| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| ব্রজপুর রূপ নগরে ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ব্রজপুর রূপ নগরে রসের নদী বয়। তীর বহিয়ে ঢেউ আসিয়ে লাগল গোরার গায়॥ গউর অঙ্গে প্রেম-তরঙ্গে উঠছে দিবারাতি। জ্ঞান-কর্ম্ম যেগ-ধর্ম্ম তপ ছাড়িল যতি॥ মনে মনে কত জনে দিচ্ছে রূপের দায়। সে যে রূপ সুধা-কূপ ঠোর নাইক পায়॥ রূপ-ভাবনা গলায় সোনা ঘুচিলে মনের ধান্দা। রূপের ধারা বাউল পারা বহিছে জগত আন্ধা॥ রূপ-রসে জগত ভাসে এ চৌদ্দ ভুবনে। খাইলে যজে দেখিলে মজে কহিলে কেবা জানে॥ বিষম সেবা লইল যেবা আপনা মারে যে। লোচন বলে অবহেলে গউর পাবে সে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধা বলে রসিক রায়ের ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাধা বলে--- “রসিক রায়ের ভাব জানে যে। বৃথা কুলের আশয় করে ধিক্ জীবন্যা সে॥ ভাব না বুঝে ভাবের ভিতর পশ্য না গো যদি। কোন্ গুণেতে রসিক নাগর তারে করেছে বিধি॥” শুনে এক নাগরী বলে--- “এমত কথা কেনে। রসের মানুষ ধূলায় পড়ে, সবাই কি তা চিনে॥ ঠেকিবে যখন জানিবে তখন রসিক রাজের কথা। রসিক মানুষ কোলে করিবে ঘুচিবে মনের ব্যথা॥” শুন্যা এক নাগরী বলে--- “ভাব বলে গো কারে। আন্ধার পথে নদী তাথে’ কেমনে যাবে পারে॥ তার ওদিকে আন্ধার আছে সেই সে বিষম জ্বালা। তার ওদিকে সে পেয়েছে দষ দিক্ তার আলা। তার ওদিকে যে পেয়েছে সহজ মানুষ যারা।” লোচন বলে অবহেলে সুখে আছে তারা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |