কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
সহচরিগণ করে ধরি পিচকারি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬১৪।

.        ॥ বসন্ত॥

সহচরিগণ করে ধরি পিচকারি।
কানু-অঙ্গে দেই কুঙ্কুম-বারি॥
বহুবিধ গন্ধ-চূড়ণ করে নেল।
শ্যাম-অঙ্গে সব সখিগণ দেল॥
অনঙ্গ-রঙ্গিম গাওত গীত।
বায়ত ডম্ফ কানু-মননীত॥
কত কত রাগ তব করয়ে আলাপ।
গন্ধহিঁ দশ দিশ সকল বেয়াপ॥
সুবল কথা লেই নাগর কান।
ঘন চূড়ণ দেই সবহুঁ নয়ান॥
সুবদনী হেরইতে গোকুল-বীর।
মৃগমদে সিঞ্চই সকল শরীর॥
ঐছন নিতি নিতি করয়ে বিলাস।
হেরি মাধব সুখ-সায়রে ভাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বসন্ত॥

সহচরিগণ করে ধরি পিচকারি।
কানু-অঙ্গে দেই সুরভিত বারি॥
বহুবিধ গন্ধচূরণ করে নেল।
শ্যামর অঙ্গে সব সখিগণ দেল॥
অনঙ্গরঙ্গিম গাওত গীত।
বায়ত ডম্ফ কানু মননীত॥
কত কত রাগ তব করয়ে আলাপ।
গন্ধহিঁ দশ দিশ সকল বেয়াপ॥
সুবল কথা লেই নাগর কান।
ঘন চূরণ দেই সবহুঁ নয়ান॥
সুবদনী হেরইতে গোকুলবীর।
মৃগমদে সিঞ্চই সকল শরীর॥
ঐছন নিতি নিতি করয়ে বিলাস।
হেরি মাধব সুখসায়রে ভাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ বসন্ত॥

সহচরিগণ করে ধরি পিচকারি। কানুঅঙ্গে দেই কুঙ্কুমবারি॥
বহুবিধ গন্ধ চূরন করি নেল। শ্যামঅঙ্গে সব সখিগণ দেল॥
অনঙ্গ তরঙ্গিম গায়ত গীত। বায়ত ডম্ফ কানু মনোনীত॥
কত কত রাগ তব করয়ে আলাপ। গন্ধহি দশদিগ সকল বেয়াপ॥
সুবল সখা লেই নাগর কান। ঘন চূরন দেই সবহুঁ নয়ান॥
সুবদনী হেরইতে গোকুল বীর। মৃগমদে সিঞ্চই সকল শরীর॥
ঐছন নিতি নিতি করএ বিলাস। হেরি মাধব সুখসায়রে ভাস॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪০-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বসন্ত॥

সহচরীগণ করে ধরি পিচকারি।
কানু অঙ্গে দেই কুঙ্কুম-বারি॥
বহুবিধ গন্ধ-চূর্ণ করে নেল।
শ্যাম অঙ্গে সব সখীগণ দেল॥
অনঙ্গ রঙ্গিম গাওত গীত।
বায়ত ডম্ফ কানু মনোনীত॥
কত কত রাগ তর করয়ে আলাপ।
গন্ধহি দশ দিশ সকল বেয়াপ॥
সুবল কথা লেই নাগর কান।
ঘন চূরণ দেই সবহু নয়ান॥
সুবদনী হেরইতে গোকুল-বীর।
মৃগমদে সিঞ্চই সকল শরীর॥
ঐছন নিত্য নিত্য করয়ে বিলাস।
হেরি মাধব সুখসাগরে ভাস॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুরলি পাওল যব রাইক পাশ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৩৪।

.        ॥ তথারাগ॥ (পঠমঞ্জরী)

মুরলি পাওল যব রাইক পাশ।
নাগর শেখর মনহিঁ উলাস॥
পুন সব সখি সহ করল পয়াণ।
নাগরি-কর ধরি নাগর কান॥
বন-দেবতি বনে কয়ল সুসাজ।
সেবয়ে সতত সকল ঋতুরাজ॥
নিতি নিতি নব নব শোভন হোয়।
কহ মাধব দুহুঁজন-মন মোয়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ রাগ তালো যথা॥

মুরলি পাওল যব রাইক পাশ। নাগর শেখর মনহি উল্লাস॥
পুন সব সখীসহ করল পয়ান। নাগরি করে ধরি নাগর কান॥
বনদেবতি বনে কয়ল সুসাজ। সেবএ সতত সকল ঋতুরাজ॥
নিতিনিতি নবনব শোভন হয়। কহো মাধব দোহুজন মনোময়॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪০-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (কামোদ)

মুরলি পাওল যব রাইক পাশ।
নাগর শেখর মনহিঁ উল্লাস॥
পুন সব সখী সহ করল পয়াণ।
নাগরী কর ধরি নাগর কান॥
বন-দেবতী বনে কয়ল সুসাজ।
সেবয়ে সতত সকল ঋতুরাজ॥
নিতি নিতি নব নব শোভন হোয়।
কহ মাধব দুহুঁ-জন বন মোয়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহচর সঙ্গহি গৌর কিশোর
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৩৮।

শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।
॥ তথারাগ॥ (মল্লার)

সহচর সঙ্গহি গৌর কিশোর।
আজু মধুপান-রভস-রসে ভোর॥
কি কহিতে কি কহয়ে কিছু নাহি থেহ।
আন-আনমত হেরি গৌর সুদেহ॥
ঢুলু ঢুলু আলসে অরুণ নয়ান।
গদগদ আধহুঁ কহই বয়ান॥
ক্ষেণে চমকিত ক্ষেণে রহই বিভোর।
হেরি গদাধর করি নিজ কোর॥
কহ মাধব ইহ অপরূপ ভাষ।
নদিয়া নগরে নিতি ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ যথারাগ॥

সহচর সঙ্গহি গৌরকিশোর।
আজু মধুপান রভস রসে ভোর॥
কি কহিতে কি কহব কিছু নাহি থেহ।
আন আন যত দেখি গৌর সুদেহ॥
ঢুলু ঢুলু আলসে অরুণ নয়ান।
গদ গদ আধ আধ কহই বয়ান॥
ক্ষণে চমকিত ক্ষণে রহই বিভোর।
হেরি গদাধর করু নিজ কোর॥
কহ মাধব ইহ অপরূপ ভাষ।
নদিয়ানগরে নিতি ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭১-পৃষ্ঠা।

.        ॥ তথারাগ॥

সহচরি সঙ্গহি গৌরকিশোর।
আজু মধুপান রভসরসে ভোর॥
কি কহিতে কি কহয়ে কিছু নাহি থেহ।
আন আনমত হেরি গৌর সুদেহ॥
ঢুলু ঢুলু আলসে অরুণ নয়ান।
গদগদ আধহুঁ কহই বয়ান॥
ক্ষেণে চমকিত ক্ষেণে রহই বিভোর।
হেরি গদাধর করু নিজ কোর॥
কহ মাধব ইহ অপরূপ ভাষ।
নদিয়া নগরে নিতি ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        মধুপান লীলা
.        শ্রীগৌরাচন্দ্র।
॥ তুড়ি - রূপক তাল॥

সহচর সঙ্গহি গৌর কিশোর।
আজু মধুপান রভস রসে ভোর॥
কি কহিতে কি কহে কিছু নাহি থেহ।
আন আন মত দেখি গৌর সুদেহ॥
ঢুলু ঢুলু আলসে অরুণ নয়ান।
গদ গদ আধহুঁ কহই বয়ান॥
ক্ষেণে চমকিত ক্ষেণে রহই বিভোর।
হেরি গদাধর করু নিজ কোর॥
কহ মাধব ইহ অপরূপ ভাষ।
নদিয়া নগরে নিতি ঐছে বিলাস॥

এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তত্র মাদ্রিক পানং তদ্ভাবাবৃত শ্রীগৌরচন্দ্র॥ রাগ তালো যথা॥

সহচর সঙ্গহি গৌরকিশোর। আজু মধুপান রভসরসে ভোর॥
কি কহিতে কি কহই কিছু নাহি থেহ। আন আনমত হেরি গৌর সুদেহ॥
ঢুলুঢুলু আলসে অরুণ নয়ান। গদ গদ আধহুঁ কহই বয়ান॥
খেনে চমকিত খেনে রহই বিভোর। হেরি গদাধর করূ নিজ ক্রোড়॥
কহো মাধব ইহ অপরূব ভাষ। নদিয়ানাগরে নিতি ঐছে বিলাস॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রমজলে ভিগল নীল পিত বাস
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৪৫।

.        ॥ গান্ধার॥

শ্রমজলে ভিগল নীল পিত বাস।
দুহুঁ ছিরি অঙ্গ সে ভেল উদাস॥
দুহুঁ জন পূরল মন-অভিলাষ।
বৈঠলি রাই শ্যাম-বাম-পাশ॥
সেবন-পরায়ণ সহচরি আই।
চামর বীজন বীজই তাই॥
বাসিত বারি কোই সখি দেল।
বদনক চরবণ-তাম্বুল নেল॥
পুন দুহুঁ আলসে শূতলি তাই।
রতি-রণ-ছরমে ভোরি নিন্দ যাই॥
ক্ষণ-একে জাগিয়া উঠল কান।
সখিগণ-কুঞ্জহি করল পয়ান॥
সব সখিগণ সঞে রতিরণ কেল।
ইহ অপরূপ কোই বুঝই না ভেল॥
আওল কানু পুন রাইক পাশ।
মাধব হেরইতে অধিক উলাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                ॥ গান্ধার॥

শ্রমজলে ভীগল নীল পীতবাস। দোহু শ্রীঅঙ্গ সে ভেলি উদাস॥
দুহুজন পূরল মন অভিলাষ। বৈঠলি রাই শ্যাম বামপাশ॥
সেবনপরায়ণ সহচরী জাই। চামর বিজন বিজই তাই॥
বাসিত বারি কোই সখী দেল। বদনক চরবণ তাম্বুল লেল॥
পুন দোহুঁ আলসে সুতল শ্যামরাই। রতি রণ শ্রমে ভোরি নিদ জাই॥
খনএকে জাগী উঠল কান। সখিগণ কুঞ্জহি করল পয়ান॥
সব সখিগণ সঞে রতিরণ কেল। ইহ অপরূপ কোই বুঝল না ভেল॥
আওল কানু পুন রাইক পাশ। মাধব হেরইতে অধিক উল্লাস॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পঢ়ত কীর অমিয়া গীর
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৫৬।

॥ কল্যাণী॥

পঢ়ত কীর                        অমিয়া গীর
ঐছন বচন-পাঁতিয়া।
কোটি কাম                           শ্যাম-ধাম
নবিন-নিরদ-কাঁতিয়া॥
বিজুরি-জাল                          বসন ভাল
রতন-ভূষণ শোভয়ে।
জানু-ষন্তি                            বৈজয়ন্তি-
মালে মধুপ লোভয়ে॥
চন্দ্র-কোটি                         করল ছোটি
ঐছন বদন-ইন্দুয়া।
মুকুতা-পাঁতি                        দশন-কাঁতি
বচন অমিয়া-সিন্ধুয়া॥
কাম-চাপ                           যুবতি কাঁপ
করয়ে ভাঙ-ভঙ্গিমা।
গোরি-বদন                            চুম্বন-সদন
ঐছে অধর রঙ্গিমা॥
জানু-লম্বিত                          বাহু ললিত
করভ-করক ভাতিয়া।
ও থল-কমল                      জিনি করতল
অঙ্গুলে চন্দ্র-পাঁতিয়া॥
গোপি-পটল-                         কুচ-মণ্ডল-
লম্পট কর কম্পনা।
বলয়া মণি-                           ভূষণ বনি
কঙ্কণ তাহে ঝঙ্কনা॥
হৃদয় পীন                             মাঝ খীণ
তাহে ত্রিবলি-বন্ধনা।
মরকত-মণি-                       স্তম্ভক জিনি
জঘন জানু-ছন্দনা॥
বল্লবি-পরি-                          রম্ভণ করি
নটন-রঙ্গে চঞ্চলে।
নূপুর-রাব                            সতত গাব
পরশিয়া পট-অঞ্চলে॥
নব রঙ্গিম                            পদ-ভঙ্গিম
অঙ্গুলে নখ-চান্দ।
মাধব ভণ                            রমণী-মন-
চকোর-নিকর-ফান্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শুক কর্ত্তৃক কৃষ্ণগুণ গান
॥ কল্যাণী॥

পঢ়ত কীর                        অমিয়া গীর
ঐছন বচনপাঁতিয়া।
কোটি কাম                          শ্যাম ধাম
নবিননিরদকাঁতিয়া॥
বিজুরিজাল                        বসন ভাল
রতন ভূষণ শোভয়ে।
আজানুঅন্তি                        বৈজয়ন্তি-
মালে মধুপ লোভয়ে॥
চন্দ্র কোটি                        করল ছোটি
ঐছন বদন ইন্দুয়া।
মুকুতাপাঁতি                        দশনকাঁতি
বচন অমিয়া সিন্ধুয়া॥
কামচাপ                          যুবতি কাঁপ
করয়ে ভাঙ ভঙ্গিমা।
গোরিবদন                           চুম্বনসদন
ঐছে অধর রঙ্গিমা॥
জানু-লম্বিত                        বাহু ললিত
করভকরক ভাতিয়া।
ও থলকমল                      জিনি করতল
অঙ্গুলে চন্দ্র পাঁতিয়া॥
গোপিপটল                           কুচমণ্ডল
লম্পট কর কম্পনা।
বলয়া মণি                            ভূষণ বনি
কঙ্কণ তাহে ঝঙ্কনা॥
হৃদয় পীন                              মাঝ খীণ
তাহে ত্রিবলিবন্ধনা।
মরকতমণি-                        স্তম্ভ জিনিয়া
জঘন জানু ছন্দনা॥
বল্লবী পরি-                          রম্ভণ করি
নটনরঙ্গে চঞ্চলে।
নূপুররাব                            সতত গাব
পরশিয়া পটঅঞ্চলে॥
নব রঙ্গিম                            পদভঙ্গিম
অঙ্গুলে নখচান্দ।
মাধব ভণ                             রমণীমন
চকোর নিকর ফান্দ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী - জপতাল॥

পঢ়ত কীর,                        অমিয়া গীর.
ঐছন বচনপাঁতিয়া।
কোটী কাম,                          শ্যাম ধাম,
নবীন নীরদ কাঁতিয়া॥
বিজুরি-জাল,                        বসন ভাল,
রতন ভূষণ শোভয়ে।
জানু-অন্তি,                           বৈজয়ন্তি-
মালে মধুপ লোভয়ে॥
চন্দ্র কোটী,                        করল ছোটী,
ঐছন বদন ইন্দুয়া।
মুকুতা পাঁতি,                      দশন কাঁতি,
বচন অমিয়া-সিন্ধুয়া॥
কাম চাপ,                          যুবতি কাঁপ,
করয়ে ভাঙ ভঙ্গিয়া।
গোরি-বদন,                          চুম্বন সদন,
ঐছে অধর রঙ্গিয়া॥
জানু লম্বিত,                        বাহু ললিত,
করভ-করক ভাঁতিয়া।
ও থল কমল,                     জিনি করতল,
অঙ্গুলে চাঁদের পাতিয়া॥
গোপী-পটল,                          কুচ মণ্ডল,
লম্পট কর কম্পনা।
বলয়া মণি,                          ভূষণ বনি,
কঙ্কণ তাহে ঝঙ্কনা॥
হৃদয় পীন,                            মাঝ ক্ষীণ,
তাহে ত্রিবলি বন্ধনা।
মরকত-মণি-                       স্তম্ভক জিনি,
সঘনে জানু-ছন্দনা॥
বল্লবি-পরি-                         রম্ভণ করি,
নটন রঙ্গে চঞ্চলে।
নূপুর রাব,                          সতত গাব,
পরশিয়া পট অঞ্চলে॥
নব রঙ্গিম,                           পদ ভঙ্গিম,
অঙ্গুলে নখ-চাঁদ।
মাধব ভণ,                            রমণী মন,
চকোর-নিকর-ফাঁদ॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

পড়ত কীর,                        অমিয় গীর,
ঐছন বচন-পাঁতিরা।
কোটি কাম,                          শ্যাম ধাম,
নবীন-নীরদ কাঁতিয়া॥
বিজুরাজাল.                        বসন ভাল,
রতন ভূষণ শোভয়ে।
জানু-ষন্তি                            বৈজয়ন্তি-
মালে মধুপ লোভয়ে॥
চন্দ্র কোটি,                        করল ছোটি,
ঐছন বদন-ইন্দুয়া।
মুকুতা-পাঁতি,                      দশন-কাঁতি,
বচন অমিয়সিন্ধুয়া॥
কামচাপ,                            যুবতীকাঁপ,
করয়ে ভাঙ ভঙ্গিমা।
গোরি বদন,                       চুম্বন ঘন ঘন,
ঐছে অধর রঙ্গিয়া॥
জানু লম্বিত,                        বাহু ললিত,
করভ-করক ভাতিয়া।
ও থল কমল,                      জিনি করতল,
অঙ্গুলে চন্দ্র পাঁতিয়া॥
গোপী-পটল,                           কুচ মণ্ডল,
লম্পট কর কম্পনা।
বলয়া মণি                            ভূষণ বনি,
কঙ্কণ তাহে ঝঙ্কনা॥
হৃদয় পীন                             মাঝ ক্ষীণ,
তাহে ত্রিবলিবন্ধনা।
মরকত মণি,                        স্তম্ভক জিনি,
সঘনে জানু ছন্দনা॥
বল্লবী-পরি-,                          রম্ভণ করি,
নটন-রঙ্গে চঞ্চলে।
নূপুর-রাব,                           সতত গাব,
পরশিয়া পট-অঞ্চলে॥
নব রঙ্গিম,                           পদ-ভঙ্গিম,
অঙ্গুলে নখ চন্দে।
মাধব ভণ,                            রমণী-মন,
চকোর-নিকর-ফান্দ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শারি পঢ়ত অতি অনূপ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৫৭।

.        ॥ তুড়ী॥

শারি পঢ়ত অতি অনূপ
যৈছন রস-অমৃত-কূপ
.                রাধা-রূপ-বর্ণনা।
তপত-কাঞ্চন চম্পক ফুল
তাহে কি করব বরণ তূল
.                ভূষিত গুরু চন্দনা॥
চাঁচর চিকুরে বেণি সাজ
হেরিতে কাল-সাপিনি লাজ
.                সীথে রতন কাঞ্চনে।
ততহিঁ রচিত সিন্দুর-রেখ
অলকা-বলিত চিত্র-লেখ
.                কাম যন্ত্র রঞ্জনে॥
কাম-ধনুক ভাঙ-ঠান
নয়ন-পলকে মোহিত কান
.                চিবুকে কস্তুরি-বিন্দুয়া।
বদন জিতল শরদ-চাঁদ
মদনমোহন-মোহন ফান্দ
.                দশন কুন্দ-নিন্দুয়া॥
কনক-করভ-করক ছন্দ
নিন্দি ললিত ভূজক বন্ধ
.                বলয়াবলি কঙ্কণা।
তাহে কর-তল অতি রাতুল
জিতল অরুণ জবার ফুল
.                ললিত রেখ অঙ্কণা॥
নখর-মুকুর কর-অঙ্গুলি
জীতল কিয়ে চম্পক-কলি
.                মণি-অঙ্গুরি শোভয়ে।
উচ-কুচযুগ ঐছন হেরু
উঠত কিয়ে কনক-মেরু
.                গিরিধর-মন মোহয়ে॥
লোমাবলি নাভি-সরসি
কানুক মন-মীন-বড়শি
.                না খায় আহার ডুবয়ে।
মাঝ খীণ ভাঙ্গি পড়ত
কিঙ্কিণি-জালে বান্ধি রাখত
.                নাহি গিরত ভুবয়ে॥
কনক-কদলি-সম্পুট মাঝ
কানুক চিত-রতন রাজ
.                ঢাকল উরু পর্ব্বয়া।
অরুণ চরণে মঞ্জির বাজ
গতি জিতি কিয়ে কুঞ্জর-রাজ
.                নখমণি বিধু খর্ব্বয়া॥
মৃগমদ গুরু চন্দন-চন্দ
জীতল ধনি-অঙ্গ-গন্ধ
.                শ্যাম-ভ্রমর ধাবই।
মাধব ভণ তেজি ফুল বন
ঘুরি ঝুলত ভোরল মন
.                চরণ-নিয়ড়ে গাবই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শারীমুখে শ্রীরাধার গুণবর্ণন
.        ॥ তুড়ী॥

শারি পঢ়ত অতি অনূরূপ,
যৈছন রস-অমৃত-কূপ,
.        রাধা রূপ বর্ণনা।
তপত-কাঞ্চন চম্পক ফুল,
তাহে কি করব বরণ তূল,
.        ভূষিত অগুরু চন্দনা॥
চাঁচর চিকুরে বেণী সাজ,
হেরিতে কাল সাপিনি লাজ,
.        সীঁথে রতন কাঞ্চনে।
ততহিঁ রচিত সিন্দুর-রেখ,
অলকা-বলিত চিত্র-লেখ,
.        কাম যন্ত্র রঞ্জনে॥
কাম-ধনুক ভাঙ-ঠাম,
নয়ন পলকে মোহিত কাম,
.        চিবুক কস্তুরী-বিন্দুয়া।
রদন জিতল শরদ-চাঁদ,
মদনমোহন-মোহন ফান্দ,
.        দশন কুন্দ নিন্দিয়া॥
কনক-করভ করক ছন্দ,
নিন্দি ললিত ভূজক বন্ধ,
.        বলয়াবলি কঙ্কণা।
তাহে কর-তল অতি রাতুল,
জিতল অরুণ জবার ফুল,
.        ললিত রেখ বঙ্কণা॥
নখর-মুকুর কর-অঙ্গুলি,
জীতল কিয়ে চম্পক-কলি,
.        মণিময়-অঙ্গুরী শোভয়ে।
উচ-কুচযুগ ঐছন হেরু,
উঠত কিয়ে কনক মেরু
.        গিরিধর মন মোহায়॥
লোমাবলি নাভি সরসী,
কানুক মন-মীন-পড়শি,
.        না খায় আহার ডূবয়ে?
মাঝ ক্ষীণ ভাঙ্গি পড়ত,
কিঙ্কিণিজালে বান্ধি রাখত,
.        নাহি গিরত ভুবয়ে॥
কদলি-সম্পুট মাঝ,
কানুক চিত-রতন রাজ,
.        ঢাকল উরু পর্ব্বয়া।
অরুণ চরণে মঞ্জীর বাজ,
গতি জিতি কিয়ে কুঞ্জর রাজ,
.        নখমণি বিধু খর্ব্বয়া॥
মৃগমদ অগুরু চন্দন চন্দ,
জীতল ধনী-অঙ্গ-গন্ধ
.        শ্যাম-ভ্রমর ধাবই।
মাধব ভণ তেজি ফুল-বন,
ঘুরি বোলত ভোরল মন,
.        চরণ নিয়ড়ে গাবই॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ খাম্বাজ মিশ্র কল্যাণ - জপতাল॥

শারি পঢ়ত অতি অনূপ,
যৈছন রস অমৃত কূপ,
.                রাধা-রূপ বর্ণনা।
তপত কাঞ্চন চম্পক ফুল
তাহে কি করব বরণ তূল,
.                ভূষিত অগোর চন্দনা॥
চাঁচর চিকুর বেণি সাজ,
হেরিতে কাল সাপিনি লাজ,
.                সীঁথে রতন কাঞ্চনে।
ততহি রচিত সিন্দুর রেখ,
অলকা বলিত চিত্র রেখ,
.                কাম যন্ত্র রঞ্জনে॥
কাম ধনুক ভাঙ ঠাম,
নয়ন পলকে মোহিত কাম,
.                চিবুকে কস্তুরী বিন্দুয়া।
বদন জিতল শরদ চাঁদ,
মদন মোহন মোহন ফাঁদ,
.                দশন কুন্দ নিন্দুয়া॥
কনক করভ করক ছন্দ,
নিন্দি ললিত ভূজক বন্ধ,
.                বলয়াবলি কঙ্কণা।
তাহে করতল অতি রাতুল,
জিতল অরুণ জবার ফুল,
.                ললিত রেখ বঙ্কণা॥
নখর-মুকুর কর-অঙ্গুলি,
জীতল কিয়ে চম্পক কলি,
.                মণি অঙ্গুরী শোভয়ে।
উচ কুচ যুগ ঐছন হেরু,
উঠত কিয়ে কনক মেরু,
.                গিরিধর মন মোহয়ে॥
লোমাবলি নাভি সরসি
কানুক মন মীন বড়শি,
.                না খায় আহার ডুবায়ে।
মাঝ খীণ ভাঙ্গি পড়ত,
কিঙ্কিনী জালে বান্ধি রাখত,
.                নাহি গিরত ভূবয়ে॥
কনক কদলি সম্পুট মাঝ,
কানুক চিত রতন রাজ,
.                ঢাকল উরু পর্ব্বয়া।
অরুণ চরণে মঞ্জীর বাজ,
গতি জিতি কিয়ে কুঞ্জর রাজ,
.                নখমণি বিধু খর্ব্বয়া॥
মৃগ মদ অগুরু চন্দন চন্দ,
জীতল ধনি অঙ্গ গন্ধ,
.                শ্যামভ্রমর ধাবই।
মাধব ভণ তেজি ফুল বন,
ঘুরি বোলত ভোরল মন,
.                চরণ নিয়ড়ে গাবই॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তুড়ী॥

শারি পঢ়ত অতি অনূপ
যৈছন রস-অমৃত-কূপ
.                রাধা-রূপ-বর্ণনা।
তপত-কাঞ্চন চম্পক ফুল
তাহে কি করব বরণ তূল
.                ভূষিত গুরু চন্দনা॥
চাঁচর চিকুরে বেণি সাজ
হেরিতে কাল-সাপিনি লাজ
.                সীথে রতন কাঞ্চনে।
ততহিঁ রচিত সিন্দুর-রেখ
অলকা-বলিত চিত্র-লেখ
.                কাম যন্ত্র রঞ্জনে॥
কাম-ধনুক ভাঙ-ঠান
নয়ন-পলকে মোহিত কান
.                চিবুকে কস্তুরি-বিন্দুয়া।
বদন জিতল শরদ-চাঁদ
মদনমোহন-মোহন ফান্দ
.                দশন কুন্দ-নিন্দুয়া॥
কনক-করভ-করক ছন্দ
নিন্দি ললিত ভূজক বন্ধ
.                বলয়াবলি কঙ্কণা।
তাহে কর-তল অতি রাতুল
জিতল অরুণ জবার ফুল
.                ললিত রেখ অঙ্কণা॥
নখর-মুকুর কর-অঙ্গুলি
জীতল কিয়ে চম্পক-কলি
.                মণি-অঙ্গুরি শোভয়ে।
উচ-কুচযুগ ঐছন হেরু
উঠত কিয়ে কনক-মেরু
.                গিরিধর-মন মোহয়ে॥
লোমাবলি নাভি-সরসি
কানুক মন-মীন-বড়শি
.                না খায় আহার ডুবয়ে।
মাঝ খীণ ভাঙ্গি পড়ত
কিঙ্কিণি-জালে বান্ধি রাখত
.                নাহি গিরত ভুবয়ে॥
কনক-কদলি-সম্পুট মাঝ
কানুক চিত-রতন রাজ
.                ঢাকল উরু পর্ব্বয়া।
অরুণ চরণে মঞ্জির বাজ
গতি জিতি কিয়ে কুঞ্জর-রাজ
.                নখমণি বিধু খর্ব্বয়া॥
মৃগমদ গুরু চন্দন-চন্দ
জীতল ধনি-অঙ্গ-গন্ধ
.                শ্যাম-ভ্রমর ধাবই।
মাধব ভণ তেজি ফুল বন
ঘুরি ঝুলত ভোরল মন
.                চরণ-নিয়ড়ে গাবই॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় নাগর-বর মানস-হংসী
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৬৫। এই পদটি, ১৯০৫ সালে
প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৫-
পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তুড়ী॥

জয় নাগর-বর মানস-হংসী।
অখিল-রমণি-হৃদি মদ-বিধ্বংসী॥
জয় জয় জয় বৃষভানু-কুমারী।
মদনমোহন-মন-পঞ্জর-শারী॥
জয় যুবরাজ-হৃদয়-বন-হরিণী।
শ্রীবৃন্দাবন-কুঞ্জর-করিণী॥
কুঞ্জ-ভুবন-সিংহাসন-রাণী।
রচয়তি মাধব কাতর-বাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তুড়ী॥

জয় নাগরবরমানসহংসী।
অখিল রমণিহৃদি মদবিধ্বংসী॥
জয় জয় জয় বৃষ ভানুকুমারী।
মদনমোহনমনপঞ্জরশারী॥
জয় যুবরাজহৃদয়বনহরিণী।
শ্রীবৃন্দাবনকুঞ্জরকরিণী॥
কুঞ্জভুবনসিংহাসনরাণী।
রচয়তি মাধব কাতরবাণী॥

অনুবাদ -
নাগরশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণের মানসসরোহরের মরালী, তোমার জয় হউক। অখিল রমণীগণের
হৃদয়ের গর্ব্বধ্বংসকারিণী, জয় জয় বৃষভানুকুমারীর জয় হউক। যিনি মদনমোহনের
বক্ষপিঞ্জরের সারিকা।  জয় ব্রজযুরাজহৃদয়ের  হরিণী, শ্রীবৃন্দাবনের কুঞ্জর  শ্রীকৃষ্ণের
কারিণী। কুঞ্জরাজ্যের সিংহাসনের রাণী। মাধব এই কাতর (বন্দনা) বাণী রচনা করিলেন।
--- হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃন্দা কুন্দলতা দোঁহে মেলি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৭১।

.        ॥ তুড়ী॥

বৃন্দা কুন্দলতা দোঁহে মেলি।
বাঢ়াওত দুহুঁজন-কৌতুক-কেলি॥
সখিগণে থির করি কহে পুন বাণী।
ঐছনে হারি জীত নাহি মানি॥
নিজ অঙ্গ পণ করি কহে পুনর্ব্বার।
হারি জীত তব করব বিচার॥
এত শুনি দোঁহে পুন বৈঠল তাই।
দশ বামঞ্চ দান নিল রাই॥
সাতা দুয়া চৌ পঞ্চ দান নিল কান।
তাক ততহুঁ অঙ্গ যাক যত দান॥
ঐছে বিচারি খেলয়ে দুহুঁ মেলি।
মাধব আনন্দে নিমগন ভেলি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

বৃন্দা কুন্দলতা দোঁহে মেলি।
বাঢ়াওত দুহুঁজন-কৌতুক কেলি॥
সখিগণে থির করি কহে পুন বাণী।
ঐছনে হারি জীত নাহি মানি॥
নিজ অঙ্গপণে পাশা খেল পুনর্ব্বার।
হারিজীত তব করব বিচার॥
এত শুনি দোঁহে পুন বৈঠল তাই।
যোড়শ দ্বাদশ দশ দান নিল রাই॥
সাতা দুয়া চৌ পঞ্চ দান নিল কান।
তাক ততহুঁ অঙ্গ যাক যত দান॥
ঐছে বিচারি খেলয়ে দুহুঁ মেলি।
মাধব আনন্দে নিমগন ভেলি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী মিশ্র সুই - কাটা দশকুশী॥

বৃন্দা কুন্দলতা দোঁহে মেলি।
বাঢ়ায়ত দুহুঁজন কৌতুক কেলি॥
সখিগণে থির করি কহে পুন বাণী।
ঐছনে হারি জীত নাহি মানি॥
নিজ অঙ্গ পণ করি কহে পুনর্ব্বার।
হারি জীত তব করব বিচার॥
এত শুনি দোঁহে পুন বৈঠল তাই।
দশ বামঞ্চ দান দিল রাই॥
সাতা দুয়া চৌ-পঞ্চ দান নিল কান।
তাক ততহু অঙ্গ যাক যত দান॥
ঐছে বিচারি খেলয়ে দুঁহু মেলি।
মাধব আনন্দে নিমগন ভেলি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৮-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

বৃন্দা কুন্দলতা দোহে মেলি।
বাঢ়াও ত দুহুজন কৌতুক কেলি॥
সখিগণে থির করি পুন কহে বাণী।
ঐছন হারি জিত কভু নাহি মানি॥
নিজ অঙ্গ পণ করি খেলো পুনর্বার।
হারি জিত তব মোরা করব বিচার॥
এত সুনি দুহে তব বৈঠত তাহি।
দশ বা পঞ্চ দান নিল তহি রাই॥
সাতা দুয়া চৌ পঞ্চ দান নিল কান।
তাক ততহু অঙ্ক জাক জত দান॥
ঐছে বিচারি খেলএ দুঁহু মেলি।
মাধব আনন্দে নিমগন ভেলি॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

বৃন্দা কুন্দলতা দোঁহে মেলি।
বাড়াওত দুহুঁ জন কৌতুক-কেলি॥
সখীগণে থির করি কহে পুন বাণী।
ঐছনে হারি জিত নাহি মানি॥
নিজ অঙ্গ পণ করি কহে পুনর্ব্বার।
হারি জিত তব্ করব বিচার॥
এত শুনি দোঁহে পুন বৈঠল তাই।
দশম পঞ্চ দান নিল রাই॥
সাতা দুয়া চৌ পঞ্চ দান নিল কান।
তারু তবহুঁ অঙ্গ যাক যত দান॥
ঐছে বিচারি খেলয়ে দুহুঁ মেলি।
মাধব আনন্দে নিমগন ভেলি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জটিলা-গমন-কথা শুনি সশঙ্কিত
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৭৪।

.        ॥ সুহই॥

জটিলা-গমন-কথা শুনি সশঙ্কিত।
সূর্য্যের মন্দিরে সভে হৈলা উপনীত॥
প্রবেশিলা সভে সূর্য্য-মন্দির ভিতরে।
হেন কালে তথা আসি জটিলা উত্তরে॥
দিনমণি প্রণমিতে আইলা জটিলা।
দেখে বসিয়াছে যত আভীরীর বালা॥
কুন্দলতা দেখি কথা কহে ব্যাজ কেনে।
কুন্দলতা কহে বিপ্র না পাই এখানে॥
জটিলা কহয়ে কেনে কোথা গেল বটু।
কুন্দলতা কহে তোমার কথায় ভেল কটু॥
আর এক বিপ্র আছে গর্গ মুনির শিষ্য।
জটিলা কহয়ে তবে আনহ অবশ্য॥
শুনি কুন্দলতা গেল ব্রাহ্মণ আনিতে।
মাধব চলিল তার পাছেতে পাছেতে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ সুহই॥

জটিলাগমন কথা শুনি সশঙ্কিত।
সূর্য্যের মন্দিরে সভে হৈলা উপনীত॥
প্রবেশিলা সভে সূর্য্যমন্দির ভিতরে।
হেন কালে তথা আসি জটিলা উতরে॥
দিনমণি প্রণমিতে আইলা জটিলা।
দেখে বসিয়াছে যত আভীরীর বালা॥
কুন্দলতা দেখি কথা কহে ব্যাজ কেনে।
কুন্দলতা কহে বিপ্র না পাই এখানে॥
জটিলা কহয়ে কেনে কোথা গেল বটু।
কুন্দ কহে গেল তব কথা শুনি কটু॥
আর এক বিপ্র আছে গর্গ মুনির শিষ্য।
জটিলা কহয়ে তবে আনহ অবশ্য॥
শুনি কুন্দলতা গেল ব্রাহ্মণ আনিতে।
মাধব চলিল তার পাছেতে পাছেতে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১০-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

জটিলা গমনকথা শুনি সশঙ্কিত।
সূর্যের মন্দিরে সভে হইল উপনীত॥
প্রবেশিলা সভে সূর্যমন্দির ভিতরে।
হেনকালে তথা আসি জটিলা উত্তরে॥
দিনমণি প্রণমিতে আইলা জটিলা।
দেখে বসি আছে যত আভীরের বালা॥
কুন্দলতা দেখি কথা কহে ব্যাজ কেনে।
কুন্দলতা কহে বিপ্র না পাই এখানে॥
জটিলা কহএ কেনে কোথা গেল বটু।
কুন্দলতা কহে তোমার কথায় ভেল কটু॥
আর এক বিপ্র আছে গর্গ মুনির শিষ্য।
জটিলা কহয়ে তবে আনহ অবশ্য॥
সুনি কুন্দলতা গেল ব্রাহ্মণ আনিতে।
মাধব চলিল তার পাছেতে পাছেতে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মিত্র পুজাইয়া বিশ্বশর্ম্মা দ্বিজরাজ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৭৬।

.        ॥ ভাটিয়ারি॥

মিত্র পুজাইয়া বিশ্বশর্ম্মা দ্বিজরাজ।
বটুরে লইয়া সাধিলেন নিজ কাজ॥
মুদ্রা সহিতে বটু নৈবেদ্য বান্ধিলা।
বিদায় হইয়া দোহেঁ কাননে চলিলা॥
সখাগণ মাঝে কৃষ্ণ যাইবার তরে।
ব্রাহ্মণের বেশ সব করিলেন দূরে॥
চূড়া বান্ধি বেণু বাঁশী লইলেন হাতে।
কৌতুকে মিলিলা সব সখার সহিতে॥
বটুর অঞ্চলে বান্ধা নৈবেদ্য দেখিয়া।
খোলয়ে রাখাল সব চৌদিগে ঘেরিয়া॥
বলরামের ইঙ্গিতে সকল সখাগণ।
নৈবেদ্য সহিতে নিল তাহার বসন॥
ক্রোধে শাপ পাড়ে বটু কৃষ্ণ করে মানা।
তবে তারে বস্ত্র দিল করি বিড়ম্বনা॥
কৃষ্ণ লৈয়া সখাগণ নানা ক্রীড়া করে।
অপরাহ্ন হৈল বলি মাধব ফুকারে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভাটিয়ারি॥

মিত্র পুজাইয়া বিশ্বশর্ম্মা দ্বিজরাজ।
বটুরে লইয়া সাধিলেন নিজ কাজ॥
মুদ্রা সহিতে বটু নৈবেদ্য বান্ধিলা।
বিদায় হইয়া দোহেঁ কাননে চলিলা॥
সখাগণ মাঝে কৃষ্ণ যাইবার তরে।
ব্রাহ্মণের বেশ সব করিলেন দূরে॥
চূড়া বান্ধি বেত্র বাঁশী লইলেন হাতে।
কৌতুকে মিলিলা সব সখার সহিতে॥
বটুর অঞ্চলে বান্ধা নৈবেদ্য দেখিয়া।
খোলয়ে রাখাল সব চৌদিগে ঘেরিয়া॥
বলরামের ইঙ্গিতে সকল সখাগণ।
নৈবেদ্য সহিতে নিল তাহার বসন॥
ক্রোধে শাপ পাড়ে বটু কৃষ্ণ করে মানা।
তবে তারে বস্ত্র দিল করি বিড়ম্বনা॥
কৃষ্ণ লৈয়া সখাগণ নানা ক্রীড়া করে।
অপরাহ্ন হৈল বলি মাধব ফুকারে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ রাগ তালো যথা॥

মিত্র পুজাইয়া বিষ্ণুশর্মা দ্বিজরাজ। বটুরে লইয়া সাধিলেন নিজ কাজ॥
মুদ্রা সহিতে বটু নৈবেদ্য বান্ধিল। বিদায় হইয়া দুহে কাননে চলিল॥
সখাগণ মাঝে কৃষ্ণ জাইবার তরে। ব্রাহ্মণের বেশ সব করিলেন দূরে॥
চূড়া বান্ধি বেণু বাঁসি লএ নিজ হাথে। কৌতুকে মিলিলা সব সখার সহিতে॥
বটুর অঞ্চলে বান্ধা নৈবেদ্য দেখিয়া। খোলএ রাখাল সব চৌদিগে ঘেরিয়া॥
বলরামের ইঙ্গিতে সকল সখাগণ। নৈবেদ্য সহিতে নিল তাহার বসন॥
ক্রোধে শাপ পাড়ে বটু কৃষ্ণ করে মানা। তবে তারে বস্ত্র দিল করি বিড়ম্বনা॥
কৃষ্ণ লইয়া সখাগণ নানা ক্রীড়া করে। অপরাহ্ন হৈল বলি মাধব ফুকারে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর