| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| চাদা চাদা চাদা গগন উপরে ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ চাদা চাদা চাদা গগন উপরে কে পাড়ি আনিয়া দিব। কলঙ্ক মুছিয়া মোর গোরাচাঁদের কপালে চিৎ লিখিব॥ লুও লুও লুও আয় আয় আয় সোণার নিমাই নিদে কাঁদে। আকটী করিতে একটী বোল যেন আসিয়া অধিক লাগে॥ এখনি আসিব নিমাইর বাপ ক্ষীর কদলক লঞা। হের আসিতেছে দুরন্ত হাই নিদে আঁখি বিজিঞা॥ নেতের তুলি পাটের গোলাপ তাতে রচিয়া শয্যাখানি। তাপাতি যাইয়া কোলে পুত্র লৈঞা শুতিলা শচী ঠাকুরাণী॥ এক স্তন মুখে রাখি চাখে অঙ্গুলি নাড়ায় আর। লোচন বলে সব-দেবশিরোমণি বালকরূপে ব্যবহার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ আসি যত নৈদাবাসী ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ - দশকুশি॥ দেখ দেখ আসি যত নৈদাবাসী, আমার গৌরাচাঁদে। বিহানে উঠিয়া অঞ্চলে ধরিয়া ননী দে বলিয়া কাঁদে॥ নহি গোয়ালিনী কোথা পাব ননী একি বিষম হৈল মোরে। শুনেছি পুরাণে নন্দের ভবনে সেই সে আমার ঘরে॥ এ কি অদ্ভুত অতি বিপরীত আমার গৌরাঙ্গ রায়। আঙ্গিনায় দাঁড়াঞা ত্রিভঙ্গ হইয়া মধুর মুরলী বায়॥ আর এক দিনে খেলে শিশু সনে নয়নে গলয়ে লোর। কহয়ে লোচনে, শচীর ভবনে, বাসনা পূরল মোর॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ দেখ দেখ আসি যত নৈদাবাসী আমার গৌরাঙ্গ চাঁদে। প্রভাতে উঠিয়া অঞ্চল ধরিয়া ননী দে বলিয়া কাঁদে॥ নহি গোয়ালিনী কোথা পাব ননী একি বিষম হৈল মোরে। শুনেছি পুরাণে নন্দের ভবনে সেই সে আমার ঘরে॥ একি অদভুত অতি বিপরীত আমার গৌরাঙ্গ রায়। আঙ্গিনায় দাঁড়াঞা হইয়া ত্রিভঙ্গ মধুর মুরলী বায়॥ আর এক দিন খেলে শিশুগণে, নয়নে গলয়ে লোর। কহয়ে লোচনে, শচীর অঙ্গনে, বাসনা পূরল মোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কে কে আগে যাইবে গো ভণিতা লোচন দাস কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ কে কে আগে যাইবে গো গোরাগুণ গাইবে গো চল যাই পানি সহিবারে। হিয়া উথলে আনন্দ-হিলোলে চিত কেবা পারে ধরিবারে॥ কেহ পট্টবাসিনী কেহ পীতবাসে। ঢুলিতে ঢুলিতে যাব গোরা অঙ্গের বাতাসে॥ শচীরে করিয়া আগে যাব পাছে পাছে। আসিতে যাইতে দাণ্ডাইব গোরা কাছে॥ সুগন্ধি চন্দ্নমালা ঢাকি লেহ করে। গোরা অঙ্গ পরশ করিব সেই ছলে॥ কর্পূর তাম্বূল লহ যত্ন করি তাতে। করে কর ধরি গোরার দিব হাতে হাতে॥ আয়ো আয়ো মিলি করে কৌতুক রঙ্গ সে। পানি সহিবার কথা গায় লোচন দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হর্ষমনে বিশ্বম্ভর গেল পণ্ডিতের ঘর ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ হর্ষমনে বিশ্বম্ভর গেল পণ্ডিতের ঘর সনাতন আনন্দে অধীর। পাদ্য অর্ঘ্য লঞা করে গেলা বর আনিবারে ধন্য ধন্য শচীর কোঙর॥ তবে পাদ্য অর্ঘ্য দিয়া বিশ্বম্ভর থুইল লঞা দাণ্ডাইয়া ছাওনার ভিতর। সর্ব্বলোকে হরি বোলে শত শত দীপ জ্বলে তাহে জিনে গোরা কলেবর॥ উলসিত আয়োগণ হুলাহুলি ঘন ঘন শঙ্খ দুন্দুভি বাদ্য বাজে। আয়ো আয়োগণ মিলি সবে পাট শাটী পরি প্রভু প্রদক্ষিণ হেতু সাজে॥ নির্ম্মঞ্ছন সজ্জ করে আয়োগণ আগুসারে আগুসরি কন্যার জননী। তার ভূমেতে না পড়ে পা উলসিত সব গা দেখি বিশ্বম্ভর গুণমণি॥ একে আয়োরূপ জ্বলে রতন-প্রদীপ করে তাহে প্রভু-অঙ্গের কিরণে। সেই শ্রীঅঙ্গগন্ধে আয়োজন উন্মাদে হিয়া রাখে অনেক যতনে॥ সাত প্রদক্ষিণ হৈয়া বিশ্বম্ভর উরথিয়া দধি ঢালে চরণ উপরে। ঘরে চলিবার বেলে গৌরমুখ নেহালে এ লোচন পালটিতে নারে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি খেনে দেখিলুঁ গোরা নবীন কামের কোঁড়া কবি লক্ষ্মীকান্ত দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ (১৯৩১), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ-প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ১১৭। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৭২-পৃষ্ঠায় পদটি একই রূপে তোলা রয়েছে। পূর্ব্বরাগঃ শ্রীগৌরচন্দ্রঃ। ॥ কামোদ॥ কি খেনে দেখিলুঁ গোরা নবীন কামের কোঁড়া সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে। কত না করিব ছল কত না ভরিব জল কত যাব সুরধুনী-তীরে॥ বিধি তু বিনু বলিতে কেহ নাই। যত গুরু-গরবিত গঞ্জন-বচন কত ফুকরি কাঁদিতে নাহি ঠাঁই॥ ধ্রু॥ অরুণ নয়ানের কোণে চাঞাছিল আমা পানে পরাণে বরশি দিয়া টানে। কুলের ধরম মোর ছারে খারে যাউক গো কি জানি কি হবে পরিণামে॥ আপনা আপনি খাইলুঁ ঘরের বাহির হৈলুঁ শুনি খোল করতালের নাদ। লক্ষ্মীকান্ত দাস কয় মরমে যার লাগয় কি করিবে কুল পরিবাদ॥ এই পদটিই নিমানন্দদাস সংকলিত পদরসসার ও ১৮০৭ সালে কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর পুথিতে, পদকল্পতরুর ভণিতার অন্তিম পঙ্ক্তিদ্বয়ের স্থলে লোচনদাসের ভণিতাযুক্ত পঙ্ক্তি পাওয়া গিয়েছে। কি খেনে দেখিলুঁ গোরা নবীন কামের কোঁড়া সেই হৈতে রৈতে নারি ঘরে। কত না করিব ছল কত না ভরিব জল কত যাব সুরধুনী-তীরে॥ বিধি তু বিনু বলিতে কেহ নাই। যত গুরু-গরবিত গঞ্জন-বচন কত ফুকরি কাঁদিতে নাহি ঠাঁই॥ ধ্রু॥ অরুণ নয়ানের কোণে চাঞাছিল আমা পানে পরাণে বরশি দিয়া টানে। কুলের ধরম মোর ছারে খারে যাউক গো কি জানি কি হবে পরিণামে॥ আপনা আপনি খাইলুঁ ঘরের বাহির হৈলুঁ শুনি খোল করতালের নাদ। যখন দেখিলুঁ নাট তখনি ভুলিলাম বাট লোচন কহয়ে পরমাদ॥ এই ভণিতার রদ-বদল সম্বন্ধে পদকল্পতরুতে দেওয়া উদ্ধৃতি এখানে আমরা তুলে দিচ্ছি . . . “সহৃদয় পাঠক সহজেই বুঝিবেন যে, লক্ষ্মীকান্তের গভীর মনস্তত্ত্বসূচক উত্কৃষ্ট ভণিতার পরিবর্ত্তে অপর ভণিতাটা নিতান্তই খাপছাড়া মনে হয়। লোচনদাসের গোঁড়া ভক্ত কোন গায়ক বা লিপিকর,---এরূপ সুন্দর পদ অন্যের রচিত হইতে পারে না বিবেচনায়ই বোধ হয়, উহাতে লোচনের ভণিতা সংযুক্ত করিয়া গিয়াছেন ; কিন্তু রচনার অপরিপক্কতা ও অসামঞ্জস্যেই সেই জোড়া-তালী ধরা পড়িয়া গিয়াছে।” ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |