কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
নিতাই গুণমণি মোর নিতাই গুণমণি
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, সপ্তদশ ক্ষণদা - শুক্লা দ্বিতীয় , ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ শ্রীরাগ॥

নিতাই গুণমণি মোর নিতাই গুণমণি।
আনিয়া প্রেমের বন্যা ভাসাইল অবনী॥
প্রেমের বন্যা লইয়া নিতাই আইল গৌড়দেশে।
ডুবিল ভকত সব দীন হীন ভাসে॥
দীন হীন পতিত পামর নাহি বাছে।
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ প্রেম যারে তারে যাচে॥
আবান্ধ-করুণা নিতাই কাটিয়া মোহান।
ঘরে ঘরে বুলে প্রেম-অমিয়ার বান॥
লোচন বোলে আমার নিতাই যেবা নাহি মানে।
আনল ভেজাই তার মাঝ মুখখানে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিতাই গুণমণি আমার নিতাই গুণমণি।
আনিয়া প্রেমের বন্যা ভাসাইলে অবনী॥
প্রেমের বন্যা লৈয়া নিতাই আইল গৌড়দেশে।
ডুবিল ভকতগণ, দীন হীন ভাসে॥
দীন হীন পতিত পামর নাহি বাছে।
ব্রহ্মার দুর্লভ প্রেম সভাকারে যাচে॥
আবাধে করুণাসিন্ধু কাটিয়া মুহান।
ঘরে ঘরে বুলে প্রেম অমিয়ার বান॥
লোচন বোলে আমার নিতাই যে বা না ভজিল।
জানিয়া শুনিয়া সেই আত্মঘাতী হৈল॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ
তরঙ্গ, ৯৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ শ্রীরাগ॥

নিতাই গুণমণি আমার নিতাই গুণমণি।
আনিয়া প্রেমের বন্যা ভাসালে অবনি॥
প্রেমের বন্যা লৈয়া নিতাই আইলা গৌড়দেশে।
ডুবিল ভকতগণ দীনহীন ভাসে॥
দীনহীন পতিত পামর নাহি বাছে।
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ প্রেম সবাকারে যাচে॥
অবধি করুণাসিন্ধু কাটিয়া মুহান।
ঘরে ঘরে বুলে প্রেম করুণার বান॥
লোচন বোলে আমার নিতাই যেবা না ভজিল।
জানিয়া শুনিয়া সেই আত্মঘাতী হৈল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ১ম পল্লব, স্বয়ং দৌত্য, ৬১৮ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১০৯২সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

নিতাই গুণমণি মোর নিতাই গুণমণি।
আনিয়া প্রেমের বন্যা ভাসাইলে অবনী॥
প্রেমের বন্যা লইয়া নিতাই
.                     আইলা গৌড়দেশে।
ডুবিল ভকত সব দীন-হীন ভাসে॥
দীন-হীন পতিত পামর নাহি বাছে।
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ প্রেম সভাকারে যাচে॥
আবদ্ধ করুণা-সিন্ধু কাটিয়া মুহান।
ঘরে ঘরে বুলে প্রেম-অমিয়ার বান॥
লোচন বোলে আমার নিতাই যেবা
.                          নাহি মানে।
আনল জ্বালি দিয়ে তার মাঝ
.                     মুখখানে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জীব না জীব না সোই জীবার নহোঁ মুঞি
জীব না জীব সই এ ছার পরাণ কার তরে
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ,,
৯৪৮পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

জীব না জীব সোই                   জীবার নহোঁ মুঞি
এ ছার পরাণ কার তরে।
এত পরমাদে সই                 রাধার মনে আন নাই
প্রাণ কাঁদে বিচ্ছেদের ডরে॥
বন্ধুরে বিদরে হিয়া                  একা নিশবদ হইয়া
শুতিয়া রহিলুঁ মুঞি দিনে।
স্বপনে বন্ধুর সনে                    মনের কথাটি কই
ননদী দাঁড়াঞা তাহা শুনে॥
ঘুমের আলিসে দুটি               আঁখি মেলিতে নারি
কালা-রূপ যাঁহা তাহাঁ দেখি।
আন বোল বলিতে কালা          বন্ধুয়া বলিয়া ডাকি
প্রতি বোলে তারা করে সাখী॥
কালা বিলাসের হার                 কালা গলার কাঁঠি
কালা সুতায় নিতি নিতি গাঁথি।
লোচন বলয়ে অনু-                 রাগের বালাই যাই
বন্ধুর গুণের লাগি বেথি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

জীব না জীব সই এ ছার পরাণ কার তরে।
এত পরমাদে সই,              রাধার মনে আন নই,
প্রাণ কাঁদে বিচ্ছেদের ডরে॥
বন্ধুরে বিদরে হিয়া,               একা নিশবদ হইয়া,
শুতিয়া রহিনু মুঞি দিনে।
স্বপনে বন্ধুর সনে,                  মনের কথাটি কই,
ননদী দাড়াঞা তাহা শুনে॥
ঘুমের আলসে দুটি,              আঁখি মেলিতে নারি
কালা-রূপ যাঁহা তাহাঁ দেখি।
আন বোল বলিতে,                 কানু বলিয়া ডাকি,
প্রতি বোলে তারা করে সাখী॥
কালা বিলাসের হার,                কালা গলার কাঁঠি,
কাল সূতায় নিতি মালা গাঁথি।
লোচন বলয়ে অনু-                রাগের বালাই রাই,
বন্ধুগণের লাগি বেথি॥


ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৪১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

জীব না জীব সই এ ছার পরাণ কার তরে।
এত পরমাদে সই                রাধার মনে আন নই
প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ডরে॥
বন্ধুরে বিদরে হিয়া                 একা নিশবদ হৈয়া
শুতিয়া রহিলুঁ মুঞি দিনে।
স্বপনে বন্ধুর সনে                    মনের কথাটি কই
ননদী দাড়াঞা তাহা শুনে॥
ঘুমের আলিসে দুটি               আঁখি মেলিতে নারি
কালা-রূপ যাঁহা তাহাঁ দেখি।
আন বোল বলিতে                  কানু বলিয়া ডাকি
প্রতি বোলে তারা করে সাখী॥
কালা বিলাসের হার                 কালা গলার কাঁঠি
কাল সূতায় নিতি মালা গাঁথি।
লোচন বলয়ে অনু-                 রাগের বালাই রাই
বন্ধুগণের লাগি বেথি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তথারাগ॥

জীব না জীব সোই                  জীবার নহো মুঞি
এ ছার পরাণ কার তরে।
এত পরমাদে সই                 রাধার মনে আন নাই
প্রাণ কাঁদে বিচ্ছেদের ডরে॥
বিরহে বিদরে হিয়া                 একা নিশবদ হইয়া
শুতিয়া রহিলুঁ মুঞি দিনে।
স্বপনে বন্ধুর সনে                    মনের কথাটি কই
ননদী দাঁড়াঞা তাহা শুনে॥
ঘুমের আলিসে দুটি                আঁখি মেলিতে নারি
কালারূপ যাঁহা তাহাঁ দেখি।
আন বোল বলিতে কালা           বন্ধুয়া বলিয়া ডাকি
প্রতি বোলে তারা করে সাখী॥
কালা বিলাসের হার                  কালা গলার কাঁঠি
কালা সুতায় নিতি নিতি গাঁথি।
লোচন বলয়ে অনু-                  রাগের বালাই যাই
বন্ধুর গুণের লাগি বেথি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জীব না জীব সোই জীবার নহো
মুঞি এ ছার পরাণ কার তরে।
এত পরমাদে সই রাধার মনে আন নাই
প্রাণ কাঁদে বিচ্ছেদের ডরে॥
বিরহে বিদরে হিয়া একা নিশবদ হইয়া
শুতিয়া রহিলুঁ মুঞি দিনে।
স্বপনে বন্ধুর সনে মনের কথাটি কই
ননদী দাঁড়াঞা তাহা শুনে॥
ঘুমের আলিসে দুটি আঁখি মেলিতে
নারি কালারূপ যাহাঁ তাহাঁ দেখি।
আন বোল বলিতে কালা বন্ধুয়া বলিয়া
ডাকি প্রতি বোলে তারা করে সাখী॥
কালা বিলাসের হার কালা গলার কাঁঠি
কালা সুতায় নিতি নিতি গাঁথি।
লোচন বলয়ে অনুরাগের বালাই যাই
বন্ধুর গুণের লাগি বেথি॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জ্বালার উপর জ্বালা সই
কি হৈল কি হৈল সই জ্বালার উপর জ্বালা
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ,, ৯৫৫ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

জ্বালার উপর জ্বালা সই
.                জ্বালার উপর জ্বালা।
জলকে যাই পথ না পাই
.                বসন টানে কালা॥
সরম কব়্যা ভরম কব়্যা
.                বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা
.                ধরে আমার হাতে॥
রস করিতে জানে যদি
.                তবে সে মনের সুখ।
গোপত কথা বেকত করে
.                এই সে বড় দুখ॥
চলমল্যাকে চতুর বলি
.                হেটমুড়্যাকে জপু।
রস জানিলে রসিক বলি
.                নৈলে বলি ভেপু॥
লোচন বলে আলো দিদি
.                ইহা বল্ লি কেনে।
কালার সমান রসিক নাই
,                এ তিন ভুবনে॥

ই পদটি নব্যভারত পত্রিকার ১৩০০ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায় (১৮৯৩ সাল), হারাধন
দত্ত ভক্তিনিধির লেখা ধারাবাহিক প্রবন্ধ “বঙ্গের বৈষ্ণব কবি”, ৩৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন তাঁর অতিবৃদ্ধপিতামহের সমসাময়িক বাবা আউল
মনোহর দাস সংকলিত, কথিত ১৫০০০পদ সম্বলিত “পদসমুদ্র” গ্রন্থ থেকে। এই গ্রন্থটির
অস্তিত্ব সম্বন্ধে পরবর্তী পদাবলী বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান ছিলেন।

॥ তথা রাগ॥

কি হল কি হল সই, জ্বালার উপর জ্বালা।
সাঁজ সকালে, দেখা হলে, বসন টানে কালা॥
ভরম সরম, সব খুয়ালাম, বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা, ধরে আমার হাতে॥
কালার কাছে মনের কথায়, মনে পাইনু সুখ।
গুপ্তকথা ব্যক্ত হল, তাই ত মনে দুঃখ॥
চলবোলকে চতুর বলি, হেট মুড়াকে জপু।
রস্ বুঝলে রসিক বলি, না বুঝিলে ভেপু॥
লোচন বলে আলো দিদি, গালি দিলি কেনে।
কালা বৈকি! রসিক নাই, এ তিন ভুবনে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কি হৈল কি হৈল সই জ্বালার উপর জ্বালা।
পথে যাইতে দেখা হইলে, বসন টানে কালা॥
ভরম কৈনু সরম কৈনু বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা ধরে আমার হাতে॥
কালার সনে রসের কথায় মনে পাইনু সুখ।
গোপত কথা বেকত হৈল এই সে বড় দুখ॥
ছলবলকে চতুর বলি হেট মুড়াকে জপু।
রস বুঝিলে রসিক বলি না বুঝিলে ভেঁপু॥
লোচন বলে, আলো দিদি, গালি দিলা কেনে।
কালা বই রসিক নাই, এ তিন ভুবনে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-
রত্নমালা”, ৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কি হৈল কি হৈল সই জ্বালার উপর জ্বালা।
পথে যাইতে দেখা হইলে বসন টানে কালা॥
ভরম কৈনু সরম কৈনু বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা ধরে আমার হাতে॥
কালার সনে রসের কথায় মনে পাইনু সুখ।
গোপত কথা বেকত হৈল এই সে বড় দুখ॥
ছলবলকে চতুর বলি হেটমুড়াকে জপু।
রস বুঝিলে রসিক বলি না বুঝিলে ভেঁপু॥
লোচন বলে আলো দিদি গালি দিলা কেনে।
কালা বই রসিক নাই এ তিন ভুবনে॥

শব্দার্থ -
ছলবলকে - যে ছলবল জানে তাহাকে বলি চতুর ; যে হেটমুণ্ড হইয়া তপস্যা করে তাহাকে
বলি যোগী ; যে রস বুঝে তাহাকে বলি রসিক ; আর যে না বুঝে তাহার ভেঁপুই করা সার,  
অর্থাৎ সে নিতান্ত বেরসিক।---বিভূতিভূষণ মিত্র, “কাব্য-রত্নমালা”॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তথা রাগ॥

জ্বালার উপর জ্বালা সই
.                জ্বালার উপর জ্বালা।
জলকে যাই পথ না পাই
.                বসন টানে কালা॥
সরম কব়্যা ভরম কব়্যা
.                বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা
.                ধরে আমার হাতে॥
রস করিতে জানে যদি
.                তবে সে মনের সুখ।
গোপত কথা বেকত করে
.                এই সে বড় দুখ॥
চলমল্যাকে চতুর বলি
.                হেটমুড়্যাকে জপু।
রস জানিলে রসিক বলি
.                নৈলে বলি ভেপু॥
লোচন বলে আলো দিদি
.                ইহা বল্ লি কেনে।
কালার সমান রসিক নাই
,                এ তিন ভুবনে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জ্বালার উপর জ্বালা সই
.                জ্বালার উপর জ্বালা।
জলকে যাই পথ না পাই
.                বসন টানে কালা॥
সরম কব়্যা ভরম কব়্যা
.                বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা
.                ধরে আমার হাতে॥
রস করিতে জানে যদি
.                তবে সে মনের সুখ।
গোপত কথা বেকত করে
.                এই যে বড় দুখ॥
চলমল্যাকে চতুর বলি বলি
.                হেটমুড়্যাকে জপু।
রস জানিলে রসিক বলি
.                নৈলে বলি ভেপু॥
লোচন বলে আলো দিদি
.                ইহা বল্ লি কেনে।
কালার সমান রসিক নাই
,                এ তিন ভুবনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হের দেখসিয়া নয়ান ভরিয়া
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৭শ পল্লব, জন্মলীলা, ১১২৩
পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৬২১সংখ্যক
পদ।

॥ বিভাষ বা তুড়ী॥

হের দেখসিয়া                      নয়ান ভরিয়া
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে                       শচীর মন্দিরে
চান্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান                     কষিল কাঞ্চন
রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর-                     জলদে নিকসিল
থীর বিজুরি পারা॥
কত বিধুবর                         বদন উজোর
নিশি-দিশি সম শোভে।
নয়ান-ভ্রমর                       শ্রুতি-সরোরুহে
ধায় মকরন্দ-লোভে॥
আজানুলম্বিত                       ভুজ সুবলিত
নাভি হেম-সরোবর।
কটি করি-অরি                    উর হেম-গিরি
এ লোচন-মনোহর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ বা তুড়ী॥

হের দেখসিয়া নয়ান ভরিয়া কি আর পুছসি আনে।
নদীয়া-নগরে শচীর মন্দিরে চাঁন্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবাণ কষিল কাঞ্চন রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর জলদে নিকসিল স্থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর বদন উজোর নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ানভ্রমর শ্রুতি-সরোরুহে ধায় মকরন্দলোভে॥
আজানুলম্বিত ভুজ সুবলিত নাভি হেম সরোবর।
কটি করি-অরি ঊরু হেমগিরি এ লোচন মনোহর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

হের দেখসিয়া,                      নয়ান ভরিয়া,
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে,                       শচীর মন্দিরে,
চান্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান,                     কষিল কাঞ্চন,
রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর,                      জলদে নিকসিল,
স্থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর,                        বদন উজোর,
নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ান-ভ্রমর,                      শ্রুতি সরোরুহে,
ধায় মকরন্দ-লোভে॥
আজানুলম্বিত,                      ভুজ সুবলিত,
নাভি হেম-সরোবর।
কটি করি-অরি,                    ঊরু হেমগিরি,
এ লোচন মনোহর॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হের দেখসিয়া                      নয়ান ভরিয়া
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে                      শচীর মন্দিরে
চাঁদের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান                     কষিল কাঞ্চণ
রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর                       জলদে নিকশল
স্থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর                         বদন উজোর
নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ান ভ্রমর                       শ্রুতি-সরোরূহে
ধায় মকরন্দ লোভে॥
আজানুলম্বিত                       ভুজ সুবলিত
নাভি হেম সরোবর।
কটি করি অরি                     ঊরু হেমগিরি
এ লোচন মনোহর॥

ই পদটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী তুড়ী - তাল একতালী॥

হের দেখ সিয়া, নয়ন ভরিয়া, কি আর পুছসি আনে।
নদীয়া নগরে, শচীর মন্দিরে, চাঁদের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান, কষিল কাঞ্চন, রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর জলদে নিকসিল, স্থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর, বদন উজোর, নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ন ভ্রমর, শ্রুতি সরোরুহে, ধায়ে মকরন্দ লোভে॥
আজানু লম্বিত, ভুজ সুললিত, নাভি হেম সরোবর।
কটি করি ঐরি, উরু হেম গিরি, এ লোচন মনোহর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গের জন্মলীলা
॥ বিভাষ বা তুড়ী॥

হের দেখসিয়া                      নয়ান ভরিয়া
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে                       শচীর মন্দিরে
চান্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান                     কষিল কাঞ্চন
রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর                      জলদে নিকসিল
থীর বিজুরি পারা॥
কত বিধুবর                         বদন উজোর
নিশিদিশি সম শোভে।
নয়ানভ্রমর                         শ্রুতিসরোরুহে
ধায় মকরন্দলোভে॥
আজানুলম্বিত                        ভুজ সুবলিত
নাভি হেমসরোবর।
কটি করিঅরি                       উর হেমগিরি
এ লোচন মনোহর॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মলীলা।
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দুঠুকী॥

হের দেখসিয়া,                      নয়ান ভরিয়া,
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে                        শচীর মন্দিরে
চান্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান,                     কষিল কাঞ্চন,
রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর-                     জলদে নিকসিল,
থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর,                        বদন উজোর,
নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ান ভ্রমর,                       শ্রুতি-সরোরুহে,
ধায় মকরন্দ-লোভে॥
আজানুলম্বিত,                       ভুজ সুবলিত,
নাভি হেম সরোবর।
কটী করি-অরি,                    উরু হেম গিরি,
এ লোচন মনোহর॥ 

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৫০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হের দেখসিয়া নয়ান ভরিয়া
.                                কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে শচীর মন্দিরে
.                                চান্দের উদয় দিনে॥
কিয়ে লাখবান কষিল কাঞ্চন
.                                রূপের নিছনি গোরা।
শচীর উদর জলদে নিকসিল
.                                থির বিজুরী পারা॥
কত বিধুবর বদন উজোর
.                                নিশি দিশি সম শোভে।
নয়ান ভ্রমর শ্রুতিসরোরুহে
.                                ধায় মকরন্দলোভে॥
আজানুলম্বিত ভুজ সুবলিত
.                                নাভি হেমসরোবর।
কটী করিঅরি উরু হেম গিরি
.                                এ লোচন মনোহর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আরে নিকুঞ্জ বনে শ্যামের সনে
নিকুঞ্জ বনে শ্যামের সনে
আজু নিকুঞ্জবনে শ্যামের সনে
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস,
১২৯৮ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
১৬২১সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

আরে, নিকুঞ্জ-বনে                 শ্যামের সনে
কিরূপ দেখিলু রাই।
কেমন বিধাতা                      গঢ়ল মুরতি
লখই নাহিক যাই॥
সজল জলদ                         কানুর বরণ
চম্পক-বরণী রাই।
মণি মরকত                     কাঞ্চনে জড়িত
ঐছন রহল ঠাই॥
কিয়ে অপরূপ                       রাস-মণ্ডল
রমণী মণ্ডল-ঘটা।
মনমথ-মন                      পাইল অচেতন
দেখিয়া ও অঙ্গ-ছটা॥
বদনে মধুর                          হাস অধরে
হৃদয়ে হৃদয়ে সঙ্গ।
কোন রসবতী                    রসের আবেশে
কুসুম-শয়নে অঙ্গ॥
নবীন মেঘের                      নিবিড় আভা
তাহে বিজুরি উজোই।
দাস লোচনের                        রাই সরবস
ও রস-আবেশ মোই॥

ই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী” ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিকুঞ্জবনে শ্যামের সনে
.                কিরূপ দেখিনু রাই।
কেমন বিধাতা গড়ল মূরতি
.                লখই নাহিক যাই॥
সজল জলদ কানুর বরণ
.                চম্পক বরণি রাই।
মণি মরকত কাঞ্চনে জড়িত
.                ঐছন রহল ঠাঁই॥
কিয়ে অপরূপ রাসমণ্ডল
.                রমণীমণ্ডলঘটা।
মনমথ মনে পাইল চেতনে
.                দেখিয়া ও অঙ্গ ছটা॥
বদনে মধুর হাস অধরে    
.                হৃদয়ে হৃদয়ে সঙ্গ।
কোন রসবতী রসের আবেশে
.                কুসুম শয়নে অঙ্গ॥
নবীন মেঘের নিবিড় আভা
.                তাহে বিজুরি যোই।
দাস লোচনের রাই সরবস
.                ও রস আবেশে মোই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

(আজু) নিকুঞ্জবনে,                শ্যামের সনে,
কিরূপ দেখিলু রাই।
কেমন বিধাতা,                    ঘটন মুরতি,
লখই নাহিক যাই॥
সজল জলদ,                        কানুর বরণ,
চম্পক-বরণী রাই।
মণি মরকত,                   কাঞ্চনে জড়িত,
ঐছন রহল ঠাঁই॥
কিয়ে অপরূপ,                      রাস-মণ্ডল,
রমণী-মণ্ডল-ঘটা।
মনমথ সনে,                     পায়ল চেতনে,
দেখিয়া ও অঙ্গ-ছটা॥
বদনে মধুর,                        হাস অধরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে সঙ্গ।
কোন রসবতী,                 রসের আবেশে,
কুসুম-শয়নে অঙ্গ॥
নবীন মেঘের,                   নিবিড় আড়া,
তাহে বিজুরি যোই।
দাস লোচনের,                    রাই সরবস,
ও রস-আবেশ মোই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ শ্রীরাগ॥

(আরে) নিকুঞ্জবনে                 শ্যামের সনে
কিরূপ দেখিলুঁ রাই।
কেমন বিধাতা                      গঢ়ল মুরতি
লখই নাহিক যাই॥
সজল জলদ                        কানুর বরণ
চম্পকবরণী রাই।
মণি মরকত                     কাঞ্চনে জড়িত
ঐছন রহল ঠাই॥
কিয়ে অপরূপ                       রাস-মণ্ডল
রমণীমণ্ডলঘটা।
মনমথ মন                     পাইল অচেতন
দেখিয়া অঙ্গচ্ছটা॥
বদন মধুর                          হাস অধরে
হৃদয়ে হৃদয়ে সঙ্গ।
কোন রসবতী                    রসের আবেশে
কুসুমশয়নে অঙ্গ॥
নবীন মেঘের                      নিবিড় আভা
তাহা বিজুরি উজোই।
দাস লোচনের                        রাই সরবস
ও রস আবেশ মোই॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিকুঞ্জবনে শ্যামের সনে
.                                কিরূপ দেখিলুঁ রাই।
কেমন বিধাতা গাঢ়ল মুরতি
.                                লখই নাহিক যাই॥
সজল জলদ কানুর বরণ
.                                চম্পকবরণী রাই।
মণি মরকত কাঞ্চনে জড়িত
.                                ঐছন রহল ঠাই॥
কিয়ে অপরূপ রাস মণ্ডল
.                                রমণীমণ্ডলঘটা।
মনমথ মন পাইল অচেতন
.                                দেখিয়া অঙ্গচ্ছটা॥
বদন মধুর হাস অধরে   
.                                হৃদয়ে হৃদয় সঙ্গ।
কোন রসবতী রসের আবেশে
.                                কুসুমশয়নে অঙ্গ॥
নবীন মেঘের নিবিড় আভা
.                                তাহা বিজুরি উজোই।
দাস লোচনের রাই সরবস
.                                ও রস আবেশ মোই॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনোদ ফুলের বিনোদ মালা
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, ফুল-দোল, ১৫৩২
পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২০৭৭সংখ্যক
পদ।

॥ তুড়ী॥

বিনোদ ফুলের                     বিনোদ মালা
বিনোদ গলে দোলে।
কোন বিনোদিনী                  গাঁথিলে মালা
বিনোদ বিনোদ ফুলে॥ ধ্রু॥
বিনোদ কেশ                      বিনোদ বেশ
বিনোদ বরণ-খানি।
বিনোদ মালা                      গলায় আলা
বিনোদ বিনোদ দোলনি॥
বিনোদ বন্ধন                    বিনোদ চিকুর
বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়ানে                    বিনোদ চাহনি
বিনোদ আঁখির তারা॥
বিনোদ বুক                        বিনোদ মুখ
বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে                    বিনোদ নাগর
বিনোদ বিনোদ বিহরে॥
বিনোদ বলন                     বিনোদ চলন
বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বোলে                      বিনোদিনীর
বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী বা মায়ূর॥

বিনোদ ফুলের বিনোদ মালা বিনোদ গলে দোলে।
কোন বিনোদিনী গাঁথিল মালা বিনোদ বিনোদ ফুলে॥
বিনোদ কেশ বিনোদ বেশ বিনোদ বরণখানি।
বিনোদ মালা গলায় আলা বিনোদ দোলনি॥
বিনোদ বন্ধন বিনোদ চিকুর বিনোদ মালায় বেড়া।
বিনোদ নয়ানে বিনোদ চাহনি বিনোদ আঁখির তারা॥
বিনোদ মুখ বিনোদ বুক বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে বিনোদ নাগর বিনোদ বিহরে॥
বিনোদ বলন বিনোদ চলন বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বলে বিনোদিনীর বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ১৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর॥

বিনোদ ফুলের                     বিনোদ মালা
বিনোদ গলে দোলে।
কোন বিনোদিনী                   গাথিল মালা
বিনোদ বিনোদ ফুলে॥ ধ্রু॥
বিনোদ কেশ                      বিনোদ বেশ
বিনোদ বরণ খানি।
বিনোদ মালা                      গলায় আলা
বিনোদ দোলানি॥
বিনোদ বন্ধন                    বিনোদ চিকুর
বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়ানে                    বিনোদ চাহনি
বিনোদ আঁখির তারা॥
বিনোদ বুক                        বিনোদ মুখ
বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে                    বিনোদ নাগর
বিনোদে বিহরে॥
বিনোদ বলন                     বিনোদ চরণ
বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বলে                        বিনোদিনীর
বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিনোদ ফুলের বিনোদ মালা
.                                বিনোদ গলে দোলে।
.        ( মালা আপনি দোলে-- না দোলাইলেও )
কোন্ বিনোদিনী গাঁথিল মালা
.                                বিনোদ বিনোদ ফুলে॥

বিনোদ কেশ বিনোদ বেশ
.                                বিনোদ বরণ খানি।
বিনোদ মালা গলায় আলা
.                                বিনোদ দোলনি॥

বিনোদ বন্ধন বিনোদ চিকুর
.                                বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়ানে বিনোদ চাহনি
.                                বিনোদ আঁখির তারা॥

বিনোদ বুক বিনোদ মুখ   
.                                বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে বিনোদ নাগর
.                                বিনোদ বিহরে॥

বিনোদ বলন বিনোদ চলন
.                                বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বোলে বিনোদিনীর
.                                বিনোদ শ্যাম অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাধবী বিলাস
॥ তুড়ী॥

বিনোদ ফুলের                     বিনোদ মালা
বিনোদগলে দোলে।
কোন বিনোদিনী                  গাঁথিলে মালা
বিনোদ বিনোদ ফুলে॥ ধ্রু॥
বিনোদ কেশ                      বিনোদ বেশ
বিনোদ বরণখানি।
বিনোদ মালা                      গলায় আলা
বিনোদ সে দোলনি॥
বিনোদ বন্ধন                    বিনোদ চিকুর
বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়ানে                    বিনোদ চাহনি
বিনোদ আঁখির তারা॥
বিনোদ বুক                        বিনোদ মুখ
বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে                    বিনোদ নাগর
বিনোদ বিনোদ বিহরে॥
বিনোদ বলন                     বিনোদ চলন
বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বোলে                      বিনোদিনীর
বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাধবী বিলাস।
॥ তুড়ী - মধ্যম দশকুশী॥

বিনোদ ফুলে,                     বিনোদ মালা,
বিনোদ গলে দোলে।
কোন বিনোদিনী,                 গাঁথিলে মালা,
বিনোদ বিনোদ ফুলে॥ ধ্রু॥

বিনোদ কেশ,                      বিনোদ বেশ,
বিনোদ বরণ খানি।
বিনোদ মালা,                      গলায় আলা,
বিনোদ বিনোদ দোলনি॥

বিনোদ বন্ধন,                    বিনোদ চিকুর,
বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়নে,                    বিনোদ চাহনি,
বিনোদ আঁখির তারা॥

বিনোদ বুক,                        বিনোদ মুখ,
বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে,                    বিনোদ নাগরে,
বিনোদ বিনোদ বিহরে॥

বিনোদ বলন,                     বিনোদ চলন,
বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বলে,                       বিনোদিনীর,
বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিনোদ ফুলের বিনোদ মালা
.                                বিনোদগলে দোলে।
কোন বিনোদিনী গাঁথিলে মালা
.                                বিনোদ বিনোদ ফুলে॥
বিনোদ কেশ বিনোদ বেশ  
.                                বিনোদ বরণখানি।
বিনোদ মালা গলায় আলা  
.                                বিনোদ সে দোলনী॥
বিনোদ বন্ধন বিনোদ চিকুর
.                                বিনোদ মালা বেড়া।
বিনোদ নয়ানে বিনোদ চাহনি
.                                বিনোদ আঁখির তারা॥
বিনোদ বুক বিনোদ মুখ   
.                                বিনোদ শোভা করে।
বিনোদ নগরে বিনোদ নাগর
.                                বিনোদ বিনোদ বিহরে॥
বিনোদ বলন বিনোদ চলন
.                                বিনোদ সঙ্গিয়া সঙ্গে।
লোচন বোলে বিনোদিনীর  
.                                বিনোদ গৌরাঙ্গে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চূয়া চন্দন বন্দন গোরোচন
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস,
১৫৩৪ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
২০৭৯সংখ্যক পদ।

॥ মায়ূর॥

চূয়া চন্দন                      বন্দন গোরোচন
লেপই দুহুঁ জন অঙ্গ।
কুসুম-শিঙ্গার                  কুসুম-সুকুমারিক
করু সখি মাধব সঙ্গ॥
দেখ দেখ বিনোদ বিলাস।
শ্রীবৃন্দাবন                       নিরুপম-শোভন
     আনন্দে ফুল ছলে হাস॥ ধ্রু॥
কোকিল শবদে                গতির গদগদ রব
কপোত-শবদে সিতকার।
মুকুল পুলককুল                  আসব ঝর ঝর
জনু লোচনে জল-ধার॥
হেরি দুহুঁ সখি সঞে           নিমগণ ক্রীড়নে
কত কত অতনু-বিলাস।
মাধব হেরি মন                   আনন্দে ভূলল
আপন সহচরি পাশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অরুণ কমল আঁখি তারক ভ্রমরা পাখী
ভণিতা লোচন দাস
কবি লোচন দাস
কথিত ১৪৫৯ শকাব্দে অর্থাৎ ১৫৩৭ খৃঃ লোচনদাস কর্ত্তৃক  বিরচিত এবং ১৮৭৮ খৃঃ, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন
দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ “চৈতন্য-মঙ্গল”, আদি খণ্ড, পৃষ্ঠা- ১৮০।

॥ সিন্ধু রাগ ॥

অরুণ-কমল আঁখি, তারক ভ্রমর পাখী, ডুবু ডুবু করুণা মকরন্দ।
বদন পূর্ণিমার চাঁদে, ছটায়ে পরাণ কান্ধে, তাহে কত প্রেমার আরম্ভ॥
আনন্দ নদীয়াপুরে, টলমল প্রেমভরে, শচীর দুলাল চাঁদ নাচে।
জয় জয় মঙ্গল পঢ়ে, দেখিয়া চমক লাগে, মদনমোহন নটরাজে॥ ধ্রু॥

পুলক ভরিল গায়, ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু তায়, লোমচক্রে সোনার কদম্ব।
প্রেমার আরম্ভে তনু, যেন প্রাতঃকালে ভানু, আধবাণী রাখি কম্বুকন্ঠ॥
শ্রীপাদপদম গন্ধে, বেঢ়ি দশ নখচান্দে, উপরে কনক বঙ্করাজ।
যখন ভাতিয়া চলে, বিজুরী ঝলমল করে, চমকিত অমর-সমাজ॥
সপ্তদ্বীপ মহীমাঝে, তাহে নবদ্বীপ সাজে, তাহে নব-প্রেমার প্রকাশ।
তাহে নব গৌরহরি, হরি-সঙ্কীর্ত্তন করি, আনন্দিত এ মহী আকাশ॥
সিংহের শাবক যেন, গম্ভীর গর্জ্জন ঘন, হুঙ্কার হিল্লোল প্রেম-সিন্ধু।
হরিবোল হরিবোলে, জগত্ পড়িল ভোলে, দুকুল খাইল কুলবধূ॥
অঙ্গের ছটায় যেন, দিনকর দীপ হেন, তাহা লীলা বেশের বিলাস।
কোটি কুসুম ধনু, জিনিয়া বিনোদ তনু, তাহে করে প্রেমার প্রকাশ॥
লাখ লাখ পূর্ণ চান্দে, জিনিয়া বদন ছান্দে, তাহে চারু চন্দন চন্দ্রমা।
নয়ন চঞ্চল চলে, ঝর ঝর অমিয়া ঝরে, জনম মুগধে পায় প্রেমা॥
মাতিল কুঞ্জর গতি, ভাবে গর গর অতি, ক্ষণে সেই চমকিয়া চায়।
কামিনীমোহন বেশ, হেরিয়া তুলিল দেশ, মদন বেদনা হেরি পায়॥
কি দিব উপমা তার, করুণাবিগ্রহ সার, হেন রূপে মোর গোরারায়।
প্রেমায় নদীয়া লোকে, নাহি নিশি দিশি তাকে, আনন্দে লোচনদাসে গায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা , ২০৮৮ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস
সংকলিত পদরসসার পুথির ২১৯৭ সংখ্যক পদ।

॥ কল্যাণী ॥

অরুণ কমল আঁখি                 তারক ভ্রমরা পাখী
ডুবডুব করুণা-মকরন্দে।
বদন পূর্ণিমা-চাঁদে                 ছটায় পরাণ কান্দে
তাহে নব প্রেমার আরম্ভে॥
আনন্দ নদীয়াপুরে                 টলমল প্রেমার ভরে
শচীর দুলাল গোরা নাচে।
জয় জয় মঙ্গল পড়ে                শুনিয়া চমক লাগে
মদনমোহন নট-রাজে॥
পুলকে পুরল গায়                 ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু তায়
রোমচক্রে সোণার কদন্বে।
প্রেমার আরম্ভে তনু                যেন প্রভাতের ভানু
আধ বাণী কহে কম্বু-কন্ঠে॥
শ্রীপাদ-পদুম-গন্ধে                  বেড়ি দশ-নখ-চাঁদে
উপরে কনক বঙ্করাজ।
যখন ভাতিয়া চলে                বিজুরী ঝলমল করে
চমকয়ে অমর-সমাজ॥
সপ্তদ্বীপ মহী মাঝে                 তাহে নবদ্বীপ সাজে
তাহে নব প্রেমার প্রকাশ।
তাহে নব গৌরহরি                 গুণ সংকীর্ত্তন করি
আনন্দিত এ ভূমি আকাশ॥
সিংহের শাবক যেন                  গভীর গর্জ্জন হেন
হুঙ্কার হিল্লোল প্রেম-সিন্ধু।
হরিবোল হরিবোল বলে,           জগত পড়িল ভোলে
দু কুল খাইল কুল-বধূ॥
অঙ্গের ছটায় যেন                   দিনকর প্রদীপ হেন
তাহে লীলা বিনোদ বিলাস।
কোটি কোটি কুসুম-ধনু            জিনিয়া বিনোদ তনু
তাহে করে প্রেমের প্রকাশ॥
লাখ লাখ পূর্ণিমা-চাঁদে              জিনিয়া বদন-ছান্দে
তাহে চারু চন্দন-চন্দ্রিমা।
নয়ন-অঞ্চল ছলে                 ঝর ঝর অমিয়া ঝরে
জনম-মুগধ পাইল প্রেমা॥
কি দিব উপমা তার                  করুণা-বিগ্রহ সার
হেন রূপ মোর গোরা রায়।
প্রেমায় নদীয়ার লোকে,           নাহি দিবানিশি থাকে
আনন্দে লোচন দাস গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী ॥

অরুণ কমল আঁখি                 তারক ভ্রমরা পাখী
ডুব ডুব করুণা-মকরন্দে।
বদন পূর্ণিমাচাঁদে                 ছটায় পরাণ কাঁদে
তাহে নব প্রেমার আরম্ভে॥
আনন্দ নদীয়া পুরে                 টলমল প্রেমার ভরে
শচীর দুলাল গোরা নাচে।
জয় জয় মঙ্গল পড়ে                শুনিয়া চমক লাগে
মদনমোহন নটরাজে॥
পুলকে পূরল গায়                  ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু তায়
রোমচক্রে সোণার কদন্ব।
প্রেমার আরম্ভে তনু                যেন প্রভাতের ভানু
আধবাণী কহে কম্বুকন্ঠ॥
শ্রীপাদ-পদুমগন্ধে                    বেড়ি দশ নখ-চাঁদে
উপরে কনক বঙ্করাজ।
যখন ভাতিয়া চলে                বিজুরি ঝলমল করে
চমকয়ে অমর সমাজ॥
সপ্ত দ্বীপ মহীমাঝে                 তাহে নবদ্বীপ সাজে
তাহে নব প্রেমার প্রকাশ।
তাহে নব গৌরহরি-                 গুণ সংকীর্ত্তন করি
আনন্দিত এ ভূমি আকাশ॥
সিংহের শাবক যেন                  গভীর গর্জ্জন হেন
হুঙ্কারহিল্লোল প্রেমসিন্ধু।
হরি হরি বোল বলে                জগত পড়িল ভোলে
দু কুল খাইল কুলবধূ॥
অঙ্গের ছটায় যেন                   দিনকর প্রদীপ হেন
তাহে লীলা বিনোদ বিলাস।
কোটি কোটি কুসুমধনু            জিনিয়া বিনোদ তনু
তাহে করে প্রেমের প্রকাশ॥
লাখ লাখ পূর্ণিমাচাঁদে               জিনিয়া বদনছান্দে
তাহে চারু চন্দন চন্দ্রিমা।
নয়ন অঞ্চল ছলে                ঝর ঝর অমিয়া ঝরে
জনম মুগধ পাইল প্রেমা॥
কি দিব উপমা সার                 করুণা বিগ্রহ সার
হেন রূপ মোর গোরারায়।
প্রেমায় নদীয়ার লোকে           নাহি দিবানিশি থাকে
আনন্দে লোচন দাস গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ কল্যাণী॥

অরুণ কমল আঁখি                 তারক ভ্রমরা পাখী
ডুবুডুবু করুণা মকরন্দে।
বদন পূর্ণিমা চান্দে                 ছটায় পরাণ কান্দে
তাহে নব প্রেমার আরম্ভে॥
আনন্দ নদীয়াপুরে                 টলমল প্রেমার ভরে
শচীর দুলাল গোরা নাচে।
জয় জয় মঙ্গল পড়ে                শুনিয়া চমক লাগে
মদনমোহন নটরাজে॥
পুলকে পূরল গায়                ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু তায়
রোমচক্রে সোণার কদন্বে।
প্রেমার আরম্ভে তনু                যেন প্রভাতের ভানু
আধ বাণী কহে কম্বুকন্ঠে॥
শ্রীপাদপদুমগন্ধে                    বেড়ি দশ নখচান্দে
উপরে কনক বঙ্করাজ।
যখন ভাতিয়া চলে                বিজুরী ঝলমল করে
চমকয়ে অমর সমাজ॥
সপ্তদ্বীপ মহী মাঝে                 তাহে নবদ্বীপ সাজে
তাহে নব প্রেমার প্রকাশ।
তাহে নব গৌরহরি                 গুণ সংকীর্ত্তন করি
আনন্দিত এ ভূমি আকাশ॥
সিংহের শাবক যেন                  গভীর গর্জ্জন হেন
হুঙ্কার হিল্লোল প্রেমসিন্ধু।
হরিবোল হরিবোল বলে            জগত পড়িল ভোলে
দু কুল খাইল কুলবধূ॥
অঙ্গের ছটায় যেন                   দিনকর প্রদীপ হেন
তাহে লীলা বিনোদ বিলাস।
কোটি কোটি কুসুমধনু             জিনিয়া বিনোদতনু
তাহে করে প্রেমের প্রকাশ॥
লাখ লাখ পূর্ণিমাচান্দে               জিনিয়া বদনছান্দে
তাহে চারু চন্দন চন্দ্রিমা।
নয়ন অঞ্চল ছলে                ঝর ঝর অমিয়া ঝরে
জনম মুগধ পাইল প্রেমা॥
কি দিব উপমা তার                 করুণা বিগ্রহ সার
হেন রূপ মোর গোরারায়।
প্রেমায় নদীয়ার লোকে           নাহি দিবানিশি থাকে
আনন্দে লোচন দাস গায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ কমল আঁখি তারক ভ্রমরা পাখী
ডুবুডুবু করুণা মকরন্দে।
বদন পূর্ণিমা চান্দে ছটায় পরাণ কান্দে
তাহে নব প্রেমার আরম্ভে॥
আনন্দ নদীয়াপুরে টলমল প্রেমার ভরে
শচীর দুলাল গোরা নাচে।
জয় জয় মঙ্গল পড়ে শুনিয়া চমক লাগে
মদনমোহন নটরাজে॥
পুলকে পূরল গায় ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু
তায় রোমচক্রে সোণার কদন্বে।
প্রেমার আরম্ভে তনু যেন প্রভাতের
ভানু আধ বাণী কহে কম্বুকন্ঠে॥
শ্রীপাদপদুমগন্ধে বেড়ি দশ নখচান্দে
উপরে কনক বঙ্করাজ।
যখন ভাতিয়া চলে বিজুরী ঝলমল করে
চমকয়ে অমর সমাজ॥
সপ্তদ্বীপ মহী মাঝে তাহে নবদ্বীপ সাজে
তাহে নব প্রেমার প্রকাশ।
তাহে নব গৌরহরি গুণ সংকীর্তন করি
আনন্দিত এ ভূমি আকাশ॥
সিংহের শাবক যেন গভীর গর্জ্জন হেন
হুঙ্কার হিল্লোল প্রেমসিন্ধু।
হরিবোল হরিবোল বলে জগত পড়িল
ভোলে দু কুল খাইল কুলবধূ॥
অঙ্গের ছটায় যেন দিনকর প্রদীপ হেন
তাহে লীলা বিনোদ বিলাস।
কোটি কোটি কুসুমধনু জিনিয়া
বিনোদতনু তাহে করে প্রেমের প্রকাশ॥
লাখ লাখ পূর্ণিমা চান্দে জিনিয়া
বদনছান্দে তাহে চারু চন্দন চন্দ্রিমা।
নয়ন অঞ্চল ছলে ঝর ঝর অমিয়া ঝরে
জনম মুগধ পাইল প্রেমা॥
কি দিব উপমা তার করুণা বিগ্রহ সার
হেন রূপ মোর গোরা রায়।
প্রেমায় নদীয়ার লোকে নাহি দিবানিশি
থাকে আনন্দে লোচন দাস গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা নাচে নব নব রঙ্গিয়া
ভণিতাহীন
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২১০৫ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
২২১৪ সংখ্যক পদ। এই পদটি নয়নানন্দের ভণিতায় পাওয়া গেছে।

॥ তুড়ী॥

গোরা নাচে নব নব রঙ্গিয়া।
হেম কিরণিয়া                     বরণ খানি গো
প্রেম পড়িছে চুয়াইয়া॥
গুণ গুনিয়া                            মন মানিয়া
দেখিয়া নাটের ছটা।
রূপ দেখিবারে                      হুড় পরিয়াছে
নদীয়া-নাগরীর ঘটা॥
গৌর বরণ                            সরুয়া বসন
সরুয়া কাঁকালি বেড়া।
গৌরাঙ্গ নাচিছে                  দুই দিগে দুলিছে
রঙ্গিয়া পাটের ডোরা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নয়নানন্দের
ভণিতায় পাওয়া গেছে।

॥ সুহিনী বা তুড়ি॥

গোরা নাচে নব নব রঙ্গিয়া।
হেম কিরণিয়া, বরণখানি গোরা,
প্রেম পড়িছে চুয়াইয়া॥ ধ্রু॥
গুণ গুনিয়া মন মানিয়া, দেখিয়া নাটের ছটা।
রূপ দেখিবারে হুড় পরিয়াছে নদীয়া-নাগরীর ঘটা॥
গৌরবরণ, সরুয়া বসন, সরুয়া কাঁকালি বেড়া।
লোচন কহিছে  দুদিকে দুলিছে, রঙ্গিয়া পাটের ডোরা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ তুড়ী॥

গোরা নাচে নব নব রঙ্গিয়া।
হেম কিরণিয়া             বরণ খানি গো
প্রেম পড়িছে চুয়াইয়া॥
গুণ শুনিয়া                মন মানিয়া
দেখিয়া নাটের ছটা।
রূপ দেখিবারে        হুড় পরিয়াছে
নদীয়া-নাগরীর ঘটা॥
গৌর বরণ                  সরুয়া বসন
সরুয়া কাঁকালি বেড়া।
গৌরাঙ্গ নাচিছে  দুই দিগে দুলিছে
রঙ্গিয়া পাটের ডোরা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরা নাচে নব রঙ্গিয়া।
হেম কিরণিয়া বরণ খানি গো
.                        প্রেম পড়িছে চুয়াইয়া॥
গুণ শুনিয়া মন মানিয়া       
.                        দেখিয়া নাটের ছটা।
রূপ দেখিবারে হুড় পরিয়াছে
.                        নদীয়া নাগরীর ঘটা॥
গৌর বরণ সরুয়া বসন      
.                        সরুয়া কাঁকালি বেড়া।
 গৌরাঙ্গ নাচিছে দুই দিগে দুলিছে
.                        রঙ্গিয়া পাটের ডোরা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি ভাব উঠিল মনে কান্দিয়া
ভণিতা লোচনদাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
প্রভৃতি,২১২৪ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
২২৩১ সংখ্যক পদ।

॥ তুড়ী॥

কি ভাব উঠিল মনে        কান্দিয়া আকুল কেনে
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
ক্ষণে ক্ষণে বৃন্দাবন           করে গোরা সোঙরণ
ললিতা বিশাখা বলি ধায়॥
রাধা-ভাব অঙ্গীকরি              রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনে আন নাহি ভায়।
সুরধুনী-তীর-বন                দেখি মনে বৃন্দাবন
যমুনা-পুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি            ভূমে যায় গড়াগড়ি
রাধা নাম জপয়ে সদায়।
প্রেম-রসে হইয়া ভোরা        সঙ্কীর্ত্তন মাঝে গোরা
রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা            দু নয়নে প্রেম-ধারা
পীত বসন বংশী চায়।
প্রেম-ধন অনুক্ষণ              দান করে জনে জন
এ লোচনদাস গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

কি ভাব উঠিল মনে              কান্দিয়া আকুল কেনে
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
ক্ষণে ক্ষণে বৃন্দাবন                 করে গোরা সোঙরণ
ললিতা বিশাখা বলি ধায়॥
রাধাভাব অঙ্গে করি                    রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনা আন নাহি ভায়।
সুরধুনীতীর বন                        দেখি মনে বৃন্দাবন
যমুনা পুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি                  ভূমে যায় গড়াগড়ি
রাধা নাম জপয়ে সদায়।
প্রেমরসে হইয়া ভোরা             সংকীর্ত্তন মাঝে গোরা
রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা                    দু-নয়নে প্রেমধারা
পীতবসন বংশী চায়।
প্রেমধন অনুক্ষণ                      দান করে জনে জন
এ লোচনদাস গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ধানশী - জোত সমতাল॥

কি ভাব উঠিল মনে,        কান্দিয়া আকুল কেনে,
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
খেনে খেনে বৃন্দাবন,          করে গোরা সোঙরণ,
ললিতা বিশাখা বলি ধায়॥
রাধা ভাব অঙ্গীকরি,               রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনে আন নাহি ভায়।
সুরধুনিতীরে বন,                দেখি মনে বৃন্দাবন,
যমুনা-পুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি,           ভূমে যায় গড়াগড়ি,
রাধা নাম জপয়ে সদায়।
প্রেমরসে হইয়া ভোরা,        সঙ্কীর্ত্তন মাঝে গোরা,
রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা,              দুনয়নে প্রেমধারা,
পীত বসন বংশী চায়।
প্রেমধন অনুক্ষণ,               দান করে জনে জন,
এ লোচন দাস গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ ধানশী - জোত সমতাল॥

কি ভাব উঠিল মনে            কান্দিয়া আকুল কেনে
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
খেনে খেনে বৃন্দাবন               করে গোরা সোঙরণ
সোঙরে ললিতা বিশাখায়॥
রাধাভাব অঙ্গীকারি                   রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনে আন নাহি ভায়।
সুরধুনি তীরে বন                    দেখি মনে বৃন্দাবন
যমুনা পুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি                ভূমে যায় গড়াগড়ি
রাধানাম জপে উভরায়।
প্রেম রসে হইয়া ভোরা            সঙ্কীর্ত্তন মাঝে গোরা
রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা                  দু নয়নে প্রেমধারা
পীত বসন বংশী চায়।
প্রেমধন অনুক্ষণ                    দান করে জনে জন
এ লোচন দাস গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা
॥ তুড়ী॥

কি ভাব উঠিল মনে       কান্দিয়া আকুল কেনে
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
ক্ষণে ক্ষণে বৃন্দাবন         করে গোরা সোঙরণ
ললিতা বিশাখা বলি ধায়॥
রাধা-ভাব অঙ্গীকরি            রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনে আন নাহি ভায়।
সুরধুনীতীর বন                দেখি মনে বৃন্দাবন
যমুনাপুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি          ভূমে যায় গড়াগড়ি
রাধা নাম জপয়ে সদায়।
প্রেমরসে হইয়া ভোরা        সঙ্কীর্ত্তন মাঝে গোরা
রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা            দু নয়নে প্রেমধারা
পীত বসন বংশী চায়।
প্রেমধন অনুক্ষণ               দান করে জনে জন
এ লোচন দাস গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি ভাব উঠিল মনে কান্দিয়া আকুল
কেনে সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।
ক্ষণে ক্ষণে বৃন্দাবন করে গোরা সোঙরণ
ললিতা বিশাখা বলি ধায়॥
রাধা ভাব অঙ্গীকরি রাধার বরণ ধরি
রাধা বিনে আন নাহি ভায়।
সুরধুনীতীর বন দেখি মনে বৃন্দাবন
যমুনাপুলিন বলি ধায়॥
রাধিকা রাধিকা বলি ভূমে যায় গড়াগড়ি
রাধা নাম জপয়ে সদায়।
প্রেমরসে হইয়া ভোরা সঙ্কীর্ত্তন মাঝে
গোরা রাধা নাম জীবেরে বুঝায়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া গোরা দু নয়নে প্রেমধারা
পীত বসন বংশী চায়।
প্রেমধন অনুক্ষণ দান করে জনে জন
এ লোচন দাস গুণ গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর