| কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| দেখ নবদ্বিপে জাহ্নবী সমীপে ভণিতা রাধামোহন কবি রাধামোহন ঠাকুর এই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধাকুণ্ডে ঝুলন। শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ জয়জয়ন্তী - দশকুশী॥ দেখ নবদ্বিপে জাহ্নবী সমীপে ঝুলে গোরা দ্বিজমণি। শ্রীহরি কীর্ত্তন করে প্রিয়গণ খোল করতাল ধ্বনি॥ বরিষা সময় অতি সুখময় চৌদিগে মেঘের ঘটা। তার প্রতিবিম্ব রূপে গৌর অঙ্গ ভৈগেল শ্যামল ছটা॥ ভেল শ্যাম কায় ঝুলয়ে লীলায় নন্দের নন্দন জনু। বেণু বিনু কর শোভে মনোহর কুসুমে ভূষিত তনু॥ পারিষদগণ আনন্দে মগন শ্রীনন্দের নন্দন মানে। ঝুট নহে বাণী সেই এই জানি এ দাস লোচনে ভনে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নটবর নব কিশোর রায় ভনিতা লোচন দাস / বলরাম দাস এই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বলরামদাসের ভণিতাতেও পাওয়া গেছে। ॥ কল্যাণ - জপতাল॥ নটবর নব কিশোর রায়, . রহিয়া রহিয়া যায় গো। ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে, ধুলি ধুসর শ্যাম অঙ্গে, হৈ হৈ হৈ সঘনে বোলত, . মধুর মুরলী বায় গো॥ নীল কমল বদন চাঁদ, ভাঙুর ভঙ্গি মদন ফাঁদ, কুটিল অলকা তিলক ভাল, . কলিত ললিত তায় গো। চূড়া বরিহা গোকুলচন্দ্র, দোলত কিয়ে মন্দ মন্দ, মন মধুকর চয়ন চকোর, . হেরি নিকটে ধায় গো॥ পীত বসন এ মণিমাল, ঝলকে তরুণ তিমির-কাল, মলয়া জড়িত তড়িত-পুঞ্জ, . জলধরে কে মিশায় গো। নয়ান সঘনে উলটি উলটি, হেরি হেরি পালটি পালটি, গৌরী গৌরী থোরি থোরিস . আন নাহিক ভায় গো। অরুণ অধরে ইষত হাস, মধুর মধুর অমিয়া ভাষ, খঞ্জনবর গঞ্জন গতি, . বঙ্ক নয়নে চায় গো॥ রসের আবেশে অবশ দেহ, মন্থর গতি চলহি সেহ, দাস লোচন দেখয়ে অমনি, . হাসিয়া হাসিয়া চায় গো॥ এই পদটি বলরামদাসের ভণিতাতেও পাওয়া গেছে। এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নটবর নব কিশোর রায়, রহিয়া রহিয়া যায় গো। ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে, ধূলি ধূসর শ্যাম অঙ্গে হৈ হৈ হৈ ঘন যে বোলত, মধুর মুরলী বায় গো॥ নীল কমল বদন চান্দ, ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ কুটিল অলকা তিলক ভাল, কলিত ললিত তায় গো। চূড়ে বরিহা গোকুল চন্দ, কিবা পবন বয় মন্দ মন্দ মধুকর মন হয়ে বিভোর, নিরখি নিরখি ধায় গো॥ নয়ানে সঘনে উলটি উলটি, হেরি হেরি পালটি পালটি গোরী গোরী থোরি থোরি আন নাহিক ভায় গো। বলরাম দাস, করতহি আশ, রাখাল সঙ্গে সদাই বাস বেত্র মুরলী, লইয়ে খুরলি, সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥ ভিন্ন ভণিতাযুক্ত পাঠান্তর - এই পদটি ভণিতার অংশের পরিবর্তে এই দুই কলি বরাহনগর পাটবাড়ীর এক পুথিতে পাইয়াছি--- অরুণ অধরে ইষত হাস, মধুর মধুর অমিয়া ভাষ খঞ্জনবর গঞ্জন হতি, বঙ্ক নয়নে চায় গো। রসের আবেশে অবশ দেহ, মন্থর গতি চলহি সেহ দাস লোচন দেখয়ে অমনি, হাসিয়া হাসিয়া চায় গো॥ ---বিমান বিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মনমথ কোটি কোটি জিনিয়া গৌরাঙ্গতনু ভণিতা লোচনদাস কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ মনমথ কোটি কোটি জিনিয়া গৌরাঙ্গতনু সর্ব্ব অঙ্গে লাবণ্য অপার। অবিরত বদনে কি জহতহুঁ নরবধি নিরুপম নটন-সঞ্চার॥ মধুর গৌরাঙ্গরূপ ঝুরিয়া প্রাণ কাঁদে। নব গোরোচনা কান্তি ধূলায় লোটায় গো ক্ষিতিতলে পূর্ণিমার চাঁদে॥ ধ্রু॥ আজানুলম্বিত গোরার সুবাহু যুগল গো উভ করি রহে ক্ষণে ক্ষণে। জগমগ অরুণ কমল জিনি আঁখি গো কেন সদা রাধা রাধা ভণে॥ সোনার বরণখানি শোণকুসুম জিনি কেন বা কাজর সম ভেল। কহয়ে লোচনদাস না বুঝি গৌরাঙ্গরীত রহি গেল হৃদি মাঝে শেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হিয়ার মাঝারে গৌরাঙ্গ রাখিয়া বিরলে বসিয়া রব ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ হিয়ার মাঝারে গৌরাঙ্গ রাখিয়া বিরলে বসিয়া রব। মনে সাধে, এ মুখচাঁদে, নয়নে নয়নে থোব॥ শুনেছি পূরবে, গোকুল নগরে, নন্দের মন্দিরে যে। নবদ্বীপ আসি, হৈলা পরকাশি, শচীর মন্দিরে সে॥ লোচনের বাণী, শুন গো সজনি, কি আর বলিব তোরে। হেরিয়া বদন, ভুলে গেল মন, পাসরিতে নারি তারে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ হিয়ার মাঝারে গৌরাঙ্গ রাখিয়া বিরলে বসিয়া রব। মনের সাধে ও মুখ চাঁদে নয়নে নয়নে থোব॥ শুনেছি পূরবে গোকুল নগরে নন্দের মন্দিরে যে। নবদ্বীপে আসি হৈলা পরকাশি শচীর মন্দিরে সে॥ লোচনের বাণী শুন গো সজনি কি আর বলিব তোরে। হেরিয়া বদন ভুলে গেল মন পাসরিতে নারি তারে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |