কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কালিন্দীর এক দহে কালী নাগ তাহাঁ রহে
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন,
পদসংখ্যা ১৫৮৭।

॥ সিন্ধুড়া॥

কালিন্দীর এক দহে                                কালী নাগ তাহাঁ রহে
বিষ-জল দহন সমান।
তাহার উপরে বায়                                পাখী যদি উড়ি যায়
পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥
বিষ উথলিছে জলে                                প্রাণী যদি যায় কূলে
জলের বাতাস পাঞা মরে।
স্থাবর জঙ্গম যত                                  কূলে মরি আছে কত
বিষ-জ্বালা সহিতে না পারে॥
দেখি যদুনন্দন                                           দুষ্ট-দর্প-বিনাশন
উঠিলেন কদমের ডালে।
তাহার উপরে চড়ি                                    ঘন মালশাট মারি
ঝাঁপ দিলা কালীদহ-জলে॥
দেখিয়া রাখালগণ                                    কান্দিয়া আকুল-মন
পড়ে সভে মুরছিত হৈয়া।
ফুকরি শ্রীদাম কান্দে                              কেহো থির নাহি বান্ধে
ক্ষণেকে চেতন সভে পাঞা॥
কি বলি যাইব ঘরে                                 কি বলিব যশোদারে
ধেনু বত্স কান্দে উভরায়।
শুনিতে এ সব বাণী                                     পাষাণ হইল পানি
মাধব অবনী গড়ি যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কালিয়দমন
॥ সিন্ধুড়া॥

কালিন্দীর এক দহে                                কালীনাগ তাহাঁ রহে
বিষজল দহন সমান।
তাহে বহে বিষ বায়                                পাখী যদি উড়ি যায়
পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥
বিষ উথলিছে জলে                                প্রাণী যদি যায় কূলে
জলের বাতাস তারে মারে।
স্থাবর জঙ্গম যত                                  কূলে মরি আছে কত
বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥
দেখি যদুনন্দন                                           দুষ্ট দর্পবিনাশন
উঠিলেন কদমের ডালে।
তাহার উপরে চড়ি                                     ঘন মালশাট মারি
ঝাঁপ দিলা কালীদহজলে॥
দেখিয়া রাখালগণ                                     কান্দিয়া আকুল মন
পড়ে সভে মুরছিত হৈয়া।
ফুকরি শ্রীদাম কান্দে                              কেহো থির নাহি বান্ধে
ক্ষণেকে চেতন সভে পাঞা॥
কি বলি যাইব ঘরে                                কি বলিব যশোদারে
ধেনু বত্স কান্দে উভরায়।
শুনিতে এ সব বাণী                                পাষাণ হইল পানি
মাধব অবনী গড়ি যায়॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কালিন্দীর এক দহে, কালীনাগ তাহাঁ রহে, বিষজল দহন সমান।
তাহার উপর বায়, পাখী যদি উড়ে যায়, প’ড়ে তাহে ত্যজিয়ে পরাণ॥
বিষ উথলিছে জলে, প্রাণী যদি যায় কূলে, জলের বাতাস পাইয়া মরে।
স্থাবর জঙ্গম যত, কূলে মরিয়াছে কত, বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥
দেখি যদুনন্দন, দুষ্টদর্প-বিনাশন, উঠিলেন কদমের ডালে।
তাহার উপর চড়ি, ঘন মালশাট্ মারি, ঝাঁপ দিলা কালীদহ জলে॥
দেখিয়া রাখালগণ, কান্দিয়া আকুল মন, পড়ে সভে মুরছিত হঞে।
ফুকারি শ্রীদাম কান্দে, কেহ থির নাহি বান্ধে, ক্ষণেকে চেতন সভে পাইয়ে॥
কি বলি যাইব ঘরে, কি বলিব যশোদারে, ধেনুবত্স কান্দে উভরায়।
শুনিতে এসব বাণী, পাষাণ হইল পাণী, মাধব অবনী গড়ি যায়॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কালিন্দীর এক দহে,                                কালী নাগ তাহা রহে
বিষজল দহন সমান।
তাহার উপরে বায়,                                পাখী যদি উড়ে যায়,
পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥
বিষ উথলিছে জলে,                                 প্রাণী যায় যদি কূলে,
জলের বাতাস পাঞা মরে।
স্থাবর জঙ্গম যত,                                    কূলে মরিয়াছে কত,
বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥
দেখি যদুনন্দন,                                           দুষ্ট সর্প বিনাশন,
উঠিলেন কদম্বের ডালে।
তাহার উপরে চড়ি,                                     ঘন মালশাট মারি,
ঝাপ দিলা কালীদহজলে॥
দেখিয়া রাখালগণ,                                     কান্দিয়া আকুল মন,
পড়ে সভে মূরছিত হৈয়া।
ফুকরি শ্রীদাম কান্দে,                                কেহ থির নাহি বান্ধে,
ক্ষণেকে চেতন সবে পাঞা॥
কি বলি যাইব ঘরে,                                 কি বলিব যশোদারে,
ধেনু বত্স কান্দে উভরায়।
শুনিতে এ সব বাণী,                                    পাষাণ হইল পানি,
মাধব অবনী গড়ি যায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দিবসে আন্ধার গোকুল নগর
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন,
পদসংখ্যা ১৫৮৮। এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ গান্ধার॥

দিবসে আন্ধার                                   গোকুল নগর
সঘনে কাঁপয়ে মহী।
রুধির বরিখে                                    নয়ান-নিমিখে
সভাই হেরয়ে অহি॥
নন্দ যশোমতী                                গোপ গোপী-ততি
বিচার করয়ে মনে।
বলরাম বিনে                                      সখাগণ সনে
কানাই গিয়াছে বনে॥
যশোমতী কহে                                     দারুণ স্বপন
দেখিনু রজনী-শেষে।
আমার গোপালে                                 ভূজঙ্গে বেঢ়ল
জারল বিষম বিষে॥
ব্রজ-বাসী কিবা                                  বাল বৃদ্ধ যুবা
শুনিয়া চলিলা ধাই।
যাহাঁ শিশুগণ                                     করয়ে রোদন
তাহাঁই মিলিলা যাই॥
ঝাঁপ দিলা জলে                                   শুনিয়া সকলে
বালকগণের মুখে।
অবনী মাঝারে                                    মুরছি পড়য়ে
মাধব কান্দয়ে দুখে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

দিবসে আন্ধার                                  গোকুল নগর
সঘনে কাঁপয়ে মহী।
রুধির বরিখে                                   নয়ান নিমিখে
সভাই হেরয়ে অহি॥
নন্দ যশোমতী                                গোপ গোপীততি
বিচার করয়ে মনে।
বলরাম বিনে                                     সখাগণ সনে
কানাই গিয়াছে বনে॥
যশোমতী কহে                                   দারুণ স্বপন
দেখিনু রজনীশেষে।
আমার গোপালে                                 ভূজঙ্গে বেঢ়ল
জারল বিষম বিষে॥
ব্রজবাসী কিবা                                   বালবৃদ্ধ যুবা
শুনিয়া চলিলা ধাই।
যাঁহা শিশুগণ                                    করয়ে রোদন
তাহাঁই মিলিলা যাই॥
ঝাঁপ দিলা জলে                                শুনিয়া সকলে
বালকগণের মুখে।
অবনী মাঝারে                                  মুরছি পড়য়ে
মাধব কান্দয়ে দুখে॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

দিবসে আন্ধার, গোকুল নগর, সঘনে কাঁপয়ে মহী।
রুধির বরিখে, নয়ান নিমিখে, সভাই হেরয়ে অহি॥
নন্দ যশোমতী, গোপগোপী তথি, বিচার করয়ে মনে।
বলরাম বিনে, সখাগণ সনে, কানাই গিয়াছে বনে॥
যশোমতী কহে, দারুণ স্বপন, দেখিনু রজনী শেষে।
আমার গোপালে, ভূজঙ্গ বেঢ়ল, জারল বিষম বিষে॥
ব্রজবাসী কিবা, বালবৃদ্ধযুবা, শুনিয়া চলিলা ধাই।
যাহাঁ শিশুগণ, করয়ে রোদন, তাঁহাই মিলিল যাই॥
ঝাঁপ দিলা জলে, শুনিয়া সকলে, বালক গণের মুখে।
অবনীমাঝারে, মুরছি পড়য়ে, মাধব কান্দে যে দুখে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কান্দে ব্রজেশ্বরী উচ্চ স্বর করি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন,
পদসংখ্যা ১৫৮৯।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে ব্রজেশ্বরী                                উচ্চ স্বর করি
কোথা রে গোকুল-চন্দ।
ভুলি কার বোলে                             ঝাঁপ দিয়া জলে
ভুজগে হইলা বন্ধ॥
অপুত্রক হৈয়া                                    মন্দির লৈয়া
আছিলুঁ পরম সুখে।
পুত্র হৈয়া তুমি                                  জঠরে জনমি
শেল দিয়া গেলা বুকে॥
নিদারুণ বিধি                                  এ বাদ সাধিলা
বিচারিলা অদভুত।
কি দোষ পাইয়া                                লইলা কাড়িয়া
আমার সোণার সুত॥
সিরে কর হানে                                বিষ-জল পানে
সঘনে ধাইয়া যায়।
দুবাহু পসারি                                      বলরাম ধরি
প্রবোধ করয়ে তায়॥
নন্দঘোষ কান্দে                               থির নাহি বান্ধে
ভূমে পড়ি মুরছায়।
গোপগণ তাহা                                  হেরিয়া কান্দয়ে
মাধব প্রবোধে তায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে ব্রজেশ্বরী                                উচ্চ স্বর করি
কোথা রে গোকুলচন্দ।
ভুলি কার বোলে                             ঝাঁপ দিয়া জলে
ভুজগে হইলা বন্ধ॥
অপুত্রক হৈয়া                                    মন্দির লৈয়া
আছিলুঁ পরম সুখে।
পুত্র হৈয়া তুমি                                   জঠরে জনমি
শেল দিয়া গেলে বুকে॥
নিদারুণ বিধি                                   এ বাদ সাধিলা
বিচারিলা অদভুত।
কি দোষ পাইয়া                                লইলা কাড়িয়া
আমার সোণার সুত॥
সিরে কর হানে                                বিষজল পানে
সঘনে ধাইয়া যায়।
দুবাহু পসারি                                     বলরাম ধরি
প্রবোধ করয়ে তায়॥
নন্দঘোষ কান্দে                                থির নাহি বান্ধে
ভূমে পড়ি মুরছায়।
গোপগণ তাহা                                হেরিয়া কান্দয়ে
মাধব প্রবোধে তায়॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে ব্রজেশ্বরী, উচ্চৈঃস্বর করি, কোথারে গোকুলচন্দ্র।
ভুলি কার বোলে, ঝাঁপ দিয়া জলে, ভুজগে হইলা বন্ধ॥
অপুত্রক হঞা, মন্দির লইয়া, আছিনু পরম সুখে।
পুত্র হয়ে তুমি, জঠরে জনমি, শেল দিয়া গেলা বুকে॥
নিদারুণ বিধি, যে বাদ সাধিলা, বিচারিলা অদভুত।
কি দোষ পাইয়া, লইলা কাড়িয়া, আমার সোণার সুত॥
শিরে কর হানে, বিষজল পানে, সঘনে ধাইয়া যায়।
দুবাহু পসারি, বলরাম ধরি, প্রবোধ করয়ে তায়॥
নন্দঘোষ কান্দে, থির নাহি বান্ধে, ভূমে পড়ি মুরছায়।
গোপগণ তাহা, হেরিয়া কান্দয়ে, মাধব প্রবোধে তায়॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে ব্রজেশ্বরী,                             উচ্চৈঃ-স্বর করি,
কোথা রে গোকুল-চন্দ্র।
ভুলি কার বোলে,                             ঝাঁপ দিলা জলে,
ভুজগে হইলা বন্ধ॥
অপুত্রক হৈয়া,                                    মন্দির লৈয়া,
আছিলুঁ পরম সুখে।
পুত্র হৈয়া তুমি,                                   জঠরে জনমি,
শেল দিয়া গেলা বুকে॥
নিদারুণ বিধি,                                   এ বাদ সাধিলা,
বিচারিলা অদভুত।
কি দোষ পাইয়া,                                লইলা কাড়িয়া,
আমার সোণার সুত॥
শিরে কর হানে,                                বিষ-জল-পানে,
সঘনে ধাইয়া যায়।
দুবাহু পসারি,                                      বলরাম ধরি,
প্রবোধ করয়ে তায়॥
নন্দঘোষ কান্দে,                                থির নাহি বান্ধে,
ভূমে পড়ি মুরছায়।
গোপগণ তাহা,                                 হেরিয়া কান্দয়ে,
মাধব প্রবোধে তায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজ-বাসিগণ-জীবন-শেষ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম
পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৯২। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৬-পৃষ্ঠায় এবং
১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
পদলহরী”, ৫৩৭-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ সুহই॥

ব্রজ-বাসিগণ-জীবন-শেষ।
দেখিয়া উঠিলা নটন-বেশ॥
কালিয়া-ফণায় নটন-রঙ্গ।
হেরি জনু তনু জীবন সঙ্গ॥
মরণ-শরীরে আইল প্রাণ।
হেরিয়া ঐছন সবহুঁ মান॥
ফণায় ফণায় দমন করি।
নটবর-ভঙ্গে নাচয়ে হরি॥
ভাঙ্গিল দরপ ভুজগ-ঈশ।
উগারে অনল-সমান বিষ॥
ফণি-মণিগণ পড়য়ে খসি।
পূজয়ে চরণ-নখর-শশী॥
নাগাঙ্গণাগণ করয়ে স্তুতি।
শুনি ব্রজ-মণি হরষ-মতি॥
ফণি-পতি অতি হইয়া ভীত।
শরণ লইল চরণ নীত॥
ফণি-পতিবরে অভয় করি।
জল সঞে তীরে আইলা হরি॥
মাতা যশোমতী লইল কোরে।
মাধব ভাসয়ে আনন্দ লোরে॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

.        ॥ সুহই॥

ব্রজবাসিগণ জীবন শেষ।
দেখিয়া উঠিলা নটন বেশ॥
কালিয় ফণায় নটন রঙ্গে।
হেরি জনু তনু জীবন সঙ্গে॥
মরণ শরীরে আইল প্রাণ।
হেরিয়া ঐছন সবহু মান॥
ফণায় ফণায় দমন করি।
নটবর রঙ্গে নাচয়ে হরি॥
ভাঙ্গিল দরপ ভুজগ ঈশ।
উগারে অনল সমান বিষ॥
ফণীমণিগণ পড়য়ে খসি।
পূজয়ে চরণ নখরশশী॥
নাগাঙ্গণাগণ করয়ে স্তুতি।
শুনি ব্রজমণি হরষমতি॥
ফণীমণিপতি হইয়া ভীত।
শরণ লইল চরণ নীত॥
ফণীপতি বরে অভয় করি।
জল সঞে তীরে আইলা হরি॥
মাতা যশোমতী লইল কোরে।
মাধব ভাসয়ে আনন্দ-লোরে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তেজল গুরুকুল-গৌরব লাজ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১১শ
পল্লব, দশ দশা, পদসংখ্যা ১৯২৯।

.        ॥ সুহিনী॥

তেজল গুরুকুল-গৌরব লাজ।
তেজল গৃহ গৃহ-পতিক সমাজ॥
তেজল লোক নগর ঘর-বসতি।
তেজল ভূষণ অশন-রস-পিরিতি॥
তেজল হৃষিক-করণ অভিলাষ।
তেজল বদনে অমিয়াময় ভাষ॥
তেজল নয়নে নিমিষ অবিরাম।
তেজল কিশলয়-শয়নক নাম॥
শুন সুন বজর-কঠিন পিত-বাস।
তেজল অব ধনি জীবন-আশ॥
তেজল বিরহিণি সবহুঁ গেয়ান।
নবমি দশা সভে করু অনুমান॥
অব যদি যাই করহ অবসাদ।
মাধব তোহারি চরণ ধরি কাঁদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার বিরহ
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
.        ॥ সুহিনী॥

তেজল গুরুকুলগৌরব লাজ।
তেজল গৃহ গৃহপতিক সমাজ॥
তেজল লোক নগর ঘরবসতি।
তেজল ভূষণ অশন রসপিরীতি॥
তেজল হৃষিককরণ অভিলাষ।
তেজল বদনে অমিয়াময় ভাষ॥
তেজল নয়নে নিমিষ অবিরাম।
তেজল কিশলয়শয়নক নাম॥
শুন শুন বজরকঠিন পিতবাস।
তেজল অব ধনি জীবনআশ॥
তেজল বিরহিণী সবহুঁ গেয়ান।
নবমিদশা সভে করু অনুমান॥
অব যদি যাই করহ অবসাদ।
মাধব তোহারি চরণ ধরি কাঁদ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব
চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত,
১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                ॥ রাগিণী সুহই - তাল সমুচিত॥

তেজল গুরুকুলগৌরব লাজ। তেজল গৃহ গৃহ-পতিক সমাজ॥
তেজল লোক নগর বসতি। তেজল ভূষণ অশন রস পিরিতি॥
তেজল ঋষিক কবল অভিলাষ। তেজল বদনে অমিয়াময় ভাষ॥
তেজল নয়নে নিমিষ অবিরাম। তেজল কিশলয় শয়নক নাম॥
সুনসুন বজর কঠিন পিতবাস। তেজল অব ধনি জীবনক আশ॥
তেজল বিরহিণি সবহু গেয়ান। নবমি দশা ভেল করূ অনুমান॥
অব যদি জাই করহ অবসাদে। মাধব তোহারি চরণ ধরি কান্দে॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ সুহিনী॥

তেজল গুরুকুল-গৌরব-লাজ।
তেজল গৃহ গৃহ-পতিক সমাজ॥
তেজল লোক নগর ঘর বসতি।
তেজল ভূষণ আসন রস পিরীতি॥
তেজল হৃষীক-করণ অভিলাষ।
তেজল বদনে অমিয়াময় ভাষ॥
তেজল নয়নে নিমিষ অবিরাম।
তেজল কিশলয়-শয়নক নাম॥
শুন সুন বজর কঠিন পিত-বাস।
তেজল অব ধনী জীবন-আশ॥
তেজল বিরহিণি সবহুঁ গেয়ান।
নবমি দশা ভেল করু অনুমান॥
অব যদি যাই করহ অবসাদ।
মাধব তোহারি চরণ ধরি কাঁদ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ অপরূপ চৈতন্য হাট
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা,
২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দ গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩২২।

.        ॥ কল্যাণী॥

দেখ অপরূপ চৈতন্য হাট।
কুলের কামিনী করয়ে নাট॥
হাট বসাওল নিতাই বীর।
কাহুঁক চরণ কাহুঁক শীর॥
অবনী কম্পিত নিতাই-ভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীর স্বরে॥
গৌর বলিতে সৌর-হীন।
প্রেমে না জানে রজনী দিন॥
এ বড় মরমে রহল শেল।
নিতাই না ভজি বিফল ভেল॥
কহয়ে মাধব শুন রে ভাই।
নিতাই ভজিলে গৌরাঙ্গ পাই॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এবং ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ কল্যাণী॥

দেখ অপরূপ চৈতন্য হাট।
কুলের কামিনী করয়ে নাট॥
হাট বসাওল নিতাই বীর।
কাহুঁ চরণ কাহুঁক শির॥
অবনী কম্পিত নিতাই-ভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীরস্বরে॥
গৌর বলিতে সৌরহীন।
প্রেমেতে না জানে রজনী-দিন॥
এ বড় মরমে রহল শেল।
নিতাই না ভজি বিফল ভেল॥
কহয়ে মাধব শুন রে ভাই।
নিতাই ভজিলে গৌর পাই॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শরদ-সুধাকর কিয়ে মুখ-শোভা
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার
রূপ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৪৬১।

অথ শ্রীরাধায়াং যথা।
॥ তথারাগ॥ (ইমন্)

শরদ-সুধাকর কিয়ে মুখ-শোভা।
কুঙ্কুম-কাঞ্চন                                        বিজুরি-গোরোচন-
চম্পক-হরণ বরণ মন-লোভা॥
দেখ দেখ রাধা-রূপ অপারা।
মদন-মোহন                                           বাহিতে অনুখণ
লাবণি প্রেম-অমিয়া-রস-ধারা॥
শির পর কুসুম-খচিত বর-বেণী।
লম্বিত হৃদি পর                                         মাতি-মাল বর
সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥
কনক-করভ-কর ভুজবর সাজে।
কেশরি খীণ কটী                                     মণি-কিঙ্কিণি তটী
গতি গজরাজ মনোহর রাজে॥
থল-পঙ্কজ পদ-শোভা।
নখর-মুকুর-মণি-                                         মঞ্জির রণরণি
মাধব-নয়ন-ভ্রমর-চিত-ক্ষোভা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপ।
॥ তথারাগ॥

শারদ সুধাকর কিয়ে মুখশোভা।
কুঙ্কুম কাঞ্চন                                        বিজুরি গোরোচন
চম্পকহরণ বরণ মনলোভা॥
দেখ দেখ রাধারূপ অপারা।
মদনমোহন                                           মোহিতে অনুখণ
লাবণি প্রেমঅমিয়া রসধারা॥
শির পর কুসুম খচিত বরবেণী।
লম্বিত হৃদি পর                                         মাতি মাল্যবর
সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥
কনককরভকর ভুজবর সাজে।
কেশরি খীণ কটী                                     মণি কিঙ্কিণি তটী
গতি গজরাজ মনোহর রাজে॥
থলপঙ্কজ পদশোভা।
নখরমুকুরমণি                                          মঞ্জির রণরণি
মাধবনয়ন ভ্রমরচিতক্ষোভা॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শরদ সুধাকর কিয়ে মুখ শোভা।
কুঙ্কুম কাঞ্চন,                                        বিজুরী-গোরোচন,
চম্পক হরণ বরণ মনলোভা॥
দেখ দেখ রাধা-রূপ অপারা।
মদন-মোহন,                                          বাহিতে অনুখণ,
লাবণী প্রেম-অমিয়া রস ধারা॥
শিরোপর কুসুম-খচিত বরবেণী।
লম্বিত হৃদিপর,                                          মাতিমাল বর,
সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥
কনক-করভ-কর ভুজবর সাজে।
কেশরি ক্ষীণ কটী,                                   মণি-কিঙ্কিণী তটী,
গজ গজরাজ মনোহর রাজে॥
থল কমল পদ শোভা।
নখর মুকুর মণি-                                        মঞ্জীর রণরণি,
মাধব নয়ন ভ্রমর চিত-ক্ষোভা॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুনিয়া বিশাখা কহে বাণী
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫১৬।

.        ॥ সুহিনী॥

শুনিয়া বিশাখা কহে বাণী।
কি দেখি কি কহ ঠাকুরাণি॥
সখী মোর কুল-বরতিনী।
নিজ পতি বিনে নাহি জানি॥
কালি কুহু বরতি সকলে।
তাহে দিল হলদীর জলে॥
তেঞী পীত হইল বসন।
তুহুঁ তাহে কাহে আন-মন॥
বরজ-লম্পট শঠ কীরে।
বিম্বু-ভানে দংশিল অধরে॥
পুন সে দাড়িম-ভান করি।
পদ-নখে হৃদয় বিদারি॥
তুহুঁ সব-অন্তর-যামিনী।
জানি কাহে কহ হেন বাণী॥
এত কহি পরিণাম কেল।
শুনি হাসি ভগবতী গেল॥
মাধব আনন্দ ভেল।
পীত বসন তহিঁ নেল॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

অষ্টকালীয় নিত্যলীলা
.        ॥ সুহিনী॥

শুনিয়া বিশাখা কহে বাণী।
কি দেখি কি কহ ঠাকুরাণি॥
সখী মোর কুলবরতিনী।
নিজ পতি বিনে নাহি জানি॥
কালি কুহু বরতি সকলে।
তাহে দিল হলদীর জলে॥
তেঞী পীত হইল বসন।
তুহুঁ তাহে কাহে আনমন॥
বরজলম্পট শঠ কীরে।
বিম্ব ভানে দংশিল অধরে॥
পুন সে দাড়িমভান করি।
পদনখে হৃদয় বিদারি॥
তুহুঁ সব অন্তরযামিনী।
জানি কাহে কহ হেন বাণী॥
এত কহি পরিণাম কেল।
শুনি হাসি ভগবতী গেল॥
মাধব আনন্দ ভেল।
পীত বসন তহিঁ নেল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখিগণ নিজ গৃহে কয়ল সিনান
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫১৯।

.        ॥ ধানশী॥

সখিগণ নিজ গৃহে কয়ল সিনান।
বেশ ভূষণ সব করি নিরমাণ॥
গৃহ নিজ কাজ সমাপন কেল।
রাইক মন্দিরে তুরিতহিঁ গেল॥
হেরল শশি-মুখী শয়নক মাঝ।
তুরিতহি লেয়ল শয়নক সাজ॥
আনহি মন্দিরে আনলি রাই।
মুখ-শোধনি লেই দাসি যোগাই॥
রতন পীঠ পর বৈঠল যাই।
হাসি হাসি মুখানি পাখালয়ে তাই॥
মাজল দশন সুরঙ্গিম-কাঁতি।
উজরল কুন্দ-সুকোরক-পাঁতি॥
শোধল রসনা-শোধনি করি হাত।
উজলিত জনু থল-কমলক পাত॥
শিতল সুগন্ধিত জল করে নেল।
গণ্ডুষে পুন পুন শোধন কেল॥
মুখানি মুছিয়া পুন তেজলি বাস।
সখি সয়ে বৈঠল আনন্দে ভাস॥
কত কত কৌতুক হাস পরিহাস।
মাধব আনন্দ সাগরে ভাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

সখিগণ নিজ গৃহে কয়ল সিনান।
বেশ ভূষণ সব করি নিরমাণ॥
গৃহ নিজ কাজ সমাপন কেল।
রাইক মন্দিরে তুরিতহিঁ গেল॥
হেরল শশিমুখী শয়নক মাঝ।
তুরিতহি লেয়ল শয়নক সাজ॥
আনহি মন্দিরে আনলি রাই।
মুখশোধনি লেই দাসি যোগাই॥
রতন পীঠ পর বৈঠল যাই।
হাসি হাসি মুখানি পাখালযে তাই॥
মাজল দশন সুরঙ্গিমকাঁতি।
উজরল কুন্দসুকোরকপাঁতি॥
শোধল রসনাশোধনি করি হাত।
উজলিত জনু থলকমলক পাত॥
শিতল সুগন্ধিত জল করে নেল।
গণ্ডূষে পুন পুন শোধন কেল॥
মুখানি মুছিয়া পুন তেজলি বাস।
সখি সঞে বৈঠল আনন্দনিবাস॥
কত কত কৌতুক হাস পরিহাস।
মাধব আনন্দসাগরে ভাস॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দাম শ্রীদাম সুদাম সহিত
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৪০। এই পদটি ১৯৩৪ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (রামকেলি)

দাম শ্রীদাম সুদাম সহিত।
আওল নন্দ-মহলে উপনীত॥
উজ্জ্বল কোকিল মীলল তায়।
সঘনে ভাই বলি বদন বাজায়॥
ভদ্র সুভদ্র সেন বীরভদ্র।
অনুখন বচন ধরই কত ছদ্ম॥
আওল সুবর গুণ জগতে অতুল।
ধীর গভীর বচন-অনুকূল॥
নিরমল গৌর-বরণ মুখচান্দ।
পহিরণ নীল বসন করে ছান্দ॥
সকল সখা মেলি অঙ্গনে আই।
ফুকারয়ে জাগহ ভাই কানাই॥
শুনইতে ঐছন মধুরিম ভাষ।
আনন্দে মাধব দূরহি হাস॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর