| কবি মাধবেন্দ্র পুরীর বৈষ্ণব পদাবলী |
| অমুন্যধন্যানি দিনান্তরাণি কবি মাধবেন্দ্র পুরী আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ১৬৫২। মাধবেন্দ্র পুরীর এই শ্লোকটি নেয়া হয়েছে শ্রীরূপ গোস্বামী সঙ্কলিত পদ্যাবলী গ্রন্থ থেকে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ অমুন্যধন্যানি দিনান্তরাণি হরে ত্বদালোকনমন্তরেণ। অনাথবন্ধো করুণৈকসিন্ধো হা হন্ত হা হন্ত কথং নয়ামি॥ অনুবাদ - হে হরি! হে অনাথবন্ধু! করুণাসিন্ধু! হায়! তোমার অদর্শনে এই অধন্য দিনগুলি আমি কিরূপে যাপন করিব! ---সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অয়ি দীন-দয়ার্দ্র নাথ হে কবি মাধবেন্দ্র পুরী আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ১৬৫৩। মাধবেন্দ্র পুরীর এই শ্লোকটি নেয়া হয়েছে শ্রীরূপ গোস্বামী সঙ্কলিত পদ্যাবলী গ্রন্থ থেকে। ॥ বরাড়ী॥ অয়ি দীন-দয়ার্দ্র নাথ হে মথুরানাথ কদাবলোক্যসে। হৃদয়ং ত্বদলোক-কাতরং দয়িত ভ্রাম্যতি কিং করোম্যহং॥ অনুবাদ - ওহে দীন-দয়াল স্বামিন্! ওহে মথুরানাথ! কবে তোমার দর্শন পাইব ? প্রিয়তম! তোমার অদর্শন-কাতর হৃদয় ঘূর্ণিত হইতেছে, --- বল আমি কি করিব ? ---সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥ অনুবাদ বা ব্যাখ্যা --- হে দীন দয়ার্দ্র! হে নাথ! এক্ষণে তুমি মথুরায় রহিয়াছ! কবে আমাকে দেখা দিবে ? হে প্রিয়! তোমাকে দেখিবার জন্য আমার হৃদয় অত্যন্ত কাতর হইয়া ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতেছে ; আমি এখন কি করি তাহা বল॥ --- জগদীশ্বর গুপ্ত, ১২২৬বঙ্গাব্দে প্রকাশিত সরল টীকা ও ব্যখ্যাকার, শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, ১২২৬॥ কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের মধ্যলীলার ৪র্থ পরিচ্ছেদে শ্রীমহাপ্রভুর অতি প্রিয় এই শ্লোকটির সম্বন্ধে লিখেছেন--- ঘষিতে ঘষিতে যৈছে মলয়জ-সার। গন্ধ বাড়ে---তৈছে এই শ্লোকের বিচার॥ রত্নগণ মধ্যে যৈছে কৌস্তভ-মণি। রস-কাব্য মধ্যে তৈছে এই শ্লোক গণি॥ এই শ্লোক করিয়াছে রাধা ঠাকুরাণী। তার কৃপায় স্ফুরিয়াছে মাধবেন্দ্র-বাণী॥ কিবা গৌরচন্দ্র ইহা করে আস্বাদন। ইহা আস্বাদিতে আর নাহি চৌঠ জন॥ শেষকালে এই শ্লোক পঠিতে পঠিতে। সিদ্ধিপ্রাপ্তি হৈল পুরীর শ্লোক সহিতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সাজল ধনী চন্দ্রবদনী কবি মাধবেন্দ্র পুরী ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, পদ সংখ্যা ১৪, পৃষ্ঠা ৪২। খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত পদামৃতমাধুরী ১ম খণ্ডের গীত। সাজল ধনী চন্দ্রবদনী শ্যামদরশন আসে। সঙ্গিনীগণ রঙ্গিনী সব ঘেরলি চারি পাশে॥ তরুণারুণ চরণ যুগল মঞ্জীর তঁহি শোভে। ভৃঙ্গাবলি পুঞ্জে পুঞ্জে গুঞ্জরে মধু লোভে॥ কুম্ভিকুম্ভ জিনি নিতম্ব কেশরী খীণি মাঝে। পরি নীলাম্বর পট্টাম্বর কিঙ্কিণী তঁহি সাজে॥ বাহু যুগল তীর বিজুরি করিশাবক শুণ্ডে। হেমাঙ্গদ মণি কঙ্কণ নখরে শশী খণ্ডে॥ হেমাচল কুচমণ্ডল কাঁচলি তঁহি শোভে॥ চন্দ্রকান্ত ধ্বান্তদমন কর্ণে কণ্ঠে শোভে॥ জম্বু নদ হেমযুক্ত মুকুতাফল পাঁতি। ফণিমণিযূত দাম সহিত দামিনী সম ভাঁতি॥ বিম্বফল নিন্দি অধর দাড়িম বীজ দশনা। বেশর তঁহি নলকে ঝলকে মন্দ মন্দ হসনা॥ নাসা তিল- ফুল চুল কবরী করবী ছান্দে। মদনমোহন- মোহিনী ধনী সাজল তঁহি রাধে॥ নব যৌবনী চন্দ্রবদনী বৃন্দাবন মাঝে। মাধবেন্দ্রপুরী রচিত গীত মিলল নাগর রাজে॥ মন্তব্য - পদটির শব্দঝঙ্কার ও ছন্দলালিত্য বুঝাইয়া দেয় যে ইহা কোন প্রতিভাবান্ কবির রচনা। মাধবেন্দ্রপুরী সংস্কৃতে লিখিতেন। শ্রীরূপ গোস্বামীর পদ্যাবলীতে তাংহার ৫টি শ্লোক (৭৯, ৯৬, ১০৪, ২৮৬, ৩৩০) উদ্ধৃত হইয়াছে। তাঁহার শ্লোক শ্রীচৈতন্য শ্রদ্ধার সহিত আবৃত্তি করিতেন। --- বিমান বিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |