কবি লোচনদাস ঠাকুর ও লোচনানন্দ ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নন্দতি শশধর পরিহরি চন্দন দূতিক নব বনমালা
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ রামকিরি রাগ॥

নন্দতি শশধর           পরিহরি চন্দন           দূতীক নব বনমালা।
মলয় সমীর         পরশে ভেই আকুল        মুকুলিত নয়ন বিশালা॥
হরি হরি কি কহব সো দুঃখ রাধে।
ইন্দীবর-বর    জিতি তনু লাবণী    অব ভেল জর জর মনমথ ফাঁদে॥
ফুল্লিত সরসিজ             নিন্দিত বদনে          পততি সদা মকরন্দ।
দারুণ মদন            হুতাশনে জারল           মঝু মনে লাগল ধন্ধ॥
বান্ধব পরিজন         না ভাবত সম্প্রতি        স্থানু সদৃশ রহু কান।
তুঁহুক নিকুঞ্জে         শয়ন বর মাধব         কহইতে বিদরে পরাণ॥
ব্যাজ নাহি কর ধনি       আশু চল সুন্দরি     ভেটই নবীন কিশোর।
তুয়া মুখ দরশ         পরশ যব পাওব       তবহু লোচন মন ভোর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরির সদনে খঞ্জন নয়নী রসভরে দুলি যায়
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ মালব রাগ॥

হরির সদনে      খঞ্জন নয়নী       রসভরে দুলি যায়।
সে রূপ দেখিয়া    আকুল হইয়া    মদন মূরছা পায়॥ ধ্রু॥
কুটিল কুন্তল    করে ঝল মল    বেষ্টিত মালতি মালে।
যমুনা-তরঙ্গে    ভাষয়ে সুরঙ্গে    যে মত কমল-জালে॥
ললাটে সিন্দু    তম করে দূর    নাশায় বেশর দোলে।
উদয় শিখর    যেন শশধর    রবির সহিত মিলে॥
পঙ্কজ নয়ানে    অতুল বয়ানে    অমিয়া লহরী হাসি।
তাহাতে উপমা    তাহাতেই সীমা    কি ছার শরদ শশী॥
কনক কটোর    পীন পয়োধর    বিচিত্র অম্বর তায়।
কণ্ঠে অনুপাম    মুকুতার দাম    সঘনে দুলিয়া যায়॥
নবজলধর    বিচিত্র অম্বর    কটিতে কিঙ্কিণী সাজে।
চরণ পঙ্কজে    শোভে বঙ্করাজে    কনক নূপুর বাজে॥
হেরি মকরন্দ    ধায় অলি বৃন্দ    না ছাড়ে তিলেক পাশ।
নূপুরের গানে    ভ্রমরের তানে    লোচন মন উল্লাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঈষৎ মুকুল নয়ন যুগল যিনি উত্সব রাতা
ভণিতা লোচন দাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ সিন্দুড়া রাগ॥

ঈষৎ মুকুল    নয়ন যুগল    যিনি উত্সব রাতা।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া    পড়য়ে ঘুরিয়া    মধু পানে যেন মাতা॥
বিকচ পঙ্কজ    জিতি মুখাম্বুজ    মলিন হয়েছে দেখি।
নিশি অবশেষে    সরসি সকাশে    নলিনী যেমতি দেখি॥
উদয় অরুণে    নিশির গমনে    দর মুকুলিত প্রায়।
দেবীর বদন    তেমতি মলিন    কি হেতু হইল হায়॥
সখি এই মোর মনে লয়!
রতি রঙ্গরসে    নিশি অবশেষে    কামিনী যেমতি যায়॥
শিথিলিত পাণি    কঙ্কণের ধ্বনি    কণক কিঙ্কিণী বাজে।
অলস আবেশে    চরণ বিন্যাসে    জিতি কলহংস রাজে॥
গতি সুমধুর    গলিত অম্বর    শিথিল কুন্তল পাশে।
উমত ঝুমত    চলই রঙ্গে    ভণয়ে লোচন দাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহব রে সখি রাধামাধব-বিলাস
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ আহির রাগ॥

কি কহব রে সখি রাধামাধব-বিলাস।
নিরুপম কেলি    কলাকল অলখিতে    ভৈগেল রজনী উদাস॥ ধ্রু॥
মৃদু মৃদু মঞ্জীর    রব করি সুন্দরী    মিলল কানু সমীপে।
হরি পুন আদরি    কতিপদ অনুসারি    রাই ভেটল অনুরূপে॥
মধুর দৃগঞ্চলে    নিরখি বর-নাগরী    অধরে ঈষত করু হাস।
চতুর সুনাগর    করে ধরি নাগরী    যতনে আনল নিজ পাশ॥
নিধুবনে মাতল    তনু তনু মিটল    টুটল চিরন্তন খেদ।
মনসিজ বিশিখ-    খিল অনু লাগল    তনু তনু লখই না ভেদ॥
নখর রদাবলী    অলখিত তনু যুগ    ঘন ঘন বহই নিশ্বাস।
গুরুতর সমরে    ভীরু বর নাগরী    নাগর করু আশোআশ॥
শ্রমজলে ভিজল    সকল কলেবর    রাই ঘুমাওল শ্যাম কি কোর।
যৈছন নব মেঘে    মিলল সুদামনী    অলখি লোচন মন ভোর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মধুর-মনোহর দেহা
ভণিতা দীন লোচন দাস
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ ললিত রাগ॥

রাধা মধুর-মনোহর দেহা।
নখর রদাবলী        চিহ্ন কলেবর      কনক কমলে যেন সিন্দুর রেহা॥
জাগয়ি রজনী    ঝুমত বর মোহিনী    চলিতে চরণে মনে নূপুর বাজে।
কিঙ্কিণী বলিত          সুমোহন মণিত          মণিময় বলয় বিরাজে॥
শিথিলিত কুন্তল       বলিত পটাঞ্চল    পরাজয় মন্মথ-সমর-বিশেষে।
বিজয় নসাগর      হেরি বর নাগরী    সখীগণে কহে দীন লোচন দাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ দেখ সখি অয়ে শশিমুখি
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ

॥ ভৈরবী রাগ॥

দেখ দেখ সখি    অয়ে শশিমুখি    ঐ দেখ রাই শ্যাম।
নিশি জাগরণে    বদন মলিন    তভু জিতে শত কাম॥ ধ্রু॥
ঢুলিয়া পড়য়ে    ঘুরিয়া চাহয়ে    অলসে মুদিত আখি।
রতি রঙ্গ রসে    সমর-বিশেষে    জয় পরাজয় দেখি॥
মনসিজ বাণ    নখর দশন    তাহে সুঅঙ্কিত তনু।
উদয় অচলে    যেন এক কালে    প্রকাশিল শশী ভানু॥
ভয়েতে কাতর চলয়ে সত্বর    দেখিয়া উপজে হাস।
তরুণ তরঙ্গে    মগন হইয়া    লোচন মন উল্লাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেন কালে বৃষাসুর প্রবেশি গোকুল পুর
ভণিতাহীন পদ
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের, রসিকমোহন
বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ
১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীলোচনদাস ঠাকুরের পদ
ত্রিপদী।
॥ সিন্ধুড়া রাগ॥

হেন কালে বৃষাসুর    প্রবেশি গোকুল পুর    মহাসুর করে মহামার।
শৃঙ্গ অগ্রে খুরাঞ্চলে    পৃথিবী খনন করে    দেখি লোকে করে হাহাকার॥
প্রলয়ের মেঘ জিনি    তর্জন গর্জন শুনি    দশ দিক্ কম্পে থর থর।
প্রবাতের দিবাকর    চক্ষু দেখি লাগে ডর    নিশ্বাসে বহিয়া যায় ঝড়॥
ক্রোধেতে কম্পিত গা    ধরণী না ধরে পা    মহাবল ঘোর পরাক্রম।
তনু উচ্চ গিরিবর    ঘোরতর ভয়ঙ্কর    সমরে তিলেক নাহি শ্রম॥
হেরি ব্রজবাসিগণ    অঙ্গ করি আচ্ছাদন    লুকাইল কুঞ্জের ভিতরে।
হেরি হেরি মৃদু হাসি    ব্রজবাসী আশ্বাসি    প্রবেশিল সমর ভিতরে॥
প্রবল অসুর দুষ্ট    কৃষ্ণে হেরি হইল রুষ্ট    শৃঙ্গপাণি সাজে মারিবারে।
দেখি গোপ গোপীগণ    উচ্চ করে ক্রন্দন    আশ্বাসয়ে নন্দের কুমারে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নির্ম্মল শারদ শশধর-বদনী
ভণিতা লোচন
কবি লোচন দাস
এই পদটি ষোড়শ শতকে, রায় রামানন্দের সংস্কৃত ভাষায় রচিত “জগন্নাথবল্লভ” নাটকের,
রসিকমোহন বিদ্যাভূষণের বঙ্গানুবাদের সঙ্গে ওই গ্রন্থের ষোড়শ শতকে লোচনদাস রচিত
বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের পদাবলীসহ ১৯২৮ সালে প্রকাশিত “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্” গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক,
১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ভণিতা দেখে লোচন দাসের বলে স্থির
করা হলো।

॥ গুজ্জরী রাগেণ॥

নির্ম্মল শারদ শশধর-বদনী।           বিদলিত-কাঞ্চন নিন্দিত-ধরণী॥ ধ্রু॥
পির-রুক-গঞ্জিত-সুমধুর বচনা।       মোহনকৃতকরি শত শত মদনা॥
দেবি শৃনু বচনং মম সারং।          কিল গুণধাম মিলিত তনুবারম্॥
চিরদিন বাঞ্ছিত যদিহ মদিষ্টং।       তবক পয়াপি ফলিত মনোহভিষ্টম্॥
ইদমনু কিং মম যাচিতমস্তি।         নিখিল চরাচরে প্রিয়মপি নাস্তি॥
প্রণয়তু রসিক-হৃদয়-সুখমমিতং।     লোচন-মোহন-মাধব-চরিতম্॥

রায় রামানন্দের সংস্কত ভাষার যে গীতটি থেকে লোচনদাস এই পদ রচনা করেছিলেন
তা নীচে দেওয়া হলো . . .

॥ মঙ্গল গুজ্জরী রাগেণ॥

পরিণত-শারদ-শশধর-বদনা।
মিলিতা পাণিতলে গুরু -মদনা!
দেবি কিমিহ পরমস্তি মদিষ্টং।
বহুতর সুকৃত ফলিতমনুদ্ষ্টম্॥ ধ্রু॥
পিক-বিধু-মধু-মধুপাবলি-চরিতং!
রচয়তি মামধুনা সুখ-ভরিতম্॥
প্রণয়তু রুদ্র-নৃপে সুখমমৃতং।
রামানন্দ-ভণিত হরিরমিতম্॥

সংস্কৃত পদের গদ্যানুবাদ -
আজ প্রবলমদনা শারদশশধর বদনাকে আপনার প্রসাদে প্রাপ্ত হইলাম। ইহার উপরে
আমার আর কি প্রিয় আছে। আজ বোধ হয় বহুতর সুকৃতি ফল ফলিত হইল। এখন
কোকিলগণ, চন্দ্র, বসন্ত ও ভ্রমরগণ আমাকে ভরপুর সুখ প্রদান করুক। শ্রীহরি গজপতি
রুদ্র রাজার হৃদয়ে অমিত অমৃত সুখ প্রেরণ করুণ।
---রসিকমোহন বিদ্যাভূষণ, “জগন্নাথবল্লভ নাটকম্”॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর