কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কুন্দলতা আসে তবে রাই-কর লৈয়া
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৭৯। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৭-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥ (পুরবী)

কুন্দলতা আসে তবে রাই-কর লৈয়া।
জটিলার হাতে হাতে দিলা সমর্পিয়া॥
তবে সে জটিলা সভার করিলা সম্মান।
বসাইয়া সভারে দেওল গুয়াপাণ॥
সাদরে আদর করি বিদায় করিলা।
জটিলা বন্দিয়া সভে নিজালয়ে গেলা॥
সুবদনী আসি নিজ-মহলে বসিলা।
মধব ভণে দাসীগণে সেবিতে লাগিলা॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অট্টালিকা উপরে উঠিলা তবে কানু
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৯১।

.        ॥ তথারাগ॥ (মঙ্গল)

অট্টালিকা উপরে উঠিলা তবে কানু।
তুঙ্গ মন্দিরে ধনি পুলকিত তনু॥
দুরে দুরে দুহুঁ জন দরশন পায়।
অবশ হইলা তনু ধরণে না যায়॥
কানু কহে হেরি কি উদয় ভেল চাঁদ।
কিয়ে মঝু লোচন-পিরিতিক ফাঁদ॥
ঐছনে দুহুঁ দোহা হেরি মুখ-বিধু।
দুহুঁ জন-নয়ন-চকোর পিয়ে শিধু॥
দুহুঁ তনু কাঁপয়ে দুহুঁ মুখে হাস।
দুহুঁ জন কহে তব গদগদ ভাষ॥
সকি কহে কি দেখহ সুবদনি রাই।
ধনি কহে নন্দ-মহল দিশ চাই॥
সখি কহে শশি-ধজ ঊড়য়ে বায়।
তুহুঁ বুঝি হেরিয়া কানু কহ তায়॥
ধনি কহে যছু ধজে শিখি-শশি হোয়।
হেরহ সোই নেহারই মোয়॥
এত কহি দুহুঁ দুহুঁ পুন পুন হেরি।
যতনহি মন্দিরে বৈঠল ফেরি॥
সময় জানি কহে মাধব তায়।
নাগর রাজ-সভা মাহা যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৮-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥

অট্টালিকা উপরে উঠিলা তবে কানু।
তুঙ্গ মন্দিরে ধনি পুলকিত তনু॥
দুরে দুরে দুহুঁ জন দরশন পায়।
অবশ হইলা তনু ধরণে না যায়॥
কানু কহে হেরি কি উদয় ভেল চাঁদ।
কিয়ে মঝু লোচন পিরিতিক ফাঁদ॥
ঐছনে দুহুঁ দোহা হেরি মুখবিধু।
দুহুঁ জন নয়ন চকোর পিয়ে শীধু॥
দুহুঁ তনু কাঁপয়ে দুহুঁ মুখে হাস।
দুহুঁ জন কহে তব গদগদ ভাষ॥
সকি কহে কি দেখহ সুবদনি রাই।
ধনি কহে নন্দ-মহল দিশ চাই॥
সখি কহে শশিধ্বজ ঊড়য়ে বায়।
তুহুঁ বুঝি হেরিয়া কানু কহ তায়॥
ধনি কহে যছু ধজে শিখিশশি হোয়।
হেরহ সোই নেহারই মোয়॥
এত কহি দুহুঁ দুহুঁ পুন পুন হেরি।
যতনহি মন্দিরে বৈঠল ফেরি॥
সময় জানি কহে মাধব তায়।
নাগররাজ বন মাহা যায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উপনন্দ অভিনন্দ নন্দের ডাহিনে
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৬৯৪।

॥ তথারাগ॥ (সিন্ধুড়া প্রাচীন)

উপনন্দ অভিনন্দ নন্দের ডাহিনে।
সনন্দ নন্দন দোহেঁ বসিয়াছে বামে॥
সমুখে সমুদ্র কত রচয়ে মন্ত্রণা।
দ্বিজগণ বিদ্যা-বিশারদ কত জনা॥
বসি বৃদ্ধ গোপগণ কৃষ্ণে অনুরাগ।
সভাকার শিরে শোভে মনোহর পাগ॥
শত শত দীপধর জ্বালি মহাদীপ।
দূরে বা ডাহিনে বামে আসন সমীপ॥
মুকুতা-লম্বিত চন্দ্রাতপ উর্দ্ধ-ভাগে।
হেম-দণ্ড চামর বীক্রয়ে কেহো আগে॥
হেন কালে রাম কানু আইলা সেখানে।
মহাকলকল-ধ্বনি উঠিল তখনে॥
নন্দ কোলে করিয়া লইলা রাম কানু।
দূরহি মাধব হেরি পুলকিত তনু॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাহি উঠল দুহুঁ মুছল অঙ্গ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭২১।

.        ॥ তথারাগ॥ (কামোদ)

নাহি উঠল দুহুঁ মুছল অঙ্গ।
পহিরণ কোমল বসন সুরঙ্গ॥
রতন-মন্দির মাহা দুহুঁজন গেল।
বহু উপহার ফল ভোজন কেল॥
তাম্বুল খাই শয়ন করু তাই।
ঘুমল নাগর নাগরি রাই॥
অপরূপ ঐছন নিতি নিতি কেলি।
মাধব হেরইতে আনন্দ ভেলি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ
থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত
ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ রাগ তালৌ যথা॥

নাহি উঠল দোহে মোছল অঙ্গ।
পহিরল কোমল বসন সুরঙ্গ॥
রতনমন্দিরে মাহা দোই জন গেল।
বহু উপহার ফল ভোজন কেল॥
তাম্বুল খাই শয়ন করূ তাই।
ঘুমল নাগর নাগরি রাই॥
অপরূপ নিতি নিতি ঐছন কেলি।
মাধব হেরইতে আনন্দ ভেলি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রাতঃকালে নিত্য-কৃত্য করি পৌর্ণমাসী
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৬০। এই পদটি ১৯৩৪ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বিভাষ॥

প্রাতঃকালে নিত্য-কৃত্য করি পৌর্ণমাসী।
কৃষ্ণের জননী-স্থানে মিলিলেন আসি॥
তাঁরে প্রণমিয়া রাণী আশিস লইলা।
কৃষ্ণের শয়ন-ঘরে গমন করিলা॥
হেন কালে শ্রীদামাদি যত সখাগণে।
উঠ কৃষ্ণ কৃষ্ণ ধ্বনি করয়ে অঙ্গনে॥
বাত্সল্যে ব্যাকুল রাণী কহে মৃদু বাণী।
উঠ পুত্র মুখ-পদ্ম দেখুক জননী॥
বলরামের নীল বস্ত্র কেমনে পড়িলা।
গেরুয়ার দাগ ভালে কেমতে লাগিলা॥
অসময়ে ফাগু অঙ্গে কেবা তোর দিল।
হিয়ায় কণ্টক-দাগ কেমনে লাগিল॥
সদাই গহন বনে করহ ভ্রমণ।
এতেক কহিতে রাণীর ঝরে দুনয়ন॥
নিছনি যাইয়ে পুত্র উঠহ এখন।
কহয়ে মাধব উঠি বসিলা তখন॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বিভাষ॥

প্রাতঃকালে নিত্যকৃত্য করি পৌর্ণমাসী।
কৃষ্ণের জননী স্থানে মিলিলেন আসি॥
তাঁরে প্রণমিয়া রাণী আশিস লইয়া।
কৃষ্ণের শয়ন-ঘরে গমন করিলা॥
হেনকালে শ্রীদামাদি যত সখাগণে।
উঠ কৃষ্ণ কৃষ্ণ ধ্বনি করয়ে অঙ্গনে॥
বাত্সল্যে ব্যাকুল রাণী কহে মৃদুবাণী।
উঠ পুত্র মুখপদ্ম দেখুক জননী॥
বলরামের নীল বস্ত্র কেমনে পরিলা।
গেরুয়ার দাগ ভালে কেমতে লাগিলা॥
অসময়ে ফাগু অঙ্গে কেবা তোরে দিল।
হিয়ায় কণ্টক-দাগ কেমনে লাগিল॥
সদাই গহন বনে করহ ভ্রমণ।
এতেক কহিতে রাণীর ঝরে দুনয়ন॥
নিছনি যাইতে পুত্র উঠহ এখন।
কহয়ে মাধব উঠি বসিলা তখন॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহচর সঙ্গহি নাগর কান
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৬২। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮১-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভূপালী॥

সহচর সঙ্গহি নাগর কান।
গোধন-দোহনে আওল বিহান॥
গোগণ মাঝে চলল যদু-বীর।
ঘন হাম্বারবে গরজে গভীর॥
ধেনু-চরণে দেই ছান্দন-ডোর।
দোহত গো-রস নন্দকিশোর॥
তনু তনু লাগল দুধক ধার।
মরকতে যৈছন মোতি বিথার॥
গাগরি ভরি ভরি ভার সাজাই।
ভার-বাহক দেই গেহ পাঠাই॥
কো কহ গোধন-দোহন রঙ্গ।
খেলই পুন সব সহচর সঙ্গ॥
শিশুগণ যুঝত করে লই দণ্ড।
তবহি অনায়ল সমরক ষণ্ড॥
কত কত কৌতুক হেরই তথাই।
শ্রবণে সুবল কহে আয়ত রাই॥
শুনইতে সচকিত নাগর কান।
তাকর সঙ্গহি করল পয়াণ॥
দুহুঁ জন পন্থ নেহারত ঠারি।
কহ মাধব হাম যাঙ বলিহারি॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভূপালী॥

সহচর সঙ্গহি নাগর কান।
গোধন-দোহনে আওল বিহান॥
গোগণ মাঝে চলল যদু-বীর।
ঘন হাম্বারবে গরজে গভীর॥
ধেনু-চরণে দেই ছান্দন-ডোর।
দোহত গোরস নন্দ কিশোর॥
তনু তনু লাগল দুধক ধার।
মরকতে যৈছন মোতি বিথার॥
গাগরী ভরি ভরি ভার সাজাই।
ভার-বাহক দেহ গেহ পাঠাই॥
কো কহু গোধন-দোহন রঙ্গ।
খেলই পুন সব সহচর সঙ্গ॥
শিশুগণ যুঝত করে লই দণ্ড।
তবহি অনাওল সমরক ষণ্ড॥
কত কত কৌতুক হেরই তথাই।
শ্রবণে সুবল কহে আয়ত রাই॥
শুনইতে সচকিত নাগর কান।
তাকর সঙ্গহি করল পয়ান॥
দুহুঁ জন পন্থ নেহারত ঠারি।
কহ মাধব হাম যাউ বলিহারি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুনইতে রাইক ঐছন বাণি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৭৬।

.        ॥ তথারাগ॥ (সুহই)

শুনইতে রাইক ঐছন বাণি।
ললিতা যতনহি তুলসিকে আনি॥
তাম্বুল-বীড় আর কুসুমক দাম।
দেই পাঠাওল নাগর ঠাম॥
তুলসী গমন কয়ল বন মাঝ।
খোজই কাহা নব নাগর-রাজ॥
নাগর-শেখর সহচর মেলি।
গোধন সঙ্গে রঙ্গে করু কেলি॥
ছল করি সুবল সখা লই কান।
রাই-কুণ্ড-তীরে করল পয়াণ॥
কুণ্ডক শোভন হেরি মন ভোর।
বেঠল সুবল সখা করি কোর॥
রাইক পন্থ নেহারত তাই।
মনমথে আকুল কুল নাহি পাই॥
তুলসি উলসি ভৈ তৈখনে গেল।
হেরি নাগরবর হরষিত ভেল॥
নাহক অতি উতকণ্ঠিত জানি।
তুলসি কহল সব রাইক বাণি॥
কুসুমক হার হৃদয় পর দেল।
কহ মাধব সব দুখ দুরে গেল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥ (সুহই)

শুনইতে রাইক ঐছন বাণি।
ললিতা যতনহি তুলসিকে আনি॥
তাম্বুলবীড় আর কুসুমক দাম।
দেই পাঠাওল নাগর ঠাম॥
তুলসী গমন কয়ল বন মাঝ।
খোঁজই কাহা নব নাগররাজ॥
নাগরশেখর সহচর মেলি।
গোধন সঙ্গে রঙ্গে করু কেলি॥
ছল করি সুবল সখা লই কান।
রাই কুণ্ডতীরে করল পয়াণ॥
কুণ্ডক শোভন হেরি মন ভোর।
বেঠল সুবল সখা করি কোর॥
রাইক পন্থ নেহারত তাই।
মনমথে আকুল কূল নাহি পাই॥
তুলসি উলসি ভৈ তৈখনে গেল।
হেরি নাগরবর হরষিত ভেল॥
নাহক অতি উতকণ্ঠিত জানি।
তুলসি কহল সব রাইক বাণী॥
কুসুমক হার হৃদয় পর দেল।
কহ মাধব সব দুখ দুরে গেল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুলসী কহল কানুক কথা
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৭৮।

.        ॥ সুহিনী॥

তুলসী কহল কানুক কথা।
যেমত তাহার হৃদয়ে বেথা॥
শুনি শশি-মুখী বিভোর হৈয়া।
বহু উপহার যতনে লৈয়া॥
সহচরীগণ লইয়া সঙ্গে।
দেবতা পূজিতে চলিলা রঙ্গে॥
বেশ বিভূযণ রচনা করি।
কানু অনুরাগে আকুল গোরি॥
সঙ্গিনী রঙ্গিণী বরজ-বালা।
যৈছন চলয়ে চাঁদের মালা॥
হেরিয়া চরণ-নখের ছান্দে।
মদন বেদনা পাইয়া কান্দে॥
রতন-মঞ্জীর ঝনন বাজ।
গমনে জিতল কুঞ্জর-রাজ॥
গগনে নিরখি অধিক বেলা।
মাধব তুরিতে লইয়া গেলা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার সূর্য্যপূজাচ্ছলে অভিসার
.        ॥ সুহিনী॥

তুলসী কহল কানুক কথা।
যেমত তাহার হৃদয়ে বেথা॥
শুনি শশিমুখী বিভোর হৈয়া।
বহু উপহার যতনে লৈয়া॥
সহচরীগণ লইয়া সঙ্গে।
দেবতা পূজিতে চলিলা রঙ্গে॥
বেশ বিভূযণ রচনা করি।
কানু অনুরাগে আকুল গোরি॥
সঙ্গিনী রঙ্গিণী বরজবালা।
যৈছন চলয়ে চাঁদের মালা॥
হেরিয়া চরণনখের ছান্দে।
মদন বেদনা পাইয়া কান্দে॥
রতনমঞ্জীর ঝনন বাজে।
গমনে জিতল কুঞ্জর-রাজে॥
গগনে নিরখি অধিক বেলা।
মাধব তুরিতে লইয়া গেলা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ সুহিনী॥

তুলসী কহল কানুক কথা। যেমত তাহার হৃদয়ে ব্যাথা॥
শুনি শশীমুখী বিভোর হৈয়া। বহু উপহার যতনে লৈয়া॥
সহচরীগণ লইয়া সঙ্গে। দেবতা পূজিতে চলিলা রঙ্গে॥
বেশ বিভূযণ রচনা করি। কানু অনুরাগে আকুল গৌরি॥
সঙ্গিনী রঙ্গিনী বরজ বালা। যৈছন চলয়ে চাঁদের মালা॥
হেরিয়া চরণ নখের ছান্দে। মদন বেদনা পাইয়া কান্দে॥
রতন মঞ্জুরী ঝনন বাজ। গমনে জিতল কুঞ্জর রাজ॥
গগনে নিরখি অধিক বেলা। মাধব তরিতে লইয়া গেলা॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ দোহাঁ দরশনে ভাবে বিভোর
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৮০।

অথ মধ্যাহ্ন-লীলা।
.        ॥ ভূপালী॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে ভাবে বিভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে ঢরকত লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদগদ বোল।
ঘরমহি ভীগত দুহুঁক নিচোল॥
অপরূপ দুহুঁজন ভাব তরঙ্গ।
খেণে ঘন কম্পন খেণে থির অঙ্গ॥
চলইতে চাহে দুহুঁ চলই না পারি।
কহে মাধব দুহুঁ যাঙ বলিহারি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃন্দাদেবী-বিরচিত কুসুম-হিন্দোলা
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৮২। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৩-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ মল্লার॥

বৃন্দাদেবী-বিরচিত কুসুম-হিন্দোলা।
তাহাতে বসিলা অতি আনন্দে বিভোলা॥
রাই কানু সমুখাসমুখি মুখ হেরে।
ললিতা বিশাখা সখী ঝুলায় দোহাঁরে॥
হেরইতে সখীগণ দুহুঁ-মুখ-চন্দ।
নাচত কোই গাওয়ে পরবন্ধ॥
খেণে অতি বেগে ঝুলয়ে খেণে মন্দ।
জলদে বিজুরি জনু ঐছন ছন্দ॥
দুহুঁ পর কুসুম বরিখে সখি মেলি।
হেরই মাধব দুহুঁ জন-কেলি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর