| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| বদ বদ হরি ছদ না করিহ বদ বদ হরি ছদ্ম না করিহ বল বল হরি শ্রবণ করহ ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ তালৌ॥ বদ বদ হরি ছদ না করিহ, বিপদে বেঢ়ল দেশ। ওত ও জানিয়া আগে পলাওল শ্রবণ দশন কেশ॥ ধ্রু॥ তার পিছে পিছে লোচন বচন তাহা দুই দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি, রাত্রি দিনে মরি, যম দূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে প্রতি ঘরে ঘরে বিষম যমের থানা। দণ্ড দিবস বত্সর গণিছে কোন দিনে দিবে হানা॥ যে বা পুত্র বধূ যতন করিছ সকল নিমের তিঁতা। সেই পুত্র বধু হাতে গলে বান্ধি মুখে জ্বালি দিবে চিতা॥ বদন ভরিয়া হরি না বুলিলে শমন তরিবা কিসে। দাস লোচন কহিয়া ফারগ ডুবিছ আপন দোষে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৩৬ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৫৩৫ সংখ্যক পদ। ॥ তুড়ী॥ বদ বদ হরি ছদ না করিহ বিপদে বেঢ়ল দেশ। এ তত্ত্ব জানিয়া আগে পলাওল শ্রবণ দশন কেশ॥ তার পাছে পাছে লোচন বচন তারা দোহেঁ দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি রাত্রি দিনে মরি যম-দূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে প্রতি ঘরে ঘরে বিষম যমের থানা। দণ্ড যে দিবস বত্সর গণিছে কোন দিনে দিবে হানা॥ দারা পুত্র বধূ যতন করিছ সকলি নিমের তিতা। মরণ-সময়ে হাতে গলে বান্ধি মুখে জ্বালি দিবে চিতা॥ বদন ভরিয়া হরি না বলিলা শমন তরিবে কিসে। দাস লোচন কহিয়া ফারক মরিছ আপন দোষে॥ এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বল বল হরি শ্রবণ করহ বিপদে বেঢ়ল দেশ। এ তত্ত্ব জানিঞা আগে পলাইল শ্রবণ দশন কেশ॥ তার পাছে পাছে লোচন বচন তারা দোহেঁ দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি রাত্রি দিনে মরি যমদূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে প্রতি ঘরে ঘরে বিষম যমের থানা। দণ্ড দিবস পলক গণিছে কবে আসি দিবে হানা॥ এ ধন সম্পদ পুত্র বধূ যত সকল নিমের তিতা। সেই পুত্র বধূ হাতে গলে বান্ধি মুখে জালি দিবে চিতা॥ বদন ভরিঞা হরি না বলিলে শমন তরিবে কিসে। দাস লোচন কহিঞা ফারাক জীব ডুবিছে আপন দোষে॥ এই পদটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ২৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী সুহই - তাল লোফা॥ বদ বদ হরি, ছদ না করিহ, বিপত্ত্যে ভরল দেশ। এ তত্ত্ব জানিয়া, আগে পলাওল, শ্রবণ দশন কেশ॥ ধ্রু॥ তার পাছে পাছে, লোচন বচন, তারা দুই দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি, রাত্রি দিন মরি, যমদূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে, প্রতি ঘরে ঘরে, বিষম যমের থানা। দণ্ডকে, পলকে, বছর গণিছে, কোন দিন দিবে হানা॥ স্ত্রী পুত্র বান্ধবে, যতন করিছ, সকলি নিমের তিতা। মরণ হইলে, হাতে গলে বান্ধি, মুখে জ্বালি দিবে চিতা॥ বদন ভরিয়া, হরি না বলিলি, শমন তরিবি কিসে। দাস লোচন, কহিয়া খালাসা, মজিলি আপন দোষে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ তুড়ী॥ বদ বদ হরি ছদ্ম না করিহ বিপদে বেঢ়ল দেশ। এ তত্ত্ব জানিয়া আগে পলাওল শ্রবণ দশন কেশ॥ তার পাছে পাছে লোচন বচন তারা দোহেঁ দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি রাত্রি দিনে মরি যমদূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে প্রতি ঘরে ঘরে বিষম যমের থানা। দণ্ড যে দিবস বত্সর গণিছে কোন দিনে দিবে হানা॥ দারা পুত্র বধূ যতন করিছে সকলি নিমের তিতা। মরণ সময়ে হাতে গলে বান্ধি মুখে জ্বালি দিবে চিতা॥ বদন ভরিয়া হরি না বলিলা শমন তরিবে কিসে। দাস লোচন কহিয়া ফারক মরিছ আপন দোষে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বদ বদ হরি ছদ্ম না করিহ . বিপদে বেঢ়ল দেশ। এ তত্ত্ব জানিয়া আগে পলাওল . শ্রবণ দশন কেশ॥ তার পাছে পাছে লোচন বচন . তারা দোহেঁ দিল ভঙ্গ। মোর মোর করি রাত্রি দিনে মরি . যমদূতে দেখে রঙ্গ॥ সুন্দর নগরে প্রতি ঘরে ঘরে . বিষম যমের থানা। দণ্ড যে দিবস বত্সর গণিছে . কোন দিনে দিবে হানা॥ দারা পুত্র বধূ যতন করিছে . সকলি নিমের তিতা। মরণ সময়ে হাতে গলে বান্ধি . মুখে জ্বালি দিলে চিতা॥ বদন ভরিয়া হরি না বলিয়া . শমন তরিবে কিসে। দাস লোচন কহিয়া ফারক . মরিছ আপন দোষে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভজ ভজ হরি মন দৃঢ় করি ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা ,৩০৪৩ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৫৪১ সংখ্যক পদ। ॥ ভাটিয়ারি॥ ভজ ভজ হরি মন দৃঢ় করি মুখে বোল তার নাম। ব্রজেন্দ্র-নন্দন গোপী-প্রাণ-ধন ভুবন-মোহন শ্যাম॥ কখন মরিবে কেমনে তরিবে বিষম শমন ডাকে। যাহার প্রতাপে ভুবন কাঁপয়ে না জানি মর বিপাকে॥ কুল ধন পাইয়া উনমত হৈয়া আপনাকে জান বড়। শমনের দূতে ধরি পায়ে হাতে বান্ধিয়া করিবে জড়॥ কিবা যতি সতী কিবা নীচ জাতি যেই হরি নাহি ভজে। ভবে জনমিয়া ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া রৌরব নরকে মজে॥ দাস লোচন ভাবে অনুক্ষণ মিছাই জনম গেল। হরি না ভজিলুঁ বিষয়ে মজিলুঁ হৃদয়ে রহল শেল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ ভাটিয়ারি॥ ভজ ভজ হরি মন দৃঢ় করি মুখে বোল তার নাম। ব্রজেন্দ্রনন্দন গোপীপ্রাণধন ভুবনমোহন শ্যাম॥ কখন মরিবে কেমনে তরিবে বিষম শমন ডাকে। যাহার প্রতাপে ভুবন কাঁপয়ে না জানি মর বিপাকে॥ কুলধন পাইয়া উনমত হৈয়া আপনাকে জান বড়। শমনের দূতে ধরি পায়ে হাতে বান্ধিয়া করিবে জড়॥ কিবা যতি সতী কিবা নীচ জাতি যেই হরি নাহি ভজে। ভবে জনমিয়া ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া রৌরব নরকে মজে॥ দাস লোচন ভাবে অনুক্ষণ মিছাই জনম গেল। হরি না ভজিলুঁ বিষয়ে মজিলুঁ হৃদয়ে রহল শেল॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা। ॥ ভাটিয়ারী - জপতাল॥ ভজ ভজ হরি, মন দৃঢ় করি, মুখে বল তার নাম। ব্রজেন্দ্র নন্দন, গোপী-প্রাণধন, ভুবনমোহন শ্যাম॥ কখন মরিবে, কেমনে তরিবে, বিষম শমন ডাকে। যাহার প্রতাপে, ভুবন কাঁপয়ে, না জানি মর বিপাকে॥ কুল ধন পাইয়া, উনমত হৈয়া, আপনাকে জান বড়। শমনের দূতে, ধরি পায়ে হাতে, বান্ধিয়া করিবে জড়॥ কিবা যতী সতী, কিবা দ্বিজ জাতি, যেই হরি নাহি ভজে। ভবে জনমিয়া, ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া, রৌরব নরকে মজে॥ দাস লোচন, ভাবে অনুক্ষণ, মিছাই জনম গেল। হরি না ভজিনু, বিষয়ে মজিনু, হৃদয়ে রহিল শেল॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভজ ভজ হরি মন দৃঢ় করি . মুখে বোল তার নাম। ব্রজেন্দ্রনন্দন গোপীপ্রাণধন . ভুবনমোহন শ্যাম॥ কখন মরিবে কেমনে তরিবে . বিষম শমন ডাকে। যাহার প্রতাপে ভুবন কাঁপয়ে . না জানি মর বিপাকে॥ কুলধন পাইয়া উনমত হৈয়া . আপনাকে জান বড়। শমনের দূতে ধরি পায়ে হাতে . বান্ধিয়া করিবে জড়॥ কিবা যতি সতী কিবা নীচ জাতি . যেই হরি নাহি ভজে। ভবে জনমিয়া ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া . রৌরব নরকে মজে॥ দাস লোচন ভাবে অনুক্ষণ . মিছাই জনম গেল। হরি না ভজিলুঁ বিষয়ে মজিলুঁ . হৃদয়ে রহল শেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ব্রজেন্দ্র নন্দন ভজে যেই জন ভণিতা লোচন দাস কবি লোচন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা ,৩০৪৪ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৫৪২ সংখ্যক পদ। ॥ তথা রাগ॥ ব্রজেন্দ্র-নন্দন ভজে যেই জন সফল জীবন তার। তাহার উপমা বেদে নাহি সীমা ত্রিভুবনে নাহি আর॥ এমন মাধব না ভজে মানব কখন মরিয়া যাবে। সেই সে অধম প্রহারিবে যম রৌরবে ক্রিমিতে খাবে॥ তার পর আর পাপী নাহি ছার সংসার জগত মাঝে। কোন কালে তার গতি নাহি আর মিছাই ভ্রমিছে কাজে॥ লোচন দাস ভকতি আশ হরি-গুণ কহি লেখি। হেন রস-সার মতি নাহি যার তার মুখ নাহি দেখি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ তথা রাগ॥ ব্রজেন্দ্র নন্দন ভজে যেই জন সফল জীবন তার। তাহার উপমা বেদে নাহি সীমা ত্রিভুবনে নাহি আর॥ এমন মাধব না ভজে মানব কখন মরিয়া যাবে। সেই সে অধমে প্রহারিবে যমে রৌরবে ক্রিমিতে খাবে॥ তারপর আর পাপী নাহি ছার সংসার জগত মাঝে। কোন কালে তার গতি নাহি আর মিছাই ভ্রমিছে কাজে॥ লোচন দাস ভকতি আশ হরিগুণ কহি লেখি। হেন রসসার মতি নাহি যার তার মুখ নাহি দেখি॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা। ॥ পুরবী ধানশ্রী - দুঠুকী॥ ব্রজেন্দ্র নন্দন, ভজে যেই জন, সফল জীবন তার। তাহার উপমা, বেদে নাহি সীমা, ত্রিভুবনে নাহি আর॥ এমন মাধব, না ভজে মানব, কখন মরিয়া যাবে। সেই সে অধম, প্রহারিবে যম, রৌরবে কৃমিতে খাবে॥ তার পর আর, পাপী নাহি ছার, সংসার জগত মাঝে। কোন কালে তার, গতি নাহি আর, মিছাই ভ্রমিছে কাজে॥ লোচন দাস, ভকতি আশ, হরিগুণ কহি লেখি। হেন রস সার, মতি নাহি যার, তার মুখ নাহি দেখি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ব্রজেন্দ্র নন্দন ভজে যেই জন . সফল জীবন তার। তাহার উপমা বেদে নাহি সীমা . ত্রিভুবনে নাহি আর॥ এমন মাধব না ভজে মানব . কখন মরিয়া যাবে। সেই সে অধমে প্রহারিবে যমে . রৌরবে ক্রিমিতে খাবে॥ তারপর আর পাপী নাহি ছার . সংসার জগত মাঝে। কোন কালে তার গতি নাহি আর . মিছাই ভ্রমিছে কাজে॥ লোচন দাস ভকতি আশ . হরিগুণ কহি লেখি। হেন রসসার মতি নাহি যার . তার মুখ নাহি দেখি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরম করুণ পহুঁ দুই জন কবি লোচন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৪৫পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৫৪৩ সংখ্যক পদ। ॥ তথা রাগ॥ পরম করুণ পহুঁ দুই জন নিতাই গৌরচন্দ্র। সব অবতার- সার শিরোমণি কেবল আনন্দ-কন্দ॥ ভজ ভজ ভাই চৈতন্য নিতাই সুদৃঢ় বিশ্বাস করি। বিষয় ছাড়িয়া সে রসে মজিয়া মুখে বোল হরি হরি॥ দেখ আরে ভাই ত্রিভুবনে নাই এমন দয়ালু দাতা। পশু পাখী ঝুরে পাষাণ মাজরে শুনি যার গুণ-গাথা॥ সংসারে মজিয়া রহিলা পড়িয়া সে পদে নহিল আশ। আপন করম ভুঞ্জায়ে শমন কহয়ে লোচন দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ পরম করুণ, পহুঁ দুই জন, নিতাই গৌরচন্দ্র। সব অবতার, সার শিরোমণি, কেবল আনন্দ-কন্দ॥ ভজ ভজ ভাই, চৈতন্য নিতাই, সুদৃঢ় বিশ্বাস করি। বিষয় ছাড়িয়া, সে রসে মজিয়া, মুখে বল বল হরি॥ দেখ অরে ভাই, ত্রিভুবনে নাই, এমন দয়াল দাতা। পশু পাখী ঝুরে, পাষাণ বিদরে, শুনি যাঁর গুণ গাথা॥ সংসারে মজিয়া, রহিলা পড়িয়া, সে পদে নহিল আশ। আপন করম, ভুঞ্জায়ে শমন, কহয়ে লোচন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ তথারাগ॥ পরম করুণ পহুঁ দুই জন নিতাই গৌরচন্দ্র। সব অবতার সার শিরোমণি কেবল আনন্দকন্দ॥ ভজ ভজ ভাই চৈতন্য নিতাই সুদৃঢ় বিশ্বাস করি। বিষয় ছাড়িয়া সে রসে মজিয়া মুখে বোল হরি হরি॥ দেখ আরে ভাই ত্রিভুবনে নাই এমন দয়ালু দাতা। পশু পাখী ঝুরে পাষাণ মুঞ্জরে শুনি যার গুণগাথা॥ সংসারে মজিয়া রহিলা পড়িয়া সে পদে নহিল আশ। আপন করম ভুঞ্জায়ে শমন কহয়ে লোচন দাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পরম করুণ পহুঁ দুইজন . নিতাই গৌরচন্দ্র। সব অবতার সার শিরোমণি . কেবল আনন্দকন্দ॥ ভজ ভজ ভাই চৈতন্য নিতাই . সুদৃঢ় বিশ্বাস করি। বিষয় ছাড়িয়া সে রসে মজিয়া . মুখে বোল হরি হরি॥ দেখ আরে ভাই ত্রিভুবনে নাই . এমন দয়ালু দাতা। পশু পাখী ঝুরে পাষাণ মুঞ্জরে . শুনি যার গুণগাথা॥ সংসারে মজিয়া রহিলা পড়িয়া . সে পদে নহিল আশ। আপন করম ভুঞ্জায়ে শমন . কহয়ে লোচন দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঢর ঢর কাঁচাসোণার বরণ ভণিতা লোচন দাস কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথি থেকে। শ্রীগৌরচন্দ্র নদিয়া-নাগরীর উক্তি ॥ গান্ধার॥ ঢর ঢর কাঁচা- সোণার বরণ আউলাই পড়িছে গায়। হেরি কুলবতী রসের পাথারে সাঁতারে না পায় থায়॥ সখি গৌরাঙ্গ নাগর দেখ। সুঘড় বিধাতা রসের মুরতি নিরমিল পরতেখ॥ ধ্রু॥ বুক পরিসর চন্দনে ত মাখা ভাঙ্গিল মানিনী-মান। আলিঙ্গন আশে চিত বেয়াকুল সদাই বুঝিছে প্রাণ॥ জিনি পাঁচ-বাণ নয়ন-সন্ধান চাহনি পরাণ-কাড়া। ভাঙর ভঙ্গিম কুলবতী-কুল- বরত-ধরম-ছাড়া॥ চাচর কেশের বেশ কি বর্ণিব গ্রীবার ভঙ্গিমা কত। লোচন দাসের হিয়া বেয়াকুল আকুল যুবতী-শত॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গচন্দ্র ॥ গান্ধার॥ ঢর ঢর কাঁচা সোণার বরণ আউলাই পড়িছে গায়। হেরি কুলবতী রসের পাথারে সাঁতারে থেয় না পায়॥ সখি গৌরাঙ্গ নাগর দেখ। সুঘড় বিধাতা রসের মূরতি নিরমিল পরতেখ॥ ধ্রু॥ বুক পরিসর চন্দনেতে মাখা ভাঙ্গিল মানিনী মান। আলিঙ্গন আশে চিত বেয়াকুল সদাই ঝুরিছে প্রাণ॥ জিনি পাঁচবাণ নয়ন সন্ধান চাহনি পরাণ-কাড়া। ভাঙুর ভঙ্গিম কুলবতী কুল করত ধরম ছাড়া॥ চাঁচর কেশের বেশ কি বর্ণিব গ্রীবার ভঙ্গিমা কত। লোচন দাসের হিয়া বেয়াকুল আকুল যুবতীশত॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঢর ঢর কাঁচা সোণার বরণ . আউলাই পড়িছে গায়। হেরি কুলবতী রসের পাথারে . সাঁতারে থেয় না পায়॥ সখি গৌরাঙ্গ নাগর দেখ। সুঘড় বিধাতা রসের মূরতি . নিরমিল পরতেখ॥ বুক পরিসর চন্দনেতে মাখা . ভাঙ্গিল মানিনী মান। আলিঙ্গন আশে চিত বেয়াকুল . সদাই ঝুরিছে প্রাণ॥ জিনি পাঁচবাণ নয়ন সন্ধান . চাহনি পরাণ কাড়া। ভাঙুর ভঙ্গিম কুলবতী কুল . করত ধরম ছাড়া॥ চাঁচর কেশের বে কি বর্ণিব . গ্রীবার ভঙ্গিমা কত। লোচন দাসের হিয়া বেয়াকুল . আকুল যুবতীশত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |