| কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| কৃষ্ণের আদেশ পাঞা ইন্দ্র-যজ্ঞ নিবারিয়া কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১ম পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, পদসংখ্যা ১২৪৯। ॥ মঙ্গল॥ কৃষ্ণের আদেশ পাঞা ইন্দ্র-যজ্ঞ নিবারিয়া নন্দ আদি যত গোপগণ। নানা উপহার লৈয়া সকলে একত্র হৈয়া আইলেন যথা গোবর্দ্ধন॥ সহস্র সহস্র জন রান্ধে অন্ন ব্যঞ্জন এক ঠাঞি লৈয়া করে রাশি। দধি-দুগ্ধ-সরোবর রোটী-রাশি থরে থর হরিষে সাজায় ব্রজ-বাসী॥ শ্রীকৃষ্ণের অভিমত পাক হৈল বহু মত সূপান্ত পায়স শিখরিণী। ব্যজনের কত কূপ পর্ব্বত সমান স্তূপ অন্নকোটি করিলা সাজনি॥ নানা বাদ্য বাজে কত নর্ত্তকী নাচয়ে শত সহস্র সহস্র লোকে গায়। যত গোপ গোপীগণ অলঙ্কৃত সব জন আনন্দ অবধি নাহি পায়॥ ধেনু বত্স সাজাইয়া কত স্বর্ণ-মুদ্রা লৈয়া ব্রাহ্মণেরে দেই নন্দরায়। মহা মহোত্সব রোল কে কার শুনয়ে বোল এ মাধব দেখিয়া বেড়ায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ কৃষ্ণের আদেশ পাঞা ইন্দ্রযজ্ঞ নিবারিয়া নন্দ আদি যত গোপগণ। নানা উপহার লৈয়া সকলে একত্র হৈয়া আইলেন যথা গোবর্দ্ধন॥ সহস্র সহস্র জন রান্ধে অন্নব্যঞ্জন এক ঠাঞি লৈয়া করে রাশি। দধিদুগ্ধসরোবর রোটীরাশি থরে থর হরিষে সাজায় ব্রজবাসী॥ শ্রীকৃষ্ণের অভিমত পাক হৈল বহু শত সূপান্ত পায়স শিখরিণী। ব্যজনের কত রূপ পর্ব্বত সমান স্তূপ অন্নকোটি করিলা সাজনি॥ নানা বাদ্য বাজে কত নর্ত্তকী নাচয়ে শত সহস্র সহস্র লোকে গায়। যত গোপগোপীগণ অলঙ্কৃত সব জন আনন্দ অবধি নাহি পায়॥ ধেনুবত্স সাজাইয়া কত স্বর্ণমুদ্রা লৈয়া ব্রাহ্মণেরে দেই নন্দরায়। মহামহোত্সব রোল কে কার শুনয়ে বোল এ মাধব দেখিয়া বেড়ায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আগর তাতা দধীদম্বা উআরে কবি মাধব রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২২৩-পৃষ্ঠা। ॥ বিহাগ রাগ ধ্রুবতালৌ॥ আগর তাতা দধীদম্বা উআরে থুগু থুগু থুগু থুগু থুগুতা। দৃগি তা দৃগি দৃগি মাদল বাজত অঙ্গ ভঙ্গে চলি জায় পা॥ তা তা থৈয়া তা থৈয়া দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগিতা॥ ধ্রু॥ রতি রঙ্গে সঙ্গিত ভঙ্গিম গোপিনি সঙ্গে নাচে গোপালা। থিয়াইয়া ইয়া ইয়া আইয়া ইয়া বহুবিধ ছন্দ রসালা॥ রুণু রুণু রুণু রুণু ঝুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু কর কঙ্কণ রণ রণি। ঝম ঝম ঘাঘ কটি কটি কিঙ্কিণি কঙ্কণ ঝুমরি ধ্বনি॥ ডগমগ ডগমগ ডম্ফ ডুমিকি ডুমি পীপী বেণু সানে। চলত চিত্র গতি ননর্ত্ত পদ অতি মাধব ইহ রস গানে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস, পদসংখ্যা ১২৭০, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিহগড়া। প্রবন্ধ॥ আগর তাতা দধি দম্বা উয়ারে থুগু থুগু থুগু থুগু থুগু থুগু তা। দৃগি তা দৃগি তা দৃগি মাদল বাজত অঙ্গ-ভঙ্গে চলি যায়ত পা॥ তা তা তা থৈয়া তা থৈয়া দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি তা॥ ধ্রু॥ রতি-রঙ্গে সঙ্গিত ভঙ্গিম গোপিনি সঙ্গে নাচে গোপালা। থিয়া ইয়া ইয়া ইয়া আ ইয়া আ ইয়া বহুবিধ ছন্দ রসালা॥ রুণু রুণু রুণু রুণু ঝুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু কঙ্কণ কর রণরণি। ঝম ঝম ঘাঁঘর ঘাঘটি কটি কিঙ্কিণি কঙ্কণ ঝুমর ধ্বনি॥ ডগ মগ ডগ মগ ডম্ফ ডিমিকি ডুমি পী পী বেণু-নিসানে। চলত চিত্র-গতি নর্ত্তন-পদ অতি মাধব ইহ রস গানে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৫০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বেহাগ মিশ্র সুই - কাওয়ালি॥ আগর তাত্তা দধি দম্বা উয়ারে থুগু থুগু থুগু থুগু থুগু তা। দৃমিতা দৃমিতা মাদল বাজত রঙ্গে ভঙ্গে চলি যায়ত পা॥ বাজত তাথৈ তাথৈ থৈ থৈ থৈ থৈ বাজে দৃমি দৃমি দৃমি দৃমি তা। বাজে তৃখিতা তৃখিতা তিনাংনা খেটি তিনি থুং থুং তিনি তিনি তা॥ ধ্রু॥ রতি সঙ্গে সঙ্গিত ভঙ্গিম গোপিনী সঙ্গে নাচে গোপালা। থিয়া ইয়া ইয়া ইয়া আ ইয়া ইয়া ইয়া বহুবিধ ছন্দ রসালা॥ রুণু রুণু রুণু রুণু ঝু নু নু নু নু ঝুনু বাজে দৃগি দৃগি দৃগি দৃগি দৃগি দৃগি দৃগি তিয়া। বাজে তা তা তা তা তা থৈয়ারে বাজে তাথৈয়া কত মধু মাদল ধনিয়া॥ রুণু রুণু রুণু রুণু ঝুনু নু ঝুনু নু ঝুনু কর কঙ্কণ রন রণিয়া। ঝম ঝম ঝমক ঘাঘর কটি কিঙ্কিণি, কঙ্কণ ঝুমর ধনি ধনিয়া॥ ডগমগ ডগমগ ডম্ফ ডিমি কি ডিমি পী পী বেণু নিশানে। চলত চিত্রগতি নর্ত্তন পদ অতি মাধব ইহ রস গানে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে প্রথম পংক্তির প্রথম শব্দটি “আগর” এর বদলে “তাগর” রয়েছে। তাই আমরা “তাগর তাতা দধী দম্বা উয়ারে” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদও আমাদের সূচীতে রাখছি। ॥ বিহাগ রাগ ধ্রুব তালো॥ তাগর তাতা দধী দম্বা উয়ারে থুগ থুগ থুগ থুগ থুগতা। দৃগীতা দৃগী দৃগী মাদল বাজত অঙ্গভঙ্গে চলি জায় পা॥ তা তা তাথৈয়া তাথৈয়া দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগিতী॥ ধ্রু॥ রতিরঙ্গে সঙ্গীত ভঙ্গিম গোপীনী সঙ্গে নাচে ত মদনগোপালা। থিয়া ইয়া ইয়া আইয়া ইয়া বহুবিধ জন্ত রসালা॥ রূনু রূনু রূনু রূনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু করকঙ্কণ রণরণি। ঝমক ঝমক ঘটি ঘাঘটি কিঙ্কিণি কঙ্কণ ঝুমুর ধ্বনি॥ ডগমগ ডগমগ ডম্ফ ডুমিক ডিমি পিপি বেণু নিসানে। চলত চিত্ত গতি নর্তন পদ অতি মাধব ইহ রসগানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মাধব মাধবি মাধবি-কুঞ্জহি কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস, পদসংখ্যা ১৫৩৩। ॥ বরাড়ী॥ মাধব মাধবি মাধবি-কুঞ্জহি বিরচই মাধবি-বেশ। মাধবি-হার বলয় কর-কঙ্কণ মাধবি-সুরচিত কেশ॥ দেখ সখি মাধবি-রঙ্গ। যাকর কুসুমহি সুষমহি ভূলল মাধব মাধবি সঙ্গ॥ ধ্রু॥ যো মধু-মদে উন- মত মধুকর বর অবিরত করত ঝঙ্কার। দ্বিজগণ ঘন ঘন মঙ্গল-কলরব তরুগণ ফল-ফুল-ভার॥ কুঙ্কুম চন্দন মৃগ-মদে লেপন করু রঙ্গিণিগণ অঙ্গ। তনু তনু অতনু সু- তনু তনু উতপল মাধব হেরত রঙ্গ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ মাধব মাধবি মাধবি কুঞ্জহি বিরচই মাধবিবেশ। মাধবি হার বলয় করকঙ্কণ মাধবি সুরচিত কেশ॥ দেখ সখি মাধবি রঙ্গ। যাকর কুসুমহি সুষমহি ভূলল মাধব মাধবি সঙ্গ॥ ধ্রু॥ যো মধুমদে উন- মত মধুকর বর অবিরত করত ঝঙ্কার। দ্বিজগণ ঘন ঘন মঙ্গলকলরব তরুগণ ফলফুলভার॥ কুঙ্কুম চন্দন মৃগমদে লেপন করু রঙ্গিণিগণ অঙ্গ। তনু তনু অতনু সু-তনু তনু উতপল মাধব হেরত রঙ্গ॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৬৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী - একতালা॥ মাধব মাধবী মাধবি কুঞ্জহি বিরচই মাধবী বেশ। মাধবি হা,র মাধবী কর কঙ্কণ, মাধবী সুরচিত বেশ॥ দেখ সখি মাধবি রঙ্গ। যাকর কুসুমহি কুসুমহি ভূলল মাধব মাধবি সঙ্গ॥ ধ্রু॥ যো মধুমদে উন- মত মধুকর বর অবিরত করত ঝঙ্কার। দ্বিজগণ ঘন ঘন মঙ্গল কলরব তরুবর ফল ফুল ভার॥ কুঙ্কুম চন্দন মৃগমদ লেপন করু রঙ্গিনীগণ অঙ্গ। তনু তনু অতনু সুতনু তনু উতপল মাধব হেরত রঙ্গ॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তির ভিন্নতার জন্য, পাঠকের সুবিধার্থে, এটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তোলা হয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ মাধব মাধবী, কুঞ্জহি-মাধব, বিরচই মাধবী কেশ। মাধবী-হার, বলয় কর-কঙ্কণ, মাধবি-সুরচিত বেশ॥ দেখ সখি মাধবী-রঙ্গ। যা কর কুসুমকি, সুষমহি ভূলল, মাধব মাধবী সঙ্গ॥ যো মধু-মদে উন- মত মধুকর বর, অবিরত করত ঝঙ্কার। দ্বিজবর ঘন ঘন, মঙ্গল-কলরব, তরুবর ফল-ফুল-ভার॥ কুঙ্কুম চন্দন মৃগ মদে লেপন, করু রঙ্গিণিগণ অঙ্গ। তনু তনু অতনু, সুতনু তনু উতপল, মাধব হেরত রঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চুয়া চন্দন বন্দন গোরোচন কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস, পদসংখ্যা ১৫৩৪। ॥ মায়ূর॥ চুয়া চন্দন বন্দন গোরোচন লেপই দুহুঁ জন অঙ্গ। কুসুম-শিঙ্গার কুসুম-সুকুমারিক করু সখি মাধব সঙ্গ॥ দেখ দেখ বিনোদ বিলাস। শ্রীবৃন্দাবন নিরুপম-শোভন আনন্দে ফুল ছলে হাস॥ ধ্রু॥ কোকিল শবদে গভির গদগদ রব কপোত-শবদে সিতকার। মুকুল পুলককুল আসব ঝর ঝর জনু লোচনে জল-ধার॥ হেরি দুহুঁ সখি সঞে নিমগন ক্রীড়নে কত কত অতনু-বিলাস। মাধব হেরি মন আনন্দে ভূলল আপন সহচরি পাশ॥ এই পদটির “কুসুম” ইত্যাদি দুটি পংক্তি পদকল্পতরুর খ-পুথিতে এই রূপে পাওয়া গেছে। ॥ মায়ূর॥ চুয়া চন্দন বন্দন গোরোচন লেপই দুহুঁ জন অঙ্গ। কুসুম-সুকুমারিক কুসুম শিঙ্গার করু সখিগণ মাধব সঙ্গ॥ দেখ দেখ বিনোদ বিলাস। শ্রীবৃন্দাবন নিরুপম-শোভন আনন্দে ফুল ছলে হাস॥ ধ্রু॥ কোকিল শবদে গভির গদগদ রব কপোত-শবদে সিতকার। মুকুল পুলককুল আসব ঝর ঝর জনু লোচনে জল-ধার॥ হেরি দুহুঁ সখি সঞে নিমগন ক্রীড়নে কত কত অতনু-বিলাস। মাধব হেরি মন আনন্দে ভূলল আপন সহচরি পাশ॥ টীকা - ৫-৭। “দেখ” ইত্যাদি। (শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের) মনোহর বিলাস-লীলা দর্শন কর। অতুলনীয় শোভা- যুক্ত শ্রীবৃন্দাবন (ঐ লীলা দর্শন করিয়া) পুষ্প-চ্ছলে হাস্য করিতেছে। ৮-১১। “কোকিল” ইত্যাদি। (লীলা দর্শন করিয়া শ্রীবৃন্দাবনের কিরূপ গদগদ প্রভৃতি সাত্বিক ভাবের উদয় হইয়াছে, তাহা দেখাইতেছেন) কোকিলের শব্দে (শ্রীবৃন্দাবন) গভীর গদ্গদ-ধ্বনি ও কপোতের শব্দে হুঙ্কার প্রভৃতি শীত্কার-ধ্বনি (প্রকাশ করিতেছে) ; (শ্রীবৃন্দাবনের তরুসমূহের) মুকুল (তাহার) রোমাঞ্চ ও আসব অর্থাৎ মধু যেন (তাহার) নয়নে অশ্রু-ধারা অজস্র বিগলিত হইতেছে। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর॥ চুয়া চন্দন বন্দন গোরোচন লেপই দুহুঁ জন অঙ্গ। কুসুমশিঙ্গার কুসুমসুকুমারিক করু সখি মাধব সঙ্গ॥ দেখ দেখ বিনোদ বিলাস। শ্রীবৃন্দাবন নিরুপম শোভন আনন্দে ফুল ছলে হাস॥ ধ্রু॥ কোকিল শবদে গভির গদগদ রব কপোত শবদে সিতকার। মুকুল পুলককুল আসব ঝর ঝর জনু লোচনে জল-ধার॥ হেরি দুহুঁ সখি সঞে নিমগনক্রীড়নে কত কত অতনু বিলাস। মাধব হেরি মন আনন্দে ভূলল আপন সহচরি পাশ॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৬৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - তেওট॥ চুয়া চন্দন, বন্দন গোরোচন, লেপই দুহুঁজন অঙ্গ। কুসুম শিঙ্গার, কুসুম সুকুমারীক করু সখী মাধব সঙ্গ॥ দেখ দেখ বিনোদ বিলাস। শ্রীবৃন্দাবন নিরুপম শোভন আনন্দে ফুল ছলে হাস॥ কোকিল শবদে, গভীর গদ গদ রব কপোত শবদে সিতকার। মুকুল পুলককুল, আসব ঝর ঝর জনু লোচন-জলধার॥ হেরি দুহুঁ সখী সঞে, নিমগন ক্রীড়নে কত কত অতনু বিলাস। মাধব হেরি মন, আনন্দে ভূলল, আপন সহচরী পাশ॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর॥ চুয়া চন্দন, আগর গোরোচন লেখই দুহুঁ জন অঙ্গ। কুসুম-শিঙ্গার, কুসুম-সুকুমারিক, করু সখী মাধব সঙ্গ॥ দেখ দেখ বিনোদ বিলাস। শ্রীবৃন্দাবন, নিরুপম শোভন, আনন্দে ফুল-ছলে হাস॥ কোকিল শবদে, গভির গদগদ রব, কপোত-শবদে সীতকার। অঙ্গ পুলককুল, আসব ঝর ঝর, জনু লোচনে জল-ধার॥ হেরি দুহুঁ সখী সঞে, নিমগন ক্রীড়নে, কত কত অতনু-বিলাস। মাধব হেরি মন, আনন্দে ভূলল, আপন সহচরি পাশ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পহিলহি সুবদনি পাক রচন করি কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৮শ পল্লব, স্নান-যাত্রা, পদসংখ্যা ১৫৪১। ॥ ধানশী॥ পহিলহি সুবদনি পাক রচন করি ভোজন বহু উপহার। সহচরি সঙ্গে গোপতে হেরি পিয়ামুখ আনন্দ রঙ্গ অপার॥ যশোমতি-বচনহি গোরি। রোহিণী কর পর দেই বহু উপহার ভোজন করয়ে নন্দন থোরি॥ ধ্রু॥ কত পরিহাস করয়ে সখাগণ কৌতুক করত পরকাশ। ভোজন সমাপি শয়ন করু পালঙ্কে তাম্বুলে করু মুখ-বাস॥ বহবিধ শপতি বচন কহি যশোমতি ভোজন করাওল রাইয়ে। ও রস-সায়র ঐছন নিতি নিতি মাধব অবধি না পাইয়ে॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পহিলহি সুবদনি পাক রচন করি, ভোজন বহু উপহার। সহচরি-সঙ্গে গোপতে হেরি প্রিয় মুখ আনন্দ-রঙ্গ অপার॥ যশোমতী-বচনহি গোরী। রোহিণী কর পর, দেই বহু উপহার, ভোজন করয়ে নন্দ-নন্দন থোরি॥ কত পরিহাস, করয়ে সখীগণ, কৌতুক করত পরকাশ। ভোজন সমাধি, শয়ন করু পালঙ্কে, তাম্বুলে করু মুখ বাস॥ বহবিধ শপতি, বচন কহি যশোমতী, ভোজন করাওল রাইয়ে। ও রস সায়র, ঐছন নিতি নিতি, মাধব অবধি না পাইয়ে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভয় পাই অতি দেব সুরপতি কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩১শ পল্লব, অভিষেক-লীলা, পদসংখ্যা ১৫৮০। অথ শ্রীকৃষ্ণস্য দেবাভিষেকঃ। ॥ কল্যাণী॥ ভয় পাই অতি দেব সুরপতি আসিয়া গোকুলপুরী। নিভৃতে পাইয়া হরষিত হৈয়া পড়ে কৃষ্ণ-পদ ধরি॥ স্তুতি নতি করি পুন পুন পড়ি অপরাধ ক্ষমাইল। দেবগণ লৈয়া একত্র হইয়া কৃষ্ণ অভিষেক কৈল॥ আসিয়া সুরভি কৃষ্ণ-শিরোপরি ঢালয়ে স্তনের ক্ষীর। দেবগণ মেলি শির পর ঢালি আকাশ-গঙ্গার নীর॥ দুন্দুভি বাজে বিদ্যাধরী নাচে গন্ধর্ব্বে মধুর গায়। পড়ে স্তুতি-বাণী জয় জয় ধ্বনি আকাশ ভেদিয়া যায়॥ দেব-কলোরব মহামহোত্সব নানা মতে পূজা কৈল। হৈয়া দণ্ডবতে পড়িলা ভূমিতে চরণে শরণ লৈল॥ তুষ্ট হৈয়া হরি শুভ দৃষ্টি করি সব দেবগণ পানে। অভয় পাইয়া পজ-রজ লৈয়া গেলা সব দেবগণে॥ নন্দের নন্দন আইলা ভবন লোকে কেহ না জানিল। গাইল মাধব কৃষ্ণ-অভিষেক দেবগণে যেবা কৈল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। অভিষেকলীলা। ॥ কল্যাণী॥ ভয় পাই অতি দেব সুরপতি আসিয়া গোকুলপুরী। নিভৃতে পাইয়া হরষিত হৈয়া পড়ে কৃষ্ণপদ ধরি॥ স্তুতি নতি করি পুন পুন পড়ি অপরাধ ক্ষমাইল। দেবগণ লৈয়া একত্র হইয়া কৃষ্ণ অভিষেক কৈল॥ আসিয়া সুরভি কৃষ্ণ শিরোপরি ঢালয়ে স্তনের ক্ষীর। দেবগণ মিলে শির পর ঢালে আকাশগঙ্গার নীর॥ দুন্দুভি বাজে বিদ্যাধরী নাচে গন্ধর্ব্বে মধুর গায়। পড়ে স্তুতিবাণী জয় জয় ধ্বনি আকাশ ভেদিয়া যায়॥ দেবকলরব মহামহোত্সব নানা মতে পূজা কৈল। হৈয়া দণ্ডবতে পড়িলা ভূমিতে চরণে শরণ লৈল॥ তুষ্ট হৈয়া হরি শুভ দৃষ্টি করি সব দেবগণ পানে। অভয় পাইয়া পজরজ লইয়া গেলা সব দেবগণে॥ নন্দের নন্দন আইলা ভবন লোকে কেহ না জানিল। গাইল মাধব কৃষ্ণঅভিষেক দেবগণে যেবা কৈল॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৬৩পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী॥ ভয় পাই অতি দেব সুরপতি আসিয়া গোকুল পুরী। নিভৃতে পাইয়া হরষিত হৈয়া পড়ে কৃষ্ণ পদ ধরি॥ স্তুতি নতি করি পুনঃ পুনঃ পড়ি অপরাধ ক্ষমাইল। দেবগণ লৈয়া একত্র হইয়া কৃষ্ণ অভিষেক কৈল॥ আসিয়া সুরভি কৃষ্ণ শিরোপরি ঢালয়ে স্তনের ক্ষীর। দেবগণ মেলি শিরোপর ঢালি আকাশ গঙ্গার নীর॥ দুন্দুভি বাজে বিদ্যাধর নাচে গন্ধর্ব্বে মধুর গায়। পড়ে স্তুতিবাণী জয় জয় ধ্বনি আকাশ ভেদিয়া যায়॥ দেব কলরব মহা মহোত্সব নানামতে পূজা কৈল। হৈয়া দণ্ডবতে পড়িলা ভূমিতে চরণ শরণ লৈল॥ তুষ্ট হৈয়া হরি শুভ দৃষ্টি করি সব দেবগণ পানে। অভয় পাইয়া পজরজ লইয়া গেলা সব দেবগণে॥ নন্দের নন্দন আইলা ভবন লোকে কেহ না জানিল। গাইল মাধব কৃষ্ণ অভিষেক দেবগণে যেবা কৈল॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দেবগণ কর্ত্তৃক শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক। ॥ শ্রীরাগ - দুঠুকী॥ ভয় পাই অতি, দেব সুর-পতি, আসিয়া গোকুল পুরি। নিভৃতে পাইয়া, হরষিত হৈয়া, পড়ে কৃষ্ণের পদে ধরি॥ স্তুতি নতি করি, পুন পুন পড়ি, অপরাধ ক্ষমাইল। দেবগণ লৈয়া, একত্র হইয়া, কৃষ্ণ অভিষেক কৈল॥ আসিয়া সুরভি, কৃষ্ণ-শিরোপরি, ঢালয়ে স্তনের ক্ষীর। দেবগণ মিলি, শিরোপর ঢালি, আকাশ-গঙ্গার নীর॥ দুন্দুভি বাজে, বিদ্যাধরী নাচে, গন্ধর্ব্বে মধুর গায়। পড়ে স্তুতি বাণী, জয় জয় ধ্বনি, আকাশ ভেদিয়া যায়॥ দেব কলরব, মহা মহোত্সব, নানামতে পূজা কৈল। হইয়া দণ্ডবতে, পড়িলা ভূমিতে, চরণ শরণ লৈল॥ তুষ্ট হৈয়া হরি, শুভদৃষ্টি করি, সব দেবগণ পানে। অভয় পাইয়া, পজরজ লইয়া, গেলা সব দেবগণে॥ নন্দের নন্দন, আইলা ভবন, লোকে কেহ না জানিল। গাইল মাধব, কৃষ্ণ অভিষেক, দেবগণে যেবা কৈল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌরাঙ্গ সুন্দর প্রেমে গর গর কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৮৬। তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্রঃ। ॥ ধানশী॥ গৌরাঙ্গ সুন্দর প্রেমে গর গর ভ্রময়ে যমুনা-তীরে। কৃষ্ণদাস সহ পূরব রভস- ধাম দেখিয়া ফিরে॥ দেখিতে দেখিতে উনমত-চিতে ভ্রমিতে মোহন বন। কৃষ্ণদাস কহ হের কালিদহ আগে কর দরশন॥ এই ত কদম্ব তরুর উপরে চড়িয়া দিলেন ঝাঁপ। এথা শিশুকুল কান্দিয়া আকুল সুরগণ হেরি কাঁপ॥ ব্রজপুরে কত দেখি উতপাত যতেক বরজ-বাসী। নন্দ যশোমতী হৈয়া উনমতি কান্দয়ে এথায় আসি॥ গোপ গোপীগণ করয়ে রোদন লোটায় অবনী মাঝ। ব্রজ-বাসিকুল হেরি বেয়াকুল উঠিলা নাগর-রাজ॥ এ কথা শুনিয়া বিভোর হইয়া পড়িলা গৌরহরি। পুলকে পূরল সব কলেবর ভূমে যায় গড়াগড়ি॥ কাহাঁ মোর মাতা শ্রীদামাদি সখা কাহাঁ মোর গোপীগণ। ইহা বলি কান্দে থির নাহি বান্ধে মাধব আকুল মন॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ গৌরাঙ্গ সুন্দর, প্রেমে গর গর, ভ্রময়ে যমুনা-তীরে। কৃষ্ণদাস সহ, পূরুব রভস, ধাম দেখিয়া ফিরে॥ দেখিতে দেখিতে উনমত চিতে, ভ্রমিতে মোহন বন। কৃষ্ণদাস কহে, হের কালিদহ, আগে কর দরশন॥ এই ত কদম্ব তরুর উপরে, চড়িয়া দিলেন ঝাঁপে। এথা শিশুকুল, কাঁদিয়া আকুল, সুরগণ হেরি কাঁপে॥ ব্রজপুরে কত দেখি উত্পাত, যতেক ব্রজের বাসী। নন্দ যশোমতী, হৈয়া উনমতি, কাঁদিয়া এথায় আসি॥ গোপ-গোপীগণ, করয়ে রোদন, লোটাঞা অবনী মাঝ। ব্রজবাসিকুল, হেরিয়া আকুল, উঠিলা নাগররাজ॥ এ কথা শুনিয়া, বিভোর হইয়া, পড়িলা গৌরহরি। পুলকে পূরিল সব কলেবর, ভূমে যায় গড়াগড়ি॥ কাঁহা মোর মাতা, শ্রীদামাদি সখা, কাহাঁ মোর গোপীগণ। ইহা বলি কাঁদে, থির নাহি বাঁধে, মাধব আকুল মন॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গৌরচন্দ্র। ধানশী॥ গৌরাঙ্গ সুন্দর, প্রেমে গর গর, ভ্রময়ে যমুনা-তীরে। কৃষ্ণদাস সহ, পূরুব রভস, ধাম দেখিয়া ফিরে॥ দেখিতে দেখিতে উনমত চিতে, ভ্রমিতে মোহন বন। কৃষ্ণদাস কহ, হের কালিদহ, আগে কর দরশন॥ এই কদম্ব, তরুর উপরে, চড়িয়া দিলেন ঝাঁপ। হেথা শিশুকুল, কাঁদিয়া আকুল, সুরগণ হেরি কাঁপ॥ ব্রজপুরে কত, দেখি উত্পাত, যতেক বরজবাসী। নন্দ যশোমতী, হৈয়া উনমতি, কাঁদয়ে এথায় আসি॥ গোপ-গোপীগণ, করয়ে রোদন, লোটায় অবনীমাঝ। ব্রজবাসিকুল, ভাবি বেয়াকুল, উঠিলা নাগররাজ॥ এ কথা শুনিয়া, বিভোর হইয়া, পড়িলা গৌরহরি। পুলকে পূরল, সব কলেবর, ভূমে যায় গড়াগড়ি॥ কাঁহা মোর মাতা, শ্রীদামাদি সখা, কাহাঁ মোর গোপীগণ। ইহা বলি কাঁদে, থির নাহি বাঁধে, মাধব আকুল মন॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৫-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ ধানশী॥ গৌরাঙ্গ সুন্দর, প্রেমে গর গর, ভ্রময়ে যমুনা-তীরে। কৃষ্ণদাস সহ, পূরব রভস, ধাম দেখিয়া ফিরে॥ দেখিতে দেখিতে, উনমত-চিতে, ভ্রমিতে মোহন বন। কৃষ্ণদাস কহ, হোর কালিদহ, আগে কর দরশন॥ এই ত কদম্ব, তরুর উপরে, চড়িয়া দিলেন ঝাঁপ। এথা শিশুকুল, কান্দিয়া আকুল, সুরগণ হেরি কাঁপ॥ ব্রজপুরে কত, দেখি উতপাত, যতেক বরজ বাসী। নন্দ যশোমতী, হৈয়া উনমতি, কান্দিয়ে এথায় আসি॥ গোপ গোপীগণ, করয়ে রোদন, লোটায় অবনী মাঝ। ব্রজ-বাসিকুল, হেরিয়া আকুল, উঠিলা নাগর-রাজ॥ এ কথা শুনিয়া, বিভোর হইয়া, পড়িলা শ্রীগৌরহরি। পুলকে পূরল, সব কলেবর, ভূমে যায় গড়াগড়ি॥ কাহাঁ মোর মাতা, শ্রীদামাদি সখা, কাহাঁ মোর গোপীগণ। ইহা বলি কান্দে, থির নাহি বান্ধে, মাধব আকুল মন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |