| কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| কালিন্দীর এক দহে কালী নাগ তাহাঁ রহে কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৮৭। ॥ সিন্ধুড়া॥ কালিন্দীর এক দহে কালী নাগ তাহাঁ রহে বিষ-জল দহন সমান। তাহার উপরে বায় পাখী যদি উড়ি যায় পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥ বিষ উথলিছে জলে প্রাণী যদি যায় কূলে জলের বাতাস পাঞা মরে। স্থাবর জঙ্গম যত কূলে মরি আছে কত বিষ-জ্বালা সহিতে না পারে॥ দেখি যদুনন্দন দুষ্ট-দর্প-বিনাশন উঠিলেন কদমের ডালে। তাহার উপরে চড়ি ঘন মালশাট মারি ঝাঁপ দিলা কালীদহ-জলে॥ দেখিয়া রাখালগণ কান্দিয়া আকুল-মন পড়ে সভে মুরছিত হৈয়া। ফুকরি শ্রীদাম কান্দে কেহো থির নাহি বান্ধে ক্ষণেকে চেতন সভে পাঞা॥ কি বলি যাইব ঘরে কি বলিব যশোদারে ধেনু বত্স কান্দে উভরায়। শুনিতে এ সব বাণী পাষাণ হইল পানি মাধব অবনী গড়ি যায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কালিয়দমন ॥ সিন্ধুড়া॥ কালিন্দীর এক দহে কালীনাগ তাহাঁ রহে বিষজল দহন সমান। তাহে বহে বিষ বায় পাখী যদি উড়ি যায় পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥ বিষ উথলিছে জলে প্রাণী যদি যায় কূলে জলের বাতাস তারে মারে। স্থাবর জঙ্গম যত কূলে মরি আছে কত বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥ দেখি যদুনন্দন দুষ্ট দর্পবিনাশন উঠিলেন কদমের ডালে। তাহার উপরে চড়ি ঘন মালশাট মারি ঝাঁপ দিলা কালীদহজলে॥ দেখিয়া রাখালগণ কান্দিয়া আকুল মন পড়ে সভে মুরছিত হৈয়া। ফুকরি শ্রীদাম কান্দে কেহো থির নাহি বান্ধে ক্ষণেকে চেতন সভে পাঞা॥ কি বলি যাইব ঘরে কি বলিব যশোদারে ধেনু বত্স কান্দে উভরায়। শুনিতে এ সব বাণী পাষাণ হইল পানি মাধব অবনী গড়ি যায়॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কালিন্দীর এক দহে, কালীনাগ তাহাঁ রহে, বিষজল দহন সমান। তাহার উপর বায়, পাখী যদি উড়ে যায়, প’ড়ে তাহে ত্যজিয়ে পরাণ॥ বিষ উথলিছে জলে, প্রাণী যদি যায় কূলে, জলের বাতাস পাইয়া মরে। স্থাবর জঙ্গম যত, কূলে মরিয়াছে কত, বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥ দেখি যদুনন্দন, দুষ্টদর্প-বিনাশন, উঠিলেন কদমের ডালে। তাহার উপর চড়ি, ঘন মালশাট্ মারি, ঝাঁপ দিলা কালীদহ জলে॥ দেখিয়া রাখালগণ, কান্দিয়া আকুল মন, পড়ে সভে মুরছিত হঞে। ফুকারি শ্রীদাম কান্দে, কেহ থির নাহি বান্ধে, ক্ষণেকে চেতন সভে পাইয়ে॥ কি বলি যাইব ঘরে, কি বলিব যশোদারে, ধেনুবত্স কান্দে উভরায়। শুনিতে এসব বাণী, পাষাণ হইল পাণী, মাধব অবনী গড়ি যায়॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কালিন্দীর এক দহে, কালী নাগ তাহা রহে বিষজল দহন সমান। তাহার উপরে বায়, পাখী যদি উড়ে যায়, পড়ে তাহে তেজিয়া পরাণ॥ বিষ উথলিছে জলে, প্রাণী যায় যদি কূলে, জলের বাতাস পাঞা মরে। স্থাবর জঙ্গম যত, কূলে মরিয়াছে কত, বিষজ্বালা সহিতে না পারে॥ দেখি যদুনন্দন, দুষ্ট সর্প বিনাশন, উঠিলেন কদম্বের ডালে। তাহার উপরে চড়ি, ঘন মালশাট মারি, ঝাপ দিলা কালীদহজলে॥ দেখিয়া রাখালগণ, কান্দিয়া আকুল মন, পড়ে সভে মূরছিত হৈয়া। ফুকরি শ্রীদাম কান্দে, কেহ থির নাহি বান্ধে, ক্ষণেকে চেতন সবে পাঞা॥ কি বলি যাইব ঘরে, কি বলিব যশোদারে, ধেনু বত্স কান্দে উভরায়। শুনিতে এ সব বাণী, পাষাণ হইল পানি, মাধব অবনী গড়ি যায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দিবসে আন্ধার গোকুল নগর কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৮৮। এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ দিবসে আন্ধার গোকুল নগর সঘনে কাঁপয়ে মহী। রুধির বরিখে নয়ান-নিমিখে সভাই হেরয়ে অহি॥ নন্দ যশোমতী গোপ গোপী-ততি বিচার করয়ে মনে। বলরাম বিনে সখাগণ সনে কানাই গিয়াছে বনে॥ যশোমতী কহে দারুণ স্বপন দেখিনু রজনী-শেষে। আমার গোপালে ভূজঙ্গে বেঢ়ল জারল বিষম বিষে॥ ব্রজ-বাসী কিবা বাল বৃদ্ধ যুবা শুনিয়া চলিলা ধাই। যাহাঁ শিশুগণ করয়ে রোদন তাহাঁই মিলিলা যাই॥ ঝাঁপ দিলা জলে শুনিয়া সকলে বালকগণের মুখে। অবনী মাঝারে মুরছি পড়য়ে মাধব কান্দয়ে দুখে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ দিবসে আন্ধার গোকুল নগর সঘনে কাঁপয়ে মহী। রুধির বরিখে নয়ান নিমিখে সভাই হেরয়ে অহি॥ নন্দ যশোমতী গোপ গোপীততি বিচার করয়ে মনে। বলরাম বিনে সখাগণ সনে কানাই গিয়াছে বনে॥ যশোমতী কহে দারুণ স্বপন দেখিনু রজনীশেষে। আমার গোপালে ভূজঙ্গে বেঢ়ল জারল বিষম বিষে॥ ব্রজবাসী কিবা বালবৃদ্ধ যুবা শুনিয়া চলিলা ধাই। যাঁহা শিশুগণ করয়ে রোদন তাহাঁই মিলিলা যাই॥ ঝাঁপ দিলা জলে শুনিয়া সকলে বালকগণের মুখে। অবনী মাঝারে মুরছি পড়য়ে মাধব কান্দয়ে দুখে॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ দিবসে আন্ধার, গোকুল নগর, সঘনে কাঁপয়ে মহী। রুধির বরিখে, নয়ান নিমিখে, সভাই হেরয়ে অহি॥ নন্দ যশোমতী, গোপগোপী তথি, বিচার করয়ে মনে। বলরাম বিনে, সখাগণ সনে, কানাই গিয়াছে বনে॥ যশোমতী কহে, দারুণ স্বপন, দেখিনু রজনী শেষে। আমার গোপালে, ভূজঙ্গ বেঢ়ল, জারল বিষম বিষে॥ ব্রজবাসী কিবা, বালবৃদ্ধযুবা, শুনিয়া চলিলা ধাই। যাহাঁ শিশুগণ, করয়ে রোদন, তাঁহাই মিলিল যাই॥ ঝাঁপ দিলা জলে, শুনিয়া সকলে, বালক গণের মুখে। অবনীমাঝারে, মুরছি পড়য়ে, মাধব কান্দে যে দুখে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কান্দে ব্রজেশ্বরী উচ্চ স্বর করি কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৮৯। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে ব্রজেশ্বরী উচ্চ স্বর করি কোথা রে গোকুল-চন্দ। ভুলি কার বোলে ঝাঁপ দিয়া জলে ভুজগে হইলা বন্ধ॥ অপুত্রক হৈয়া মন্দির লৈয়া আছিলুঁ পরম সুখে। পুত্র হৈয়া তুমি জঠরে জনমি শেল দিয়া গেলা বুকে॥ নিদারুণ বিধি এ বাদ সাধিলা বিচারিলা অদভুত। কি দোষ পাইয়া লইলা কাড়িয়া আমার সোণার সুত॥ সিরে কর হানে বিষ-জল পানে সঘনে ধাইয়া যায়। দুবাহু পসারি বলরাম ধরি প্রবোধ করয়ে তায়॥ নন্দঘোষ কান্দে থির নাহি বান্ধে ভূমে পড়ি মুরছায়। গোপগণ তাহা হেরিয়া কান্দয়ে মাধব প্রবোধে তায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে ব্রজেশ্বরী উচ্চ স্বর করি কোথা রে গোকুলচন্দ। ভুলি কার বোলে ঝাঁপ দিয়া জলে ভুজগে হইলা বন্ধ॥ অপুত্রক হৈয়া মন্দির লৈয়া আছিলুঁ পরম সুখে। পুত্র হৈয়া তুমি জঠরে জনমি শেল দিয়া গেলে বুকে॥ নিদারুণ বিধি এ বাদ সাধিলা বিচারিলা অদভুত। কি দোষ পাইয়া লইলা কাড়িয়া আমার সোণার সুত॥ সিরে কর হানে বিষজল পানে সঘনে ধাইয়া যায়। দুবাহু পসারি বলরাম ধরি প্রবোধ করয়ে তায়॥ নন্দঘোষ কান্দে থির নাহি বান্ধে ভূমে পড়ি মুরছায়। গোপগণ তাহা হেরিয়া কান্দয়ে মাধব প্রবোধে তায়॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে ব্রজেশ্বরী, উচ্চৈঃস্বর করি, কোথারে গোকুলচন্দ্র। ভুলি কার বোলে, ঝাঁপ দিয়া জলে, ভুজগে হইলা বন্ধ॥ অপুত্রক হঞা, মন্দির লইয়া, আছিনু পরম সুখে। পুত্র হয়ে তুমি, জঠরে জনমি, শেল দিয়া গেলা বুকে॥ নিদারুণ বিধি, যে বাদ সাধিলা, বিচারিলা অদভুত। কি দোষ পাইয়া, লইলা কাড়িয়া, আমার সোণার সুত॥ শিরে কর হানে, বিষজল পানে, সঘনে ধাইয়া যায়। দুবাহু পসারি, বলরাম ধরি, প্রবোধ করয়ে তায়॥ নন্দঘোষ কান্দে, থির নাহি বান্ধে, ভূমে পড়ি মুরছায়। গোপগণ তাহা, হেরিয়া কান্দয়ে, মাধব প্রবোধে তায়॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে ব্রজেশ্বরী, উচ্চৈঃ-স্বর করি, কোথা রে গোকুল-চন্দ্র। ভুলি কার বোলে, ঝাঁপ দিলা জলে, ভুজগে হইলা বন্ধ॥ অপুত্রক হৈয়া, মন্দির লৈয়া, আছিলুঁ পরম সুখে। পুত্র হৈয়া তুমি, জঠরে জনমি, শেল দিয়া গেলা বুকে॥ নিদারুণ বিধি, এ বাদ সাধিলা, বিচারিলা অদভুত। কি দোষ পাইয়া, লইলা কাড়িয়া, আমার সোণার সুত॥ শিরে কর হানে, বিষ-জল-পানে, সঘনে ধাইয়া যায়। দুবাহু পসারি, বলরাম ধরি, প্রবোধ করয়ে তায়॥ নন্দঘোষ কান্দে, থির নাহি বান্ধে, ভূমে পড়ি মুরছায়। গোপগণ তাহা, হেরিয়া কান্দয়ে, মাধব প্রবোধে তায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শরদ-সুধাকর কিয়ে মুখ-শোভা কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার রূপ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৪৬১। অথ শ্রীরাধায়াং যথা। ॥ তথারাগ॥ (ইমন্) শরদ-সুধাকর কিয়ে মুখ-শোভা। কুঙ্কুম-কাঞ্চন বিজুরি-গোরোচন- চম্পক-হরণ বরণ মন-লোভা॥ দেখ দেখ রাধা-রূপ অপারা। মদন-মোহন বাহিতে অনুখণ লাবণি প্রেম-অমিয়া-রস-ধারা॥ শির পর কুসুম-খচিত বর-বেণী। লম্বিত হৃদি পর মাতি-মাল বর সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥ কনক-করভ-কর ভুজবর সাজে। কেশরি খীণ কটী মণি-কিঙ্কিণি তটী গতি গজরাজ মনোহর রাজে॥ থল-পঙ্কজ পদ-শোভা। নখর-মুকুর-মণি- মঞ্জির রণরণি মাধব-নয়ন-ভ্রমর-চিত-ক্ষোভা॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার রূপ। ॥ তথারাগ॥ শারদ সুধাকর কিয়ে মুখশোভা। কুঙ্কুম কাঞ্চন বিজুরি গোরোচন চম্পকহরণ বরণ মনলোভা॥ দেখ দেখ রাধারূপ অপারা। মদনমোহন মোহিতে অনুখণ লাবণি প্রেমঅমিয়া রসধারা॥ শির পর কুসুম খচিত বরবেণী। লম্বিত হৃদি পর মাতি মাল্যবর সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥ কনককরভকর ভুজবর সাজে। কেশরি খীণ কটী মণি কিঙ্কিণি তটী গতি গজরাজ মনোহর রাজে॥ থলপঙ্কজ পদশোভা। নখরমুকুরমণি মঞ্জির রণরণি মাধবনয়ন ভ্রমরচিতক্ষোভা॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শরদ সুধাকর কিয়ে মুখ শোভা। কুঙ্কুম কাঞ্চন, বিজুরী-গোরোচন, চম্পক হরণ বরণ মনলোভা॥ দেখ দেখ রাধা-রূপ অপারা। মদন-মোহন, বাহিতে অনুখণ, লাবণী প্রেম-অমিয়া রস ধারা॥ শিরোপর কুসুম-খচিত বরবেণী। লম্বিত হৃদিপর, মাতিমাল বর, সুমেরু ভেদিয়া জনু বহত ত্রিবেণী॥ কনক-করভ-কর ভুজবর সাজে। কেশরি ক্ষীণ কটী, মণি-কিঙ্কিণী তটী, গজ গজরাজ মনোহর রাজে॥ থল কমল পদ শোভা। নখর মুকুর মণি- মঞ্জীর রণরণি, মাধব নয়ন ভ্রমর চিত-ক্ষোভা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |