এইরূপে সর্ব্ব গোপী ধাইল তুরিতে ভণিতা - শ্রীমাধব কবি মাধবাচার্য্য বা দ্বিজমাধব আনুমানিক চারশো বছর পূর্ব্বে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল কাব্য, ১১১৮ বঙ্গাব্দে (১৭১১ খৃষ্টাব্দে) লেখা শেষ করা পুথি থেকে, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত গ্রন্থের, ৯৫-পৃষ্ঠা।
অথ গোপীদিগের শ্রীকৃষ্ণ নিকটে আগমন। . ॥ পয়ার॥
এইরূপে সর্ব্ব গোপী ধাইল তুরিতে। বাপ ভাই বন্ধু কেহ নারে নিবারিতে॥ কেহ কেহ আছিল মন্দির অভ্যন্তরে। বাহির হইতে দেখিলেন পতি দ্বারে॥ চাপিয়া ধরিল রামা অনেক যতনে। পথ না পাইয়া তবে সেই গোপীগণে॥ বিরহ অনলে পুড়ি গেল অমঙ্গল। ধ্যানেতে পাইল কৃষ্ণ ত্যজি কলেবর॥ যার তার করি সেবা করয়ে ধেয়ানে। সেই সেই গতি পায় বেদের বচনে॥ কাম ক্রোধ ভয় স্নেহ এ চারি প্রকার। ভাবিলে প্রভুরে পায় তরয়ে সংসার॥ যেন তেন মতে মাত্র করুক স্মরণ। অনায়াসে পায় তবু সে চরণ ধন॥ আর যত গোপিনী আইল বৃন্দাবনে। দেখিয়া নাগর কানু রহিল জীবনে॥ বেড়িল গৌরাঙ্গী সব যশোদানন্দনে। বিদ্যুতের মালা যেন মেঘ সন্নিধানে॥ দেখিয়া কামিনীঠাট নন্দের নন্দন। মনে মনে কৌতুক চিন্তিল ততক্ষণ॥ বুঝিব এখন সব গোপিকার মতি। মম প্রতি কার কেমন আছয়ে পিরীতি॥ এতেক চিন্তিয়া হরি দেখিয়া গোপিনী। হাসিয়া হাসিয়া কহে কপটিয়া বাণী॥ তুমি সব কুলবতী এ ভোর যুবতী। এ ঘোর যামিনী বনে বহু পশু ভীতি॥ কোন বা প্রমাদ ব্রজে কিবা রাজভয়। আগমন কোন হেতু কহল নিশ্চয়॥ চল চল গোপীগণ যাহত আগারে। এ নিশি আমার সঙ্গে নহে ব্যবহারে॥ যদি বা বলহ দরশন যে কারণ। মনোরথ হৈল সিদ্ধি দেখিলে কানন॥ আর বা কেমন কার্য্য আছয়ে সাধন। কেন গুণবতী এথা করেছ গমন॥ তোমা লাগি সবন্ধু বান্ধব বাপ ভাই। খুঁজিয়া বিকল হৈয়া ভ্রমে ঠাঞি ঠাঞি॥ দুগ্ধের বালক বস্ত ফুকরে মন্দিরে। তাহার দোহন পান করাহ সত্বরে॥ পতি পরিহরিলে পাতক বড় হয়। ইহলোক পরলোক তরিবে সেবায়॥ স্বপ্নেহ না করিবে পরপতি আশ। গান শ্রীমাধব রঙ্গে বঞ্চে পীতবাস॥