তিলক, বিনোদ বিনোদ সাজে।
বিনোদ অধরে বিনোদ মুরলী, বিনোদ বিনোদ বাজে॥
বিনোদ গলায় বিনোদ মালা, বিনোদ @@@@@@।
কোন্ বিনোদিনী, বিনোদ গাঁথনি গেঁখেছে বিনোদ ফুলে॥
বিনোদ কটিতে, বিনোদ ধটিতে, বিনোদ বিনোদ সাজে।
বিনোদ চরণে বিনোদ নূপুর বিনোদ বিনোদ বাজে॥
@ কহে শ্যামানন্দ বিনোদ বিনোদ কদম্বতলে।
রূপ নিরখিতে কত কুলবতী কলসী ভাসালে জলে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   

@@ - এই অক্ষরগুলি অপাঠ্য পাওয়া গিয়েছে।

মিলনসাগর
*
বিনোদিনীর কনয়া মুকুর জিনি কাঁতি
কবি শ্যামানন্দ পুরী
১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা
১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১৫-পৃষ্ঠা। একই গীত হওয়া সত্বেও যেহেতু এই পদগুলির প্রথম
পংক্তিগুলির পার্থক্য এতটাই যে অন্যরূপের পদটির সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের, পদটি খুঁজে বার করতে
অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য আমরা এই পদগুলিকে পৃথক পদ হিসেবেও এখানে উপস্থাপন করলাম।

বিনোদিনীর কনয়া মুকুর জিনি কাঁতি।
শ্যাম বিলাসের সুন্দর তনু রাই সাজয়ে কতেক ভাঁতি॥
নীলিম বসন রতন ভূষণ জলদ দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের বিচিত্র বেণী রাএর দোলিছে পিঠের মাঝে॥
সিঁথায় সিন্দুর নয়ানে কাজর তাহে চম্পকের রেখা।
নব জলধর অরুণ কোলে নবীন চাঁদের দেখা॥
রসের আবেশে গমন মন্থর হেলি দুলি চলি যায়।
আধ উড়ানি ইষদ হাসি রাই বঙ্কিম নয়নে চায়॥
সখীর সমাজে অতি সুবিরাজে কলপ তরুর মূলে।
শ্যামানন্দের পহু আনন্দ মন্দিরে পরাণ নাথের কোলে॥

ই পদটি, ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি
থেকে।

বিনোদিনী কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম-বিলাসে                                  সুন্দর তনু
সাজাঞা কতেক ভাঁতি॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                                গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি চলি যায়।
আধ ওঢ়নি                                 ঈষত হাসনি
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সিথের সিন্দুর                                মদন মুগধ
তাহে চন্দনের রেখা।
নব-জল রে                             অরুণের কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
নীল বসন                                     রতন-ভূষণ
জলদে দামিনী সাজ।
চাঁচর কেশে                                বিচিত্র বেণী
দুলিছে পিঠের মাঝ॥
শ্যামানন্দ-পহুঁ                              আনন্দ-মন্দিরে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের ঢল ঢল                              বসিলা নাগরী
শ্যাম-নাগরের কোলে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

বিনোদিনী কনকমুকুরকাঁতি।
শ্যামবিলাসে                                  সুন্দর তনু
সাজাঞা কতেক ভাঁতি॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                                গমন মন্থর
ঢুলি ঢুলি চলি যায়।
আধ ওঢ়নি                                  ইষত হাসনি
বঙ্কিম নয়নে চায়॥
সীঁথের সিন্দুর                                  মদন মুগধ
তাহে চন্দনের রেখা।
নবজলধরে                              অরুণের কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
নীল বসন                                       রতনভূষণ
জলদে দামিনী সাজ।
চাঁচর কেশে                                   বিচিত্র বেণী
দুলিছে পিঠের মাঝ॥
শ্যামানন্দ পহুঁ                               আনন্দমন্দিরে
কলপতরুর মূলে।
রসের ঢলল                                  বসিলা নাগরী
শ্যামনাগরের কোলে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বিনোদিনী কনক মুকুর কাঁতি।
শ্যাম মিলইতে সুন্দর তনু রেইর সাজল কতেক ভাঁতি॥
নীল বসন রতন ভূষণ জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের বিচিত্র বেণী রেইর দুলিছে পিঠের মাঝে॥
সীঁমন্তে সিন্দুর নয়ানে রাজর তাহে চন্দনের রেখা।
নব জলধরে অরুণ কোরে নবীন চান্দের দেখা॥
রসের আবেশে গমন মন্থর হেলি দুলি চলি জায়।
আধ ওড়নী ঈষদ হাসনি বঙ্কিমনয়ানে চায়॥
শ্যামানন্দের পহু নিকুঞ্জভুবনে কল্পতরুর মূলে।
রসে ঢর ঢর বসিলা বিনোদিনী শ্যাম বন্ধুআর কোলে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব,
অভিসারোত্কণ্ঠা, পদসংখ্যা ১০২৪। একই গীত হওয়া সত্বেও যেহেতু এই পদগুলির প্রথম পংক্তিগুলির
পার্থক্য এতটাই যে অন্যরূপের পদটির সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের, পদটি খুঁজে বার করতে অসুবিধা হতে
পারে, সে জন্য আমরা এই পদগুলিকে পৃথক পদ হিসেবেও এখানে উপস্থাপন করলাম।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কনক-মুকুর-কাঁতি।
শ্যাম বিলাসিতে                                সুন্দর তনু
সাজয়ে কতেক ভাতি॥
নীল বসন                                       রতন ভূষণ
জলদে দামিনী সাজে।
চাঁচর কেশের                                  বিচিত্র বেণী
দুলিছে হিয়ার মাঝে॥
রসের আবেশে                                  গমন মন্থর
হেলি দুলি চলি চায়।
আধ ওঢ়নি                                    ঈষত হাসিয়া
বঙ্কিম-নয়নে চায়॥
সি থায় সিন্দুর                                নয়ানে কাজর
তাহে চন্দনের রেখা।
নব জলধরে                                     অরুণ-কোরে
নবীন চাঁদের দেখা॥
শ্যামানন্দ ভণে                                নিকুঞ্জ-ভবনে
কলপ-তরুর মূলে।
রসের আবেশে                            বৈসে বিনোদিনী
শ্যাম নাগরের কোরে॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি আজু হইল বন্ধু পোহাইল শর্বরী
কবি শ্যামানন্দ পুরী
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭৪-পৃষ্ঠা।

কি আজু হইল বন্ধু পোহাইল শর্বরী।
কেমনে যাইব ঘরে কুলের বহুরি॥
গুরু দুজন সব জাগিএ উঠিল।
অবিরোধে পথে মোর সঙ্কোচ হইল॥
অঙ্গের ভূষণ তাহে হইল বিহীন।
সমুদিত আছে সব সুরতক চিন॥
জেমন আছিল বেশ দেহ যদি করি।
তবে ত আপন গৃহে জাইতে হে পারি॥
শ্যামানন্দে কহে তখন সুন বিনোদিএ।
অভিমত ধনিরে দেহ সাজাইএ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর