| কবি মাধব দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| লোচনক অরুণ করুণ-অবলোকনে কবি মাধব দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৫৬। তত্র শ্রীগৌরাঙ্গস্য সংকীর্ত্তন-রূপ-বর্ণনং যথা। ॥ সুহই॥ লোচনক অরুণ করুণ-অবলোকনে জগ-জন-তাপ বিনাশ। কত কলধৌত ধৌত তনু শোহন মোহন অরুণিম বাস॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর। সহচর নখতর-বৃন্দ বিভূষিত পহু দ্বিজ-রাজ উজোর॥ ধ্রু॥ শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর নিত্যানন্দ মুকুন্দ। শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥ জয় জয় ভকত সঙ্গে শচিনন্দন উরে রঙ্গণ-ফুল-দাম। হেরইতে জগত বদন-বিধু-মাধুরি পূরই নিজ নিজ কাম॥ চন্দন-তিলক ভালে সব ভকতহিঁ করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস। গাওয়ে ঐছে গুণ লীলা অনুখণ সুখদ সম্পদ পরকাশ॥ শ্রীয়ুত চরণক করুণ-কৃপা-রস আদেশিত প্রতিভাস। বহু-অপরাধ-ব্যাধি বর পামর রচয়তি মাধব দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৭১-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সংকীর্ত্তন বিলাস ॥ সুহই॥ লোচনক অরুণ করুণ অবলোকনে জগজনতাপ বিনাশ। কত কলধৌত ধৌত তনু শোহন মোহন অরুণিম বাস॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর। সহচর নখতরবৃন্দবিভূষিত পহুঁ দ্বিজরাজ উজোর॥ শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর শ্রীনিত্যানন্দ মুকুন্দ। শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥ জয় জয় ভকত সঙ্গে শচিনন্দন উরে রঙ্গণফুলদাম। হেরইতে জগত বদন বিধুমাধুরি পূরই নিজ নিজ কাম॥ চন্দন তিলক ভালে সব ভকতহিঁ করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস। গাওয়ে ঐছে গুণ লীলা অনুখণ সুখদ সম্পদ পরকাশ॥ শ্রীযুত চরণক করুণকৃপারস আদেশিত প্রতিভাস। বহু অপরাধব্যাধিধর পামর রচয়তি মাধব দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তিটি এতটাই ভিন্ন রূপে রয়েছে যে, পাঠকের, খুঁজে বার করার সুবিধের জন্য, পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে আমরা তুলে দিচ্ছি। ॥ সুহই॥ অরুণ লোচনে করুণ অবলোকনে জগজন-তাপবিনাশ। কত কল ধৌত ধৌত অনু শোহন মোহন অরুণিম বাস॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর। সহচর নখতর- বৃন্দ বিভূষিত পহুঁ দ্বিজরাজ উজোর॥ ধ্রু॥ শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর নিত্যানন্দ মুকুন্দ। শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥ জয় জয় ভকত সঙ্গে শ্রীনন্দন উরে রঙ্গণ ফুলদাম। হেরইতে জগত বদন-বিধু-মাধুরি পূরই নিজ নিজ কাম॥ চন্দন তিলক ভালে সব ভকত তহিঁ করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস। গাওয়ে ঐছন, গুণ লীলা অনুখণ, সুখদ সম্পদ পরকাশ॥ শ্রীযুত চরণক করুণ কৃপারস আদেশিত অভিলাষ। বহু অপরাধ, ব্যাধিধর পামর, রচয়তি মাধব দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জল-কেলি-অবসানে উঠি সব সখীগণে কবি মাধব দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৯০। ॥ ধানশী॥ জল-কেলি-অবসানে উঠি সব সখীগণে স্নান করি পহিরল বাস। রাই কানু দোহেঁ লৈয়া বসন ভূষণ দিয়া গেলা সভে নিকুঞ্জ-আওয়াস (নিকুঞ্জ-আওাস)॥ দুহুঁ দোহাঁ বেশ করি মুখ চাহে ফিরি ফিরি ছলে বলে করয়ে চুম্বন। ধনি তাহে নত-মুখী দেখিতে নাগর সুখী আনন্দে ভাসয়ে সখীগণ॥ অপরূপ দুহুঁ জন-লেহ। পরাইয়া বিভূষণ নীছই তনু মন এক জীবন এক দেহ॥ ধ্রু॥ সখীগণ কুঞ্জ মাঝে বেশ করে নিজে নিজে হরিষে হেরয়ে দুহুঁ-মুখ। কহয়ে মাধব দাস পূরুল মনের আশ ঘুচিল আমার মন-দুখ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৮৫-পৃষ্ঠায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ জল-কেলি-অবসানে উঠি সব সখীগণে স্নান করি পহিরল বাস। রাই কানু দোহেঁ লৈয়া বসন ভূষণ দিয়া গেলা সভে নিকুঞ্জ-আবাস॥ দুহুঁ দোহাঁ বেশ করি মুখ চাহে ফিরি ফিরি ছলে বলে করয়ে চুম্বন। ধনি তাহে নতমুখী দেখিতে নাগর সুখী আনন্দে ভাসয়ে সখীগণ॥ অপরূপ দুহুঁ জনলেহ। পরাইয়া বিভূষণ নীছই তনুমন এক জীবন এক দেহ॥ ধ্রু॥ সখীগণ কুঞ্জমাঝে বেশ করে নিজেনিজে হরিষে হেরয়ে দুহুঁমুখ। কহয়ে মাধব দাস পূরিল মনের আশ ঘুচিল আমার মনদুখ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |