কবি লোচনদাসের লোচন ও লোচনাদাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
শারদ চন্দ্রিকা স্বর্ণ ধিক্ চম্পকের বর্ণ
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

শারদচন্দ্রিকা স্বর্ণ                        ধিক্ চম্পকের বর্ণ
শোণ-কুসুম গোরোচনা।
হরিতাল সে কোন ছার                 বিকার সে মৃত্তিকার
সে কি গোরারূপের তুলনা॥
ধিক্ চন্দ্রকান্তমণি                        তার বর্ণ কিসে গণি
ফণি-মণি, সৌদামিনী আর।
ও সব প্রপঞ্চরূপ                              এপ্রপঞ্চ রসভূপ
তুলনা কি দিব আমি তার॥
যত দেখ বর্ণন                              অনুসারে উদ্দীপন
গৌররূপ বর্ণন কে করে।
জান না যে সেই গোরা                     ধরারূপে অঙ্গধরা
দরশে ধৈরজ দূর করে॥
শুন ওগো প্রাণ সই                          জগতে তুলনা কই
তবে সে তুলনা দিব কিসে।
জগতে তুলনা নাই                       যাঁর তুলনা তাঁর ঠাই
অমিয়া মিশাব কেন বিষে॥
কেবা তার গুণ গায়                      গুণের কে ওর পায়
কেবা করে রূপ নিরুপণ।
রূপ নিরূপিতে নারে                    গুণ কে কহিতে পারে
ভাবিয়া বাউল হৈল মন॥
পক্ষী যেন আকাশের                       কিছুই না পায় টের
যত দূর শক্তি উড়ি য়ায়।
সেইরূপ গৌরাঙ্গের                        রূপের না পায় টের
অনুসারে এ লোচন গায়॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ীগৌরী - তেওট॥

শারদ চন্দ্রিকা স্বর্ণ, ধিক্ চম্পকের বর্ণ,         
.                                        শোণ কুসুম গোরোচনা।
হরিতাল সে কোন্ ছার বিকার সে মৃত্তিকার,   
.                                        সে কি গোরারূপের তুলনা॥
ধিক্ চন্দ্রকান্ত মণি, তার বর্ণ কিসে গণি,        
.                                        ফণীমণি সৌদামিনী আর।
ও সব প্রপঞ্চরূপ, (এ) অপ্রপঞ্চ রসভূপ,        
.                                        কি দিব তুলনা আমি তার॥
যত দেখ বর্ণন, অনুসারে উদ্দীপন,             
.                                        গোরারূপ বর্ণন কে করে।
জান না যে সেই গোরা, ধরা রূপে অঙ্গ ধরা,   
.                                        দরশে ধৈরজ দূর করে॥
শুন ওগো প্রাণ সই, জগতে তুলনা কই,         
.                                        তবে সে তুলনা দিব কিসে।
জগতে তুলনা নাই, যাঁর তুলনা তাঁর ঠাই,     
.                                        অমিয়া মিশাব কেন বিষে॥
কেবা তার গুণ গায়, গুণের কে ওর পায়,     
.                                        কেবা করে রূপ নিরূপণ।
রূপ নিরূপিতে নারে, গুণ কে বর্ণিতে পারে,   
.                                        ভাবিয়া বাউল হইল মন॥
পক্ষী যেন আকাশের, কিছুই না পায় টের,     
.                                        যত দূর শক্তি উড়ি য়ায়।
সেইরূপ গৌরাঙ্গের, রূপের না পায় টের,     
.                                        অনুসারে এ লোচন গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আনন্দ নদীয়াপুরে টলমল প্রেম ভরে
ভণিতা লোচন দাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

আনন্দ নদীয়াপুরে                          টলমল প্রেম ভরে
শচীর দুলাল গোরা নাচে।
জয় জয় মঙ্গলবার                        দেখি শুনি চমকল
মদন-মোহন নটরাজে॥
অরুণ কমল-আঁখি                        তারকা ভ্রমর পাখী
ডুবু ডিবি করুণা-মকরন্দে।
বদন পূর্ণিমাচাঁদে                        ছটা হেরি প্রাণ কাঁদে
কত মধু মাধুর্য্যানুবন্ধে॥
পুলক ভরল গায়                        ঘর্ম্ম বিন্দু বিন্দু তায়
লোমচক্র সোণার কদম্বে।
প্রেমের আরম্ভে তনু                    যেন প্রভাতের ভানু
আধবাণী কহে কম্বুগ্রীবে॥
শ্রীপদকমলগন্ধে                            বেড়ি দশনখ-চাঁদে
উপরে কনক-বক্ষ রাজে।
যখন ভাতিয়া চলে                       বিজুলী ঝলমল করে
চমকিত অমর সমাজে॥
সপ্তদ্বীপ মহী মাঝে                       তাহে নবদ্বীপ সাজে
তাহে নব প্রেমের প্রকাশে।
তাহে নব গৌরহরি                       নাম সংকীর্ত্তন করি
আনন্দিত এ ভূমি আকাশে॥
সিংহের শাবক যেন                          সুগভীর গর্জ্জন
প্রেমসিন্ধু-হুহ্কার হিল্লোলে।
হরি হরি বোল বলে                      জগত পড়িল ভোলে
কুলবধূ খাইল দু কুলে॥
কি দিব উপমা তার                        বিগ্রহে করুণাসার
হেন রূপ মোর গৌররায়।
প্রেমায় নদীয়ার লোকে                  দিবা নিশি নাহি দেখে
আনন্দে লোচনদাস গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
(হেঁই গো হেঁই গো) সই তোরে বিরল পেয়ে কই
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

(হেঁই গো হেঁই গো) সই তোরে বিরল পেয়ে কই।
স্বপনে শচীর গোরা দেখিলাম শুই॥
গলা আলা মালতীমালা সরু পৈতা কাঁধে।
অমিয়া পারা কত ধারা বইছে মুখচাঁদে॥
হাসি হাসি কাছে আসি, গলায় দেয় মালা।
তার কাজ কৈতে লাজ, কত জানে ছলা॥
আপন বাসে, মুখানি মোছে, চেয়ে থাকে পুন।
হাতে ধরে আদর কৈরে, মনের মত যেন॥
গোরাপ্রেম যেন হেম পাসরিতে নারি।
লোচন বলে বস্ বিরলে, আয় দুখে মরি॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হের আয় গো মনের কথা বিরল পেয়ে কই
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

হের আয় গো মনের কথা বিরল পেয়ে কই।
শচীর রায়, বিকাল বেলায়, দেখে এলাম সই॥
চন্দন মাখা চাঁদে ও সই! চন্দ্ন মাখা চাঁদে।
কপালে চন্দনফোঁটা মন বাঁধিবার ফাঁদে॥
ভরম সরম করি অম্ নি আপনা সম্বরি।
দীঘল আঁখি, দেখে সখি, আর কি আস্ তে পারি॥
গৌররূপ দেখে হৃদে হইয়া উল্লাস।
আনন্দ-হৃদয়ে কহে এ লোচন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুখ ঝলমল বদন-কমল দীঘল আঁখি দুটি
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

মুখ ঝলমল, বদন-কমল, দীঘল আঁখি দুটি।
দেখে লাজে, মনঃখেদে, খঞ্জন কোটি কোটি॥
চরণতলে, অরুণ খেলে, কমল শোভে তায়।
চলে চলে, ঢসে ঢলে, পড়ছে সবার গায়॥
আমা পানে, নয়নকোণে, চাইল একবার।
মন-হরিণী বাঁধা গেল, ভুরুপাশে তার॥
গৌররূপ, রসের কূপ, সহজেই এত।
কর্ লে কলা, রসের ছলা, তবে হয় কত॥
যদি বাঁধে, বিনোদ ছাঁদে চাঁচর চিকণ চুল।
তবে সতী, কুলবতী, রাখতে নারে কুল॥
যারে ডাকে, নয়ন বাঁকে, তার কি রহে মান।
যদি যাচে, তবে কি বাঁচে, রসবতীর প্রাণ॥
যদি হাসে, কতই আসে, রাশি রাশি হীরে।
নয়ন মন, প্রাণধন, কে নিবি আয় ফিরে॥
গলায় মালা বাহু দোলা দিয়া চলে যায়।
কামের রতি, ছেড়ে পতি, ভজে গোরার পায়॥
কঠের তপ করে জপ, কত জন্ম ফিরে।
হিয়ায় থুয়ে, পরাণ দিয়ে, দেখি নয়ন ভরে॥
লোচন বলে, ভাবিস্ কেন, থাক্ আপনার ঘর।
হিয়ার মাঝে, গোরার নাগর, আটক করে ধর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিরবধি গোরারূপ মোর মনে জাগিয়াছে গো
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

নিরবধি গোরারূপ                (মোর) মনে জাগিয়াছে গো
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরারূপ                      বিদরিয়া যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
সখি হে কি বুদ্ধি করিব।
গৃহ-পতি-গুরুজনে                          ভয় নাই মোর মনে
গোরা লাগি প্রাণ তেয়াগিব॥ ধ্রু॥
সব সুখ তেয়াগিব                        কুলে তিলাঞ্জলি দিব
গোরা বিনু আর নাহি ভায়।
নিঝোরে ঝরয়ে আঁখি                        শুন হে মরম সখি
লোচন দাস কি বলিব তায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দশকুশী॥

নিরবধি গোরা-রূপ                মোর মনে লাগিয়াছে
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরা-রূপ                 বিদরিয়া যায় বুক
পরাণ বাহির হইতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজনে                     ভয় নাই মোর মনে
গোরা লাগি প্রাণ তেয়াগিব॥ ধ্রু॥
সব সুখ তেয়াগিব                    কুলে তিলাঞ্জলি দিব
গোরা বিনে আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি                     শুন হে মরম সখি
লোচন দাস কি বলিব তায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবদ্বীপনাগরী আগরি গোরারসে
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

নবদ্বীপনাগরী আগরি গোরারসে।
রহিতে গৌরাঙ্গকথা প্রেমজলে ভাসে॥
বাবভরে ভাবিনী পুলকভরে ভোরা।
শ্রবণে নয়নে মনে গোরা গোরা গোরা॥
গোরা-রূপগুণ-অবতংস পরে কাণে।
দিবানিশি গোরা বিনা আর নাহি জানে॥
গোরোচনা নিবিড় করিয়া মাখে গায়।
যতন করিয়া গোরানাম লেখে তায়॥
গোরোচনা হরিদ্রার পুতলী করিয়া।
পূজয়ে চক্ষের জলে প্রাণফুল দিয়া॥
প্রেমনেত্রে প্রেমজল ঝোরে দু নয়নে।
তায় অভিসিঞ্চে গোরার রাঙ্গা দু চরণে॥
পীরিতি নৈবেদ্য তাহে বচন তাম্বুল।
পরিচর্য্যা করে ভাব সময় অনুকুল॥
অঙ্গকান্তি-প্রদীপে করয়ে আরাত্রিকে।
কঞ্কণশবদে ঘন্টা আনন্দ অধিকে॥
অঙ্গগন্ধ ধূপ ধুনা রহে অনুরাগে।
পূজা করি দরশ-পরশ-রস মাগে॥
গিনে দিনে অনুরাগ বাড়িতে লাগিল।
লোচন বলে এত দিনে জ্ঞানশেল গেল॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরাপদে সুধাহ্রদে মন ডুবায়ে থাকি
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গোরাপদে, সুধাহ্রদে, মন ডুবায়ে থাকি।
কপাট খুলে, নয়ন মেলে, গোরাচাঁদে দেখি॥
আই গো মাই।
এমন গোরা, রসে ভোরা, কোথাও দেখি নাই॥ ধ্রু॥
নৈদে মাঝে, ভক্ত সাজে, আইল রসের বেশে।
রাধারূপে মাখা গোরা, ভাল ভুলাচ্ছে রসে॥
রূপের ছটা, বিজুরী বাটা, রূপে ভুবন ভোলে।
গোরারূপ, ভুবন-ভূপ, পাশরা যে নারে॥
ধীর শান্ত, রসে দান্ত, হেরলে নয়ন কোণে।
লোচন বলে, কুতূহলে, গোরা ভাব মনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রজনী জাগিয়া গোরা থাকে
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

রজনী জাগিয়া গোরা থাকে। হা নাথ হা নাথ বলি ডাকে॥
প্রভাতে উঠিয়া গোরা রায়। চঞ্চল নয়ানে সদা চায়॥
নমিত বদনে মহী লেখে। আঁখিজলে কিছুই না দেখে॥
লোচন কহে এই রস গূঢ়। বঝয়ে রসিকজন না বুঝয়ে মূঢ়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রাণ কিয়া ভেল বলি
ভণিতা লোচন দাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

প্রাণ কিয়া ভেল বলি                  কাঁদিতে গৌরাঙ্গ পহুঁ
নয়ান বহিয়া পড়ে ধারা।
দিবা নিশি অবশ অঙ্গ                   অরুণ আঁখিয়া গো
ছল ছল জল চিরবিরহিণী পারা॥
সখি হে না বুঝিয়ে কি রস রাধার।
বিনোদ নাগর গোরা                     ধূলা বেশ মাখে গো
চন্দন মাখা গায়ে আর॥ ধ্রু॥
পূরুবের ভাব গোরা                        বিলসই নিরবধি
তাহা বিনু আন নাহি ভায়।
সূক্ষ্ম পট্ট পরিহরি                     এ ডোর কৌপীন পরি
অকিঞ্চন বেশে গোরা রায়॥
ত্যজিয়া সকল সুখে                   বিরলে বসিয়া থাকে
ঘন ঘন ছাড়য়ে নিশ্বাস।
এ হেন গৌরাঙ্গ রীকি                        বুঝই না পারই
ঝুরত এ লোচন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর