কবি লক্ষ্মীকান্ত দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কি খেনে দেখিলুঁ গোরা নবীন কামের কোঁড়া
কবি লক্ষ্মীকান্ত দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ (১৯৩১), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, শ্রীরাধার
পূর্ব্বরাগ-প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ১১৭। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৭২-পৃষ্ঠায় পদটি একই রূপে তোলা রয়েছে।

পূর্ব্বরাগঃ

শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।

॥ কামোদ॥

কি খেনে দেখিলুঁ গোরা                                নবীন কামের কোঁড়া
সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে।
কত না করিব ছল                                       কত না ভরিব জল
কত যাব সুরধুনী-তীরে॥
বিধি তু বিনু বলিতে কেহ নাই।
যত গুরু-গরবিত                                            গঞ্জন-বচন কত
ফুকরি কাঁদিতে নাহি ঠাঁই॥ ধ্রু॥
অরুণ নয়ানের কোণে                                চাঞাছিল আমা পানে
পরাণে বরশি দিয়া টানে।
কুলের ধরম মোর                                    ছারে খারে যাউক গো
কি জানি কি হবে পরিণামে॥
আপনা আপনি খাইলুঁ                                    ঘরের বাহির হৈলুঁ
শুনি খোল করতালের নাদ।
লক্ষ্মীকান্ত দাস কয়                                       মরমে যার লাগয়
কি করিবে কুল পরিবাদ॥

ই পদটিই নিমানন্দদাস সংকলিত পদরসসার ও ১৮০৭ সালে কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর
পুথিতে, পদকল্পতরুর ভণিতার অন্তিম পঙ্ক্তিদ্বয়ের স্থলে লোচনদাসের ভণিতাযুক্ত পঙ্ক্তি পাওয়া গিয়েছে।

কি খেনে দেখিলুঁ গোরা                                নবীন কামের কোঁড়া
সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে।
কত না করিব ছল                                       কত না ভরিব জল
কত যাব সুরধুনী-তীরে॥
বিধি তু বিনু বলিতে কেহ নাই।
যত গুরু-গরবিত                                            গঞ্জন-বচন কত
ফুকরি কাঁদিতে নাহি ঠাঁই॥ ধ্রু॥
অরুণ নয়ানের কোণে                                চাঞাছিল আমা পানে
পরাণে বরশি দিয়া টানে।
কুলের ধরম মোর                                   ছারে খারে যাউক গো
কি জানি কি হবে পরিণামে॥
আপনা আপনি খাইলুঁ                                    ঘরের বাহির হৈলুঁ
শুনি খোল করতালের নাদ।
যখন দেখিলুঁ নাট                                      তখনি ভুলিলাম বাট
লোচন কহয়ে পরমাদ॥

এই ভণিতার রদ-বদল সম্বন্ধে পদকল্পতরুতে দেওয়া উদ্ধৃতি এখানে আমরা তুলে দিচ্ছি . . .
“সহৃদয় পাঠক সহজেই বুঝিবেন যে, লক্ষ্মীকান্তের গভীর মনস্তত্ত্বসূচক উত্কৃষ্ট ভণিতার পরিবর্ত্তে অপর
ভণিতাটা নিতান্তই খাপছাড়া মনে হয়। লোচনদাসের গোঁড়া ভক্ত কোন গায়ক বা লিপিকর,---এরূপ সুন্দর
পদ অন্যের রচিত হইতে পারে না বিবেচনায়ই বোধ হয়, উহাতে লোচনের ভণিতা সংযুক্ত করিয়া
গিয়াছেন ; কিন্তু রচনার অপরপক্কতা ও অসামঞ্জস্যেই সেই জোড়া-তালী ধরা পড়িয়া গিয়াছে।”

ই পদটি, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কি খনে দেখিনু গোরা                                নবীন কামের কোড়া
সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে।
কত না করিব ছল                                      কত না ভরিব জল
কত যাব সুরধুনীতীরে॥
বিধি তো বিনু বুঝিতে কেহ নাই।
যত গুরু গরবিত                                           গঞ্জন বচন কত
ফুকরি কাঁদিতে নাই ঠাঁই॥ ধ্রু॥
অরুণ নয়নের কোণে                                চাঞাছিল আমা পানে
পরাণে বরষি দিয়া টানে।
কুলের ধরম মোর                                     ছারখারে যাউক গো
কি জানি কি হবে পরিণামে॥
আপনা আপনি খাইনু                                    ঘরের বাহির হৈনু
শুনি খোল-করতাল-নাদ।
লক্ষ্মীকান্তদাসে কয়                                        মরমে যার লাগয়
কি করিবে কুলপরিবাদ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”-এর ১৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আপেক্ষানুরাগ।

তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র

॥ কামোদ॥

কি ক্ষণে দেখিনু গোরা                                নবীন কামের কোড়া
সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে।
কত না করিব ছল                                      কত না ভরিব জল
কত যাব সুরধুনী তীরে॥
বিধি তো বিনু বুঝিতে কেহ নাই।
যত গুরু গরবিত                                           গঞ্জন বচন কত
ফুকরি কাঁদিতে নাহি ঠাঁই॥ ধ্রু॥
অরুণ নয়নের কোণে                                চাঞাছিল আমা পানে
পরাণে বরসি দিয়া টানে।
কুলের ধরম মোর                                     ছারখারে যাউক গো
কি জানি কি হবে পরিণামে॥
আপনা আপনি খাইনু                                    ঘরের বাহির হৈনু
শুনি খোল করতাল নাদ।
লক্ষ্মীকান্ত দাসে কয়                                        মরমে যার লাগয়
কি করিবে কুল পরিবাদ॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অভিন্ন মদন জনু গৌরাঙ্গের গৌরতনু
কবি লক্ষ্মীকান্ত দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১০০-পৃষ্ঠা।

॥ কামোদ॥

অভিন্ন মদন জনু                                গৌরাঙ্গের গৌরতনু
অতনু অতনু হৈল লাজে।
সুবর্ণের সুবর্ণ                                       সেও ভেল বিবর্ণ
খেদে দগ্ধ অনলের মাঝে॥
গৌররূপের তুলনা কি দিব।
নিরজনে বলি বিধি                              গড়িল গৌরাঙ্গ নিধি
নিরবধি বসনা হেরিব॥ ধ্রু॥
গোরার তুলনা স্থল                                  অতসীকুসুম ছিল
কীটে তারে করিল বিরূপ।
দামিনী চঞ্চল ভেল                             মেঘ আড়ালে লুকাওল
যব সো হেরল গোরারূপ॥
লক্ষ্মীকান্ত দাসে কয়                                গোরার তুলনা নয়
ত্রিভুবনে যে কিছু বাখানি।
যেন মোর লয় মনে                              কালি দিয়া কুলমানে
যাই লৈঞা ও রূপনিছনি॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর