কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
আওল রাম শুনই উতরোল
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৪১।

.        ॥ তথারাগ॥ (রামকেলি)

আওল রাম শুনই উতরোল।
চরণ বিলম্বিত নীল নীচোল॥
সুরজত গলিত ললিত কিয়ে কাঁতি।
ঢর ঢর নয়ন-কমল কত ভাতি॥
অঙ্গহি অঙ্গ অনঙ্গ মুরছায়।
দোহন-বেগ্র বেত্র ধরু তায়॥
বাম করে লেই ছাঁদন ডোর।
মাধব হেরইতে আনন্দে ভোর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥

আওল রাম শুনই উতরোল।
চরণ বিলম্বিত নীল নীচোল॥
সুরজত গলিত ললিত কিয়ে কাঁতি।
ঢর ঢর নয়ন-কমল কত ভাতি॥
অঙ্গহি অঙ্গ অনঙ্গ মুরছায়।
দোহন পাত্র বেত্র ধরু তায়॥
বাম করে লেই ছাঁদন ডোর।
মাধব হেরইতে আনন্দে ভোর॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যে পথে নাগর-শিরোমণি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৫১।

॥ তথারাগ॥ (ভাটিয়ারি)

যে পথে নাগর-শিরোমণি।
সে পথে চলিলা সুবদনি॥
নাগর সহচর মেলি।
গোঠহি করু কত কেলি॥
ধেনু-চরণে দেই ছন্দ।
দোহন করু অনুবন্ধ॥
গোরসময় সব অঙ্গ।
তমালহি মোতিম-রঙ্গ॥
মুটকি মুটকি ভরি ঢারি।
সুবল সখা সহকারি॥
দুর সঞে হেরল রাই।
হেরি মাধব বলি যাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (ভাটিয়ারি)

যে পথে নাগর শিরোমণি।
সে পথে চলিলা সুবদনি॥
নাগর সহচর মেলি।
গোঠহি করু কত কেলি॥
ধেনুচরণে দেই ছন্দ।
দোহন করু অনুবন্ধ॥
গোরসময় সব অঙ্গ।
তমালহি মোতিম রঙ্গ॥
মুটকি মুটকি ভরি ঢারি।
সুবল সখা সহকারি॥
দুর সঞে হেরল রাই।
হেরি মাধব বলি হারি যাই॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গায়ে হাত দিয়া মুখ মাজে নন্দরাণী
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৬৮।

॥ তথারাগ॥ (ভাটিয়ারি)

গায়ে হাত দিয়া মুখ মাজে নন্দরাণী।
স্তন-খিরে আঁখি-নীরে সিঞ্চয়ে অবনী॥
নন্দ রায় আসি পুন করিলেন কোরে।
মুখ চুম্ব দিতে ভাসাওল আঁখি-লোরে॥
মাথায় লইতে ঘ্রাণ স্থকিত হইয়া।
চিত্র-পুতলি যেন রহে কোলে লৈয়া॥
তবে থির হৈয়া পুন হাতে মুখ মাজে।
কাঁপে সর্বাঙ্গ স্নেহ পরিপূর্ণ কাজে॥
ঈশ্বরের নাম মন্ত্র পঢ়ে হস্ত দিয়া।
নৃসিংহ-বীজ-বন্ধ মণি গলে বান্ধে লৈয়া॥
পৃথিবী আকাশ আর দশ দিগ পথে।
নৃসিংহ তোমারে রক্ষা করু ভাল মতে॥
সর্ব্বত্র মঙ্গল হৈয়া পুন আইস গৃহে।
নন্দের বিকুলি কথা এ মাধব কহে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮২-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

গায়ে হাত দিয়া মুখ মাজে নন্দরাণী।
স্তনখিরে আঁখিনীরে সিঞ্চয়ে অবনী॥
নন্দ রায় আসি পুন করিলেন কোরে।
মুখ চুম্ব দিতে ভাসাওল আঁখি লোরে॥
মাথায় লইতে ঘ্রাণ স্থকিত হইয়া।
চিত্রপুতলি যেন রহে কোলে লইয়া॥
ঈশ্বরের নাম মন্ত্র পঢ়ে হস্ত দিয়া।
নৃসিংহবীজমন্ত্রমণি গলে বান্ধে লৈয়া॥
পৃথিবী আকাশ আর দশ দিগপথে।
নৃসিংহ তোমারে রক্ষা করু ভাল মতে॥
সর্ব্বত্র মঙ্গল হৈয়া পুন আইস গৃহে।
নন্দের বিকুলি কথা এ মাধব কহে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মুলতান মিশ্র ধানশী - মধ্যম দশকুশী॥

গায়ে হাত দিয়ে মুখ মাজে নন্দরাণী।
স্তনক্ষীরে আঁখিনীরে সিঞ্চয়ে ধরণী॥
নন্দরায় আসি পুন করিলেন কোরে।
মুখে চুম্ব দিতে ভাসাওল আঁখি লোরে॥
মাথায় লইতে ঘ্রাণ স্থকিত হইয়া।
চিত্রপুতলি যেন রহে কোলে লইয়া॥
তবে স্থির হৈয়া পুন গাতে মখ মাজে।
কাঁপয়ে সর্ব্বাঙ্গ স্নেহ পরিপূর্ণ কাজে॥
ঈশ্বরের নামে মন্ত্র পড়ে হস্ত দিয়া।
নৃসিংহ বীজ বন্ধ মণি গলে বান্ধে লইয়া॥
পৃথিবী আকাশ আর দশদিগ পথে।
নৃসিংহ তোমারে রক্ষা করু ভালমতে॥
সর্ব্বত্র মঙ্গল হৈয়া পুন আইস গৃহে।
নন্দের বিকুলি কথা এ মাধব কহে॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

.        ॥ গুঞ্জরি টোরী॥

গায়ে হাত দিয়া মুখ মাজে নন্দরাণী।
স্তন ক্ষীরে আঁখিনীরে সিঞ্চয়ে অবনী॥
নন্দরায় আসি পুন করিলেন কোরে।
মুখ চুম্ব দিতে ভাসাওল আঁখি নীরে॥
মাথায় লইতে ঘ্রাণ স্থগিত হইয়া।
চিত্র পুতুলি যেন রহে কোলে লৈয়া॥
তবে স্থির হৈয়া পুন হাতে মুখ মাজে।
কাঁপয়ে সর্বাঙ্গ স্নেহে পরিপূর্ণ কাজে॥
ঈশ্বরের নাম মন্ত্র পরে হস্ত দিয়া।
নৃসিংহ বীজমন্ত্র গলে বান্ধে লৈয়া॥
পৃথিবী আকাশ আর দশদিশ পথে।
নৃসিংহ তোমারে রক্ষা করুক ভালমতে॥
সর্ব্বত্র মঙ্গল হ’য়ে পুন আইস গৃহে।
নন্দের বিকলি কথা এ মাধব কহে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলরামের কর লৈয়া গোপালেরে সমর্পিয়া
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৭০। এই পদটি পদকল্পতরুর ক-পুথিতে “শেখর” ভণিতায়
পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু রায়শেখর প্রণীত দণ্ডাত্মিকা গ্রন্থে এই পদটি নেই বলে সতীশচন্দ্র রায় জানাচ্ছেন।
তাই তিনি মনে করেন এই পদটি মাধবের রচিত হোয়ার সম্ভাবনা বেশী।

॥ কল্যাণী॥

বলরামের কর লৈয়া                                  গোপালেরে সমর্পিয়া
পুন পুন বলে নন্দরাণী।
এই নিবেদন তোরে                                না যাবে কালিন্দী-তীরে
সাবধান মোর নীলমণি॥
রামেরে লইয়া কোরে                                সিঞ্চয়ে আঁখির নীরে
পুন পুন চুম্বে মখখানি।
সভার অগ্রজ তুমি                                তোরে কি শিখাব আমি
বাপ মোর যাইয়ে নিছনি॥
বলাই রাণীর পায়                                       পুন পরণাম করে
পুন পুন রাণী কোলে করে।
যাইতে না পারে বনে                                 বান্ধিল রাণীর প্রেমে
কহে রাম গদগদ স্বরে॥
কিছু ভয় নাহি মনে                                      ঘর যাই দুই জনে
সকালে খাইবা অন্ন-পানে।
সংবাদ পাইলে তবে                                   আমরা খাইব সবে
মাধব কহয়ে সাবধানে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৮১-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
॥ কল্যাণী॥

বলরামের কর লৈয়া                                গোপালেরে সমর্পিয়া
পুন পুন বলে নন্দরাণী।
এই নিবেদন তোরে                                না যাবে কালিন্দীতীরে
সাবধান মোর নীলমণি॥
রামেরে লইয়া কোরে                                সিঞ্চয়ে আঁখির নীরে
পুন পুন চুম্বে মখখানি।
সভার অগ্রজ তুমি                                তোরে কি শিখাব আমি
বাপ মোর যাইয়ে নিছনি॥
বলাই রাণীর পায়ে                                        পুন পুন প্রণাময়ে
পুনপুন রাণী কোলে করে।
যাইতে না পারে বনে                                 বান্ধিল রাণীর প্রেমে
কহে রাম গদগদ স্বরে॥
কিছু ভয় নাহি মনে                                      ঘর যাই দুই জনে
সকালে খাইবা অন্নপানে।
সংবাদ পাইলে তবে                                    আমরা খাইব সবে
মাধব কহয়ে সাবধানে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যবহুঁ বিজয় করু কান
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৭১।

॥ তথারাগ॥ (কল্যাণী)

যবহুঁ বিজয় করু কান।
বায়ই বেণু-নিসান॥
ঐছন ভেল ব্রজ মাহ।
ধন-জীবন বন যাহ॥
কি কহব ব্রজ-জন-নেহ।
কোই না বান্ধই থেহ॥
বাল বৃদ্ধ নর নারি।
চীত-পুতলি জনু থারি॥
সবহুঁ নয়নে বহ লোর।
গমন-বিরহে সব ভোর॥
সখি সহ হেরইতে রাই।
আকুল কূল না পাই॥
পুলকে পূরল সব গায়।
থর থর কম্পন পায়॥
চন্দ্রাবলি সখি মেলি।
স্যামলয়া তঁহি গেলি॥
যূথে যূথে ব্রজ-নারি।
দুরহি দুরে রহুঁ থারি॥
যব বন চলল মুরারি।
তবহিঁ পড়ল তনু ঢারি॥
নিজ নিজ সহচরি মেলি।
মন্দিরে লেই চলি গেলি॥
বিরহ-পয়োনিধি মাহ।
ডূবল মাধব তাহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮২-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (কল্যাণী)

যবহুঁ বিজয় করু কান।
বায়ই বেণু নিসান॥
ঐছন ভেল ব্রজ মাহ।
ধনজীবন বন যাহ॥
কি কহব ব্রজজননেহ।
কোই না বান্ধই থেহ॥
বাল বৃদ্ধ নর নারি।
চীতপুতলি জনু ঠারি॥
সবহুঁ নয়নে বহ লোর।
গমন বিরহে সব ভোর॥
সখি সহ হেরইতে রাই।
আকুল কূল না পাই॥
পুলকে পূরল সব গায়।
থর থর কম্পন পায়॥
চন্দ্রাবলি সখি মেলি।
পদ্মা সহ তহিঁ গেলি॥
যূথে যূথে ব্রজ-নারি।
দুরহি দুরে রহু ঠারি॥
যব বন চলল মুরারি।
তবহিঁ পড়ল তনু ঢারি॥
নিজ নিজ সহচরি মেলি।
মন্দিরে লেই চলি গেলি॥
বিরহপয়োনিধি মাহ।
ডূবল মাধব তাহ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিভৃতে সুবল কথা কানাইরে কহে
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৭৪। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮২-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (কল্যাণী)

নিভৃতে সুবল কথা কানাইরে কহে।
গিরি-তটে ধেনু বত্স কভু ভাল নহে॥
রাইয়ের সরসী-কূল ইহার নিকটে।
কি জানি বা কোন শিশু তাহাঁ যাই উঠে॥
এতেক যুগতি কথা বুঝিয়া কানাই।
কহে সভে চল যমুনার তীরে যাই॥
দেখিব কেমন শোভা যমুনার তীর।
অঞ্জলি পূরিয়া খাব সুশীতল নীর॥
এতেক বচন কহি রাখালের সাথে।
গোধন চালাঞা দিল যমুনার পথে॥
কহয়ে মাধব শোভা দেখিতে সুন্দর।
আইলা যমুনা-তীরে রাম দামোদর॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিরা বৃন্দাদেবী তবে তথাই আইলা
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৫৯৯।

.        ॥ সুহই॥

বিরা বৃন্দাদেবী তবে তথাই আইলা।
রাইকে বিরস দেখি কহিতে লাগিলা॥
কহ ধনি কাহে লাগি মলিন বয়ান।
কুণ্ডক তীরে মিলহ বর কান॥
শুনি উলসিত ধনি দুখ গেল দূর।
তবহিঁ ভকতি করি প্রণমিল সূর॥
গজবর গমনে চললি ধনি রাই।
কুণ্ডক তীরে মিলিল তব যাই॥
সহচরিগণ লেই তোড়ই ফুল।
মাধব কহ বিধি ভেল অনুকূল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ সুহই॥

বিরা বৃন্দাদেবী তবে তথাই আইলা।
রাইকে বিরস দেখি কহিতে লাগিলা॥
কহ ধনি কাহে লাগি মলিন বয়ান।
কুণ্ডক তীরে মিলহ বর কান॥
শুনি উলসিত ধনি দুখ গেল দূর।
তবহিঁ ভকতি করি প্রণমিল সূর॥
গজবর গমনে চলিল ধনি রাই।
কুণ্ডক তীরে মিলিল তব যাই॥
সহচরিগণ লেই তোড়ই ফুল।
মাধব কহ বিধি ভেল অনুকূল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দূরহি দূর রহি দোহেঁ দোহাঁ হেরি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬০২। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮১-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

দূরহি দূর রহি দোহেঁ দোহাঁ হেরি।
চিনই না পারয়ে পুন পুন বেরি॥
কিয়ে অপরুপ দুহুঁ লখই না পারি।
চীত-পুতলি জনু দুহুঁ রহু থারি॥
খেণে অনিমিখ খেণে সনিমিখ হোই।
হেরইতে যতনে লখই নাহি কোই॥
সহচরিগণ হাসি দেখি দুহুঁ রঙ্গ॥
মাধব কহ ইহ প্রেম-তরঙ্গ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সময় জানি তব কানন-দেবী
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬১১। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৪-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥ (সড়ঙ্গ)

সময় জানি তব কানন-দেবী।
ইঙ্গিতে বনহুঁ বসন্তহিঁ সেবি॥
গন্ধ-চূর্ণ বহু আনল তাই।
সব সখিগণ দেখি লেওল যাই॥
মণিময় কত শত পিচকারি আনি।
তাহে মিলায়ল মৃগমদ-পানি॥
এক এক করি সব সহচরি লেল।
শত শত কুসুম-গেন্দু পুন দেল॥
কুসুমক বারি ঝারি ভরি আনি।
তাহে মিশাওল মৃগমদ-পানি॥
ভরি পিচকারি কানু তাহা নেল।
হেরইতে মাধব হরষিত ভেল॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ রাগ॥ তাল ডাস পাহাড়ী॥

সময় জানি তব কাননদেবী। ইঙ্গিতে বনহু বসন্তহি সেবি॥
গন্ধচুরন বহুঁ আনল তাহি। সব সখীগণ দেখি নেওল জাহি॥
মণিময় কত কত পিচকারি আনি। পূরল কুঙ্কুম চন্দন পানি॥
এক এক করি সব সহচরি গেল। শতশত গন্ধ কুসুম পুন দেল॥
কুসুমক বারি ঝারি ভরি আনি। তাহে মিসাওল মৃগমদ পানি॥
ভরি পিচকারি কানু তাহা গেল। হেরইতে মাধব হরসিত ভেল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হোলির প্রকার যৈছে করে তৈছে লীলা
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬১২।

.        ॥ বসন্ত রাগ॥

হোলির প্রকার যৈছে করে তৈছে লীলা।
বহু গন্ধ-চূর্ণ বস্ত্র-অঞ্চলে বান্ধিলা॥
কিঙ্কিণী শৃঙ্খল দিয়া দৃঢ় বন্ধন কৈলা।
কাম-উদ্দীপন গান আরম্ভ করিলা॥
সভে গন্ধ চূর্ণ দেই কৃষ্ণের উপরে।
পুষ্পের কন্দুকগণ কেহ কেহ ডারে॥
মণিময় পিচকারী ধরি সখীগণে।
পুষ্প গন্ধ-জলে তাহা করিয়া পূরণে॥
সভে মেলি সিঞ্চয়ে গোবিন্দ-কলেবর।
সুবল মঙ্গলমধু কৃষ্ণসহচর॥
খেলিতে খেলিতে সভে হইলা বিভোল।
কহয়ে মাধব অতি সুমধুর বোল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বসন্তরাগ॥

হোলির প্রকার যৈছে করে তৈছে লীলা।
বহু গন্ধ-চূর্ণ বস্ত্রঅঞ্চলে বান্ধিলা॥
কিঙ্কিণী শৃঙ্খল দিয়া করিলা বন্ধন।
আরম্ভ করিলা গীত কামউদ্দীপন॥
সভে গন্ধ চূর্ণ দেই কৃষ্ণের উপরে।
পুষ্পের কন্দুক লইয়া কেহ কেহ ডারে॥
মণিময় পিচকারী ধরি সখীগণে।
পুষ্প গন্ধজলে তাহা করিয়া পূরণে॥
সভে মেলি সিঞ্চয়ে গোবিন্দ কলেবর।
সুবল মঙ্গল মধু কৃষ্ণসহচর॥
খেলিতে খেলিতে সভে হইলা বিভোল।
কহয়ে মাধব অতি সুমধুর বোল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর