গোপীর বচন শুনিয়া যদুরায় ভণিতা - মাধাই কবি মাধবাচার্য্য আনুমানিক চারশো বছর পূর্ব্বে, মাধবাচার্য বা দ্বিজ মাধব দ্বারা রচিত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল কাব্য, ১১১৮ বঙ্গাব্দে (১৭১১ সালে) লেখা শেষ করা পুথি থেকে, কলকাতার ভবানীচরণ দত্তের ষ্ট্রীটের বঙ্গবাসী কার্যালয় থেকে, ফাল্গুন ১৩১০ বঙ্গাব্দে (ফেব্রয়ারী ১৯০৪) নটবর চক্রবর্ত্তী দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত গ্রন্থের, ৭৩-পৃষ্ঠা।
॥ জাকুড়ি পঠমঞ্জরী রাগ॥
গোপীর বচন শুনিয়া যদুরায়। দেহ লো শৃঙ্গার রাধে আর নাহি দায়॥ তোমার রূপ যৌবন বড়ই মোহন। ভাঙ্গিয়া কহিল কথা না যায় খণ্ডন॥ চলল সুন্দরী রাই পসার ফেলাই। করিব মদনকেলি বৃন্দাবনে যাই॥ আঁচলে বান্ধিয়া কুচ চাপে দুই করে। ঘন ঘন চুম্ব দেই মুখের উপরে॥ কমলে ভ্রমর যেন লাগে জড়াজড়ি। আই আই করিয়া ডাকেন বড়াইবুড়ী॥ চারিভিতে সখীগণ করে কাণাকাণি। দেখিতে আসিতে লাজ না ধরে পরাণী॥ রাধাকানুর ধামালী দেখিয়া সব সখী। নয়নে বসন দিয়া ঘন হাস্য মুখী॥ কেহ কেহ পসার লইয়া দূরে যায়। রাধিকার কাছে থাকি দেখে যদুরায়॥ দেখিয়া নাগর হরি হরষিত মন। ধাই ধাই ঠাই ঠাই করে জনে জন॥ ঘৃত ঘোল দুদ্ধ পিল ক্ষীর দধি খায়। ছেনা নুনি লইয়া ফেলিয়া মারে গায়॥ উচ কুচ লুড়ে কার চুম্ব দেই মুখে। কারো হার বসন কাড়িয়া লেই সুখে॥ রাধিকা বলেন কানু নহিও উতরোল। ছাড়হ আঁচল হের শুন মোর বোল॥ দিবসে বিদায় দেহ সভে ঘরে যাই। করিব মদনকেলি রচিল মাধাই॥