| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| দুহুঁ রূপ লাবণী মনমথ মোহিনী ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ দুহুঁ রূপ লাবণী মনমথ মোহিনী নিরখি নয়ন ভুলি যায়। রজনী জনিত রতি বিশেষ আলাপনে আলস রহল দুহু গায়॥ চাচর কুন্তল তাহে কুসুম দল দোলত আনহি ভাতি। দুহুঁ দোঁহা হেরি মুখ হৃদয়ে বাড়য়ে সুখ বোলত ভূতল পাঁতি॥ নিজ নিজ মন্দির নাগরী নাগর চলইতে করু অনুবন্ধ। বিচ্ছেদ বিষানলে দুহুঁ তনু জারল লোচনে লাগল ধন্দ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আজু বৃষভানুপুরে কি আনন্দরে ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আজু বৃষভানুপুরে কি আনন্দরে। দেখিয়ে বালিকামুখ, খণ্ডিল সকল দুখ, উপজিল আনন্দ অন্তরে॥ বৃষভানু রাজা নাচে, কুঞ্জভানু তার পাছে, সুভানু নাচয়ে মুখ চাহিঞেরে। চন্দ্রভানু ভানুপ্রেমে, নাচয়ে দক্ষিণ বামে, আনন্দে নাচয়ে পাঁচ ভাইরে॥ আর যত পুরবাসী, আনন্দে নাচয়ে আসি, শিঙ্গা বেণু বীণা বাজাইঞে। ডম্ফ বাজে করতাল, পাখোয়াজ রবাব ভাল, মন্দিরা সানাই বাজাইঞে॥ মুখরা নাচয়ে রঙ্গে, ঘর্ঘরা করিয়ে সঙ্গে, ঘুঘন্টী এ চারি তানী। হরিদ্রা কুঙ্কুম দেই, চিনি কদলী খই, কুলবধূ দেয় জয়ধ্বনি॥ নগরের নারী যত, ধেঞে আইলা কত শত, নানা দ্রব্য থলিতে পূরিঞে। যৌতুকের ভার নিঞে, কন্যা মুখ নিরখিঞে, নাচে সভে নয়ান পাইঞে॥ কেহ আসে কেহ যায়, কেহ নাচে কেহ গায়, ঘরে ঘরে আনন্দ বাধাইরে। উপজিল সুখসিন্ধু, তাহার করুণার বিন্দু না পাইঞে লোচন ফুকারে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঐ কুঞ্জে বাজিল সুমধুর মুরলী ভণিতা লোচন দাস কবি লোচন দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঐ কুঞ্জে বাজিল সুমধুর মুরলী। বাজে জয় রাধা শ্রীরাধে বলে মুরলী॥ হেদেরে মনচোরার বাঁশী বাজ ধীরে ধীরে। আকুল করিল তোর মুরলীর স্বরে॥ যেবা ছিল কুলাচার, গেল যমুনার পার, তোমার বাঁশীর ডাকে ডাকে। যে আছে নিলাজ প্রাণ, শুনিয়া বাঁশীর গান, পথে যেতে থাকে বা না থাকে॥ তরল জনম তোর, সরল হৃদয় মোর, ঠেকিয়াছে গোঁয়ারের হাতে। লোচন দাসেতে কয়, ঐ বড় মনে ভয়, বাঁশী হইল অবলা বধিতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কে বলে কালশশী যোল কলা ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পট মঞ্জুরী॥ কে বলে কালশশী যোল কলা। ছটায় করেছে আলো কদম্বের তলা॥ পিযূষের রসে বিধি হিঙ্গুল মাড়িয়া। রঙ্গীন অধর তাহে প্রতি মিশাইয়া॥ ও গজ মুকুতা শোভে নাসিকার আগে। চাঁদের কলিকা যেন মোর মনে লাগে॥ ঈষদ্ হাসিতে সুধা খসে রাশি রাশি। ত্রিভঙ্গে মধুর স্বরে পূরে মোহন বাঁশী॥ ফিরিয়া চাহিতে নারি ননদিনী সাথে। ঈযদ্ হাসিতে রূপ মুরছিলাম পথে॥ লোচন বলে আগো দিদি ধন্য তোর হিয়া। কেমনে আইলি চলি এরূপ দেখিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌরাঙ্গ চাঁদের বর্ণ জিনি জম্বুনদ স্বর্ণ ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পট মঞ্জুরী॥ গৌরাঙ্গ চাঁদের বর্ণ, জিনি জম্বুনদ স্বর্ণ, মহতের এই সে বর্ণন। জন্মাবধি কোন ঠাঁই, জম্বুনদ দেখি নাই, মোর মনে গৌরাঙ্গ দরশন॥ শরদ চন্দ্রিকাস্বর্ণ, জিনি চম্পকের বর্ণ, শোণ কুসুম গোরচনা। হরিতাল কোন্ ছার, বিকার সে মৃত্তিকার, সেকি গৌর রূপের তুলনা॥ ধিক চন্দ্রকান্ত মণি, তার বর্ণ কি সে গণি, ফণিমণি সৌদামিনী আর। অপ্রপঞ্চ রস কূপ, অপরূপ গোরারূপ, জগতে তুলনা নাহি যার॥ শোন ওগো প্রাণ সই, মরম তোমারে কই, তবে সে তুলনা দিব কিসে। নির্ব্বিদের পরাত্পর, অকলঙ্ক সুধাকর, অমৃত মিশাবে কেন বিষে॥ যত দেখি বর্ণন, অনুসারে উদ্দীপন, রূপের বর্ণনা কেবা করে। কেবা তার গুণ গায়, গুণের অন্ত নয়, দরশে ধৈরয কেবা ধরে॥ রূপ নিরখিতে নারে, গুণ কে কহিতে পারে, ভাবিয়ে বাউল হৈল মন। পক্ষীগণ আকাশের, কিছু নাহি পায় টের, অনুসারে এ লোচন গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনি ও ধনি কে কহ বটে সখা ও ধনি কে কহ বটে সখাহে সে ধনী কে কহ বটে ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুকুমার সেন জানিছেন যে এই গানটি চণ্ডীদাসের ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। এই পদটি চণ্ডীদাসের ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে (সুকুমার সেন, “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠা ; নীলরতন সেন, “বৈষ্ণব পদাবলী পরিচয়”, ২৭৪-পৃষ্ঠা)। এই পদের লোচন ভণিতার বিভিন্ন রূপের শেষে চণ্ডীদাস ভণিতার পদের রূপ দেখুন। ॥ বেলআর॥ সজনি ও ধনি কে কহ বটে। গোরচনা গোরী নবীন কিশোরী নাহিতে দেখিনু ঘাটে॥ সিনায়ে উঠিতে নিতম্বতটেতে পড়েছে চিকুর রাশি। কান্দিয়া আন্ধার কনক চান্দার শরণ লইল আসি॥ কিবা সে দুগুলি শঙ্খ ঝলমলি সরু সরু শশিকলা। মাজিতে উদয় সুধু সুধাময় দেখিয়ে হইলাম ভোলা॥ চলে নীল সাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি পরাণ সহিত মোর। সেই হইতে মোর হিয়া নহে থির মনমথজ্বরে ভোর॥ দাস লোচন কহয়ে বচন সুনহ নাগর চান্দা। সেই বৃষভানু রাজার নন্দিনী নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানসী॥ সখা ও ধনি কে কহ বটে। গোরচনা গোরী, নবীনা কিশোরী, নাহিতে দেখিলাম ঘাটে॥ কিবা সে দোগলি, শঙ্খ ঝল্ মলি, সরু সরু শশীকলা। সাঁঝেতে উদয়, যেন সুধাময়, দেখিয়ে হইলাম ভোলা॥ নাহিয়া উঠিতে, নিতম্ব তটেতে, পড়েছে চিকুররাশি। কান্দিয়া আন্ধার, কনক চাঁন্দার, স্মরণ লইল আসি॥ চলু নীল সাড়ী, নিঙ্গুড়ি নিঙ্গুড়ি, পরাণ সহিতে মোর। সেই হইতে মোর, অঙ্গ জর জর, মনমথে মন ভোর॥ দাস লোচন, কহয়ে বচন, শুনহে নাগর চাঁদা। সেই বৃষভানু-রাজার নন্দিনী, নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রথম দর্শন সখা ও ধনি কে কহ বটে। গোরচনা-গোরি নবীনা কিশোরী নাহিতে দেখিলুঁ ঘাটে॥ যমুনার তীরে বসি তার নীরে পায়ের উপরে পা। অঙ্গের বসন করিয়া আসন সে ধনী মাজিছে গা॥ কিবা সে দু-গলি শঙ্খ ঝলমলি সরু সরু শশিকলা। মাটিতে উদয় যেন সুধাময় দেখিয়া হইলুঁ ভোলা॥ সিনিঞা উঠিতে নিতম্ব-তটিতে পড়্যাছে চিকুররাশি। কান্দিয়া আন্ধার কনক চাঁদার শরণ লইল আসি॥ চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি পরাণ সহিতে মোর। সেই হইতে মোর হিয়া নহে থির মনমথ-জ্বরে ভোর॥ দাস-লোচন কহয়ে বচন শুন হে নাগর-চান্দা। সে যে বৃকভানু- রাজার নন্দিনী নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখা হে সে ধনী কে কহ বটে। গোরোচনা গোরী নবীনা কিশোরী নাহিতে দেখিনু ঘাটে॥ কিবা সে দুগুলি শঙ্খ ঝলমলি সরু সরু শশিকলা। মাজিতে উদয় সুধু সুধাময় দেখিয়া হইনু ভোলা॥ নাহিয়া উঠিতে নিতম্ব-তটীতে পড়েছে চিকুর-রাশি। কালিয়া আঁধার কনক চাঁদার শরণ লইল আসি॥ চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি পরাণ সহিতে মোর। সেই হৈতে মোর হিয়া নহে স্থির মনমথ জ্বরে ভোর॥ এ দাস লোচন কহিছে বচন শুনহ নাগর চান্দা। সে যে বৃষভানু রাজার নন্দিনী নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ ॥ তখারাগ॥ সখাহে সে ধনী কে কহ বটে। গোরোচনা গোরী নবীনা কিশোরী নাহিতে দেখিনু ঘাটে॥ কিবা সে দুগুলি শঙ্খ ঝলমলি সরু সরু শশিকলা। মাজিতে উদয় সুধু সুধাময় দেখিয়া হইনু ভোলা॥ নাহিয়া উঠিতে নিতম্ব তটীতে পড়েছে চিকুররাশি। কালিয়া আঁধার কনক চাঁদার শরণ লইল আসি॥ চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি পরাণ সহিতে মোর। সেই হৈতে মোর হিয়া নহে স্থির মনমথজ্বরে ভোর॥ এ দাস লোচন কহিছে বচন শুনহ নাগর চান্দা। সে যে বৃষভানু রাজার নন্দিনী নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখাহে সে ধনী কে কহ বটে। গোরোচনা গোরী নবীনা কিশোরী . নাহিতে দেখিনু ঘাটে॥ কিবা সে দুগুলি শঙ্খ ঝলমলি . সরু সরু শশিকলা। মাজিতে উদয় সুধু সুধাময় . দেখিয়া হইনু ভোলা॥ নাহিয়া উঠিতে নিতম্ব তটীতে . পড়েছে চিকুররাশি। কালিয়া আঁধার কনক চাঁদার . শরণ লইল আসি॥ চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি . পরাণ সহিতে মোর। সেই হৈতে মোর হিয়া নহে স্থির . মনমথজ্বরে ভোর॥ এ দাস লোচন কহিছে বচন . শুনহ নাগর চান্দা। সে যে বৃষভানু রাজার নন্দিনী . নাম বিনোদিনী রাধা॥ এই পদটি "চণ্ডীদাসের ভণিতায়", ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখা ও ধনি কে কহ বটে। গোরচনা গোরি নবীনা কিশোরী নাহিতে দেখিলুঁ ঘাটে॥ যমুনার তীরে বসি তার নীরে পায়ের উপরে পা। অঙ্গের বসন করিয়া আসন সে ধনি মাজিছে গা॥ কিবা সে দুকুলি শঙ্খ ঝলমলি সরু সরু শশিকলা। মাজিতে উদয় শুধু সুধাময় দেখিয়া হইলুঁ ভোলা॥ সিনিয়া উঠিতে নিতম্ব তটিতে পড়্যাছে চিকুর রাশি। কান্দিয়া আন্ধার কনক চান্দার শ্রবণ লইল আসি॥ চলু নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি পরাণ সহিত মোর। সেই হৈতে মোর হিয়া নহে থির মনমথ জ্বরে ভোর॥ কহে চণ্ডীদাসে বাসুলী আদেশে শুন হে নাগর চান্দা। সে যে বৃষভানু রাজার নন্দিনী নাম বিনোদিনী রাধা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরম সাদরে হরি অনঙ্গপত্রিকা পড়ি ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পরম সাদরে হরি অনঙ্গপত্রিকা পড়ি হৃদয় চিন্তিয়া কৈল সার। অলৌকিক এই প্রেমা ত্রিজগতে নাহি সীমা কি মাধুর্য্য লিখন রাধার॥ ধ্রু॥ জে রাধার দরশন করিতে উত্কণ্ঠা মন তথাপি হৈল ধৈর্য্য হরি। জানিতে রাইর মন নিজ প্রেম গোপন বেন্ধে করে অনেক চাতুরি॥ চতুর সে রসরাজ সাধে আপনার কাজ নিজ বাঞ্ছা না করে প্রকাশ। হাসিয়া লোচন কয় শুনহ নাগর রায় এই প্রেমে হইব সন্ন্যাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ছাড় হে চাতুরি শুন লো সুন্দরী ছাড় চাতুরি শুনল সুন্দরি ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ ॥ কামোদ রাগ॥ ছাড় চাতুরি, শুনল সুন্দরি, তোরে বলি আমি সার। সে কুল কামিনী, ভুবন মোহিনী, দয়িত বল্লভ তার॥ ধ্রু॥ তাহে রাজসূতা, রূপ গুণ যুতা, সকল ভুবন সীমা। কি সুখ লাগিয়া, রাখালে ভজিয়া, কুল হারাইবে রামা॥ এ সব বচন, না শুন কখন, শুনলো পরাণ সখি। তোর পরিহাসে, এই হবে শেষে, কলঙ্ক রটিবে দেখি॥ নাগরের কলা, না বুঝে অবলা, তাহার সরল মন। হৃদয়ে বিষাদ, গণয়ে প্রমাদ, আশ্বায়সে দাস লোচন॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ছাড় হে চাতুরি শুন লো সুন্দরী তোমারে বলিএ সার। সে জন কামিনী ভুবনমোহিনী দয়িত বহু উতার॥ ধ্রু॥ তাহে রাজসূতা রূপে গূণে যুতা সকল মহিমাসীমা। কি সুখ লাগিয়া রাখালে ভজিয়া দুকুল হারাবে রামা॥ এ সব বচন না বল কখন শুন লো পরাণসখী। তোর পরিহাসে এই হবে শেষে কলঙ্ক রটিবে দেখি॥ নাগরের কলা না বোঝে অবলা সরল তাহার মন। হৃদয়ে বিষাদ গণয়ে প্রমাদ আশ্বাসে দাস লোচন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চলিল ব্রজমোহিনী ধনী কুঞ্জরবর গমনী ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ। চলিল ব্রজমোহিনী ধনী কুঞ্জবর-গমনী। কেলি বিপিনে সাজলি রঙ্গে রঙ্গে বরজ-রমণী॥ মদন আতঙ্গে পুলক অঙ্গ, নব অনুরাগে প্রেম তরঙ্গ, . স্থকিত চকিত অমনি। বদন মণ্ডল শারদচন্দ্র, মদনের মনে লাগিল ধন্দ, . নিখিল ভুবন মোহিনী॥ নীল বসন রতন ভূষণ, মণিময় হার দোলয়ে সঘন ; . কটিচটে বাজে কিঙ্কিনী। চরণকমলে মাতল ভৃঙ্গ, মধুপান করি না ছাড়ে সঙ্গ, . সদা করে গুণ গুণ ধ্বনি॥ চকিত যুগল নয়ন-পন্দ, খঞ্জন মনে লাগল ধন্দ, . চম্পক কাঞ্চন বরণী। হেলিয়া দুলিয়া চলিল রঙ্গে, নব নব নব নাগরী সঙ্গে, . লোচন মন-রঞ্জনী॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চলিল ব্রজমোহিনী ধনি কুঞ্জরবরগমনী। কেলি বিপিন সাজল রঙ্গে সঙ্গে বরজরমণী॥ ধ্রু॥ মদনতরঙ্গে পুলক অঙ্গে নব অনুরাগে প্রেমতরঙ্গে চলল মৃগনয়নী। কবরীমণ্ডিত মালতীমাল নবজলধর জড়িত জাল স্থকিত চকিত অমনি॥ বদনমণ্ডল শরদচন্দ্র মদনের মনে লাগয়ে ধন্ধ নিখিল ভুবনমোহিনী। নীল বসন রতন ভূষণ মণিময় হার দোলত সঘন কটিতটে বাজে কিঙ্কিনী॥ চরণকমলে মাতল ভৃঙ্গ মধুপান করি না ছাড়ে সঙ্গ সদা করে গুন গুন ধ্বনি। চকিত চকিত নয়নস্ফন্দ খঞ্জনমনে লাগয়ে ধন্ধ চম্পকদলবর জিনি॥ হেলিয়া দুলিয়া চলই রঙ্গে নব নব নব নাগরী সঙ্গে লোচন মনোরঞ্জনী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুনত দূতী নিবেদনপুঞ্জে ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুনত দূতী নিবেদনপুঞ্জে। হাম চলিলাম সেই মাধবীকুঞ্জে॥ বহুত যতন করবি তাহা জাই। জৈছনে সুকুমারী মিলএ রাই॥ জদি মে’হে না মিলয়ে সো বরনারী। জিউ না রাখব তেজব হামারি॥ এত কহি মাধব গমন তুরিত। মাধবীকুঞ্জে তহি ভেল উপনীত॥ বিরহে বেথিত বড় নাগর কান। লোচনদাস তাহে বিদরএ প্রাণ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |