| কবি মাধব আচার্য্যের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি চক্ষে ঝরে পানী ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৬৩-পৃষ্ঠা। ॥ ত্রিপদী॥ কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি, চক্ষে ঝরে পানী, যত সুপণ্ডিত যোদ্ধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ উপস্থিত কাল, বুঝি শিশুপাল, অসি চর্ম্ম করে লয়্যা। করয়ে ভর্ৎসন, তথা ঘনেঘন, কৃষ্ণ-পক্ষ নৃপচয়ে॥ দৈবকী-নন্দন, জগত বন্দন, পুনঃ পুনঃ নিন্দা শুনি। রুষিল তখন, শমন দমন, কুলান্তক যম যিনি॥ প্রভাত অরুণ, আঁখির বয়ণ, থর থর কাঁপে অঙ্গ। সভাজন যত, জ্ঞান হৈল হত, দেখিয়া রাগত রঙ্গ॥ তবে চক্রপাণি, নিজ চক্র হানি, বধিলেন চেদিশ্বরে। দুষ্টরাজাগণ, দেখিয়া বিষম, ভয়ে পলাইল ডরে॥ হৃত শিশুপাল, শরীর বিশাল, মহান্ মরম যায়। অসুর মরণ, দেখে সব জন, মাধব এ রস গায়॥ এই পদটি সম্বন্ধে, এই গ্রন্থেই, ২৬৩-পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি হস্তলিখিত পুথিতে তাঁরা এই পদটি কিছুটা ভিন্নরূপেও পেয়েছিলেন। আমরা এই পদটিকে তার প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে একটি স্বতন্ত্র পদ “কৃষ্ণ নিন্দা দেখি ক্রোধে অরুণাক্ষি” শিরোনামেও এখানে তুলে দিয়েছি। ॥ সুহই রাগ॥ কৃষ্ণ নিন্দা দেখি, ক্রোধে অরুণাক্ষি, যত পাণ্ডব যোধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ লখিয়া আপন বধ, শিশুপাল দুর্ম্মদ, খড়গ চর্ম্ম করে সারে। বহু গুরু রাজন, তর্জ্জি অনুক্ষণ, রিপু যাদব পরিবারে॥ দৈবকী নন্দন, সুর-মুনি-বন্দন, ত্রিভুবন বিজয়ী বিবাদী। করিয়া বিবিধ কর, চক্র আয়ুধ বর, চেদীশ্বর শির ছেদী॥ খল নির্জ্জিত ভেল, রহল কোপারশ পুর গহ্বর তরদেশে। পাইয়া সঙ্কট, আর অবগত স্ফুট, দূরে পলায় প্রাণ আশে॥ শিশুপাল হত, শরীর বিনিশ্রুত, তেজ লুকায় হরি কায়। অসুর মারি যেন, ভিক্ষা নির্ব্বাহিল, মোহিত মাধব গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণ নিন্দা দেখি ক্রোধে অরুণাক্ষি ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৬৩-পৃষ্ঠা। আমরা এই পদটিকে তার প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে একটি স্বতন্ত্র পদ “কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি চক্ষে ঝরে পানী” শিরোনামেও এখানে তুলে দিয়েছি। ॥ সুহই রাগ॥ কৃষ্ণ নিন্দা দেখি, ক্রোধে অরুণাক্ষি, যত পাণ্ডব যোধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ লখিয়া আপন বধ, শিশুপাল দুর্ম্মদ, খড়গ চর্ম্ম করে সারে। বহু গুরু রাজন, তর্জ্জি অনুক্ষণ, রিপু যাদব পরিবারে॥ দৈবকী নন্দন, সুর-মুনি-বন্দন, ত্রিভুবন বিজয়ী বিবাদী। করিয়া বিবিধ কর, চক্র আয়ুধ বর, চেদীশ্বর শির ছেদী॥ খল নির্জ্জিত ভেল, রহল কোপারশ পুর গহ্বর তরদেশে। পাইয়া সঙ্কট, আর অবগত স্ফুট, দূরে পলায় প্রাণ আশে॥ শিশুপাল হত, শরীর বিনিশ্রুত, তেজ লুকায় হরি কায়। অসুর মারি যেন, ভিক্ষা নির্ব্বাহিল, মোহিত মাধব গায়॥ এই পদটি সম্বন্ধে, এই গ্রন্থেই, ২৬৩-পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি পুথিতে তাঁরা এই পদটি কিছুটা ভিন্নরূপেও পেয়েছিলেন। ॥ ত্রিপদী॥ কৃষ্ণ-নিন্দা শুনি, চক্ষে ঝরে পানী, যত সুপণ্ডিত যোদ্ধা। মত্স্য দেশাশ্রয়, সহিত সঞ্জয়, ক্রোধেতে ঊর্দ্ধ আয়ুধা॥ উপস্থিত কাল, বুঝি শিশুপাল, অসি চর্ম্ম করে লয়্যা। করয়ে ভর্ৎসন, তথা ঘনেঘন, কৃষ্ণ-পক্ষ নৃপচয়ে॥ দৈবকী-নন্দন, জগত বন্দন, পুনঃ পুনঃ নিন্দা শুনি। রুষিল তখন, শমন দমন, কুলান্তক যম যিনি॥ প্রভাত অরুণ, আঁখির বয়ণ, থর থর কাঁপে অঙ্গ। সভাজন যত, জ্ঞান হৈল হত, দেখিয়া রাগত রঙ্গ॥ তবে চক্রপাণি, নিজ চক্র হানি, বধিলেন চেদিশ্বরে। দুষ্টরাজাগণ, দেখিয়া বিষম, ভয়ে পলাইল ডরে॥ হৃত শিশুপাল, শরীর বিশাল, মহান্ মরম যায়। অসুর মরণ, দেখে সব জন, মাধব এ রস গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন প্রভু জগদীশ তুআ পদে অহর্ন্নিশ ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৩-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ শুন প্রভু জগদীশ, তুআ পদে অহর্ন্নিশ, রহু মোর বহুত প্রণাম। নির্ম্মল তোমার যশ, গাইমু অশেষ রস, ইহা বিনা আর নাহি কাম॥ প্রভু উর উর হেন, জয় যদুনন্দন, আসরে করহ অধিষ্ঠান। যে হয় তোমার দাস, পূরহ তাহার আশ, শুনিয়া আপন গুণগান॥ ধ্রু॥ তুমি প্রভু দেব ভূপ, অনাদি কারণরূপ, সৃজন পালন ক্ষয়কারী। ত্রিভুবনে মহাশয়, কসিক করুণাময়, গোপ-রমণী মনোহারী॥ মধু মুর আদি করি, বধিলে যতেক অরি, ধরণী তারিলে বারেবার। কলিযুগে শ্রীচৈতন্য, প্রেমরসে করিলে ধন্য, দ্বিজ মাধব কহে সার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিগমকলপতরু বিগলিত ফল চারু ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৩-পৃষ্ঠা। ॥ পূরবী রাগ॥ নিগমকলপতরু, বিগলিত ফল চারু শুক-মুখে রহি মহীমাঝে। অমিঞা যে দ্রবময়, ত্বক বীজ নাহি তায়, অব্যয় অবিরত রাজে॥ শুনহে পণ্ডিত লোক, ঘুচিবে সকল শোক, কসিক ভাবুক যেই জন। শ্রীভাগবত রস, পিবহ অহর্ন্নিশ, বনা তা হা নাহিক মোচন॥ মুক্ত মুমুক্ষু বিষয়ী, লোক হয় ত্রিবিধি, গোবিন্দ-গুণ-অনুবাদে। হাম অতি আত্মঘাতী, ভুবনে তিন পাতকী, সেহ সব সুখ অনুমোদে॥ বেদ পুরাণ সার, শ্রীভগবত আর, প্রেম ভকতি পরকাশে। চৈতন্য-চরণ-ধন, শিরে করি আভরণ, ভূদেব মাধব ভাষে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুযুগ অখিল ভুবন পরিপালক ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৪-পৃষ্ঠা। ॥ পূরবী রাগ॥ অনুযুগ অখিল ভুবন পরিপালক বীলাতনু পরকাশা। যো গোপাল বালকেলি কৌতূক যদু-কুলে কংস-বিনাশা॥ বন্দহুঁ নারায়ণ সুখদাতা। নর অবতারে নরোত্তম বন্দহুঁ গায়ন ভাগবত গাথা॥ ত্বং বেদশাস্ত্র, পরিনিষ্ঠিতআশয়, শুদ্ধবুদ্ধি কবীন্দ্র। কৃষ্ণ কলেবর, চর্ম্মাস্বর-ধর, সুরমুনি-নুত ব্যাস বন্দ॥ কর্পূর কুন্দ, ইন্দু সিতচন্দন, যছু বরণ পদরাজে। সোহি সরস্বতী, দেবী বন্দহুঁ, মাধব কহে ধীর সমাজে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |