কবি মাধব দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কানুক শেষ-মিলিত কত উপহার
কবি মাধব দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩১শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৮১২।

॥ কামোদ॥

কানুক শেষ-                                মিলিত কত উপহার
ভোজন করি ধনি রাই।
তাম্বুল খাই                                   অলসে তনু ঢল ঢল
শয়নে অঙ্গ অবগাই॥
নিজ নিজ কাজ                                   সমাপন সখিগণ
ভোজন করি ঘর মাহ।
রাইক মন্দিরে                                   গমন কয়ল সভে
হৃদয় উদিত ভেল নাহ॥
নিরমল রজনি                                 রজনিকর সমুদিত
হেরি অতি চমকিত ভেল।
তৈছন বেশ                                       বনায়ত রাইক
উতকণ্ঠিত ভৈ গেল॥
কুঙ্কুম চন্দন                                       অঙ্গে বিলেপন
পহিরল শুকুল সুবাস।
হিয়ে হির-মোতিম-                          হার অতি মনোহর
কহতহি মাধব দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কানুক শেষ,                                মিলিত কত উপহার,
ভোজন করি ধনী রাই।
তাম্বুল খাই,                                  অলসে তনু ঢল ঢল,
শয়নে অঙ্গ অবগাই॥
নিজ নিজ কাজ,                                   সমাপন সখীগণ,
ভোজন করি ঘর-মাহ।
রাইক মন্দিরে,                                   গমন কয়ল সবে,
হৃদয় উদিত ভেল নাহ॥
নিরমল রজনি,                                রজনীকর সমুদিত,
হেরি অতি চমকিত ভেল।
তৈছন বেশ,                                       বনায়ত রাইক,
উতকণ্ঠিত ভৈ-গেল॥
কুঙ্কুম চন্দন,                                       অঙ্গে বিলেপন,
পহিরল শুক্ল সুবাস।
হিয়ে হীর-মোতিম-,                          হার অতি মনোহর,
কহতহি মাধব দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অরুণ লোচনে করুণ অবলোকনে
কবি মাধব দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তিটি “লোচনক অরুণ করুণ-
অবলোকনে” পদটি থেকে এতটাই ভিন্ন রূপে রয়েছে যে, পাঠকের, খুঁজে বার করার সুবিধের
জন্য, পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে আমরা তুলে দিচ্ছি।

॥ সুহই॥

অরুণ লোচনে                                করুণ অবলোকনে
জগজন-তাপবিনাশ।
কত কল ধৌত                                 ধৌত অনু শোহন
মোহন অরুণিম বাস॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরকিশোর।
সহচর নখতর-                                    বৃন্দ বিভূষিত
পহুঁ দ্বিজরাজ উজোর॥ ধ্রু॥
শ্রীহরিদাস অদ্বৈত গদাধর নিত্যানন্দ মুকুন্দ।
শ্রীমদ্রূপ সনাতন নরহরি শ্রীরঘুনাথ গোবিন্দ॥
জয় জয় ভকত সঙ্গে শ্রীনন্দন উরে রঙ্গণ ফুলদাম।
হেরইতে জগত বদন-বিধু-মাধুরি পূরই নিজ নিজ কাম॥
চন্দন তিলক ভালে সব ভকত তহিঁ করয়ে কীর্ত্তন অধিবাস।
গাওয়ে ঐছন, গুণ লীলা অনুখণ, সুখদ সম্পদ পরকাশ॥
শ্রীযুত চরণক করুণ কৃপারস আদেশিত অভিলাষ।
বহু অপরাধ, ব্যাধিধর পামর, রচয়তি মাধব দাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মাধব বিলসই কুঞ্জক মাঝ
কবি মাধব দাস
১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪১-পৃষ্ঠা।

॥ বিহাগড়া॥

রাধা মাধব বিলসই কুঞ্জক মাঝ।
তনু তনু সরস,                                পরশ রস পিবই,
কমলিনী মধুকররাজ॥
সচকিত নাগর,                                  কাঁপই থর থর,
শিথিল কয়ল সব অঙ্গ।
গদ গদ কহয়ে,                                রাই ভেল অদরশ,
কবে হোয়ব তছু সঙ্গ॥
সো ধনী চাঁদ,                                বয়ান কিয়ে হেরব,
শুনব অমিয়াময় বোল।
ইহ মঝু হৃদয়ে,                               তাপ কিয়ে মিটব,
সোই করব কিয়ে কোল॥
ঐছন কতহু,                                      বিলপয়ে মাধব,
সহচরী দূরহি হাস।
অপরূপ প্রেমে,                                  বিষাদিত অন্তর,
কহতহি মাধবদাস॥

.            *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর