| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| ছি ছি আগো মৈলাম লাজে ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়- দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ “ছি ছি আগো মৈলাম লাজে তুই কর্ লি কি। কলঙ্ক রাখিলি কুলে হৈয়া রাজার ঝি॥ কুলবতী হৈয়া তোর ভয় নাহি মনে। নন্দের বেটা ডিঙ্গর বটে তা তো সভাই জানে॥ পুরুষ পরশ---তারে কেবা দিবে দোষ। তোর তো গোকুলের মাঝে হৈল অপযশ॥ পর-পুরুষ বৈল্যা তোর মনে নাহিক ডর। সাঁজ-রাইতে কেমন কব়্যা ঢুকায়্যাছিলে ঘর॥ এত করি শিখাইলাম তোর ননদ আছে পিছা।” লোচন বোলে কি করিবে সব কথাই মিছা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ ছি ছি আগো মৈলাম লাজে . তুই কর্ লি কি। কলঙ্ক রাখিলি কুলে . হৈয়া রাজার ঝি॥ কুলবতী হৈয়া তোর . ভয় নাহি মনে। নন্দের বেটা ডিঙ্গর বটে . তা তো সবাই জানে॥ পুরুষ পরশ---তারে . কেবা দিবে দোষ। তোর তো গোকুলের মাঝে . হৈল অপযশ॥ পরপুরুষ বৈল্যা তোর . মনে নাহিক ডর। সাঁজ রাতে কেমন কব়্যা . ঢুকায়্যাছিলি ঘর॥ এত করি শিখাইলাম তোর . ননদ আছে পিছা। লোচন বোলে কি করিবে . সব কথাই মিছা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ছি ছি আগো মৈলাম লাজে . তুই কর্ লি কি কলঙ্ক রাখিলি কুলে . হৈয়া রাজার ঝি॥ কুলবতী হৈয়া তোর ভয় নাহি মনে। নন্দের বেটা ডিঙ্গর বটে . তা তো সবাই জানে॥ পুরুষ পরশ তারে কেবা দিবে দোষ। তোর তো গোকুলের মাঝে . হৈল অপযশ॥ পরপুরুষ রল্যা তোর মনে নাহি ডর। সাঁজ রাতে কেমন কব়্যা . ঢুকায়্যাছিলি ঘর॥ এত করি শিখাইলাম তোর . ননদ আছে পিছা। লোচন বোলে কি করিবে . সব কথাই মিছা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন গো মা যশোমতি ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়- দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ “শুন গো মা যশোমতি কই নাই তোর ডরে। জোর কব়্যা বেণু কাড়্যা রাখছে লৈয়া ঘরে॥ মিথ্যা কব়্যা বৈলা মাগী ফেসাদ দিয়াছে। আমি উহার ঘর ঢুক্যাছি ইসাদ আছে কে॥ সাঁজের বেলা ঘরকে আস্ ছি তরাইয়া ধেনু। এক্ লা পায়্যা পথের মাঝে কাড়্যা নিলে বেণু॥ দোষ ঘাইট নাই পথে বেণু নিলে কাড়্যা। কেমন কব়্যা লোচন সাক্ষী দিলে মিছা কব়্যা॥” . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুবল বোলে গোঠে আল্যা ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়- দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ “সুবল বোলে--- “গোঠে আল্যা হাতের বেণু কোথা। হেট্-মাথে রৈছ কেন কও না মনের কথা॥” “তোমাকে কহিতে ভাই নাই কোন ডর। সেই দিন গেছিলাম আমি আয়ানের ঘর॥ আয়ানেরে না দেখি ঘরে নির্ভয় হইয়া। রাই-কোলে শুয়্যাছিলাম কাপড় মুড়ি দিয়া॥ নিদ্রায় বিভোল আমি আনন্দিত-মনে। কি জানি পাপিষ্ঠ মাগী ছিল কোন খানে॥ আচম্বিতে আসি মাগী ঘুচাল্যে কাপড়। বেণু ফেল্যা পালাইলাম হইয়া ফাঁফর॥” লোচন বোলে এই মর্দ্দ এত তোমার ভয়। কি করিত ঠেটা বুড়ী মায়্যা বই তো নয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার উক্তি ॥ তথারাগ॥ সুবল বোলে গোঠে আল্যা হাতের বেণু কোথা। হেঁট মাথে রৈছ কেন কও না মনের কথা॥ তোমাকে কহিতে ভাই নাই কোন ডর। সেই দিন গেছিলাম আমি আয়ানের ঘর॥ আয়ানেরে না দেখি ঘরে নির্ভয় হইয়া। রাই কোলে শুয়্যাছিলাম কাপড় মুড়ি দিয়া॥ নিদ্রায় বিভোল আমি আনন্দিত মনে। কি জানি পাপিষ্ঠ মাগী ছিল কোনখানে॥ আচম্বিতে আসি মাগি ঘুচালো কাপড়। বেণু ফেল্যা পালাইলাম হইয়া ফাঁফর॥ লোচন বোলে এই মর্দ্দ এত তোমার ভয়। কি করিত ঠেটা বুড়ী মায়্যা বই তো নয়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবল বোলে গোঠে আল্যা . হাতের বেণু কোথা। হেঁট মাথে রৈছ কেন . কও না মনের কথা॥ তোমাকে কহিতে ভাই . নাই কোন ডর। সেই দিন গেছিলাম আমি . আয়ানের ঘর॥ আয়ানেরে না দেখি ঘরে . নির্ভর হইয়া। রাই কোলে শুয়্যাছিলাম . কাপড় মুড়ি দিয়া॥ নিদ্রায় বিভোল আমি . আনন্দিত মনে। কি জানি পাপিষ্ঠ মাগী . ছিল কোনখানে॥ আচম্বিতে আসি মাগি . ঘুচালো কাপড়। বেণু ফেল্যা পালাইলাম . হইয়া ফাঁফর॥ লোচন বোলে এই মর্দ . এত তোমার ভয়। কি করিত ঠেটা বুড়ী . মায়্যা বই তো নয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন গো মরম সই ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়- দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ “শুন গো মরম-সই মোর মনের দুখ। শ্যাম বন্ধু না দেখিয়া বিদরিছে বুক॥ হাস্যা হাস্যা আস্যা কভু দাঁড়াইতে নাছে। সেই অভি- লাসে ওগো থাক্ তাম গৃহ মাঝে॥ যে দিন হৈতে বেণু নিলে ননদ-বিড়ালী। সেদিন হৈতে নন্দের পোয়ে আইসে নাইকো বাড়ী॥ পাশ-পড়শীর বাড়ী আইসে অম্নি অম্নি যায়। পথে ঘাটে দেখা হৈলে ফিরিয়া না চায়॥” .লোচন বোলে ওগো দিদি গেল মেনে জানা। বুঝিলাম যে নন্দ-রাণী কব়্যা থাক্ বে মানা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার উক্তি ॥ তথারাগ॥ শুন গো মরম-সই মোর মনের দুখ। শ্যামবন্ধু না দেখিয়া বিদরিছে বুক॥ হাস্যা হাস্যা আস্যা কভু দাঁড়াইত নাছে। সেই অভি- লাষে ওগো থাক্ তাম গৃহ মাঝে॥ যে দিন হৈতে বেণু নিলে ননদ-বিড়ালী। সেদিন হৈতে নন্দের পোয়ে আইসে নাইকো বাড়ী॥ পাশ পড়শীর বাড়ী আইসে অম্নি অম্নি যায়। পথে ঘাটে দেখা হৈলে ফিরিয়া না চায়॥ লোচন বোলে ওগো দিদি গেল মেনে জানা। বুঝিলাম যে নন্দরাণী কব়্যা থাক্ বে মানা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শুন গো মরম সই মোর মনের দুখ। শ্যামবন্ধু না দেখিয়া বিদরিছে বুক॥ হাস্যা হাস্যা আস্যা কভু . . দাঁড়াইত নাছে। সেই অভিলাষে ওগো . . থাক্ তাম গৃহ মাঝে॥ যে দিন হৈতে বেণু নিলে . . ননদ-বিড়ালী। সেদিন হৈতে নন্দের পোয়ে . . আইসে নাইকো বাড়ী॥ পাশ পড়শীর বাড়ী আইসে . . অম্ নি অম্ নি যায়। পথে ঘাটে দেখা হৈলে . . ফিরিয়া না চায়॥ লোচন বোলে ওগো দিদি . . গেল মেনে জানা। বুঝিলাম যে নন্দরাণী . . কব়্যা থাকবে মানা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আগো আজি বড় শুভদিন ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়-দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ “আগো আজি বড় শুভদিন সতন্তর ঘর। নিজ-পতি গেছে গোঠে নাহি কোন ডর॥ একা আমি শুয়্যা আছি দুঃখ করি চিতে। নূপুরের শব্দ কাণে বাঝ্ লো আচম্বিতে॥ শব্দ শুন্যা বেব়্যাইলাম ধায়্যা দাঁড়ালাম নাছে॥ হাতে ধরি সোধাইল বঁধু ঘরে কেহ নাছে।” লোচন বলে কেউ নাই ঘরে ডর না কর তুমি। যদি কেহ আইসে যায় সাড়া দিব আমি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তথা রাগ॥ আগো আজি বড় শুভদিন সতন্তর ঘর। নিজ পতি গেছে গোঠে নাহি কোন ডর॥ একা আমি শুয়্যা আছি দুঃখ করি চিতে। নূপুরের শব্দ কানে বাজ্ লো আচম্বিতে॥ শব্দ শুন্যা বেব়্যাইলাম ধায়্যা দাঁড়ালাম নাছে॥ হাতে ধরি সোধাইল বঁধু ঘরে কেহ আছে। লোচন বলে কেউ নাই ঘরে ডর করো না তুমি। যদি কেহ আইসে যায় সাড়া দিব আমি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আগো আজি বড় শুভদিন . সতন্তর ঘর। নিজ পতি গেছে গোঠে . নাহি কোন ডর॥ একা আমি শুয়্যা আছি . দুঃখ করি চিতে। নূপুরের শব্দ কানে . বাজ্ লো আচম্বিতে॥ শব্দ শুন্যা বেব়্যাইলাম . ধায়্যা দাঁড়ালাম নাছে॥ হাত ধরি দেখাইল বঁধূ . ঘরে কেহ আছে। লোচন বলে কেউ নাই ঘরে . ডর করো না তুমি। যদি কেহ আইসে যায় . সাড়া দিব আমি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হাসি হাসি বোলে রাই ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন পাবনা জেলার রায়-দৌলতপুরের বিহারীলাল অধিকারীর “দৌঃ” পুথি থেকে। ব্রজ-লীলা রসোদ্গার ॥ তথা রাগ॥ হাসি হাসি বোলে রাই--- “শুন ওগো সই। আজুকার রসের কথা তোমারে তো কই॥ কত দিনের পরে যদি বন্ধু আইলে ঘরে। থরথরাইতে কাঁপে নাগর ননদিনীর ডরে॥ হাসি আইসে দুঃখ লাগে কি কহিব আর। কোণে থাক্যা চমকিয়া উঠে কত বার॥ ঘরের ভিতরে যদি লড়িল মুষাই। ধড়্ ফড়িয়া উঠি বোলে পালাইয়া যাই॥ হাতে ধরিয়া যদি বসাও করি স্থাই। আন্ধার ঘর উকটিয়া বেণু নাহি পাই॥ ননদ-মাগী দুষ্ট বড় চাতুরী করিয়া! ডোলের ভিতরে বেণু রাখ ছিল ফেলিয়া॥ উকটিয়া বেণু লৈয়া দিলাম তাহার হাতে। যে ছিল মনের দুঃখ কহিলাম সাক্ষাতে॥ কত দিনের পরে সই গেল মনে দুখ।” লোচন বোলে ওগো দিদি শুন্যা পাইলাম সুখ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তথা রাগ॥ হাসি হাসি বোলে রাই . শুন ওগো সই। আজুকার রসের কথা . তোমারে তো কই॥ কত দিনের পরে যদি . বন্ধু আইল ঘরে। থর্ থরাইতে কাঁপে নাগর . ননদিনীর ডরে॥ হাসি আইসে দুঃখ লাগে . কি কহিব আর। কোলো থাক্যা চমকিয়া . উঠে কত বার॥ ঘরের ভিতরে যদি . লড়িল মুষাই। ধড়্ ফড়িয়া উঠি বোলে . পালাইয়া যাই॥ হাতে ধরিয়া যদি . বসাওঁ করি স্থাই। আন্ধার ঘর উকটিয়া . বেণু নাহি পাই॥ ননদমাগী দুষ্ট বড় . চাতুরী করিয়া। ডোলের ভিতরে বেণু . রাখ্ ছিল ফেলিয়া॥ উকটিয়া বেণু লৈয়া . দিলাম তাহার হাতে। যে ছিল মনের দুখ . কহিলাম সাক্ষাতে॥ কত দিনের পরে সই . গেল মনে দুখ। লোচন বোলে ওগো দিদি . শুন্যা পাইলাম সুখ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হাসি হাসি বোলে রাই . শুন ওগো সই। আজুকার রসের কথা . তোমারে তো কই॥ কত দিনের পরে যদি বন্ধু আইল ঘরে। থর্ থরাইতে কাঁপে নাগর . ননদিনীর ডরে॥ হাসি আইসে দুঃখ লাগে . কি কহিব আর। কোলো থাক্যা চমকিয়া উঠে কত বার॥ ঘরের ভিতরে যদি লড়িল মুষাই। ধড়্ ফড়িয়া উঠি বোলে . . পালাইয়া যাই॥ হাতে ধরিয়া যদি বসাওঁ করি স্থান। আন্ধার ঘর উকটিয়া বেণু নাহি পাই॥ ননদমাগী দুষ্ট বড় চাতুরী করিয়া। ডোলের ভিতরে বেণু . রাখ্ ছিল ফেলিয়া॥ উকটিয়া বেণু লৈয়া . দিলাম তাহার হাতে। যে ছিল মনের দুখ . কহিলাম সাক্ষাতে॥ কত দিনের পরে সই গেল মনে দুখ। লোচন বোলে ওগো দিদি . শুন্যা পাইলাম সুখ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি লাগি দাঁড়ায়্যা আছ হে নাগর ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের "পদরসসার" পুথি থেকে। খণ্ডিতা ॥ বিভাষ॥ “কি লাগি দাঁড়ায়্যা আছ হে নাগর না বুঝি তোমার কাজ। না জানি সে ধনি কত বা খুঁজিছে সকল নগর মাঝ॥ তাহার সহিতে পরম পিরিতে রজনী বঞ্চিয়াছিলা। না বুঝি চরিত উঠিয়া প্রভাতে এথাতে কি কাজে আইলা॥ তুরিতে চলহ বিলম্ব না কর না রহ আমার কাছে। আমার আঙ্গনে দেখিলে সে জনে তোমারে হইবে লাজে॥” এতেক বচন শুনিয়া লোচন কহয়ে নাগর-বরে। কি লাগি দাঁঢ়ায়্যা নাগর আছে হে চল না আপন-ঘরে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খণ্ডিতা ॥ বিভাস॥ কি লাগি দাঁড়ায়্যা আছ হে নাগর না বুঝি তোমার কাজ। না জানি সে ধনী কত বা খুঁজিছে সকল নগর মাঝ॥ কাহার সহিতে পরম পিরীতে রজনী বঞ্চিয়াছিলা। না বুঝি চরিত উঠিয়া প্রভাতে এথাতে কি কাজে আইলা॥ তুরিতে চলহ বিলম্ব না কর না রহ আমার কাছে। আমার আঙ্গনে দেখিলে সে জনে তোমারে হইবে লাজে॥ এতেক বচন শুনিয়া লোচন কহয়ে নাগরবরে। কি লাগি দাঁড়ায়্যা নাগর আছে হে চল না আপন ঘরে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি লাগি দাঁড়ায়্যা আছ হে নাগর না বুঝি তোমার কাজ। না জানি সে ধনী কত বা খুঁজিছে সকল নগর মাঝ॥ কাহার সহিতে পরম পিরীতে রজনী বঞ্চিয়াছিলা। না বুঝি চরিত উঠিয়া প্রভাতে এথাতে কি কাজে আইলা॥ তুরিতে চলহ বিলম্ব না কর না রহ আমার কাছে। আমার আঙ্গনে দেখিলে সে জনে তোমারে হইবে লাজে॥ এতেক বচন শুনিয়া লোচন কহয়ে নাগরবরে। কি লাগি দাঁড়ায়্যা নাগর আছে হে চল না আপন ঘরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
