| কবি মীর্জা ফয়জুল্লার বৈষ্ণব পদাবলী |
| দেখ সখি শ্যাম মোহনিআ ভণিতা মীর ফয়জুল্লা কবি মীর্জা ফয়জুল্লা ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৭-পৃষ্ঠা। ॥ তুড়ী॥ দেখ সখি, শ্যাম মোহনিআ। এ রূপ যৌবন, করিএ নিছন, শ্যাম পদে(১) ভজ গিয়া॥ ধু॥ মোহনিআ কালা, মোহনিআ মালা, মোহনিআ বাঁশী বাজাএ। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা, দিতে নারি সীমা, জগ-মন মুরুছএ(২)॥ কপালে চন্দন, মদন মোহন, মুরছিত কোটি কাম॥ বচন শোভা, মুনি-মন-লোভা, আনন্দ রসেরি দান(?)। * * * * বাঁশের বাঁশী, গরল রাশি, যুবতী বধিতে পাশী। শুনি বাঁশী ধ্বনি, গোকুল রমণী, বিনি মূলে হএ দাসী॥ মীর ফয়জুল্লা ভণে, লাগিল নয়ানে, কেমতে ধৈরজ ধরি, শ্যাম সোনা হেরি॥ ১। রাঙ্গা পদে - পাঠান্তর। ২। মুরছএ - মূর্চ্ছা যায় ; মোহিত হয়। . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনী সই কানু সে প্রাণধন মোর ভণিতা মীর্জা ফয়জুল্লা কবি মীর্জা ফয়জুল্লা ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৮-পৃষ্ঠা। ॥ ধানশী॥ সজনী সই, কানু সে প্রাণধন মোর। ধু। যে বলে বলুক মোরে, যে করে করিব নি পতি। সকলি ছাড়িয়া মুই, কানুর শরণ লই, ধিক্ মোর এই ঘরে বসতি॥ তোমরা যথেক(১) সখী, ঘরে যাও কুল রাখি, কানুর ভাবে হৈয়াছি বিভোর। শুনিতে বাঁশীর গান, দ্রবীভূত হএ পাষাণ, রমণীর প্রাণ কথ(২) দড়॥ চিত্ত উতরোল দেখি, চৌদিকে পলকে আঁখি, সকলি দেখিও শ্যাম রায়। মনে হেন সাধ করে, নিত্য দেখি বন্ধুয়ারে, ভজিতে না পারি রাঙ্গা পায়॥ মীর্জা ফয়জুল্লা বাণী, শুন রাধা ঠাকুরাণী, মনে ভাব মন্দিরে বসিয়া। জীবন জোয়ারের পানি,(৩) তরল তরঙ্গ জানি, ঐ রাঙ্গা চরণ ভজিয়া॥ ১। যথেক - যতেক। ২। কথ - কত। ৩। “দ্রবয় যে পাষাণ” - পাঠান্তর এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি”, পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সজনী সই, কানু সে প্রাণধন মোর। যে বলে বলুক মোরে যে করে করিব নিজ পতি। সকলি ছাড়িয়া মুই কানুর শরণ লই ধিক মোর এই ঘরে বসতি॥ তোমরা যথেক সখী ঘরে যাও কুল রাখি কানুর ভাবে হৈয়াছি বিভোর। শুনিতে বাঁশীর গান দ্রবীভূত হয় পাষাণ রমণীর প্রাণ কথ দড়॥ চিত্ত উতরোল দেখি চৌদিকে পলকে আঁখি, সকলি দেখি এ শ্যাম রায়। মনে হেন সাধ করে নিত্য দেখি বন্ধুয়ারে, ভজিতে না পারি রাঙ্গা পায়॥ মীর্জা ফয়জুল্লা বাণী শুন রাধা ঠাকুরাণী মনে ভাব মন্দিরে বসিয়া। জীবন জোয়ারের পানি তরল তরঙ্গ জানি, ঐ রাঙ্গা চরণ ভজিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |