কবি মাধব-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
গৌরগরবে হাম জনম গোঁয়ায়লুঁ
কবি মাধব
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, ২৫৪-পৃষ্ঠা।

॥ ধানশী॥

গৌরগরবে হাম                                       জনম গোঁয়ায়লুঁ
অব কাহে নিরদয় ভেল।
পরিজন বচনহি                                        গরলে গরাসল
গেহ দহন সম কেল॥
সজনি অবদিন বিফলহি ভেল।
সোঙরিতে সোমুখ                                      হৃদয় বিদারত
পাঁজরে বজরক শেল॥ ধ্রু॥
উঠ বোস করি কত                                ক্ষিতি মাহা লুঠত
পবন অনল দহ অঙ্গ।
কি করব কা দেই                                    সমবাদ পাঠাওব
মিলব কিয়ে তছু সঙ্গ॥
ব্যথিত বেদনি জন                                  বোধারত অনুখন
ধৈরজ ধরু হিয়া মাঝ।
নিরবধি সো গুণ                                      করু অবলমবন
মাধব শিরে হানে বাজ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাবৎ জীবন রঙ্গে বঞ্চিব
কবি মাধব
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৯৭-পৃষ্ঠা।

॥ আহিরী॥

যাবৎ জীবন রঙ্গে বঞ্চিব তোমার সঙ্গে লেহ কেন্ এই অভিলাষে।
দূরে গেও দূর আশে পতীত যৌবন রসে অবহু ছিণ্ডিল মোহ পাশে॥
প্রাণনাথ স্বরূপে কি রবে মধুপুরী।
ঘাটে ঘাটে এই ধ্বনি লোক মুখে যেন শুনি গোপীকার পিরীতি বিছোরি॥ ধ্রু॥
মোট যমুনা জলে বসন হরণ কালে সব সখী আগে সত্য কৈলা।
সোই সুকৃতি তবে তুহু সে হরলি এবে গোপীর শতেক পুরী গেলা॥
অপার করুণা শুনি শ্রশ্র আখি যদুমণি নাকহে বচন হেট মাথে।
দেখিয়ে পতির মৌন বুঝিয়া কাজের চিহ্ন মাধব কহে দুনু দুঃখ সাথে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেথা মিত্র পূজাইয়া নাগর-রাজ
কবি মাধব
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী
সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩১৭-পৃষ্ঠা।

॥ বালা ধানশ্রী - জপতাল॥

হেথা মিত্র পূজাইয়া নাগর-রাজ।
বটুরে লইয়া সব সাধি নিজ কাজ॥
মুদ্রার সহিত বটু নৈবেদ্য বাঁধিয়া।
কৃষ্ণ সঙ্গে সখা মাঝে উত্তরিল গিয়া॥
বটুর অঞ্চলে বাঁধা নৈবেদ্য দেখিয়া।
খেলয়ে রাখাল সব চৌদিকে ঘেরিয়া॥
বলরামের ইঙ্গিতে সকল সখাগণ।
নৈবেদেয সহিতে নিল তাহার বসন॥
ক্রোধে সাপ পাড়ে বটু কৃষ্ণ করে মানা।
তবে তার বস্ত্র দিল করি বিড়ম্বনা॥
কৃষ্ণ লৈয়া সখাগণ নানা ক্রীড়া করে।
অপরাহ্ন হৈল বলি মাধব ফুকারে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচেরে নাচেরে নাচে নাচে
কবি মাধব
১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

.          কৌমার লীলা।
.          গৌরচন্দ্র।
.        ॥ গুঞ্জরি টোরী॥

নাচেরে নাচেরে নাচে নাচে। করতালি দেয় রাণী রহি পাছে পাছে॥
আরে মোর প্রাণ কানু। মাথায় রতন ঝুরি ঝলমল তনু॥
কোথা গোলা নন্দঘোষ দেখহ আসিয়ে। গোপাল নাচিছে মোর করতালি দিয়ে॥
মাথায় রতন ঝুরি গলে মণিহার। চরণে মগড়া খাড়ু বলয়া সুগার॥
ক্ষুদ্র ঘন্টিকা কটি সোনার কিঙ্কিণী। গণ্ডে গজমুকুতা মাণিক গাঁথুনি॥
প্রিয় বচনে গোপী দেয় করতালি। ভালরে ভালরে নাচে বাপ বনমালী॥
নাচিতে নাচিতে বড় কুতূহলী হরি। মাধব কহয়ে কৃষ্ণ-প্রেমের ভিখারী॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তাগর তাতা দধী দম্বা উয়ারে
কবি মাধব
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
এখানে প্রথম পংক্তির প্রথম শব্দটি “আগর” এর বদলে “তাগর” রয়েছে। তাই আমরা
“তাগর তাতা দধী দম্বা উয়ারে” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদও আমাদের সূচীতে রাখছি।

॥ বিহাগ রাগ ধ্রুব তালো॥

তাগর তাতা দধী দম্বা উয়ারে থুগ থুগ থুগ থুগ থুগতা।
দৃগীতা দৃগী দৃগী মাদল বাজত অঙ্গভঙ্গে চলি জায় পা॥
তা তা তাথৈয়া তাথৈয়া দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগি দিগিতী॥ ধ্রু॥
রতিরঙ্গে সঙ্গীত ভঙ্গিম গোপীনী সঙ্গে নাচে ত মদনগোপালা।
থিয়া ইয়া ইয়া আইয়া ইয়া বহুবিধ জন্ত রসালা॥
রূনু রূনু রূনু রূনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু করকঙ্কণ রণরণি।
ঝমক ঝমক ঘটি ঘাঘটি কিঙ্কিণি কঙ্কণ ঝুমুর ধ্বনি॥
ডগমগ ডগমগ ডম্ফ ডুমিক ডিমি পিপি বেণু নিসানে।
চলত চিত্ত গতি নর্তন পদ অতি মাধব ইহ রসগানে॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচত অঙ্ক বন্ধ করি রাই
কবি মাধব
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২৯-পৃষ্ঠা।

.                ॥ ললিত রাগ দোতালি॥

নাচত অঙ্ক বন্ধ করি রাই। মাধব সঙ্গে মাধবী বলি জাই॥
রাই কানু নাচে রে নাচে ধনু অঙ্ক রাখিআ।
অঙ্গে অঙ্গে দোহ বিনিহিত বাহু হাস দামিনীদম মনিয়া
মঞ্জীর মুকইকি কৌতুক কিঙ্কিনী কিনি কিনিয়া॥
থুগু থুগু থুগুতা রঙ্গে ভঙ্গে চলে পা নখমণি ঝলমুলিয়া।
মাধব গানে অলিকুল তানে মুনিগণমনমোহনিয়া॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পিচকারি খেলা সভে আরম্ভ করিলা
কবি মাধব
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬৯-পৃষ্ঠা।

॥ সারঙ্গ রাগ॥ তাল ডাস পাহাড়ী॥

পিচকারি খেলা সভে আরম্ভ করিলা। বহু গন্ধচূর্ণ বস্তু অঞ্চলে বান্ধিলা॥
কিঙ্কিণী শৃঙ্খলা দৃঢ়বন্ধ কৈলা। কাম উদ্দীপনা গান আরম্ভ করিলা॥
সভে গন্ধচীর্ণ দেই কৃষ্টের উপরে। পুষ্পের কন্ধক গণ কেহুঁ কেহুঁ ডারে॥
মণিময় পিচকারি ধরি সখীগণে। পুষ্পগন্ধজলে তাহা করিয়া পূরণে॥
সভে মেলি সিঞ্চয়ে গোবিন্দকলেবর। সুবল মঙ্ল মধু কৃষ্ণসহচর॥
খেলিতে খেলিতে সভে হইলা বিভোর। কহয়ে মাধব অতি সুমধুর বোল॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চারু গণ্ড সুরমণি কুণ্ডল মুখশোভা
কবি মাধব
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭২-পৃষ্ঠা।

.                ॥ রাগিণী তালো॥

চারু গণ্ড সুরমণি কুণ্ডল মুখশোভা। লোন নয়ান নলিন রাতা রতিমতি খোভা॥
হাসলময় ভাসমান সারস রসনাং। তাথৈ তাথৈ থই সবদে বিকশিতদসনা॥
করকঙ্কণ ঝম্পন বড় কঙ্কণ কলনা। কিলিত কিংকিণী মধুর মাখন বোলনা॥
হরস পরস হাস মধুর মধুর বিমলতাং। গৌরীচরণ হৃদি ভাবিত মাধবকথিতজা॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু গোঠেরে সাজল দোন ভাই
কবি মাধব
১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায়
একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

আজু গোঠেরে সাজল দোন ভাই।
রাম কানাই গোঠে সাজে,                        জোরে শিঙ্গা বেণু বাজে
বরজে পড়িল ধাওয়া ধাই॥
চৌদিকে ব্রজ-বধূ,                                            মঙ্গস গাওত,
মুছিত কতহুঁ বয়ান।
আগে লাখে লাখে ধেনু,                                গগনে উঠিছে রেণু,
দ্বিজগণে করে বেদ গান॥
মুরহর হলধর,                                          ধরাধরি করি কর,
লীলায় দোলায় নিজ অঙ্গ।
ঘনাঞা ঘনাঞা কাছে,                                আনন্দে ময়ূর নাচে,
চান্দে মেঘে দেখি এক সঙ্গ॥
শ্রীকৃষ্ণের অভিমত,                                    পাক কৈল বহুমত,
সূপান্ত পায়স শিখরিণী।
ব্যঞ্জনের কত কূপ,                                     পর্ব্বত সমান স্তূপ,
অন্নকোটি করিলা সাজনি॥
নানা বাদ্য বাজে কত,                                  নর্ত্তকী নাচয়ে শত,
সহস্র সহস্র লোকে গায়।
যত গোপ গোপীগণ,                                       অলঙ্কৃত সব জন,
আনন্দে অবধি নাহি পায়॥
ধেনু বত্স সাজাইয়া,                                   কত স্বর্ণ-মুদ্রা লৈয়া,
ব্রহ্মণেরে দেই নন্দরায়।
মহা মহোত্সব রোল,                                কে কার শুনয়ে বোল,
এ মাধব দেখিয়া বেড়ায়॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব মাধবী, কুঞ্জহি-মাধব
১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তিটি “মাধব মাধবি মাধবি-কুঞ্জহি” পদের প্রথম পংক্তির
থেকে অল্প ভিন্ন। পাঠকের সুবিধার্থে, এটিকে তাই একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে এখানে তোলা হলো।

॥ বরাড়ী॥

মাধব মাধবী,                                   কুঞ্জহি-মাধব,
বিরচই মাধবী কেশ।
মাধবী-হার,                                  বলয় কর-কঙ্কণ,
মাধবি-সুরচিত বেশ॥
দেখ সখি মাধবী-রঙ্গ।
যা কর কুসুমকি,                              সুষমহি ভূলল,
মাধব মাধবী সঙ্গ॥
যো মধু-মদে উন-                             মত মধুকর বর,
অবিরত করত ঝঙ্কার।
দ্বিজবর ঘন ঘন,                                মঙ্গল-কলরব,
তরুবর ফল-ফুল-ভার॥
কুঙ্কুম চন্দন                                    মৃগ মদে লেপন,
করু রঙ্গিণিগণ অঙ্গ।
তনু তনু অতনু,                        সুতনু তনু উতপল,
মাধব হেরত রঙ্গ॥

.             *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর