| কবি লোচনদাস ঠাকুর ও লোচনানন্দ ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সখি! কি কব সে সব কথা ভণিতা দাস লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ। সখি! কি কব সে সব কথা। রাধার অন্তর, হয় জর জর, পাইয়া সে সব-ব্যথা॥ ধ্রু॥ সেই সে অবলা, বৃষভানু বালা, কখন না জানে দুখ। তার দুখ দেখি, শুন প্রাণ-সখি, বিদরে আমার বুক॥ না করে আদর, হেরি শশধর, দেখিলে মুদয়ে আঁখি। শুনি পিকবাণী, কর্ণে দিয়া পাণি, ছল করি রোধে দেখি॥ সখীর বচনে, থাকে অন্য মনে, ডাকিলে না কয় কথা। উত্তরে উত্তর, কহে কথান্তর, চিত আরোপিত তথা॥ অতএব শুন, মদন-বেদন, জানিলাম অনুমানে। তার দুঃখ দেখি, প্রাণ কাঁদে সখি, এ দাস লোচন ভণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি কহব রে সখি মনসিজ বাধা ভণিতা লোচন দাস কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ। ॥ কর্ণাট রাগ॥ কি কহব রে সখি মনসিজ বাধা। নব নব ভাব-ভরে তনু পুলকিত শিব শিব জপতহি রাধা॥ ধ্রু॥ শীতল চন্দন পরসে সমাকুল পিকরুতে শ্রবণহি ঝাপ। মলয় সমীর পরশে হই জর জর থর থর নিশি দিশি কাঁপ॥ অলিকুল গান শুনই বর নাগরী উথলত মদন বিকার। গুরু পরিবাদ গোপত লাগি নাগরী রচয়তি বালক বিহার॥ নয়ন যুগলে গলে বারি নিরন্তর ঝমরু বদন সরোজে। তিমির তিরোহিত নিভৃত নিকেতনে চিন্তই ব্রজকুল রাজে॥ রাইক বদন বেদন হেরি সুন্দরি ফাটত হৃদয় হামারি। পামরী লোচন দাস মরি যায়ব সো দুখ সহই না পারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আর নিবেদন চন্দ্রাসখি শুন ভণিতাহান পদ কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ। ॥ তোড়ী রাগ॥ আর নিবেদন চন্দ্রাসখি শুন পুরাও মোর মন-কাম। শয়ন মন্দিরে, আনহ সত্বরে, প্রফুল্ল নলিনীদাম॥ ধ্রু॥ গোপত করিয়া, শেয বিছাইয়া, দেহ না সুন্দরি মোরে। যেন অন্যজনে, না হেরে নয়নে, বিরলে বলিল তোরে॥ মন্দির নাঝারে, মলয়জ নীরে, সেচন করলো ধনি। না কর বিলম্ব, কুসুম কদম্ব, শীঘ্র দেহ মোরে আনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি তেজ হাস পরিহাস ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ। ॥ সামগুজ্জরী রাগ॥ সখি তেজ হাস পরিহাস। যদি এ বচন, শুনে সখাগণ, মোর হরে সর্ব্বনাশ॥ ধ্রু॥ অহে শশিমুখি, জিজ্ঞাসহ দেখি, ব্রজবালকের স্থানে। তার অনুগত, কভু নন্দসূত, নহে স্বপনে শয়নে॥ এ সব চাতুরী, সখি পরিহরি, যাহ আপনার বাস। সেই কুলবালা, অবলা অখলা, রটাইবি তার হাস॥ আর নিবেদন, চন্দ্রাসখি শুন সেই প্রতিব্রতা বালা। তেজি কুলধর্ম্ম, মোর সনে নর্ম্ম, করিলে না যাবে জ্বালা॥ হাম অতি বালা, পিরিতে বিকলা, না হবে তাহাতে সুখ। মদন দাহনে, দগধি পরাণে, বিদরিবে তার বুক॥ চতুর নাগর, কপট-সাগর, চাতুরী তরঙ্গে ভাসে। শুনি শশিমুখী, ছল ছল আঁখি, লোচন দেখিয়া হাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানুর কঠিন বচন শুনি শশিমুখী ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী রাগ॥ কানুর কঠিন বচন শুনি শশিমুখী থর থর অঙ্গহি কাঁপ। হেট মুণ্ড করি রহলি ধরণী ধরি রাই স্মঙরি করু তাপ॥ ধ্রু॥ হরি হরি, কাহে চিন্তলি ধনী শ্যামক লেহ। পীযূষ ভরম করি কালকূট ইচ্ছবি অব জ্বলি যাওব দেহ॥ সুশীতল চাঁদ ভরমে হই আকুল সুদৃঢ় করলি অনুরাগ। গণইতে চাঁদ না ভেল সোই নাগর ভৈগেল যনু উপরাগ॥ এসব সম্বাদ শুনব যব নাগরী তব কিয়ে হোএ না জান। লোবন বচন শুনহ বর সুন্দরি কানুক কঠিন পরাণ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি বিচারিয়া দেখ মনে ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ ॥ মঙ্গল রাগ॥ সখি বিচারিয়া দেখ মনে। নিজ পতি বিনে, সতী অন্য জনে, না হেরে নয়ন কোণে॥ ধ্রু॥ দেখ অনুমানি, কখন নলিনী, শশধরে নাহি ভজে। হেরি দিনমণি, সেই যে যামিনী, স্বপনে না কভু মজে॥ যে বা কুলবতী, তার এই রীতি, নিশ্চয় বলিল তোরে। সেউ পদ্মমুখী, শুন প্রাণ সখি, বিনয়ে বুঝাবে তারে, তেজি কুল-ধর্ম্ম, অনুচিত কর্ম্ম, সে ধনীর উচিত নয়। এ কথা শুনিয়া, কাঁপে মোর হিয়া, সখি নিবেদিবে তায়॥ কৃষ্ণের বচন, শুনিয়া তখন, সজল শশীর আঁখি। আশ্বাসি লোচন, করে নিবেদন, তব কিবা দোষ সখি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি বল উপায় কি করি ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ সখি বল উপায় কি করি। প্রাণ মোর সদা কান্দে, মনস্থিয় নাহি বান্ধে, কে মোরে মিলায়ে দিবে হরি॥ কুলভয় ত্যায়াগিল, তৃণ করি না মানিল, আগে হাম না কৈল বিচার। এবে হৈল বিপরীত, নিদারুণ ভেল নাথ, নিশ্চয় মা কৈল অঙ্গীকার॥ হায় সখি কি মোর করম গতি মন্দ। হাম অতি শিশুমতি, যুবতীর সম রীতি, আচরিয়ে না মিলে গোবিন্দ॥ গোকুল মণ্ডল মাঝে, কোন ধনী ত্যজে লাজে, মোর সম নহে বাউলিনী। লোচন বচন মন, জাতি কুল সমর্পণ, তবু নাহি হেরি নীলমণি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধিকে হে তুহুঁ বৃথা কর অনুরাগ ভণিতা লোচন কবি লোচন দাস এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ ॥ সিন্ধুড়া রাগ॥ রাধিকে হে তুহুঁ বৃথা কর অনুরাগ। শ্যামক নাম ছোড়ি, আন ভজ সুন্দরী, হামে কর ধনি মাপ॥ ধ্রু॥ তুয়া গুণ গাঁথি হাম নাগর নিয়রে কহলি বিবিধ পরকার। শুনইতে করু হাস নিঠুর সোই নাগর না বুঝল পিরিতি বেভার॥ শ্যাম গোঙায়ার হাম বুঝল রে সখি শুন তুহুঁ বচন সুঠাম। তুহুঁ বর নাগরী রুপে গুণে আগোরি হাসাওবি আপনার মান॥ অঞ্জন সদৃশ হৃদয় তহুঁ অঞ্জন সরল হৃদয় নহু কান। সুজন তুঁহু রাই কুজন সোই নাগর তাকর প্রেম গরল সমান॥ বহু উতরোল না হই বর নাগরি সহজে সহজে লেহ কাজ। লোচন বচন শুনহ বর মোহিনী মিলব নাগর রাজ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |