| কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাজ-সভা মাহ বৈঠল ব্রজ-পতি কবি মাধব আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮০৮। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৮-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাজ-সভা মাহ বৈঠল ব্রজ-পতি সহোদরগণ লই সাথ। কোই কোই চামর ঢুলায়ত মৃদু মৃদু কোই ছত্র ধরু মাথ॥ আওল কানু বলরাম। শির পর সুরঙ্গ পাগ মনোহর যৈছন দুহুঁ নব-কাম॥ ব্রজ-পতি কোরহি লেয়ল দুহুঁ জন চুম্বন কয়ল বয়ান। সমুখহি নর্ত্তক বাদক গায়ক যন্ত্র মেলি করু গান॥ পড়য়ে বন্দিগণ ছন্দ মনোহর উজলিত শত শত দীপ। সকল সভা-জন- চীত চোরায়ত মাধব হেরত সমীপ॥ এই পদটি, ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাজ-সভা মাহ, বৈঠল ব্রজ-পতি, সহোদরগণ লই সাথ। কোই কোই চামর, ঢুলায়ত মৃদু মৃদু, কোই ছত্র ধরু মাথ॥ আওল তাহিঁ কানু বলরাম। শির পর সুরঙ্গ, পাগ মনোহর, যৈছন দুহুঁ নব-কাম॥ ব্রজ-পতি কোরহি, লেয়ল দুহুঁ জন, চুম্বন কয়ল বয়ান। সমুখহি নর্ত্তক, বাদক গায়ক, যন্ত্র মেলি করু গান॥ পড়য়ে বন্দিগণ, ছন্দ মনোহর, উজলিত শত শত দীপ। সকল সভা-জন,- চীত চোরায়ত, মাধব হেরত সমীপ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ললিতা সখী হসিত মুখী কবি মাধব ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৩- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন। ॥ ভাটীয়ারী॥ ললিতা সখী হসিত মুখী কহয়ে নায়্যার ঠাঞি। বোল না কেন তোমার মন কতেক বেতন চাই॥ আমরা হইয়ে রাজার ঝিয়ারী যদি মরিযাদা পাই। ঝাড়িলে হাথ হবে কৃতার্থ কিসের কাতর রাই॥ কহয়ে নেয়্যে বুঝাহ রাইয়ে কথা কহেন একবার। পার করি দিব বেতন না লব এই সে কহিল সার॥ শুনি নায়্যার কথা কহিছে ললিতা তোমার নাহিক বোধ। উহাক চরণে তোমার পরাণে দিলে কি পাইবে শোধ॥ রাজার ঝিয়ারী আয়ানের নারী রাধিকা যাহার নাম। ঘাটী মাঝি সনে কহিবে কেমনে তাহারি ঐছন কাম॥ নায়্যা তোমার সাহস বড়। বাঙন হইয়া চাঁদ ধরিবারে কেমনে সাহস কর॥ ধ্রু॥ একটি বোলের মূল কর যদি ভূবনে সে ধন নাই। না কর না কর পারে নাহি যাব বিলাব দীনের ঠাঞি॥ এ বোল শুনিয়া করে কল কল রাই-বিনোদিনী হিয়া। মাধবে কহয়ে খেয়ারীর মন তুষিব বচন দিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। নৌকাবিলাস ॥ ভাটীয়ারী॥ ললিতা সখী হসিত মুখী কহয়ে নায়্যার ঠাঞি। বোল না কেন তোমার মেন কতেক বেতন চাই॥ আমরা হইয়ে রাজার ঝিয়ারী যদি মরিযাদা পাই। ঝাড়িলে হাথ হবে কৃতার্থ কিসের কাতর রাই॥ কহয়ে নেয়্যে বুঝাহ রাইয়ে কথা কহেন একবার। পার করি দিব বেতন না লব এই সে কহিল সার॥ শুনি নায়্যার কথা কহিছে ললিতা তোমার নাহিক বোধ। উহার চরণে তোমার পরাণে দিলে কি পাইবে শোধ॥ রাজার ঝিয়ারী আয়ানের নারী রাধিকা যাহার নাম। ঘাটী মাঝি সনে কহিবে কেমনে তাহার কি ঐছন কাম॥ নায়্যা তোমার সাহস বড়। বাঙন হইয়া চাঁদ ধরিবারে কেমনে সাহস কর॥ ধ্রু॥ একটি বোলের মূল কর যদি ভূবনে সে ধন নাই। না কর না কর পারে নাহি যাব বিলাব দীনের ঠাঞি॥ এ বোল শুনিয়া করে কল কল রাইবিনোদিনী হিয়া। মাধবে কহয়ে খেয়ারীর মন তুষিব বচন দিয়া॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ললিতা সখী, হসিত মুখী, কহয়ে নেয়ের ঠাই। বোল না কেনে, তোমার মেনে, ক’তেক বেতন চাই॥ কহেন মুরারী, রাজার কুমারী, এসেছেন কিশোরী রাই। ঝাড়িলে হস্ত, হব কৃতার্থ, কটাক্ষ করিলে পাই॥ ঐ যে ধনি, যে বলে শুনি, তাহাতে করিব পার। উহার বদন চেয়ে, নিছনি ল’য়ে, পরাণ উপর ধার॥ ললিতা হাসিয়ে, কহে ওহে নেয়ে, তোমার নাহিক বোধ। রাইয়ের বচনে, তোমার পরাণে, দিলে কি হইবে শোধ॥ রাজার ঝিয়ারী, আয়ানের নারী, রাধিকা যাহার নাম। ঘাট মাজি সনে, কহিবে বচনে, তাহার কি ঐছন কাম॥ না করিহ রোল, দিব কিছু ঘোল, তোমার সোহাগ বড়। দুকড়া দুকড়া করিয়ে তুললে অনেক হইবে জড়॥ শুনিয়া এ বোল, হয়ে উতরোল, রাই বিনোদিনী হিয়া। মাধব বচন, পেয়ারির মন, তোষহ বচন দিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গোয়ালিনি বড়ই তোমরা ঝাট কবি মাধব ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৩- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন। ॥ ভাটীয়ারী॥ গোয়ালিনি বড়ই তোমার ঝাট। নৌকা চাপিবারে চাও বেতন নাহিক দাও যাত্যে চাও মথুরার হাট॥ কথায় কথায় বেলা যায় দান দিয়া চড় নায় আন্ধার করিয়া আইল দেয়া। একে মোর ভাঙ্গা নাও তাহাতে দিয়াছে বাও দু-দু পরে দেই এক খেয়া॥ নৌকা-খানি মোর অতি নহে বড় বুঝিয়া চাপিলে হয়। শুন সব সই দুই জনা বই তিন জনা নাহি সয়॥ সবে আছে দিন দণ্ড দুই তিন তোমরা অবলা জাতি। একে একে পার করিতে সকলে হইবে অনেক রাতি॥ যমুনা-তুফান বহে কাণে-কাণ পার করিবারে নারি। মন-মত পাই নৌকায় চাপাই শুনহে গোপের নারি॥ হাসিয়া ললিতা কহিছে বচন শুন হে খেয়ার-রায়। বেতন পাইবে ওপারে যাইলে মাধব এ রস গায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ (গোয়ালিনি) বড়ই তোমার ঠাট। বেতন না দিয়া নায়েতে চাপিয়া যাবে মথুরার হাট॥ বেলা বয়ে যায় আসি চড় নায় আন্ধার করিছে দেয়া। একে ভাঙ্গা নাও তাহে দিছে বাও কি করিয়া দিব খেয়া॥ নৌকাখানি মোর অতি নহে বড় বুঝিয়া চাপিলে হয়। শুন সব সই দুই জনা বই তিন জনা নাহি সয়॥ সবে আছে দিন দণ্ড দুই তিন তোমরা অবলা জাতি। একে একে পার করিতে সকলে হইবে অনেক রাতি॥ যমুনাতুফান বহে কানে কান পার করিবারে নারি। মনোমত পাই নৌকায় চাপাই শুন হে গোপের নারি॥ হাসিয়া ললিতা কহিছে বচন শুন হে খেয়ারি রায়। বেতন পাইবে ও পারে যাইলে মাধব এ রস গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| না বায় হরি নবীন কাণ্ডারী কবি মাধব ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৫- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন। ॥ ভাটীয়ারী॥ না বায় হরি নবীন কাণ্ডারী রঙ্গে ব্রজ-গোপী সঙ্গে। ঝুমকি ঝুমকি পড়ে কেরোয়াল যমুনা চারু-তরঙ্গে॥ অঙ্গ-ভঙ্গ করি বাহে সব গোপী অঞ্চল উড়য়ে বায়। শ্রম-ঘর্ম্মমুখী বাহে সব গোপী মাধব এ রস গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |