| কবি মাধব দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| প্রণতি করিয়া মায় চলিলা যাদব রায় কবি মাধব দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৪৫- পৃষ্ঠা। পদটি তিনি বাঁকুড়ার পুথি থেকে পেয়েছিলেন। ॥ কামোদ॥ প্রণতি করিয়া মায়, চলিলা যাদব রায় আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু সুর নর হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পাছে ধায় ব্রজপাল হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। মধ্যে নাচি যায় শ্যাম, দক্ষিণে সে বলরাম ব্রজবাসী হেরিয়া বিভোর॥ নবীন রাখাল সব আবা আবা কলরব শিরে চূড়া নটবর বেশ। আসিয়া যমুনা তীরে, নানা রঙ্গে খেলা করে কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষ ছান্দে কেহ কার চড়ে কান্ধে কেহো নাচে কেহো কেহ গায়। এ দাস মাধব বলে, কি শোভা যমুনাকূলে রামকানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ২৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ প্রণতি করিয়া মায়, চলিলা যাদব রায় আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু সুর নর হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পাছে ধায় ব্রজ বাল হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। মধ্যে নাচি যায় শ্যাম, দক্ষিণে সে বলরাম ব্রজবাসী হেরিয়া বিভোর॥ নবীন রাখাল সব আবা আবা কলরব শিরে চূড়া নটবর বেশ। আসিয়া যমুনা-তীরে, নানারঙ্গে খেলা করে কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষ ছান্দে কেহ কার চড়ে কান্ধে কেহো নাচে কেহো কেহ গায়। এ দাস মাধব বলে, কি শোভা যমুনাকূলে রামকানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২ খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস--- গোষ্ঠে গমন, পদসংখ্যা ১১৮৩ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ প্রণতি করিয়া মায়, চলিলা যাদব রায় আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গো-খুর-রেণু শুনি সভার হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পাছে ধায় ব্রজ-বাল হৈ হৈ শবদ ঘন রোল। মধ্যে নাচি যায় শ্যাম, দক্ষিণে সে বলরাম ব্রজ-বাসী হেরিয়া বিভোর॥ নবীন রাখাল সব আবা আবা কলরব শিরে চূড়া নটবর-বেশ। আসিয়া যমুনা-তীরে নানা রঙ্গে খেলা করে কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষ-ছান্দে কেহ কারো চড়ে কান্ধে কেহো নাচে কেহো গান গায়। এ দাস মাধব বলে কি শোভা যমুনা-কূলে রাম কানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণের ২৬-পৃষ্ঠায় পদটি এই রূপে দেওয়া রয়েছে। তাঁরা এই পদটি নিয়েছিলেন শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ১১৮৩ সংখ্যক পদ থেকেই, কিন্তু কয়েকটি শব্দ সম্পাদিত করে এই রূপে প্রকাশিত করেছিলেন। ॥ কামোদ॥ প্রণতি করিয়া মায়, চলিলা যাদব রায় আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু সর নর হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পাছে ধায় ব্রজ-বাল হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। মধ্যে নাচি যায় শ্যাম, দক্ষিণে সে বলরাম ব্রজ-বাসী হেরিয়া বিভোর॥ নবীন রাখাল সব আবা আবা কলরব শিরে চূড়া নটবর-বেশ। আসিয়া যমুনা-তীরে নানা রঙ্গে খেলা করে কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষ-ছান্দে কেহ কার চড়ে কান্ধে কেহো নাচে কেহো কেহ গায়। এ দাস মাধব বলে কি শোভা যমুনা-কূলে রাম কানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৩-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ প্রণাম করিয়া মায় চলিলা যাদব রায় . আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোখুররেণু . শুনি সভার হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল পাছে ধায় ব্রজবাল . হৈ হৈ শবদ ঘন রোল। মধ্যে নাচি যায় শ্যাম দক্ষিণে সে বলরাম . ব্রজবাসী হেরিয়া বিভোল॥ নবীন রাখাল সব আবা আবা কলরব . শিরে চূড়া নটবরবেশ। আসিয়া যমুনাতীরে নানা রঙ্গে খেলা করে . কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষ-ছান্দে কেহ কারো চড়ে কান্ধে . কেহো নাচে কেহো গান গায়। এ দাস মাধব বলে কি শোভা যমুনা-কূলে . রাম কানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ প্রণতি করিয়া মায়, চলিলা যাদব রায়, আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গো-ক্ষুর-রেণু, সুর নর হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পাছে ধায় ব্রজ বাল, হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। মধ্যে নাচি ধায় শ্যাম, দক্ষিণে সে বলরাম, ব্রজ-বাসী হেরিয়া বিভোর॥ নবীন রাখাল সব, আবা আবা কলরব, শিরে চূড়া নটবর বেশ। আসিয়া যমুনা-তীরে, নানারঙ্গে খেলা করে, কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষছান্দে, কেহ কার চড়ে কান্ধে, কেহো নাচে কেহ গান গায়। এ দাস মাধব বলে, কি শোভা যমুনা-কূলে, রাম কানাই আনন্দে খেলায়॥ এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে “মাঝে নেচে” ইত্যাদি পংক্তি পরে, অন্য গ্রন্থে প্রাপ্ত পদে দেওয়া দুটি পংক্তি নেই। ॥ কামোদ॥ প্রণাম করিয়া মায়, সাজল যাদব রায়, আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোখুর রেণু, সুবলের হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল, পিছে ধায় ব্রজবাল, হৈ হৈ শব্দ ঘন বোল। মাঝে নেচে যায় শ্যাম, দক্ষিণেতে বলরাম, ব্রজবাসী হেরিয়ে বিভোল॥ কেহ যায় বৃষছান্দে, কেহ কারু চড়ি কান্ধে, কেহ নাচে কেহ গীত গায়। এ দাস মাধব বলে, কি শোভা হয়েছে ভালে, রামকানাই নেচে নেচে যায়॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠে গমন প্রণতি করিয়া মায় চলিলা যাদব রায় আগে পাছে ধায় শিশুগণ। (তাদের আনন্দ আর ধরেনারে, গোপাল গোঠে যাবে বলে আগে পাছে নেচে চলে) আগে পাছে ধায় শিশুগণ। ঘন বাজে সিঙ্গা বেণু, গগনে গোক্ষুর বেণু সুরনর হরষিত মন॥ (ঘন ঘন সিঙ্গা বাজে, সারি সারি ধেনু চলে) সুরনর হরষিত মন॥ আগে আগে বত্সপাল পাছে ধায় ব্রজবাল হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। (আজু মহানন্দে চলে সবে, মুখে আবা আবা দিয়ে ধেনু বত্স পাল লয়ে) হৈ হৈ শব্দ ঘন রোল। মধ্যে নাচি ধায় শ্যাম দক্ষিণে সে বলরাম ব্রজবাসী হেরিয়ে বিভোর॥ (তারা চেয়ে রইলরে, কৃষ্ণ বলরামের পানে তারা চেয়ে রইলরে) ব্রজবাসী হেরিয়ে বিভোর॥ নবীন রাখাল সব আবা দিয়া কলরব শিরে চূড়া নটবর বেশ। (তারা নটন ভঙ্গিতে চলে, শিরে চূড়া দোলাইয়ে নটন ভঙ্গিতে চলে) শিরে চূড়া নটবর বেশ। আসিয়া যমুনা তীরে নানারঙ্গে খেলা করে কত কত কৌতুক বিশেষ॥ কেহ যায় বৃষছাঁদে কেহ কার চড়ে কাঁধে কেহ নাচে কেহ গান গায়। এ দাস মাধব বলে কি শোভা যমুনা কুলে রাম কানাই আনন্দে খেলায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মধুর বৃন্দাবনে নাচত কিশোরী কিশোর কবি মাধব দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭১৯। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৪-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ মধুর বৃন্দাবনে নাচত কিশোরী কিশোর। দুহুঁ অঙ্গ হেলাহেলি দুহুঁ দোহাঁ মুখ হেরি দুহুঁ-রসে দুহুঁ ভেল ভোর॥ ধ্রু॥ শিরে শিখণ্ড বেণি মত্ত মউর ফণি উরে লম্বিত বন-মাল। চৌদিগে ব্রজ-বধূ পঞ্চম গাওত আনন্দে দেই করতাল॥ দোলত কুণ্ডল নিল পিত অঞ্চল নূপুর-কিঙ্কিণী-বোল। ডম্ফ রবাব খমক সর-মণ্ডল দশ দিশ প্রেম-হিলোল॥ চৌঁকি চলত ধনি উলসিত মেদিনি সুর-কুল হেরিয়া বিভোর। কহ মাধব দাস পূরল মনের আশ হেরি হেরি যুগলকিশোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিপিন গমন দেখি হৈয়া সকরুণ আঁখি কবি মাধব দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৫৭- পৃষ্ঠা। এই পদটি একাধিক সংকলনে, “দ্বিজ মাধব” ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। পাঠকের সুবিধের জন্য সেই পদগুলিকে এখানেও, নীচের দিকে দেওয়া হয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ বিপিন গমন দেখি হৈয়া সকরুণ আঁখি কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে লৈয়া প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গাপায় ব্রহ্মা রাখিবেন তায় জানু রক্ষা করু দেবগণ। কটি তট সুজঠর রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী রক্ষা করু বনমালী কণ্ঠ মুখ রাখ দিনমণি। মস্তক রাখুন শিব পৃষ্ঠ দেশ হয়গ্রীব অধঃ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥ জল স্থলে গিরিবনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশদিকে দশদিক্ পাল। যত শত্রু হউক মিত্র রক্ষা করু সর্ব্বত্র নহে তুমি হও তার কাল॥ এই সব মন্ত্রপড়ি প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দাস মাধব কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গলমিশ্র সারঙ্গ - ডাঁসপাহিড়া॥ বিপিন গমন দেখি, হৈয়া সকরুণ আঁখি কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে নিয়া প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গা পায় ব্রহ্মা রাখিবেন তায়, জানু রক্ষা করু দেবগণ। কটি তট সুজঠর, রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী, রক্ষা করু বনমালী কণ্ঠ মুখ রাখু দিনমণি। মস্তক রাখুন শিব পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব অধ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥ জল স্থলে গিরি বনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশ দিকে দশ দিকপাল। যত শত্রু হউ মিত্র রক্ষা করু সর্ব্বত্র নহে তুমি হও তার কাল॥ এই সব মন্ত্রপড়ি প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দাস মাধব কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২ খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস--- গোষ্ঠে গমন, পদসংখ্যা ১১৮২ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ বিপিন গমন দেখি, হৈয়া সকরুণ আঁখি কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে লৈয়া প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গা পায় ব্রহ্মা রাখিবেন তায় জানু রক্ষা করু দেবগণ। কটিতট সুজঠর রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলি রক্ষা করু বনমালী কণ্ঠা মুখ রাখু দিনমণি। মস্তক রাখুন শিব পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব অধ ঊর্দ্ধ রাখু চক্রপাণি॥ জল স্থলে গিরি বনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশ দিকে দশ দিকপাল। যত শত্রু হউ মিত্র রক্ষা করু সর্ব্বত্র নহে তুমি হও তার কাল॥ এই সব মন্ত্র পড়ি প্রতি-অঙ্গে হস্ত ধরি গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দাস মাধব কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭২-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা ॥ মঙ্গল॥ বিপিন গমন দেখি, হৈয়া সকরুণ আঁখি কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে লৈয়া প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গা পায় ব্রহ্মা রাখিবেন তায় জানু রক্ষা করু দেবগণ। কটিতট সুজঠর রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলি রক্ষা করু বনমালী কণ্ঠমুখ রাখু দিনমণি। মস্তক রাখুন শিব পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব অধ ঊর্দ্ধ্ব রাখু চক্রপাণি॥ জল স্থলে গিরি বনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশ দিকে দশ দিকপাল। যত শত্রু হউক মিত্র রক্ষা করু সর্ব্বত্র নহে তুমি হও তার কাল॥ এই সব মন্ত্র পড়ি প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দাস মাধব কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৩৫-পৃষ্ঠায় একই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ বিপিন গমন দেখি, হৈয়া সকরুণ আঁখি, কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে লৈয়া , প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া, রক্ষা-মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গা পায়, ব্রহ্মা রাখিবেন তায়, জানু রক্ষা করু দেবগণ। কটিতট সুজঠর, রক্ষা করু যজ্ঞেশ্বর, হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী, রক্ষা করু বনমালী, কণ্ঠ মুখ রাখ দিনমণি। মস্তক রাখুন শিব, পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব, অধ ঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥ জলে স্থলে গিরি বনে, রাখিবেন জনার্দ্দনে, দশ দিকে দশ দিক্পাল। যত শত্রু হউক মিত্র, রক্ষা করু সর্ব্বত্র, নহে তুমি হও তার কাল॥ এই সব মন্ত্র পড়ি, প্রতি অঙ্গে হস্ত ধরি, গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দাস মাধব কয়, নন্দরাণী প্রেমময়, বলরামে হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি “দ্বিজ মাধব” ভণিতায়, ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ২০-পৃষ্ঠা। ॥ কামোদ॥ বিপিনে গমন দেখি হয়্যা সকরুণ আখি কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালের কোলে লয়্যা প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষ্যা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এদুখানি রাঙ্গাপায় ব্রহ্মা রাখুন তায় জানু রক্ষ্যা করুণ দেবগণ। কটিতট সূর্য্যবর রক্ষ্যা করুণ যজ্ঞেশ্বর হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজ যুগ নখাঙ্গুলী রাখিবেন বনমালী কণ্ঠ রাখুন দিদিমণি। পৃষ্ঠদেশ হয় গ্রীব মস্তক রাখুন শিব অধঃঅঙ্গ রাখুন চক্রপাণি॥ জল স্থল গিরি বনে রাখিবেন জনার্দ্দনে দশদিগ দশদিকপাল। যত শত্রু হউক মিত্র রক্ষ্যা করুণ সর্ব্বত্র নহে তুমি হইও ভারকোল॥ এইসব মন্ত্রপড়ি প্রতি অঙ্গে হাত ধরি গোমুত্রের ফোঁটা ভালে দিল। এ দ্বিজ মাধবে কয় নন্দরাণী প্রেমময় বলরামের হাতে সমর্পিল॥ এই পদটি “দ্বিজ মাধব” ভণিতায়, আনুমানিক ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ বিপিনে গমন দেখি, হ’য়ে সকরুণ আঁখি, কান্দিতে কান্দিতে নন্দরাণী। গোপালেরে কোলে লইয়ে, প্রতি অঙ্গে হাত দিয়া রক্ষ্যা মন্ত্র পড়য়ে আপনি॥ এ দুখানি রাঙ্গা পায়, ব্রহ্মা রাখুন তায়, জানু রক্ষা করুণ দেবগণ। কটিতট সজঠর, রক্ষা করুণ যজ্ঞেশ্বর, হৃদয় রাখুন নারায়ণ॥ ভুজযুগ নখাঙ্গুলী, রাখিবেন বনমালী, কণ্ঠ রাখুন দিনমণি। পৃষ্ঠদেশ হয়গ্রীব, মস্তক রাখুন শিব, অধঊর্দ্ধ রাখুন চক্রপাণি॥ জল স্থল গিরি বনে, রাখিবেন জনার্দ্দনে, দশদিক দশদিকপাল। যত শত্রু হউক মিত্র, রক্ষ্যা করুন সর্ব্বত্র, নহে তুমি হইও তার কাল॥ এইসব মন্ত্র পড়ি, প্রতি অঙ্গে হাত ধরি, গোময়ের ফোঁটা ভালে দিল। এ দ্বিজ মাধবে কয়, নন্দরাণী প্রেমময়, বলরামের হাতে সমর্পিল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভাল নাচেরে মোহন নন্দদুলাল কবি মাধব দাস ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৮৩-পৃষ্ঠা। ॥ ধানশীমিশ্র ললিত - মধ্যম একতালা॥ ভাল নাচেরে মোহন নন্দদুলাল। রঞ্জিত চরণে মঞ্জীর বাজই ঘাঘর ঘুঙুর উরূমাল॥ রাতা উত্পল যৈছে চরণ তল, অরুণ জিনিয়া অতি শোভা। তাহার উপরে নখ চাঁদের মালা, হেরি হেরি জগমন-লোভা॥ নাসিকা আগে সোনায় জড়িত এ গজমুকুতা দোলে। মা মা মা বলি, চাঁদমুখ তুলি নবীন কোকিলা যৈছে বোলে॥ যশোমতী বোলয় ভালি রে ভালি। মাধব দাসের পূরত আশ আনন্দে দেই করতালি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |