| কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| আজি নহে কালি নহে জানি বাপ পিতামহে ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠা। পদটি তিনি নিয়েছিলেন মাধবাচার্যের শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল কাব্যের ৭২-পৃষ্ঠা থেকে। এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৬১-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আজি নহে কালি নহে জানি বাপ পিতামহে গোকুল নগরে নহে ঘাটী। ঘৃত নবনীত দধি বেচি নিয়া নিরবধি আজি তুমি কর মিছা হঠি॥ নিলাজ কানু পথ ছাড়, না কর বিরোধে। বুঝিল তোমায় তিলেক নাহি বোধে॥ পাটে কংস নটবর অতি বড় খরতর তারেও তোমার নাহি ডর। * * * * * * * কি তোরে করিব ক্রোধ যশোদার অনুরোধ সহিল সকল কুবচন। যদি বল আর বার উচিত পাইবে তার মাধবের স্বরূপ বচন॥ এই পদটি আনুমানিক চারশো বছর পূর্ব্বে রচিত, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্য গ্রন্থের ৭১-পৃষ্ঠায় “মাধব” ভণিতা -য় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া রাগ॥ আজি নহে কালি নহে, জানি বাপ পিতামহে গোকুল নগরে নহে ঘাটী। ঘৃত নবনীত দধি, বেচি নিয়া নিরবধি, আজি তুমি কর মিছা হঠি॥ নিলাজ কানু পথ ছাড় না কর বিরোধে। বুঝিল তোমায় তিলেক নাহি বোধে॥ ধ্রু॥ পাটে কংস নটবর, অতি বড় খরতর, তারেও তোমার নাহি ডর। আমি আঞানের রাণী, যদি কহি এই বাণী, মজিবে নন্দের গাবী ঘর॥ কি তোরে করিব ক্রোধ, যশোদার অনুরোধ, সহিল সকল কুবচন। যদি বল আর বার, উচিত পাইবে তার, মাধবের সরস বচন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি চক্ষে ঝরে পানী ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৬৩-পৃষ্ঠা। ॥ ত্রিপদী॥ কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি, চক্ষে ঝরে পানী, যত সুপণ্ডিত যোদ্ধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ উপস্থিত কাল, বুঝি শিশুপাল, অসি চর্ম্ম করে লয়্যা। করয়ে ভর্ৎসন, তথা ঘনেঘন, কৃষ্ণ-পক্ষ নৃপচয়ে॥ দৈবকী-নন্দন, জগত বন্দন, পুনঃ পুনঃ নিন্দা শুনি। রুষিল তখন, শমন দমন, কুলান্তক যম যিনি॥ প্রভাত অরুণ, আঁখির বয়ণ, থর থর কাঁপে অঙ্গ। সভাজন যত, জ্ঞান হৈল হত, দেখিয়া রাগত রঙ্গ॥ তবে চক্রপাণি, নিজ চক্র হানি, বধিলেন চেদিশ্বরে। দুষ্টরাজাগণ, দেখিয়া বিষম, ভয়ে পলাইল ডরে॥ হৃত শিশুপাল, শরীর বিশাল, মহান্ মরম যায়। অসুর মরণ, দেখে সব জন, মাধব এ রস গায়॥ এই পদটি সম্বন্ধে, এই গ্রন্থেই, ২৬৩-পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি হস্তলিখিত পুথিতে তাঁরা এই পদটি কিছুটা ভিন্নরূপেও পেয়েছিলেন। আমরা এই পদটিকে তার ভিন্নতার কারণে একটি স্বতন্ত্র পদ “কৃষ্ণ নিন্দা দেখি ক্রোধে অরুণাক্ষি” শিরোনামেও এখানে তুলে দিয়েছি। ॥ সুহই রাগ॥ কৃষ্ণ নিন্দা দেখি, ক্রোধে অরুণাক্ষি, যত পাণ্ডব যোধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ লখিয়া আপন বধ, শিশুপাল দুর্ম্মদ, খড়গ চর্ম্ম করে সারে। বহু গুরু রাজন, তর্জ্জি অনুক্ষণ, রিপু যাদব পরিবারে॥ দৈবকী নন্দন, সুর-মুনি-বন্দন, ত্রিভুবন বিজয়ী বিবাদী। করিয়া বিবিধ কর, চক্র আয়ুধ বর, চেদীশ্বর শির ছেদী॥ খল নির্জ্জিত ভেল, রহল কোপারশ পুর গহ্বর তরদেশে। পাইয়া সঙ্কট, আর অবগত স্ফুট, দূরে পলায় প্রাণ আশে॥ শিশুপাল হত, শরীর বিনিশ্রুত, তেজ লুকায় হরি কায়। অসুর মারি যেন, ভিক্ষা নির্ব্বাহিল, মোহিত মাধব গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণ নিন্দা দেখি ক্রোধে অরুণাক্ষি ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৬৩-পৃষ্ঠা। আমরা এই পদটিকে তার প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে একটি স্বতন্ত্র পদ “কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি চক্ষে ঝরে পানী” শিরোনামেও এখানে তুলে দিয়েছি। ॥ সুহই রাগ॥ কৃষ্ণ নিন্দা দেখি, ক্রোধে অরুণাক্ষি, যত পাণ্ডব যোধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ লখিয়া আপন বধ, শিশুপাল দুর্ম্মদ, খড়গ চর্ম্ম করে সারে। বহু গুরু রাজন, তর্জ্জি অনুক্ষণ, রিপু যাদব পরিবারে॥ দৈবকী নন্দন, সুর-মুনি-বন্দন, ত্রিভুবন বিজয়ী বিবাদী। করিয়া বিবিধ কর, চক্র আয়ুধ বর, চেদীশ্বর শির ছেদী॥ খল নির্জ্জিত ভেল, রহল কোপারশ পুর গহ্বর তরদেশে। পাইয়া সঙ্কট, আর অবগত স্ফুট, দূরে পলায় প্রাণ আশে॥ শিশুপাল হত, শরীর বিনিশ্রুত, তেজ লুকায় হরি কায়। অসুর মারি যেন, ভিক্ষা নির্ব্বাহিল, মোহিত মাধব গায়॥ এই পদটি সম্বন্ধে, এই গ্রন্থেই, ২৬৩-পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি পুথিতে তাঁরা এই পদটি কিছুটা ভিন্নরূপেও পেয়েছিলেন। ॥ ত্রিপদী॥ কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি, চক্ষে ঝরে পানী, যত সুপণ্ডিত যোদ্ধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ উপস্থিত কাল, বুঝি শিশুপাল, অসি চর্ম্ম করে লয়্যা। করয়ে ভর্ৎসন, তথা ঘনেঘন, কৃষ্ণ-পক্ষ নৃপচয়ে॥ দৈবকী-নন্দন, জগত বন্দন, পুনঃ পুনঃ নিন্দা শুনি। রুষিল তখন, শমন দমন, কুলান্তক যম যিনি॥ প্রভাত অরুণ, আঁখির বয়ণ, থর থর কাঁপে অঙ্গ। সভাজন যত, জ্ঞান হৈল হত, দেখিয়া রাগত রঙ্গ॥ তবে চক্রপাণি, নিজ চক্র হানি, বধিলেন চেদিশ্বরে। দুষ্টরাজাগণ, দেখিয়া বিষম, ভয়ে পলাইল ডরে॥ হৃত শিশুপাল, শরীর বিশাল, মহান্ মরম যায়। অসুর মরণ, দেখে সব জন, মাধব এ রস গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিগমকলপতরু বিগলিত ফল চারু ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৩-পৃষ্ঠা। ॥ পূরবী রাগ॥ নিগমকলপতরু, বিগলিত ফল চারু শুক-মুখে রহি মহীমাঝে। অমিঞা যে দ্রবময়, ত্বক বীজ নাহি তায়, অব্যয় অবিরত রাজে॥ শুনহে পণ্ডিত লোক, ঘুচিবে সকল শোক, কসিক ভাবুক যেই জন। শ্রীভাগবত রস, পিবহ অহর্ন্নিশ, বনা তা হা নাহিক মোচন॥ মুক্ত মুমুক্ষু বিষয়ী, লোক হয় ত্রিবিধি, গোবিন্দ-গুণ-অনুবাদে। হাম অতি আত্মঘাতী, ভুবনে তিন পাতকী, সেহ সব সুখ অনুমোদে॥ বেদ পুরাণ সার, শ্রীভগবত আর, প্রেম ভকতি পরকাশে। চৈতন্য-চরণ-ধন, শিরে করি আভরণ, ভূদেব মাধব ভাষে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুযুগ অখিল ভুবন পরিপালক ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৪-পৃষ্ঠা। ॥ পূরবী রাগ॥ অনুযুগ অখিল ভুবন পরিপালক বীলাতনু পরকাশা। যো গোপাল বালকেলি কৌতূক যদু-কুলে কংস-বিনাশা॥ বন্দহুঁ নারায়ণ সুখদাতা। নর অবতারে নরোত্তম বন্দহুঁ গায়ন ভাগবত গাথা॥ ত্বং বেদশাস্ত্র, পরিনিষ্ঠিতআশয়, শুদ্ধবুদ্ধি কবীন্দ্র। কৃষ্ণ কলেবর, চর্ম্মাস্বর-ধর, সুরমুনি-নুত ব্যাস বন্দ॥ কর্পূর কুন্দ, ইন্দু সিতচন্দন, যছু বরণ পদরাজে। সোহি সরস্বতী, দেবী বন্দহুঁ, মাধব কহে ধীর সমাজে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| না জানি বাপ ভাই তোমারি পাছু ধাই ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৫৬-পৃষ্ঠা। ॥ রামকিরি রাগ॥ না জানি বাপ ভাই, তোমারি পাছু ধাই, অহর্নিশ্ বুলি মনসুখে। সে হেন সঙ্গ ভঙ্গে, বঞ্চিব কার সঙ্গে, চাহিমু আর কার মুখে॥ আরে ভাই কানাইরে, মাথায় হাথে রে, কান্দে রে রাখাল। কান্দে উচ্চনাদে, কি হইল পরমাদে, কাহা লয়্যা চরাইব পাল॥ প্রভাতে শিঙ্গার সানে, করাইয়া চেতনে, কেবা আর লয়্যা যাবে গোঠে। বিপিনে কাহার মেলে, ভুঞ্জিব কুতূহলে, কেবা আর রাখিব সঙ্কটে॥ শৈশব কাল ধরি, পদ এক পরিহরি, নাহি যাও প্রাণের সোসর। সে তুমি বিষের জলে, দারুণ ফণীর মেলে, কেমনে আছহ একেশ্বর॥ এই সব বত্স ধেনু, কেমনে ধরিব তনু, পালক কে তোমার বিহনে। সে মন্দ বেণির ধ্বনি, না শুনিব যদপমণি, কে জীয়ে মাধব গানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সকল শুভহেতু জন্মিল ষড় ঋতু ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ১৫-পৃষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। ॥ কামোদ রাগ॥ সকল শুভহেতু, জন্মিল ষড় ঋতু, রঙ্গে খীণহি কলঙ্কী। চিন্তিয়া গুণময়, গোকুলে চন্দ্রোদয়, রাহু ঘনে রহি লুকি॥ দুন্দুভি শঙ্খধ্বনি, নাচে তারা ঊর্দ্ধপাণি, হরিষে দেবা দেবীগণ। ( আজু ) অবনী অবতারী, হইলা শ্রীহরি, ধরণীর উল্লাসিত মন॥ ফলে দলে তরু, বিবিধ অতি চারু, কুসুম বিকসে অধিকে। আমোদে ভরে মন, গমন সমীরণ, সুরভি লই দশ দিকে॥ কোকিল মধুকর, চাতক শিশুবর, মধুর মঙ্গল গায়। জলদ জলনিধি, মিলিলা শুভবিধি, মধুর নাদে বাদ্য বায়॥ রাজহংস-কুল, কেলি কুতূহল, গগন মধি রহি ধায় রে। ধরণী ভার হরি, হইবে অবতারী, বাত কহে যো সভায় রে॥ সকলে সত্ত্বগুণী, কুরঙ্গী বিষফণী, শিখণ্ডী এক বসতি। * * * * * * ঈশত ঘনে ঘন, অমিয়া বরিষণ, কিরণ ধূলি নাশন। রাজ রাজেশ্বর, বিজয়ী সুরেশ্বর, করন্তি মহিমার্জ্জন॥ উঠে ফেরিগণ, বিরবে ঘনে ঘন, পড়িছে জয় হুলাহুলি। মাধব কহে রস, মিলিলা শ্রীনিবাস, ত্রিজগত রহে কুতূহলী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চিন্তিত কংস রায়ে প্রাণে স্থির নহে ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৩-পৃষ্ঠা। পুতনা বধ। ॥ পঠমঞ্জরী রাগ॥ চিন্তিত কংস রায়ে, প্রাণে স্থির নহে, কুমতি অসুরের যুগতি। পূতনা রাক্ষসীরে, ডাকিয়া আনি তারে, দিলেন বিষম আরতি॥ স্বরূপে কহি আমি, সত্বরে চল তুমি, গৃহে গৃহে স্থানে স্থানে। দিবস দশ জাত, বালক পাহ যত, সকল মারহ পরাণে॥ লড়িল পুতনা, শিশুর যাতনা, রাক্ষসী বেশ পরিহরি। পরম সুন্দরী, জিনিয়া সুরনারী, ত্রৈলোক্য মোহিতে পারি॥ নবীন শিশু যথা, বধিয়া যায় তথা, বিষম বিষস্তন-পানে। ভ্রমিয়া ঘরে ঘরে, গোকুল নগরে, মিলিলা নন্দের ভুবনে॥ বান্ধিয়া শুকবরী, মল্লিকা পুষ্পভরি, সীমন্তে সুরঙ্গ সিন্দুর। চাঁদ জিনিষ হাস, কটাক্ষ মন্দভাষ, অলকা তিলক প্রচুর॥ পীন ঘন স্তন, মধ্য অতি ক্ষীণ, বিপুল নিতম্ব সুসারে। বৈকুণ্ঠ ছাড়িয়া, স্ত্রীজন্ম পাইয়া, প্রাণপতি দেখিবারে॥ দেখিয়া মোহিনী, সকল গোপিনী, বিস্ময় ভাবি মনে মনে। এল হেনরূপ, দেবতা-স্বরূপ, কমলা বুঝি অনুমানে॥ বিচিত্র সিংহাসন, শুইয়া নারায়ণ, কপট বালক মূরতি। দেখিল রাক্ষসী, যেন ভস্নরাশি, ঢাক্যাছে আগুনির জুতি॥ দেখিয়া মায়াকায়, হাসিয়া যদুরায়, চর্ম্মঘটেতে যেন শশী। বসিয়া কুতূহলে, গোবিন্দ লয়্যা কোলে, ঈষৎ কটাক্ষে মন্দ হাসি। যশোদা রোহিণী, এই দুই বুহিনী, দেখিয়া মোহে সেই রূপ। নিমিষ হরিয়া, আঁখি ভরিয়া, তারে দেখি, বোল না ফুরে মুখে চুপ॥ রাক্ষসী চন্দ্রাননে, দিলেন বিষস্তনে, রুষিলা দেব দনুজারি। চাপিয়া বুক টানে, চুম্বক দিল প্রাণে, সহিতে দুগ্ধ পান করি॥ মরমব্যথা পাই, ডাকিল পরিত্রাই, ছাড় ছাড় উচ্চ নাদে। দু-কর চরণ, আছাড়ি ঘন ঘন, নিজ মূর্ত্তি ধরি কাঁদে॥ সেই মহানাদ, শুনিতে পরমাদ, কম্পিত চৌদ্দ ভুবন। রাজ্য পাইল ভয়, মানিল প্রলয়, রাক্ষসী তেজিল জীবন॥ পর্ব্বতসম কায়, পথ কোশ ছয়, জিনিয়া শরীর তাহার। বড় বড় ঘর, দ্বার তরুবর, ভাঙ্গিয়া হইল চুরমার॥ সকল সুরঐরী, সংহারিতে, হরি, গোকুলে আদি পুরুষ। মাধব কহে সার, মুক্তি হইল তার, পূতনা প্রথম গণ্ডুষ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |