কবি মীর্জা ফয়জুল্লার বৈষ্ণব পদাবলী
রাধামাধব নিকুঞ্জ বনে
ভণিতা মির ফএজোল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
জলধর সেন সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬),
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “বৈষ্ণব-কবিগণের পদাবলী” প্রবন্ধে এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ রাগ - কেদার॥

রাধামাধব নিকুঞ্জ বনে। ধু।
ব্রহ্মা জারে স্তুতি করে চারি বআনে।
হেন হরি নারাঅন দেখিবা নআনে॥
পুষ্প চন্দন লৈআ গোপী সব ধাএ।
মেলি মেলি মারে পুষ্প গোবিন্দের গাএ॥
পুষ্প চন্দনের ঘাএ জর্জ্জরিত হরি।
মাধবী লতার তলে লুকাএ মুরারী॥
মাধবী লতার তলে নন্দসুত রৈলা।
শ্রীকৃষ্ণ বুলিআ গোপী কাঁদিতে লাগিলা॥
মির ফএজোল্লা কহে অপরূপ লীলা।
শ্যামরূপ দরশনে দরবএ শিলা॥

ই পদটি জলধর সেন সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যার (ডিসেম্বর
১৯১৮), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “মুসলমান কবির বৈষ্ণব-পদাবলী” প্রবন্ধে
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব নিকঞ্জ বনে। ধু।
ব্রহ্মা জারে স্তুতি করে চারি বআনে।
হেন হরি নারাঅন দেখিবা নআনে॥
পুষ্প চন্দন লৈআ গুপি (গোপী) সব ধাএ।
মেলি মেলি মারে পুষ্প গুবিন্দের গাএ॥
পুষ্প চন্দনের ঘাএ জর্জ্জরিত হরি।
মাধবী লতার তলে লুকাএ মুরারি॥
মাধবী লতার তলে নন্দসুত রৈলা।
শ্রীকৃষ্ণ বুলিআ গুপি কান্দিতে লাগিলা॥
মির ফএজোল্লা কহে অপরূপ লিলা।
সামরূপ দরশনে দরবহে(১) শিলা॥

১। দরবহে - দরবয় ; দ্রব হয়।

ই পদটি ১৯৪৫সালে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-
ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” সংকলনের ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার - মিলন॥

রাধা মাধব নিকুঞ্জবনে। ধু
ব্রহ্মা জারে স্তুতি করে চারি বআনে।
হেন হরি নারাঅন দেখিবা নআনে॥
পুষ্প চন্দন লৈআ গুপি (গোপী) সব ধাএ।
মেলি মেলি মারে পুষ্প গুবিন্দের গাএ॥
পুষ্প চন্দনের ঘাএ জর্জ্জরিত হরি।
মাধবী লতার তলে লুকাএ মুরারি॥
মাধবী লতার তলে নন্দসুত রৈলা।
শ্রীকৃষ্ণ বুলিআ গুপি কান্দিতে লাগিলা॥
মির ফএজোল্লা কহে অপরূপ লিলা।
সাঁমরূপ দরশনে দরবহে শিলা॥

.        ************************                                                   
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
চল দেখি গিয়া
ভণিতা মির ফয়জুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক
দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৯-পৃষ্ঠা। এই পদটি আমরা “রূপ
বন্ধু চল দেখি গিয়া” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রেখেছি।

॥ রামক্রিয়া॥

চল দেখি গিয়া --- রূপ বন্ধু চল দেখি গিয়া।
কিরূপে ধরাইমু হিয়া শ্যামে না দেখিয়া॥(১) ধু॥
মালতীর মালা গলে শোভি আছে ভালা।
মু’খানি পূর্ণিমা শশী বরণ চিকণ কালা॥
শাক্ষী হৈও সাক্ষী হৈও এ পাড়াপড়শী।
শাশিড়ী ননদীর বাদে হৈলাম দেশান্তরী(২)॥
কদম্বের ডালে বসি বাজাএ ফুকরি।
আবরিছে কদম্বের পত্র সারি সারি॥
মির ফয়েজুল্লা কহে মনেত ভাবিয়া।
দেখ দেখি সাম রূপ কদম্বতলে গিয়া॥

পাঠান্তর -
১।  “চল বন্ধুর রূপ দেখি গিয়া।
দেখিয়া বন্ধুর রূপ না ধরএ হিয়া॥ ধু” ---পাঠান্তর।
২। “তরুআ কদম্বতলে পাত্র সারি সারি।
কুখেণেতে হইল দেখা পাসরিতে নারি॥” ---ঐ। তারপর---
“ডালে ডালে পুষ্প আর ফুটিয়াছে কলি।
ছন্দবন্দ বৃন্দাবনে নাগর বনমালী॥
জলের উপরে বসি ঝলকে চমকে।
দেখিলাম সুন্দর রূপ বিজুলী চমকে॥” ---পাঠান্তর।
এতৎ পাঠে ভণিতি পাওয়া যায় নাই।

ই পদটি সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যার
(ডিসেম্বর ১৯১৮), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ”
প্রবন্ধে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী - রামক্রিরা॥

রূপ বন্ধু চল দেখি গিআ।
কেমনে ধরাইমু চিত্ত কালা না দেখিয়া॥ ধু॥
মালতীর মালা গলে সোভিআছে ভালা।
মু’খানি পূর্ণিমারশশী বরণ চিকন কালা॥
কদম্বের ডালে বসি বাজাএ ফুকরি।
আবরিছে কদম্বের পত্র সারি সারি॥
মির ফয়েজুল্লা কহে মনেতে ভাবিআ।
দেখ সখি সাম রূপ কদম্বতলে গিআ॥

.        ************************                                                   
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
রূপ বন্ধু চল দেখি গিআ
ভণিতা মির ফয়জুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক
দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৯-পৃষ্ঠা। এই পদটি আমরা “চল
দেখি গিয়া” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রেখেছি।

॥ রামক্রিয়া॥

চল দেখি গিয়া --- রূপ বন্ধু চল দেখি গিয়া।
কিরূপে ধরাইমু হিয়া শ্যামে না দেখিয়া॥(১) ধু॥
মালতীর মালা গলে শোভি আছে ভালা।
মু’খানি পূর্ণিমা শশী বরণ চিকণ কালা॥
শাক্ষী হৈও সাক্ষী হৈও এ পাড়াপড়শী।
শাশিড়ী ননদীর বাদে হৈলাম দেশান্তরী(২)॥
কদম্বের ডালে বসি বাজাএ ফুকরি।
আবরিছে কদম্বের পত্র সারি সারি॥
মির ফয়েজুল্লা কহে মনেত ভাবিয়া।
দেখ দেখি সাম রূপ কদম্বতলে গিয়া॥

পাঠান্তর -
১।  “চল বন্ধুর রূপ দেখি গিয়া।
দেখিয়া বন্ধুর রূপ না ধরএ হিয়া॥ ধু” ---পাঠান্তর।
২। “তরুআ কদম্বতলে পাত্র সারি সারি।
কুখেণেতে হইল দেখা পাসরিতে নারি॥” ---ঐ। তারপর---
“ডালে ডালে পুষ্প আর ফুটিয়াছে কলি।
ছন্দবন্দ বৃন্দাবনে নাগর বনমালী॥
জলের উপরে বসি ঝলকে চমকে।
দেখিলাম সুন্দর রূপ বিজুলী চমকে॥” ---পাঠান্তর।
এতৎ পাঠে ভণিতি পাওয়া যায় নাই।

ই পদটি সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যার
(ডিসেম্বর ১৯১৮), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ”
প্রবন্ধে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী - রামক্রিরা॥

রূপ বন্ধু চল দেখি গিআ।
কেমনে ধরাইমু চিত্ত কালা না দেখিয়া॥ ধু॥
মালতীর মালা গলে সোভিআছে ভালা।
মু’খানি পূর্ণিমারশশী বরণ চিকন কালা॥
কদম্বের ডালে বসি বাজাএ ফুকরি।
আবরিছে কদম্বের পত্র সারি সারি॥
মির ফয়েজুল্লা কহে মনেতে ভাবিআ।
দেখ সখি সাম রূপ কদম্বতলে গিআ॥

.        ************************                                                   
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দেখ সখি শ্যাম মোহনিআ
ভণিতা মীর ফয়জুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত,
“মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৭-পৃষ্ঠা।

॥ তুড়ী॥

দেখ সখি, শ্যাম মোহনিআ।
এ রূপ যৌবন,                                 করিএ নিছন,
শ্যাম পদে(১) ভজ গিয়া॥ ধু॥
মোহনিআ কালা,                          মোহনিআ মালা,
মোহনিআ বাঁশী বাজাএ।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা,                            দিতে নারি সীমা,
জগ-মন মুরুছএ(২)॥
কপালে চন্দন,                                 মদন মোহন,
মুরছিত কোটি কাম॥
বচন শোভা,                                মুনি-মন-লোভা,
আনন্দ রসেরি দান(?)।

*        *        *        *

বাঁশের বাঁশী,                                   গরল রাশি,
যুবতী বধিতে পাশী।
শুনি বাঁশী ধ্বনি,                              গোকুল রমণী,
বিনি মূলে হএ দাসী॥
মীর ফয়জুল্লা ভণে,                          লাগিল নয়ানে,
কেমতে ধৈরজ ধরি,                     শ্যাম সোনা হেরি॥


১। রাঙ্গা পদে - পাঠান্তর।
২। মুরছএ - মূর্চ্ছা যায় ; মোহিত হয়।

.        ************************         
.                                                                                              
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সজনী সই কানু সে প্রাণধন মোর
ভণিতা মীর্জা ফয়জুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত,
“মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ৮-পৃষ্ঠা।

॥ ধানশী॥

সজনী সই, কানু সে প্রাণধন মোর। ধু।
যে বলে বলুক মোরে,
যে করে করিব নি পতি।
সকলি ছাড়িয়া মুই,                                কানুর শরণ লই,
ধিক্ মোর এই ঘরে বসতি॥
তোমরা যথেক(১) সখী,                        ঘরে যাও কুল রাখি,
কানুর ভাবে হৈয়াছি বিভোর।
শুনিতে বাঁশীর গান,                            দ্রবীভূত হএ পাষাণ,
রমণীর প্রাণ কথ(২) দড়॥
চিত্ত উতরোল দেখি,                         চৌদিকে পলকে আঁখি,
সকলি দেখিও শ্যাম রায়।
মনে হেন সাধ করে,                            নিত্য দেখি বন্ধুয়ারে,
ভজিতে না পারি রাঙ্গা পায়॥
মীর্জা ফয়জুল্লা বাণী,                              শুন রাধা ঠাকুরাণী,
মনে ভাব মন্দিরে বসিয়া।
জীবন জোয়ারের পানি,(৩)                        তরল তরঙ্গ জানি,
ঐ রাঙ্গা চরণ ভজিয়া॥

১। যথেক - যতেক।
২। কথ - কত।
৩। “দ্রবয় যে পাষাণ” - পাঠান্তর

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান
কবি”, পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সজনী সই, কানু সে প্রাণধন মোর।
যে বলে বলুক মোরে
যে করে করিব নিজ পতি।
সকলি ছাড়িয়া মুই                                কানুর শরণ লই
ধিক মোর এই ঘরে বসতি॥
তোমরা যথেক সখী                           ঘরে যাও কুল রাখি
কানুর ভাবে হৈয়াছি বিভোর।
শুনিতে বাঁশীর গান                             দ্রবীভূত হয় পাষাণ
রমণীর প্রাণ কথ দড়॥
চিত্ত উতরোল দেখি                        চৌদিকে পলকে আঁখি,
সকলি দেখি এ শ্যাম রায়।
মনে হেন সাধ করে                           নিত্য দেখি বন্ধুয়ারে,
ভজিতে না পারি রাঙ্গা পায়॥
মীর্জা ফয়জুল্লা বাণী                             শুন রাধা ঠাকুরাণী
মনে ভাব মন্দিরে বসিয়া।
জীবন জোয়ারের পানি                          তরল তরঙ্গ জানি,
ঐ রাঙ্গা চরণ ভজিয়া॥

.        ************************         
.                                                                                              
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আহা কৃষ্ণ প্রাণের নাথ কে নিল হরিয়া
ভণিতা মীর ফয়জুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক
দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ১০-পৃষ্ঠা।

কৃষ্ণবসন্ত।

আহা, কৃষ্ণ প্রাণের নাথ কে নিল হরিয়া।
কান্দে সব গোপনারী গোবিন্দ ধেয়াইয়া॥
নন্দ কান্দে, যশোদা কান্দে, কান্দে রোহিণী।
আহার তেজিয়া কান্দে বনের হরিণী॥
না কান্দ, না কান্দ গোপী স্থির কর মন।
কংস বধিয়া কৃষ্ণ আসিব এখন॥
জাতি যুথি মালতী পুষ্প দ্বারে লাগাইলুম্।
নিঠুর কালিয়ার সনে পিরীতি বাড়াইলুম্॥
ফুটিল মালতী ফুল গন্ধ গেল দূর।
ছাড়ি গেল প্রাণের নাথ নিমায়া নিঠুর॥
মীর ফয়জুল্লা কহে @ @ @ @
@   @   @   @   @   @   @॥


এই পদের ভণিতিটা ভাল রূপে উদ্ধার করিতে পারা যায় নাই।
@ - অপাঠ্য অক্ষর

.        ************************         
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
রাই রাই কর অবধান
ভণিতা মীর ফএজুল্লা
কবি মীর্জা ফয়জুল্লা
বিধুভূষণ গোস্বামী ও সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র সম্পাদিত, ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন পত্রিকার ভাদ্র ও
আশ্বিন ১৩২৪ সংখ্যায় (সেপ্টেম্ব-অক্টোবর ১৯১৭) আবদুল করিমের “মুসলমান কবির
বৈষ্ণব পদাবলী” প্রবন্ধ, ১৮১-পৃষ্ঠা।

তুরি গুঞ্জরী।

রাই রাই কর অবধান।
তুআ ভাবে আকুল রসময় কান॥ ধু।
কালিন্দীর তীরে বসি নিরক্ষিএ তোক্ষা।
রসের আবেস হৈআ সদাএ আছি আক্ষা॥
তোক্ষা ন দেখিআ শ্যামে হাতে বাঁশী কেলে।
ভূমিতে পড়িআ বাঁশী রাধা রাধা বোলে॥
খেনে হাসি খেনে বাঁশী খেনে গড়ি জাএ।
অধরে মুররি থুইআ তুআ গুণ গাহে॥
মীর ফএজুল্লা কহে রসবতী রাই।
রসের পালার লৈআ ভেটসি’ কানাই॥

.        ************************         
.                                                                                  
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর