কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
রতি-রণ-ছরমে ঘরম দুহুঁ-অঙ্গ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৮৯।

.        ॥ বরাড়ী॥

রতি-রণ-ছরমে ঘরম দুহুঁ-অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ তব সো রস-ভঙ্গ॥
সহচরিগণ সঞে করি অনুমান।
জল-কেলি-সাধে কুণ্ডে অবগান॥
বসন ভুষণ সব সখি করে দেল।
দুহুঁ জন জল মাহা নিমগন ভেল॥
করিণি-নিচয়ে জনু কবিবর-রাজ।
সমর করয়ে কিয়ে সলিল সমাজ॥
করে করি জল উভারয়ে সখিগণ।
নাগর উপরে ঘন করে বরিষণ॥
বদন মোড়ি নাগর ক্ষণে ধাই।
অলখিতে জল মাহা চুম্বয়ে রাই॥
ঐছন সহচরিগণ কর বারি।
চুম্বয়ে কাহুক কুঞ্চুক ফারি॥
সহচরি সরসিজ-আয়ূধ ধারি।
কানু-কর বারই কোই দেই গারি॥
তব নাগরবর নাগরি নেল।
তুরুতহিঁ বহুতর জল মাহা গেল॥
দুহুঁজন-মন মাহা মদন-তরঙ্গ।
তীরহি মাধব হেরত রঙ্গ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাজ-সভা মাহ বৈঠল ব্রজ-পতি
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩১শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮০৮। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৮-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাজ-সভা মাহ                                বৈঠল ব্রজ-পতি
সহোদরগণ লই সাথ।
কোই কোই চামর                            ঢুলায়ত মৃদু মৃদু
কোই ছত্র ধরু মাথ॥
আওল কানু বলরাম।
শির পর সুরঙ্গ                                  পাগ মনোহর
যৈছন দুহুঁ নব-কাম॥
ব্রজ-পতি কোরহি                             লেয়ল দুহুঁ জন
চুম্বন কয়ল বয়ান।
সমুখহি নর্ত্তক                                     বাদক গায়ক
যন্ত্র মেলি করু গান॥
পড়য়ে বন্দিগণ                                    ছন্দ মনোহর
উজলিত শত শত দীপ।
সকল সভা-জন-                                চীত চোরায়ত
মাধব হেরত সমীপ॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাজ-সভা মাহ,                                বৈঠল ব্রজ-পতি,
সহোদরগণ লই সাথ।
কোই কোই চামর,                            ঢুলায়ত মৃদু মৃদু,
কোই ছত্র ধরু মাথ॥
আওল তাহিঁ কানু বলরাম।
শির পর সুরঙ্গ,                                   পাগ মনোহর,
যৈছন দুহুঁ নব-কাম॥
ব্রজ-পতি কোরহি,                              লেয়ল দুহুঁ জন,
চুম্বন কয়ল বয়ান।
সমুখহি নর্ত্তক,                                     বাদক গায়ক,
যন্ত্র মেলি করু গান॥
পড়য়ে বন্দিগণ,                                    ছন্দ মনোহর,
উজলিত শত শত দীপ।
সকল সভা-জন,-                                চীত চোরায়ত,
মাধব হেরত সমীপ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁজন গুণিগণে বহু ধন দেল
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮০৯। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৮-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (ধানশী)

দুহুঁজন গুণিগণে বহু ধন দেল।
জননী-নিদেশহি মন্দিরে গেল॥
ব্রজপতি সকল সহোদর সঙ্গে।
ভোজন-মন্দিরে আওল রঙ্গে॥
সেবক খসায়ল ভূষণ বাস।
সুত-মুখ হেরি হেরি বাড়য়ে উল্লাস॥
সভে মেলি ভোজনে বৈঠল ব্রজ-ভূপ।
কত উপহার অন্ন ব্যঞ্জন অনূপ॥
রোহিণি দেবি পরিবেশয়ে তায়।
কানু না খাওত আলস গায়॥
ব্রজ-পতি দম্পতি বিকল পরাণ।
যশোমতি কোরে করি লেয়ল কান॥
দাসগণ জল দেই আচমন কেল।
কহ মাধব নিজ মন্দিরে গেল॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (ধানশী)

দুহুঁজন গুণিগণে বহু ধন দেল।
জননী নিদেশহি মন্দিরে গেল॥
ব্রজপতি সকল সহোদর সঙ্গে।
ভোজন-মন্দিরে আওল রঙ্গে॥
সেবক খসায়ল ভূষণ বাস।
সুত-মুখ হেরি হেরি বাড়য়ে উল্লাস॥
সভে মেলি ভোজনে বৈঠল ব্রজ-ভূপ।
কত উপহার অন্ন ব্যঞ্জন অনূপ॥
রোহিণি দেবি পরিবেশয়ে তায়।
কানু না খাওত আলস গায়॥
ব্রজ-পতি-দম্পতি বিকল পরাণ।
যশোমতী কোরে করি লেয়ল কান॥
দাসগণ জল দেই আচমন কেল।
কহ মাধব নিজ মন্দির গেল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
করে কর মণ্ডিত মণ্ডলি মাঝ
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮১৮। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৪-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (কেদার)

করে কর মণ্ডিত মণ্ডলি মাঝ।
নাচত নাগরি নাগর-রাজ॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ-মান করু গান॥
কত কত অঙ্গ-ভঙ্গ কর-কম্প।
চালয়ে চরণ সুমঞ্জির ঝম্প॥
কঙ্কণ-কিঙ্কিণি বলয়-নিসান।
অপরূপ নাচত রাধা কান॥
জনু নব-জলধরে বিজুরিক ভাতি।
কহ মাধব দুহুঁ ঐছন কাঁতি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন
পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৫২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - একতালা॥

করে কর মণ্ডিত মণ্ডলী মাঝ।
নাচত নাগরী নাগর-রাজ॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
কত কত অঙ্গ-ভঙ্গ করু কত কম্প।
চালয়ে চরণ সুমঞ্জির ঝম্প॥ (এই পংক্তিটি এখানে নেই। সম্ভবত ছাপার ভুল।)
কঙ্কণ কিঙ্কিনী বলয় নিশান।
অপরূপ নাচত রাধা কান॥
জনু নব জলধরে বিজুরিক ভাতি।
কহ মাধব দুহুঁ ঐছন কাঁতি॥

ই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥ (ধানশী)

করে কর মণ্ডিত মণ্ডলি মাঝ।
নাচত নাগরী নাগর-রাজ॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
কত কত অঙ্গ-ভঙ্গ কর-কম্প।
চালয়ে চরণ সুমঞ্জীর ঝম্প॥
কঙ্কণ-কিঙ্কিণী বলয়-নিসান।
অপরূপ নাচত রাধা কান॥
জনু নব-জলধরে বিজুরীক ভাতি।
কহ মাধব দুহুঁ ঐছন কাঁতি॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখিগণ মেলি করত গান
কবি মাধব
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮২৮।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

সখিগণ মেলি করত গান।
কানু গায়ত ধনি ধরতহি মান॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
বাওত কোই সখি তাল ধরি॥
কত কত রাগিণি করত সঞ্চার।
রাগ আলাপয়ে কত পরকার॥
কালিন্দী-তীর করত বিহার।
হেরইতে মাধব প্রেম বিথার॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

সখিগণ মেলি করতহি গান।
কানু গায়ত ধনি ধরতহিঁ তান॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
বাওত কোই সখি তাল ধরি॥
কত কত রাগিণি করত সঞ্চার।
রাগ আলাপয়ে কত পরকার॥
কালিন্দীতীরে করত বিহার।
হেরইতে মাধব প্রেম বিথার॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ললিতা সখী হসিত মুখী
কবি মাধব
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৩-
পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ ভাটীয়ারী॥

ললিতা সখী                              হসিত মুখী
কহয়ে নায়্যার ঠাঞি।
বোল না কেন                            তোমার মন
কতেক বেতন চাই॥
আমরা হইয়ে                        রাজার ঝিয়ারী
যদি মরিযাদা পাই।
ঝাড়িলে হাথ                              হবে কৃতার্থ
কিসের কাতর রাই॥
কহয়ে নেয়্যে                            বুঝাহ রাইয়ে
কথা কহেন একবার।
পার করি দিব                           বেতন না লব
এই সে কহিল সার॥
শুনি নায়্যার কথা                      কহিছে ললিতা
তোমার নাহিক বোধ।
উহাক চরণে                          তোমার পরাণে
দিলে কি পাইবে শোধ॥
রাজার ঝিয়ারী                          আয়ানের নারী
রাধিকা যাহার নাম।
ঘাটী মাঝি সনে                        কহিবে কেমনে
তাহারি ঐছন কাম॥
নায়্যা তোমার সাহস বড়।
বাঙন হইয়া                              চাঁদ ধরিবারে
কেমনে সাহস কর॥ ধ্রু॥
একটি বোলের                            মূল কর যদি
ভূবনে সে ধন নাই।
না কর না কর                        পারে নাহি যাব
বিলাব দীনের ঠাঞি॥
এ বোল শুনিয়া                          করে কল কল
রাই-বিনোদিনী হিয়া।
মাধবে কহয়ে                              খেয়ারীর মন
তুষিব বচন দিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ ভাটীয়ারী॥

ললিতা সখী                               হসিত মুখী
কহয়ে নায়্যার ঠাঞি।
বোল না কেন                           তোমার মেন
কতেক বেতন চাই॥
আমরা হইয়ে                        রাজার ঝিয়ারী
যদি মরিযাদা পাই।
ঝাড়িলে হাথ                              হবে কৃতার্থ
কিসের কাতর রাই॥
কহয়ে নেয়্যে                           বুঝাহ রাইয়ে
কথা কহেন একবার।
পার করি দিব                          বেতন না লব
এই সে কহিল সার॥
শুনি নায়্যার কথা                      কহিছে ললিতা
তোমার নাহিক বোধ।
উহার চরণে                           তোমার পরাণে
দিলে কি পাইবে শোধ॥
রাজার ঝিয়ারী                         আয়ানের নারী
রাধিকা যাহার নাম।
ঘাটী মাঝি সনে                        কহিবে কেমনে
তাহার কি ঐছন কাম॥
নায়্যা তোমার সাহস বড়।
বাঙন হইয়া                              চাঁদ ধরিবারে
কেমনে সাহস কর॥ ধ্রু॥
একটি বোলের                             মূল কর যদি
ভূবনে সে ধন নাই।
না কর না কর                         পারে নাহি যাব
বিলাব দীনের ঠাঞি॥
এ বোল শুনিয়া                           করে কল কল
রাইবিনোদিনী হিয়া।
মাধবে কহয়ে                             খেয়ারীর মন
তুষিব বচন দিয়া॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ললিতা সখী, হসিত মুখী, কহয়ে নেয়ের ঠাই।
বোল না কেনে, তোমার মেনে, ক’তেক বেতন চাই॥
কহেন মুরারী, রাজার কুমারী, এসেছেন কিশোরী রাই।
ঝাড়িলে হস্ত, হব কৃতার্থ, কটাক্ষ করিলে পাই॥
ঐ যে ধনি, যে বলে শুনি, তাহাতে করিব পার।
উহার বদন চেয়ে, নিছনি ল’য়ে, পরাণ উপর ধার॥
ললিতা হাসিয়ে, কহে ওহে নেয়ে, তোমার নাহিক বোধ।
রাইয়ের বচনে, তোমার পরাণে, দিলে কি হইবে শোধ॥
রাজার ঝিয়ারী, আয়ানের নারী, রাধিকা যাহার নাম।
ঘাট মাজি সনে, কহিবে বচনে, তাহার কি ঐছন কাম॥
না করিহ রোল, দিব কিছু ঘোল, তোমার সোহাগ বড়।
দুকড়া দুকড়া করিয়ে তুললে অনেক হইবে জড়॥
শুনিয়া এ বোল, হয়ে উতরোল, রাই বিনোদিনী হিয়া।
মাধব বচন, পেয়ারির মন, তোষহ বচন দিয়া॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোয়ালিনি বড়ই তোমরা ঝাট
কবি মাধব
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৩-
পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ ভাটীয়ারী॥

গোয়ালিনি বড়ই তোমার ঝাট।
নৌকা চাপিবারে চাও                               বেতন নাহিক দাও
যাত্যে চাও মথুরার হাট॥
কথায় কথায় বেলা যায়                              দান দিয়া চড় নায়
আন্ধার করিয়া আইল দেয়া।
একে মোর ভাঙ্গা নাও                            তাহাতে দিয়াছে বাও
দু-দু পরে দেই এক খেয়া॥
নৌকা-খানি মোর                                         অতি নহে বড়
বুঝিয়া চাপিলে হয়।
শুন সব সই                                                 দুই জনা বই
তিন জনা নাহি সয়॥
সবে আছে দিন                                              দণ্ড দুই তিন
তোমরা অবলা জাতি।
একে একে পার                                             করিতে সকলে
হইবে অনেক রাতি॥
যমুনা-তুফান                                              বহে কাণে-কাণ
পার করিবারে নারি।
মন-মত পাই                                             নৌকায় চাপাই
শুনহে গোপের নারি॥
হাসিয়া ললিতা                                             কহিছে বচন
শুন হে খেয়ার-রায়।
বেতন পাইবে                                            ওপারে যাইলে
মাধব এ রস গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

(গোয়ালিনি) বড়ই তোমার ঠাট।
বেতন না দিয়া                                        নায়েতে চাপিয়া
যাবে মথুরার হাট॥
বেলা বয়ে যায়                                        আসি চড় নায়
আন্ধার করিছে দেয়া।
একে ভাঙ্গা নাও                                    তাহে দিছে বাও
কি করিয়া দিব খেয়া॥
নৌকাখানি মোর                                      অতি নহে বড়
বুঝিয়া চাপিলে হয়।
শুন সব সই                                              দুই জনা বই
তিন জনা নাহি সয়॥
সবে আছে দিন                                          দণ্ড দুই তিন
তোমরা অবলা জাতি।
একে একে পার                                        করিতে সকলে
হইবে অনেক রাতি॥
যমুনাতুফান                                          বহে কানে কান
পার করিবারে নারি।
মনোমত পাই                                        নৌকায় চাপাই
শুন হে গোপের নারি॥
হাসিয়া ললিতা                                        কহিছে বচন
শুন হে খেয়ারি রায়।
বেতন পাইবে                                        ও পারে যাইলে
মাধব এ রস গায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
না বায় হরি নবীন কাণ্ডারী
কবি মাধব
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৫-
পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ ভাটীয়ারী॥

না বায় হরি                                   নবীন কাণ্ডারী
রঙ্গে ব্রজ-গোপী সঙ্গে।
ঝুমকি ঝুমকি                                পড়ে কেরোয়াল
যমুনা চারু-তরঙ্গে॥
অঙ্গ-ভঙ্গ করি                                বাহে সব গোপী
অঞ্চল উড়য়ে বায়।
শ্রম-ঘর্ম্মমুখী                                  বাহে সব গোপী
মাধব এ রস গায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু মরকত-তরণী হৈয়া
কবি মাধব
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৪৫-পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু মরকত-তরণী হৈয়া।
ভাসে ত তরণী রাইরে লৈয়া॥
উলট-কনক-কমল-মুখী।
তা দেখি নাগর কত না সুখী॥
পীঠের উপর দোলয়ে বেণী।
যেন হেম-পীঠে শোভয়ে ফণী॥
যমুনা-তরঙ্গে সুরঙ্গ-কেলি।
সখীগণ মনে আনন্দে ভেলি॥
কহয়ে মাধব মাধব-রঙ্গ।
নব নব সব যুবতী-সঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু মরকত তরণী হৈয়া।
ভাসিল তরুণী রাইরে লৈয়া॥
উলট কনককমলমুখী।
তা দেখি নাগর কত না সুখী॥
পীঠের উপর দোলয়ে বেণী।
যেন হেমপীঠে শোভয়ে ফণী॥
যমুনাতরঙ্গে সুরঙ্গকেলি।
সখীগণ মনে আনন্দে ভেলি॥
কহয়ে মাধব মাধবরঙ্গ।
নব নব সব যুবতী সঙ্গ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ শ্রীরাগ॥

কানু মরকত তরণী হয়ে। ভাসয়ে রাধিকা রমণী লয়ে॥
উলট কমল কমল মুখী। তা দেখে নাগর কতেক সুখী॥
পীঠের উপর দোলয়ে বেণী। যেন হেম পীঠে শোভয়ে ফণি॥
যমুনা তরঙ্গ সুরঙ্গ কেলি। সখীগণ মনে আনন্দ ভেলি॥
কহয়ে মাধব মাধব রঙ্গ। নব নব রস যুবতী সঙ্গ॥

.             *************************              
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিষ্ণুপ্রিয়া সখী সনে কহে ধীরে ধীরে
কবি মাধব
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৩৭-পৃষ্ঠা।

.        ॥ ধানশী॥

বিষ্ণুপ্রিয়া সখী সনে কহে ধীরে ধীরে।
আজ কেন প্রাণ মোর অকারণ ঝুরে॥
কাপিছে দক্ষিণ আঁখি যেন স্ফুরে অঙ্গ।
না জানিয়ে বিধি কিয়ে করে সুখ ভঙ্গ॥
আর কত অস্ফুরান স্ফুরয়ে সদায়।
মনের বেদন কহিবারে পাই ভয়॥
আরে সখি পাছে মোর গৌরাঙ্গ ছাড়িবে।
মাধব এমন হৈলে পরাণে মরিবে॥

.             *************************              
.                                                                                   
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর