কবি মাধব দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নীরাধিপ ভৃত্যরূপ
কবি মাধব দাস
এই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৬৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

.        ॥ কানাড়া॥

নীরাধিপ ভৃত্যরূপ। হরল নন্দ ব্রজক ভূপ॥
ঐছন শুনি গোপপুর। ত্বরিতে আইল বরুণপুর॥
হেরি বরুণ চরণে গির। ধূলি লুটায় ধূসর শির॥
সিংহাসন দেই তাই। পূজল কত অবধি নাই॥
তাত লেই চলল পুর। ব্রজজন দুখ গেও দূর॥
জীবন পাই নন্দরাণী। প্রেমে বিভোর কিছু না জানি॥
ব্রজভূপতি চমক পাই। নিজগণে সব কহই যাই॥
গোপীগণ পাওল সুখ। টুটল সব বিরহদুখ॥
আনন্দে ব্রজলোক ভাস। হেরয়ে সুখে মাধব দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১ম পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৯৬। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৬-পৃষ্ঠায়,
একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কানাড়া॥

নীরাধিপ-ভৃত্য-রূপ।
হরল নন্দ ব্রজক ভূপ॥
ঐছন শুনি গোপ-শূর।
ত্বরিতে আইলা বরণ-পূর॥
হেরি বরুণ চরণে গীর।
ধূলি লুঠয়ে ধূসর শীর॥
সিংহাসন দেই তাহি।
পূজল কত অবধি নাহি॥
তাত লেই চলল পূর।
ব্রজ-জন-দুখ গেও দূর॥
জীবন পাই নন্দ-রাণী।
প্রেমে বিভোর কছু না জানি॥
ব্রজ-ভূপতি চমক পাই।
নিজগণে সব কহল যাই॥
গোপীগণ পাওল সূখ।
টুটল নব বিরহ দূখ॥
আনন্দে ব্রজ-লোক ভাস।
হেরত সুখে মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কানাড়া॥

নীরাধিপ-ভৃত্য-রূপ।
হরল নন্দ ব্রজক ভূপ॥
ঐছন শুনি গোপ-শূর।
ত্বরিতে আইলা বরণ-পূর॥
হেরি বরুণ চরণে গীর।
ধূলি লুঠয়ে ধূসর শীর॥
সিংহাসন দেই তাহি।
পূজল কত অবধি নাহি॥
তাত লেই চলল পূর।
ব্রজ-জন-দুখ গেও দূর॥
জীবন পাই নন্দ-রাণী।
প্রেমে বিভোর কিছু না জানি॥
ব্রজ-ভূপতি চমক পাই।
নিজগণে সব কহল যাই॥
গোপীগণ পাওল সূখ।
টুটল নব বিরহ-দূখ॥
আনন্দে ব্রজ-লোক ভাস।
হেরত সুখে মাধব দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নীরজনয়নী নিত্য নবীন মধুর মদনমোহিনী
কবি মাধব দাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬১-পৃষ্ঠা।

.        ॥ রাগিণী বিহাগড়া তাল দোতালি॥

নীরজনয়নী নিত্য নবীন মধুর মদনমোহিনী মধুর বাওত তাল।
ঝঙ্কত ঝঙ্কত ঝনন ঝঙ্ক চলত প্রেমহিলোল॥
চোঙকি চলত ধনি উলসিত মোদিনী সুরকুল হেরিয়া বিভোর।
কহ মাধবদাস পুরল মনআশ হেরি হেরি যুগলকিশোর॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহচরি সঙ্গে রাই খিতি লুঠই
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম
পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৯০। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৫-পৃষ্ঠায়, একই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকা-বিলাপো যথা।
॥ তথারাগ॥ (পাহিড়া)

সহচরি সঙ্গে রাই খিতি লুঠই
.        খণহি খণহি মুরছায়।
কুন্তল তোড়ি সঘনে শির হানই
.        কো পরবোধব তায়॥
.        হরি হরি কি ভেল বজর নিপাত।
কাহে লাগি কালিন্দি-বিষ-জলে পৈঠল
.        সো মঝু জীবন-নাথ॥ ধ্রু॥
চৌদিগে সবহুঁ রমণীগণ রোয়ত
.        লোরহিঁ মহি বহি যায়।
বিগলিত ভরম সরম সব তেজল
.        ঘন রোয়ত উভরায়॥
বিষ-জল পানে ছুটই কোই লূঠই
.        কোই না বান্ধই কেশ।
মাধবদাস সবহুঁ পরবোধই
.        গদগদ বচন বিশেষ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকা-বিলাপো যথা।
॥ তথারাগ॥ (পাহিড়া)

সহচরি সঙ্গে রাই,                খিতি লুঠই,
.        খণহি খণহি মুরছায়।
কুন্তল তোড়ি                        সঘনে শির হানই
.              কো পরবোধব তায়॥
.         হরি হরি কি ভেল বজর নিপাত।
কাহে লাগি কালিন্দী,                বিষ-জলে পৈঠল,
.                সো মঝু জীবন-নাথ॥
চৌদিগে সবহুঁ,                        রমণীগণ রোয়ত,
.                লোরহিঁ মহী বহি যায়।
বিগলিত ভরম,                        সরম সব তেজল,
.                ঘন রোয়ত উভরায়॥
বিষ-জল-পানে,                        ছুটই কোই লূঠই,
.                কোই না বান্ধই কেশ।
মাধবদাস,                        সবহুঁ পরবোধই,
.              গদগদ বচন বিশেষ॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

.                শ্রীরাধিকা-বিলাপ।
.                ॥ তথারাগ॥ (পাহিড়া)

সহচরি সঙ্গে, রাই ক্ষিতি লুঠই, ক্ষণহি ক্ষণহি মুরছায়।
কুন্তল তোড়ি, সঘনে শিরে হানই, কো পরবোধব তায়॥
হরি হরি কি ভেল বজর নিপাত।
কাহে লাগি কালিন্দী, বিষজলে পৈঠল, সোমঝু জীবননাথ॥
চৌদিগে সবহু, রমণীগণ রোয়ত, লোরহি মহী বহি যায়।
বিগলিত ভরম, সরম সব তেজল, ঘন রোয়ত উভরায়॥
বিষজল পানে, ছুটল কোই লুটই, কোই না বান্ধই কেশ।
মাধবদাস, সবহু পরবোধই, গদগদ বচন বিশেষ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজ-নিজজন হেরি আনন্দ-চন্দ
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১ম
পল্লব, কালিয়-দমন, পদসংখ্যা ১৫৯৩। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭৬-পৃষ্ঠায়,
একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তিরোখা ধানশী॥

ব্রজ-নিজজন হেরি আনন্দ-চন্দ।
হেরই ভুলল চকোরক ছন্দ॥
কাহুঁক বয়নে না নিকসয়ে বাত।
কর-সরসীরুহে মাজই গাত॥
বিষ-জলে জনি তনি দাহন ভেল।
ব্রজ-প্রেমামৃতে শীতল কেল॥
যৈছন যাহে করই সম্ভাষ।
সবহুঁ আলিঙ্গয়ে গদগদ ভাষ॥
সহচরিগণ লোচন ভরি দেখ।
ইষদবলোকনে করু অভিষেক॥
পুরল মনরথ দরশ-রস-পানে॥
আনন্দে সুবদনি আপনা না জানে॥
দ্বিজকুল আকুল আনন্দে ভাস।
নিরখি নিরাপদ মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তিরোতা ধানশী॥

ব্রজ-নিজজন হেরি আনন্দ-চন্দ।
হেরই ভুলল চকোর ছন্দ॥
কাহুঁক বয়ানে না নিকসয়ে বাত।
কর-সরসীরুহে মাজই গাত॥
বিষ-জলে জনু তনু দাহন ভেল।
ব্রজ-প্রেমামৃত শীতল কেল॥
যৈছন যাহে করই সম্ভাষ।
সবহুঁ আলিঙ্গয়ে গদ গদ ভাষ॥
সহচরীগণ লোচন ভরি দেখ।
ইষদবলোকনে করু অভিষেক॥
পুরল মনোরথ দরশ-রস-পানে॥
আনন্দে সুবদনি আপনা না জানে॥
নিজকুল আকুল আনন্দে ভাষ।
নিরখি নিরাপদ মাধব দাস॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

.                        ॥ সুহই॥

ব্রজ-নিজজন হেরি আনন্দচন্দ। হেরই ভুলল চকোরক ছন্দ॥
কাহুক বয়ানে না নিকসয়ে বাত। কর-সরসীরুহে মাজই গাত॥
বিষজলে জনু তনু দাহন ভেল। ব্রজপ্রেমামৃতে শীতল কেল॥
যৈছন যাহে করই সম্ভাষ। সবহু আলিঙ্গয়ে গদগদ ভাষ॥
সহচরিগণ লোচন ভরি দেখ। ইষদবলোকনে করু অভিষেক॥
পূরল মনোরথ দরশ-রস পানে॥ আনন্দে সুবদনী আপনা না জানে॥
দ্বিজকুল আকুল আনন্দে ভাস। নিরখি নিরাপদ মাধবদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লোচনক অরুণ করুণ-অবলোকনে
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৫৬।

তত্র শ্রীগৌরাঙ্গস্য সংকীর্ত্তন-রূপ-বর্ণনং যথা।
॥ সুহই॥

লোচনক অরুণ করুণ-অবলোকনে
জগ-জন-তাপ বিনাশ।
কত কলধৌত ধৌত তনু শোহন
মোহন অরুণিম বাস॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর।
সহচর নখতর-বৃন্দ বিভূষিত
পহু দ্বিজ-রাজ উজোর॥ ধ্রু॥
শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর
নিত্যানন্দ মুকুন্দ।
শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি
শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥
জয় জয় ভকত সঙ্গে শচিনন্দন
উরে রঙ্গণ-ফুল-দাম।
হেরইতে জগত বদন-বিধু-মাধুরি
পূরই নিজ নিজ কাম॥
চন্দন-তিলক ভালে সব ভকতহিঁ
করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস।
গাওয়ে ঐছে গুণ লীলা অনুখণ
সুখদ সম্পদ পরকাশ॥
শ্রীয়ুত চরণক করুণ-কৃপা-রস
আদেশিত প্রতিভাস।
বহু-অপরাধ-ব্যাধি বর পামর
রচয়তি মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৭১-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সংকীর্ত্তন বিলাস
॥ সুহই॥

লোচনক অরুণ করুণ অবলোকনে
জগজনতাপ বিনাশ।
কত কলধৌত ধৌত তনু শোহন
মোহন অরুণিম বাস॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর।
সহচর নখতরবৃন্দবিভূষিত
পহুঁ দ্বিজরাজ উজোর॥
শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর
শ্রীনিত্যানন্দ মুকুন্দ।
শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি
শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥
জয় জয় ভকত সঙ্গে শচিনন্দন
উরে রঙ্গণফুলদাম।
হেরইতে জগত বদন বিধুমাধুরি
পূরই নিজ নিজ কাম॥
চন্দন তিলক ভালে সব ভকতহিঁ
করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস।
গাওয়ে ঐছে গুণ লীলা অনুখণ
সুখদ সম্পদ পরকাশ॥
শ্রীযুত চরণক করুণকৃপারস
আদেশিত প্রতিভাস।
বহু অপরাধব্যাধিধর পামর
রচয়তি মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তিটি
এতটাই ভিন্ন রূপে রয়েছে যে, পাঠকের, খুঁজে বার করার সুবিধের জন্য, পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে
আমরা তুলে দিচ্ছি।

॥ সুহই॥

অরুণ লোচনে                                  করুণ অবলোকনে
জগজন-তাপবিনাশ।
কত কল ধৌত                                   ধৌত অনু শোহন
মোহন অরুণিম বাস॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর।
সহচর নখতর-                                       বৃন্দ বিভূষিত
পহুঁ দ্বিজরাজ উজোর॥ ধ্রু॥
শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর নিত্যানন্দ মুকুন্দ।
শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥
জয় জয় ভকত সঙ্গে শ্রীনন্দন উরে রঙ্গণ ফুলদাম।
হেরইতে জগত বদন-বিধু-মাধুরি পূরই নিজ নিজ কাম॥
চন্দন তিলক ভালে সব ভকত তহিঁ করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস।
গাওয়ে ঐছন, গুণ লীলা অনুখণ, সুখদ সম্পদ পরকাশ॥
শ্রীযুত চরণক করুণ কৃপারস আদেশিত অভিলাষ।
বহু অপরাধ, ব্যাধিধর পামর, রচয়তি মাধব দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জনমহি গৌরক গরবে গোঙায়লু
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২১শ পল্লব, গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৭৫। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৭১-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥ (ধানশী)

জনমহি গৌরক গরবে গোঙায়লু
.        সো কিয়ে এত দুখ সহই।
উর বিনু সেজ পরশ নহি জানত
.        সো তনু অব মহি লুঠই॥
বদন মণ্ডল চাঁদ ঝলমল
.        সো অতি অপরূপ শোহে।
রাহু ভয়ে শশি ভূমে পড়ল খসি
.        ঐছন উপজল মোহে॥
পদ-অঙ্গুলি দেই খিতি পর লেখই
.        যৈছন বাউরি পারা।
ঘন ঘন নয়নে নিঝরে বারি ঝরু
.        যৈছন শাঙন-ধারা॥
খেনে মুখ গোই পাণি অবলম্বই
.        ঘন ঘন বহয়ে নিশ্বাস।
সোই গৌরহরি পুনহি মিলায়ব
.        নিয়ড়হি মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ ধানশী॥

জনমহি গৌরগরবে গোঙায়লু, সো কিয়ে এদুখ সহায়।
উর বিনু শেজ, পরশ নাহি জানত, সো অব মহী লোটায়॥
বদনমণ্ডল, চাঁদ ঝলমল, সো অতি অপরূপ শোহে।
রাহু ভয়ে শশী, ভূমে পড়ল খসি, ঐছন উপজল মোহে॥
পদ অঙ্গুলি দেই, ক্ষিতি পর লেখই, যৈছন বাউরি পারা।
ঘন ঘন নয়নে, নিঝর বারি ঝরু, যৈছন সাঙল ধারা॥
ক্ষণে মুখ গোই, পাণি অবলম্বই, ঘন ঘন বহয়ে নিশ্বাস।
সোই গৌরহরি, পুনহি মিলায়ব, নিয়ড় হি মাধব দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঐছন বচন কহল যব কান
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭২৯।

.        ॥ সুহই॥

ঐছন বচন কহল যব কান।
লাজে অবনত ধনি কয়ল বয়ান॥
বচন না কহে যব নত-মুখি রাই।
আকুল নাগর কতহুঁ মনাই॥
তবহুঁ সুধামুখি ইঙ্গিত কেলি।
বুঝিয়া রসিকবর বাহির ভেলি॥
সব সখিগণ ঠামে কয়ল পয়াণ।
সভা সনে রতি-রণ করু তব কান॥
ইহ অপরূপ নহে কানুক কাজ।
জনে জনে রতি-কেলি করু রস-রাজ॥
সব সমাধান করি আওল ফেরি।
সরস বচনে ধনি পুছে পুন বেরি॥
সকল কহল তবে নাগর কান।
মাধবদাস দুহুঁক গুণ গান॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জল-কেলি-অবসানে উঠি সব সখীগণে
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩১শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৯০।

॥ ধানশী॥

জল-কেলি-অবসানে                                উঠি সব সখীগণে
স্নান করি পহিরল বাস।
রাই কানু দোহেঁ লৈয়া                                বসন ভূষণ দিয়া
গেলা সভে নিকুঞ্জ-আওয়াস (নিকুঞ্জ-আওাস)॥
দুহুঁ দোহাঁ বেশ করি                            মুখ চাহে ফিরি ফিরি
ছলে বলে করয়ে চুম্বন।
ধনি তাহে নত-মুখী                                দেখিতে নাগর সুখী
আনন্দে ভাসয়ে সখীগণ॥
অপরূপ দুহুঁ জন-লেহ।
পরাইয়া বিভূষণ                                        নীছই তনু মন
এক জীবন এক দেহ॥ ধ্রু॥
সখীগণ কুঞ্জ মাঝে                              বেশ করে নিজে নিজে
হরিষে হেরয়ে দুহুঁ-মুখ।
কহয়ে মাধব দাস                                  পূরুল মনের আশ
ঘুচিল আমার মন-দুখ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২৮৫-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জল-কেলি-অবসানে                                 উঠি সব সখীগণে
স্নান করি পহিরল বাস।
রাই কানু দোহেঁ লৈয়া                                বসন ভূষণ দিয়া
গেলা সভে নিকুঞ্জ-আবাস॥
দুহুঁ দোহাঁ বেশ করি                            মুখ চাহে ফিরি ফিরি
ছলে বলে করয়ে চুম্বন।
ধনি তাহে নতমুখী                                দেখিতে নাগর সুখী
আনন্দে ভাসয়ে সখীগণ॥
অপরূপ দুহুঁ জনলেহ।
পরাইয়া বিভূষণ                                        নীছই তনুমন
এক জীবন এক দেহ॥ ধ্রু॥
সখীগণ কুঞ্জমাঝে                              বেশ করে নিজেনিজে
হরিষে হেরয়ে দুহুঁমুখ।
কহয়ে মাধব দাস                                পূরিল মনের আশ
ঘুচিল আমার মনদুখ॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুগন্ধি সলিলে রাই সিনান করিল
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮০৩। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৭-পৃষ্ঠায়, একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ পূরবী॥

সুগন্ধি সলিলে রাই সিনান করিল।
বসন ভূষণ পরি বেশ বনাইল॥
বহবিধ উপহার রচনা করিয়া।
রাখিল বন্ধুর লাগি থালীতে ভরিয়া॥
কানু-আগমন জানি উত্কণ্ঠিত হিয়া।
অট্টাকিতা উপরে চড়িলা সখী লৈয়া॥
সখাগণ সঙ্গে করি নন্দের নন্দন।
ধেনুগণ লৈয়া ঘরে করিলা গমন॥
গো-খুরের ধূলি উঠে গগন-মণ্ডলে।
হাম্বা হাম্বা রব শুনি ধাইল সকলে॥
কহয়ে মাধবদাস কানু-আগমন।
ঘন শিঙ্গা-বেণু-রবে ভরিল গগন॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ পূরবী॥

সুগন্ধি সলিলে রাই সিনান করিল।
বসন ভূষণ পরি বেশ বনাইল॥
বহবিধ উপহার রচনা করিয়া।
রাখিল বন্ধুর লাগি থালিতে ভরিয়া॥
কানু আগমন জানি উত্কণ্ঠিত হিয়া।
অট্টাকিতা-উপরে চড়িলা সখী লৈয়া॥
সখাগণ সঙ্গে করি নন্দের নন্দন।
ধেনুগণ লৈয়া ঘরে করিছে গমন॥
গো-খুরের ধূলি উঠে গগন মণ্ডলে।
হাম্বা হাম্বা রব শুনি ধাইল সকলে॥
কহয়ে মাধবদাস কানু-আগমন।
ঘন-শিঙ্গা বেণু-রবে ভরিল গগন॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গো-ধুলি-ধূসর শ্যামর-অঙ্গ
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য়
ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮০৫। এই পদটি ১৯৪৬ সালে
প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৮৭-পৃষ্ঠায়, একই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥ (গৌরী)

গো-ধুলি-ধূসর শ্যামর-অঙ্গ।
আওল সকল সখাগণ সঙ্গ॥
ব্রজ-বধুগণ করু জয়-জয়-কার।
হেরইতে সুবদনি মদন-বিকার॥
নয়নে নয়নে কত ভাব-তরঙ্গ।
সময় না বুঝত উমত অনঙ্গ॥
সুবল সখা তব লেই চলু কান॥
সহচরগণ ঘর করল পয়ান॥
গোঠহিঁ গোগণ কয়ল প্রবেশ।
গোপগণে দোহনে কয়ল নিদেশ॥
শ্যাম-বাম-কর ধরি বলরাম।
যশোমতি-চরণে কয়ল পরণাম॥
যতনহি যশোমতি দুহুঁ করু কোর।
ঝর ঝর স্তন-খির নয়নক লোর॥
দুহুঁ-মুখ চুম্বয়ে গদগদ ভাষ।
গোপেতে নেহারত মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥ (পূরবী)

গো-ধুলি ধূসর শ্যামর-অঙ্গ।
আওল সকল সখাগণ সঙ্গ॥
ব্রজ-বধুগণ করু জয়-জয়-কার।
হেরইতে সুবদনি মদন-বিকার॥
নয়নে নয়নে কত ভাব-তরঙ্গ।
সময় না বুঝত উমত অনঙ্গ॥
সুবল সখা তব্ লেই চলু কান॥
সহচরগণ ঘর করল পয়ান॥
গোঠহি গোগণ কয়ল প্রবেশ।
গোপগণে দোহনে কয়ল নিদেশ॥
শ্যাম-বাম-কর ধরি বলরাম।
যশোমতি-চরণে কয়ল পরণাম॥
যতনহি যশোমতি দুহুঁ করু কোর।
ঝর ঝর স্তন-ক্ষীর নয়নক লোর॥
দুহুঁ-মুখ চুম্বয়ে গদগদ ভাষ।
গোপতে নেহারত মাধবদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর