| কবি মাধব আচার্য্যের বৈষ্ণব পদাবলী |
| না জানি বাপ ভাই তোমারি পাছু ধাই ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৫৬-পৃষ্ঠা। ॥ রামকিরি রাগ॥ না জানি বাপ ভাই, তোমারি পাছু ধাই, অহর্নিশ্ বুলি মনসুখে। সে হেন সঙ্গ ভঙ্গে, বঞ্চিব কার সঙ্গে, চাহিমু আর কার মুখে॥ আরে ভাই কানাইরে, মাথায় হাথে রে, কান্দে রে রাখাল। কান্দে উচ্চনাদে, কি হইল পরমাদে, কাহা লয়্যা চরাইব পাল॥ প্রভাতে শিঙ্গার সানে, করাইয়া চেতনে, কেবা আর লয়্যা যাবে গোঠে। বিপিনে কাহার মেলে, ভুঞ্জিব কুতূহলে, কেবা আর রাখিব সঙ্কটে॥ শৈশব কাল ধরি, পদ এক পরিহরি, নাহি যাও প্রাণের সোসর। সে তুমি বিষের জলে, দারুণ ফণীর মেলে, কেমনে আছহ একেশ্বর॥ এই সব বত্স ধেনু, কেমনে ধরিব তনু, পালক কে তোমার বিহনে। সে মন্দ বেণির ধ্বনি, না শুনিব যদপমণি, কে জীয়ে মাধব গানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সবে ধন রাম কানাই ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ৬০-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ সবে ধন রাম কানাই। হারায়্যা পায়্যাছি তোমা আর কেহ নাই॥ শ্যাম সুন্দর কানু, সজল জলদ তনু, পুলকিত প্রফুল্ল বদন। যেন নিশি পরভাতে, উদয় দিবসনাথে, প্রকাশ পাইল পদ্মবন॥ সকল ব্রজের লোক, হরল যে রোগ-শোক, পাইয়া পরাণধন হরি। হরষিত সব জন, ঘন চুম্ব আলিঙ্গন, উল্লসিত বল্লব-নাগরী॥ কেহ নাচে কেহ গায়, কেহ বা দাণ্ডায়্যা চায়, মা-বাপের পরম উল্লাস। নিরখি হরির আঁখি, ভরিয়া তাহারে দেখি, পীয়ে রূপ না যায় পিয়াস॥ কেহ ঘনাইয়া কাছে, যত বিবরণ পুছে, প্রেমে হৃদয় উতরোল। নবনব অনুরাগে, বেড়িল গোপিনী ভাগে, ভূঙ্গে যেন বেড়িল কমল॥ শিশুগণে ধাই ধাই, সম্বোধিয়া ভাই ভাই, হাম্বারবে গাভী বত্স ফেরে। দ্বিজ মাধব কহে, দেবগণ রহি চাহে, পুরীখণ্ড কালিদহ আরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নহে তীর্থ জলময় দরশনে পাপক্ষয় ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৮৬-পৃষ্ঠা। ॥ ধানশী রাগ॥ নহে তীর্থ জলময়, দরশনে পাপক্ষয়, বহে দেবশিলা মূর্ত্তিময়ী। এই সব দিনে দিনে, বেদবিধি নিষেবণে, তুমিত বিলাসকারী হই॥ শুন শুন যেবা হয়, ভুবনে সাধুজন, দরশনে পতিত পাবন॥ ধ্রু॥ আঁখি ভরি সব তারা, মুরলীর শূন্য ধারা, বাণী শুনে সব ভেদকারী। না করি সেবন জ্ঞান, যেন বিধি দরশন, ক্ষেণেকে ক্ষেণেকে জ্ঞানহারী॥ যাহার এ ধাতু কায়, শ্রবণে বন্দিত হয়, সুত দারে হয় সমবন্ধী। তীর্থবুদ্ধি হয় জলে, মিথ্যা বুদ্ধি ধীরকুলে, সেই গোক্ষুরের হয় শুদ্ধি॥ দ্বিজ মাধবের বাণী, শ্রীভাগবত জানি, সোঙরণে অক্ষত বিনাশিনী। শ্রীচৈতন্য গুণ, পাপ বিনাশন, ক্ষেমব সে প্রকাশ অবনী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সকল শুভহেতু জন্মিল ষড় ঋতু ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ১৫-পৃষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। ॥ কামোদ রাগ॥ সকল শুভহেতু, জন্মিল ষড় ঋতু, রঙ্গে খীণহি কলঙ্কী। চিন্তিয়া গুণময়, গোকুলে চন্দ্রোদয়, রাহু ঘনে রহি লুকি॥ দুন্দুভি শঙ্খধ্বনি, নাচে তারা ঊর্দ্ধপাণি, হরিষে দেবা দেবীগণ। ( আজু ) অবনী অবতারী, হইলা শ্রীহরি, ধরণীর উল্লাসিত মন॥ ফলে দলে তরু, বিবিধ অতি চারু, কুসুম বিকসে অধিকে। আমোদে ভরে মন, গমন সমীরণ, সুরভি লই দশ দিকে॥ কোকিল মধুকর, চাতক শিশুবর, মধুর মঙ্গল গায়। জলদ জলনিধি, মিলিলা শুভবিধি, মধুর নাদে বাদ্য বায়॥ রাজহংস-কুল, কেলি কুতূহল, গগন মধি রহি ধায় রে। ধরণী ভার হরি, হইবে অবতারী, বাত কহে যো সভায় রে॥ সকলে সত্ত্বগুণী, কুরঙ্গী বিষফণী, শিখণ্ডী এক বসতি। * * * * * * ঈশত ঘনে ঘন, অমিয়া বরিষণ, কিরণ ধূলি নাশন। রাজ রাজেশ্বর, বিজয়ী সুরেশ্বর, করন্তি মহিমার্জ্জন॥ উঠে ফেরিগণ, বিরবে ঘনে ঘন, পড়িছে জয় হুলাহুলি। মাধব কহে রস, মিলিলা শ্রীনিবাস, ত্রিজগত রহে কুতূহলী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হাটে বাটে সব শুনি একরব ভণিতা - দ্বিজ মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২১-পৃষ্ঠা। গোপীগণের আনন্দ-প্রকাশ। ॥ সিন্ধুড়া রাগ॥ হাটে বাটে সব, শুনি একরব, নৃত্য গীত জয়ধ্বনি। শঙ্খ মৃদঙ্গ, বীণা বেণী দুন্দুভি, ঘন ঘন ধ্বনি শুনি॥ আজু যশোদা, পুত্র প্রসবিল, সুখ পাইল শুনিয়া। শ্রবণে নয়নে, দ্বন্দ্ব দূরে যাউক, চল দেখি আসি গিয়া॥ বুঢ়া বয়সে, নন্দঘোষে, দেখিল পুত্রের মুখ। প্রাণ ধন জন, সকল সফল, খণ্ডিল সকল দুখ॥ নিজ ঘরে যেন, হৈল উপপদ্ম, হেন লয় মোর মনে। কি আর বিলম্ব, কর সখগণ, সফল হইল নয়নে॥ গোপ-কন্যাগণ, হয়্যা একমন, কৌতুকে আবাল বৃদ্ধা। দ্বিজমাধব কহে, প্রভুর উত্সব হয়ে, কাহার মনে নাহি শ্রদ্ধা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চিন্তিত কংস রায়ে প্রাণে স্থির নহে ভণিতা - মাধব কবি মাধব আচার্য আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের শেষ থেকে ষোড়ষ শতকের প্রারম্ভকালে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৩-পৃষ্ঠা। পুতনা বধ। ॥ পঠমঞ্জরী রাগ॥ চিন্তিত কংস রায়ে, প্রাণে স্থির নহে, কুমতি অসুরের যুগতি। পূতনা রাক্ষসীরে, ডাকিয়া আনি তারে, দিলেন বিষম আরতি॥ স্বরূপে কহি আমি, সত্বরে চল তুমি, গৃহে গৃহে স্থানে স্থানে। দিবস দশ জাত, বালক পাহ যত, সকল মারহ পরাণে॥ লড়িল পুতনা, শিশুর যাতনা, রাক্ষসী বেশ পরিহরি। পরম সুন্দরী, জিনিয়া সুরনারী, ত্রৈলোক্য মোহিতে পারি॥ নবীন শিশু যথা, বধিয়া যায় তথা, বিষম বিষস্তন-পানে। ভ্রমিয়া ঘরে ঘরে, গোকুল নগরে, মিলিলা নন্দের ভুবনে॥ বান্ধিয়া শুকবরী, মল্লিকা পুষ্পভরি, সীমন্তে সুরঙ্গ সিন্দুর। চাঁদ জিনিষ হাস, কটাক্ষ মন্দভাষ, অলকা তিলক প্রচুর॥ পীন ঘন স্তন, মধ্য অতি ক্ষীণ, বিপুল নিতম্ব সুসারে। বৈকুণ্ঠ ছাড়িয়া, স্ত্রীজন্ম পাইয়া, প্রাণপতি দেখিবারে॥ দেখিয়া মোহিনী, সকল গোপিনী, বিস্ময় ভাবি মনে মনে। এল হেনরূপ, দেবতা-স্বরূপ, কমলা বুঝি অনুমানে॥ বিচিত্র সিংহাসন, শুইয়া নারায়ণ, কপট বালক মূরতি। দেখিল রাক্ষসী, যেন ভস্নরাশি, ঢাক্যাছে আগুনির জুতি॥ দেখিয়া মায়াকায়, হাসিয়া যদুরায়, চর্ম্মঘটেতে যেন শশী। বসিয়া কুতূহলে, গোবিন্দ লয়্যা কোলে, ঈষৎ কটাক্ষে মন্দ হাসি। যশোদা রোহিণী, এই দুই বুহিনী, দেখিয়া মোহে সেই রূপ। নিমিষ হরিয়া, আঁখি ভরিয়া, তারে দেখি, বোল না ফুরে মুখে চুপ॥ রাক্ষসী চন্দ্রাননে, দিলেন বিষস্তনে, রুষিলা দেব দনুজারি। চাপিয়া বুক টানে, চুম্বক দিল প্রাণে, সহিতে দুগ্ধ পান করি॥ মরমব্যথা পাই, ডাকিল পরিত্রাই, ছাড় ছাড় উচ্চ নাদে। দু-কর চরণ, আছাড়ি ঘন ঘন, নিজ মূর্ত্তি ধরি কাঁদে॥ সেই মহানাদ, শুনিতে পরমাদ, কম্পিত চৌদ্দ ভুবন। রাজ্য পাইল ভয়, মানিল প্রলয়, রাক্ষসী তেজিল জীবন॥ পর্ব্বতসম কায়, পথ কোশ ছয়, জিনিয়া শরীর তাহার। বড় বড় ঘর, দ্বার তরুবর, ভাঙ্গিয়া হইল চুরমার॥ সকল সুরঐরী, সংহারিতে, হরি, গোকুলে আদি পুরুষ। মাধব কহে সার, মুক্তি হইল তার, পূতনা প্রথম গণ্ডুষ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |