কবি মাধবীর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কেমন শুনিলা নাম কেমন মুরলী
কবি মাধবী
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৪০।

.      পুনঃ সখ্যুক্তিঃ।

.        ॥ ধানশী॥

কেমন শুনিলা নাম কেমন মুরলী।
কি রূপ দেখিয়া পটে সব গেলা ভুলি॥
কেমন দেখিলা তারে কিবা অভিলাষ।
শুনিয়া সকল তোর পূরাইব আশ॥
তিন জন নহে সে বুঝিলুঁ মন দিয়া।
উপায় করিয়া তোরে দিব মিলাইয়া॥
থির হৈয়া সুবদনি কহ সব বাত।
কহয়ে মাধবী মোর শিরে ধর হাত॥


ই পদটি, নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.      লখী আহ---

.        ॥ সুহিনী॥

কেমন শুনিলা নাম কেমন মুরলি।
কিরূপ দেখিয়া পটে সব গেলা ভুলি॥
কেমন দেখিলা তারে সব অভিলাষ।
শুনিয়া সকল তুয়া পূরাইব আশ॥
তিনজন নহে সে বুঝহ মন দিয়া।
উপায় করিয়া তোহে দিব মিলাইয়া॥
কহয়ে মাধবী মোর শিরে দিয়ে হাত॥
থির হৈয়া সুবদনি! কহ সব বাত।

.             *************************             
.                                                                              
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর   
*
নিত্যানন্দ সঙ্গতি মুকুন্দ গদাধরে
কবি মাধবী
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৪০।

.        ॥ বরাড়ী॥

নিত্যানন্দ সঙ্গতি মুকুন্দ গদাধরে।
গেখিলেন গৌরচন্দ্র সার্ব্বভৌম-ঘরে॥
প্রতপ্ত কাঞ্চন-কান্তি অরুণ বসন।
প্রেমে ছল ছল দুই অরুণ নয়ন॥
আজানুলম্বিত ভুজ চন্দনে ভূষিত।
উন্নত নাসিকা ঊর্দ্ধ-তিলক-শোভিত॥
গোপীনাথ বাণীনাথ সার্ব্বভৌম কাশী।
গোরা-রূপ দেখে যত নীলাচল-বাসী॥
দক্ষিণে নিতাই বসি বামে গদাধর।
মিলিলেন গোরাচাঁদের যত অনুচর॥
যে দেখয়ে গোরা-মুখ সেই প্রেমে ভাসে।
মাধবি বঞ্চিত হৈল নিজ কর্ম্ম-দোষে॥


ই পদটি, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা ২৬৩-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী॥

নিত্যানন্দ সংহতি মুকুন্দ গদাধরে।
গেখিলেন গৌরচন্দ্র সার্ব্বভৌম-ঘরে॥
প্রতপ্ত কাঞ্চনকান্তি অরুণ বসন।
প্রেমে ছল ছল দুই অরুণ নয়ন॥
আজানুলম্বিত ভুজ চন্দনে শোভিত।
উন্নত নাসিকা ঊর্দ্ধ তিলকমণ্ডিত॥
গোপীনাথাচার্য্য আর সার্ব্বভৌম কাশী।
গোরারূপ দেখে যত নীলাচলবাসী॥
দক্ষিণে নিতাই বসি বামে গদাধর।
মিলিলেন গোরাচাঁদের যত অনুচর॥
যে দেখয়ে গোরামুখ সেই প্রেমে ভাসে।
মাধবী বঞ্চিত হৈল নিজ কর্ম্মদোষে॥

.             *************************             
.                                                                              
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর   
*
হেদে হেইহে নাগরচাঁদা ভাল নাচিছ আপন রঙ্গে
কবি মাধবী
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদালীর সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, পৃষ্ঠা ৫৩৬।

॥ কানাড়া মিশ্র শ্রীরাগ - একতালা॥

হেদে হেইহে নাগরচাঁদা ভাল নাচিছ আপন রঙ্গে।
বারেক নাচহ দেখি আমাদের সঙ্গে॥
মদন মোহন বর নাটুয়া সে তুমি।
তোমার সমান নট না দেখিয়ে আমি॥
মোর সঙ্গে নাচ দেখি করি এক সায়।
নাচিতে নূপুর যেন না বাজিবে পায়॥
কটির কিঙ্কিণী যেন সুমধুর বাজে।
নটিনী সমাজে যেন না পাই হে লাজে॥
শির না নাচাইবি কুণ্ডল নটবি।
গণ্ড বিকাশবি হাস না করবি॥
নাশা-শ্বাসে নাচায়বি  মোতি।
তহি দেখায়বি দশনক পাঁতি॥
চপল চপল করি মোহে না হেরবি।
ভ্রুভঙ্গিম করি ধ্রুবপদ ধরবি॥
চূড়াচারু শিখণ্ডক পাঁতি।
নটনে দেখায়বি বিবিধক ভাঁতি॥
মঝু কটি কিঙ্কিণী-কঙ্কণ তালে।
তহি মিশায়বি মুরলীক গানে॥
এতহুঁ নটন যব দেখব তোর।
নটিনী সমাজে যশ ঘোষব মোর॥
তব হাম নটিনী তুহুঁ নটরাজ।
ঐছন শুনইতে নটবর সাজ॥
নাচত অঙ্ক-বন্ধ করি রাই।
মাধবী সঙ্গে মাধব বলি যাই॥

.             *************************             
.                                                                              
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর