কবি লোচনদাস ঠাকুর ও লোচনানন্দ ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
গোরা পহুঁ অদ্বৈতমন্দির ছাড়ি চলে
ভণিতা লোচনানন্দ
কবি লোচন দাস
এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ ভবন্ বিরহঃ।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ পাহিড়া রাগ॥

গোরা পহুঁ অদ্বৈতমন্দির ছাড়ি চলে।
কান্দে শান্তিপুরনাথ                        শিরে দিঞা দুটি হাথ
লোটাঞা লোটাঞা ভূমিতলে॥
অদ্বৈতঘরণী কান্দে                          কেশপাশ নাহি বান্ধে
হা নাথ বলিঞা উচ্চস্বরে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                           আপন কীর্ত্তন রঙ্গে
কে আর নাচিবে মোর ঘরে॥
অনেক দিবস পরে                            অবধৌত বিশ্বম্ভরে
নানারূপে করিলা বিহারে।
এবে সেই দুটি ভাই                       কি দোষে ছাড়িয়া যাই
শান্তিপুর করিয়া আন্ধারে॥
নদিয়ানিবাসী যত                          কান্দে তারা অবিরত
হা হা বলি লোটায় ভূমিতলে।
লোচনানন্দ ভণ                                   গোকুল হই যেন
তেমতি হইল শান্তিপুরে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোন দেশে ছিলা আগো মাগো
ভণিতা লোচন
কবি শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুর
এই পদটি রামগোপাল দাস (গোপাল দাস) দ্বারা ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
"শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে লোচন ভণিতার কবিকে
শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুর নামে উল্লেখ করা রয়েছে।

অথ দূতী
তত্র পদং শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুর---

কোন দেশে ছিলা আগো মাগো।
কালা বোল বুঝিতে                    তোমার মুখে পড়িত লালা
এবে কোন কাজে নাহি লাগো॥
কুলোর বৌহারি মোরা                         বাড়ির বাহির নহি
কালা দেখিতে তিন বেলা।
আচট ঘুমের বেলে                         স্বামীর সিজের কোলে
সপনে উঠিয়া দেখি কালা॥
পাকের পুখরে তুমি                              পরকে নামাঞাছ
পাখানি তোমার নাহি তিঁতে।
লোচন বোলেন দিদি                        ঐ দুঃখে কান্দি আমি
উচিত বুঝাও তুমি চিতে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুমধুর কণ্ঠস্বর তাহে যুক্ত বীণাবর
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।

সুমধুর কণ্ঠস্বর,                        তাহে যুক্ত বীণারব,
মৃদঙ্গ বেণুর গাত যাথে।
তার মধ্যে নাচে হরি,                  ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা করি,
গোগীগণ চিত্ত আহ্লাদিতে॥
অধরের ঈষৎ হাস,                        দশদিক পরকাশ,
অরুণ কমল দুটি আঁখি।
অলকা আবৃত ভাল,                      যেমত নক্ষত্র জাল,
তার সহ মুখশশী দেখি॥
চূড়ায় ময়ূরের পাথা,                 তাহে শোভে ইন্দুরেখা,
চূড়া বেড়া নানা ফুলদাম।
শ্রবণে কুণ্ডল দোলে,                      গলে মুকুতার মালে,
বল্লীজিত তনু অনুপম॥
নব নব সখী মেলি,                        দেই সবে করতালি,
নূপুরের পঞ্চম স্বর গায়।
এমত মুরারি নৃত্য,                        ত্রিজগৎ আহ্লাদিত,
লোচন দেখিবে কবে তায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এক দিন গোপীগণ হেরি কৃষ্ণ-সুবদন
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।

এক দিন গোপীগণ,                        হেরি কৃষ্ণ-সুবদন,
প্রেমাবেশে কহে হাসি হাসি।
কি দেখিনু ওমা রূপ,                     অমিয়া রসের কূপ,
মুখ নহে শরদের শশী॥
কে বলে চঞ্চল আখি,                     আখি নহে পদ্ম সখি,
ভাসি গেল লাবণ্য সলিলে।
হেন মোর মনে লয়,                        জগৎ করিয়া জয়,
অনঙ্গের গুণ শ্রুতিমূলে।
হেরিয়া নয়ন কোণে,                        নানা ভয় হয় মনে,
প্রেমেতে প্রলাপময় বাদ॥
গোপিকার ভ্রম যত,                      ভক্তে দিতে শুভ শত,
লোচনের পরম আহ্লাদ॥
কেহ বলে শুন সখি,                        চাঁদে নানা গুণ দেখি,
এ চাঁদে সে সব গুণ কোথা।
হাসি কহে আর জন,                        না ভাবিহ অন্য মন,
সেই গুণে পূর্ণচন্দ্র হেথা॥
দেখিয়া ব্রজেন্দ্র ইন্দু,                         উথলয়ে প্রেমসিন্ধু।
গোপিকার জানিহ নিশ্চয়।
মুনির কুমুদ-চিত,                         যে বা করে প্রফুল্লিত,
সেই চন্দ্র ব্রজেতে উদয়॥
অসুরাদি চত্রবাক,                        চাঁদে হেরি পায় শোক,
দুঃখ পাইয়া চাঁদে নিন্দা করে।
জগৎ উজ্জ্বল কর,                             মুখচ্ছলে শশধর,
মনের তিমির করে দূরে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভজহুঁ নন্দকি নন্দনা
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।

ভজহুঁ নন্দকি নন্দনা।
মলয়জ পবনে,                        চলিত শিখি চন্দ্রক,
চাঁদ মুরছে হেরি বদনা॥
অলকা আবৃতহার,                       তিলক মনোহর,
ঝলমল বদন উজোর।
মকরাকৃতি কুণ্ডল,                        শ্রবণহি লোলত,
দোলত থোরহি থোর॥
কুটিল দৃগঞ্চল,                            মদন কুসুম শর,
ভালে শোভিত ভাঁউ কামান।
কুলবতী মরমে,                        ভরমে যদি পৈঠই,
তব কিয়ে রহই পরাণ॥
মধুর মনোহর,                            রসভরে ঢর ঢর,
মুরছিত কত শত কাম।
লোচন দাস ভণ,                            ব্রদ-কুল নন্দন,
নিখিল ভুবন গুণধাম॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যুবতী মনোহর ওনা বেশ গো
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।

যুবতী মনোহর ওনা বেশ গো।
অবনী মণ্ডলে সখি,                        চাঁদের উদয় যেন,
সুধাময় রূপের বিশেষ গো॥ ধ্রু॥
চূড়ার উপরে শোভে,                      নানা ফুলদাম গো,
তাহে উড়ে ময়ূরের পাখা।
যেন চাঁদের উপরে চাঁদ,                    উদয় করিল গো,
ললাটে চন্দন বিন্দুরেখা॥
সঘনে দোলায় কানে,                        মকরকুণ্ডল গো,
কুলবতীর কুল মজাইতে।
উহার নয়ন কুসুম-শর,                    মরমে পশিল গো,
ধৈরজ ধরিতে নারি চিতে॥
এমন সুন্দর রূপ,                        কোথা হতে এল গো,
মনোভব ভুলিল দেখিয়া।
লোচন মজিল সই,                        ওরূপ সাগরে গো,
কিবা সে নাগর বিনোদিয়া॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুবতী মনোহর ওনা বেশ গো।
অবনীমণ্ডলে সখি                        চাঁদের উদয় যেন
সুধাময় রূপের বিশেষ গো॥
চূড়ার উপরে শোভে                     নানা ফুলদাম গো
তাহে উড়ে ময়ূরের পাখা।
যেন চাঁদের উপরে চাঁদ                    উদয় করিল গো
ললাটে চন্দনবিন্দু রেখা॥
সঘনে দোলায় বামে                        মকর কুণ্ডল গো
কুলবতীর কুল মজাইতে।
উহার নয়ন কুসুমশর                     মরমে পশিল গো
ধৈরজ ধরিতে নারে চিতে॥
এমন সুন্দর রূপ                        কোথা হতে এল গো
মনোভব ভুলিল দেখিয়া।
লোচন মজিল সই                        ও রূপ-সাগরে গো
কি বা সে নাগর বিনোদিয়া॥


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুধাময় বৃন্দাবন ভুবনের সার
ভণিতাহীন পদ
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের,
রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত
বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক,
১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।

সুধাময় বৃন্দাবন ভুবনের সার।
নয়ন ভরিয়া সখে দেখ একবার॥
দেখিয়া তোমার রূপ ভাবের আবেশে।
ফুল ফল ছলে মোর বৃন্দাবন হাসে॥
দেখিতে তোমার সনে মনে করে সাধ।
মলয় পবন ছলে করে উচ্চনাদ॥
চঞ্চল পল্লব-করে ডাকে বারে বারে।
নৃত্য করিবারে বলে কোকিলের স্বরে॥
নিখিল ভুবন সার বিপিন আমার।
নয়ন ভরিয়া সখে দেখ একবার॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি কেও নাগর রসের সাগর
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।
॥ মালব শ্রীরাগ॥

শ্রীরাধা। সখি কেও নাগর,                        রসের সাগর,                
দাঁড়ায়ে অশোক মূলে।
সেরূপ লহরী,                        লাবণ্য মাধুরী,
হেরিয়া নয়ন ভুলে॥
নীল উত্পল-                        দল সুকোমল,
জিনিয়া বরণ শোভা।
দলিত কাঞ্চন,                        জিনিয়া বসন,
কুলবতী মনোলোভা॥
নব নব মালা,                      শশিষোল-কলা,
গাঁথিয়া দিয়াছে গলে।
হাসির হিল্লোলে,                   নাসিকার তলে,
সঘনে মুকুতা দোলে॥
চঞ্চল নয়ান,                         কামের সন্ধান,
যাহার মরমে হানে।
তাহার ভরম,                          ধরম সরম,
সব দূরে যায় মেনে॥
শ্রবণে কুণ্ডল,                        করে ঝলমল,
সঘনে কম্পিত চূড়ে।
তাহার উপরি,                       ভ্রমরা ভ্রমরী,
মধুলোভে বেসে উড়ে॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া,                     করে বেণু লঞা,
মধুর মধুর বায়।
লোচন বচন,                        ভূবন মোহন,
সেই শ্যামচাঁদ রায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এ কথা শুনিয়া হাসিয়া হাসিয়া
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুরের পদ।
॥ ধানশ্রী রাগ॥

মদ। এ কথা শুনিয়া                        হাসিয়া হাসিয়া,      
মদনিকা কয় বাণী।
যার গুণাগুণ,                          তোমার সদন,
সতত বলিত ধনি॥
সেই সে নাগর,                          রূপের সাগর,
নয়নে দেখিলে এবে।
দেখ নয়ন ভরি,                        ও রূপ মাধুরী,
সব দুঃখ দূরে যাবে॥
সেই সে নাগর,                            রসের সাগর,
এ বটি কলপ-শাখী।
এ তরুর ডালে,                        বৈসে কুতূহলে,
যুবতী-হৃদয়-পাখী॥
এই নটবর,                               পরম সুন্দর,
কিবা সে সাক্ষাৎ কাম।
কিবা রসময়,                          কি মাধুরী হয়,
কিবা সে গুণের ধাম॥
ওরূপ মধুর,                            নয়নে যাহার,
লাগয়ে পরাণ লখি।
সেই নারীগণ,                            নীবির বন্ধন,
সহজে শিথিল দেখি॥
হৃদয়ে যাহার,                          লাগে একবার,
তার কুল শীল নাশে।
সে রূপ তরঙ্গে,                           মগন হইয়া,
লোচন প্রেমেতে ভাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অতুল রূপের রাই তুলনা দিবার নাই
ভণিতা দাস লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ।

মদ। অতুল রূপের রাই                    তুলনা দিবার নাই,      
নিখিল ভুবনে নাহি সীমা।
হেন বস্তু ত্রিভুবনে,                  নাহি কৈল বিসৃজনে,
এ কূপের কি দিব উপমা॥
কিন্তু শুভক্ষণ জাত,                 পদ্ম আর নিশানাথ,
সেই এই মুখ তুল্য নয়।
তা বিনা তুলনা স্থান,                  নাহি আর বর্ত্তমান,
এই হেতু শুভ অতিশয়॥
এতেক বিচারি কৃষ্ণ,                        হইলেন সতৃষ্ণ,
প্রেম জলে বহে দুনয়নে।
ভাবে অঙ্গ গদ গদ,                    অশ্রুকম্প সবিষাদ,
এ দাস লোচনে রস ভণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর