| কবি মীর্জা কাঙ্গালীর বৈষ্ণব পদাবলী |
| কিরে শ্যাম এমন উচিত নহে তোমার ভণিতা মীর্জ্জা কাঙ্গালী কবি মীর্জা কাঙ্গালী ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯০৪, ১১-পৃষ্ঠা। ॥ রামকেলি (মতান্তরে সুহই)॥ কিরে শ্যাম, এমন উচিত নহে তোমার। ধু। অঘোর সাঁঝুয়া বেলা,(১) কি বোল বলিয়া গেলা, সাঁচা(২) যদি না আছিল মনে। এক কহ আর হয়, এমন উচিত নয়, এ দুঃখ না সহে প্রাণে॥ যখনে পিরীতি কৈলা, দিবারাত্রি আইলা গেলা, ভিন্ন ভাব না আছিল মনে। সাধিয়া আপনা কাজ, কুলেতে রাখিলা লাজ, ফিরিয়া না চাহ আঁখি কোণে॥(৩) তুই বন্ধের কঠিন হিয়া, আনলেতে তৃণ দিয়া, কোথা গিয়া রহিলা ভুলিয়া ? মীর্জা কাঙ্গালী ভণে, জল ঢাল সে আনলে, নিবাও লো প্রেম রস দিয়া॥ ১। সাঁঝুয়া বেলা - সন্ধ্যা বেলা। ২। সাঁচা - সত্য। ৩। “তোমার কঠিন মন, মোরে হও বিস্মরণ, কুখেণে পিরীতি তোর সনে॥” ---পাঠান্তর। এই পদটি, ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি”, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কিরে শ্যাম, এমন উচিত নহে তোমার। ধু। অঘোর সাঁঝুয়া বেলা, কি বোল বলিয়া গেলা, সাঁচা যদি না আছিলা মনে। এক কহ আর হয়, এমন উচিত নয়, এ দুঃখ না সহে পরাণে॥ যখন পিরিতি কৈলা, দিবারাত্রি আইলা গেলা, ভিন্ন ভাব না আছিল মনে। সাধিয়া আপনা কাজ, কুলেতে রাখিলা লাজ, ফিরিয়া না চাহ আঁখিকোণে॥ তুই বন্ধের কঠিন হিয়া, আনলেতে তৃণ দিয়া, কোথা গিয়া রহিলা ভুলিয়া ? মীর্জা কাঙ্গালী ভণে, জল ঢাল সে আনলে, নিবাও লো প্রেমরস দিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাঙ্গালী মুসলমান কবিদের রচিত কবিতাবলীর সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অনুযোগ কিরে শ্যাম, এমন উচিত নহে তোর॥ ধ্রু॥ অঘোর সাঁঝের বেলা কি বোল বলিয়া গেলা, আসিবা কি না আসিবা মনে। এক কহ আর হয়, এমন উচিত নয়, এ দুঃখ সহে না পরাণে॥ যখনে পিরীতি কৈলা, রাত্র দিন আইলা গেলা, ভিন্ন-ভাব না আছিল মনে। সাধিয়া আপন কাজ, কুলে দিয়া গেলা লাজ, এখন না চাহ আঁখি-কোণে॥ বহুল যতন করি শয্যা সাজাইনু নারী নানা আভরণ পুষ্প দিয়া। বাটায় তাম্বুল ভরি’ অষ্ট অলঙ্কার পরি’ সারা নিশি গোঞানু জাগিয়া॥ তোমার কঠিন হিয়া অনলেতে কাষ্ঠ দিয়া কোথা গিয়া রহিলা ভুলিয়া ? মীর্জ্জা কাঙ্গালী ভণে, জল ঢাল সে আনলে, নিবারহ প্রেম-রস দিয়া॥ এই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯২১) অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত, “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ১ম খণ্ড, ২য় সংখ্যা, ৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কিরে সাম এমন উচিত নহে তোমার॥ ধুয়া॥ অঘোর সাঝোয়া বেলা, কি বোল বোলিয়া গেলা আসিবা কি ন আসিবা মনে। এক কহ আর হএ, এমন উচিত নহে, এই দুক্ষ না সহে পরাণে॥ জেখনে পীরিতি কৈলা, দিবারাত্রি আইলা গেলা এবে কেনে না চাহ আখির কোণে। তুই বন্ধের কঠিন হিয়া, আনলেতে তৃণ দিয়া, কথা গিয়া রহিলা লুকাইয়া। মীর্জা কাঙ্গালি ভণে, জল ঢাল সে আনলে, নিবাও জে প্রেমরস দিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আলরে পরাণের সইরে নিঠুর কালারে ভণিতা মির্জ্জা কাঙ্গালী কবি মীর্জা কাঙ্গালী বিধুভূষণ গোস্বামী ও সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র সম্পাদিত, ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন পত্রিকার ভাদ্র ও আশ্বিন ১৩২৪ সংখ্যায় (সেপ্টেম্ব-অক্টোবর ১৯১৭) তিনি তাঁর “মুসলমান কবির বৈষ্ণব পদাবলী” প্রবন্ধ, ১৮৪-পৃষ্ঠা। রাগ-গান্ধার। আলরে পরাণের সইরে নিঠুর কালারে মানাইআ মোরে দে। ধু। এথেক প্রকারে সেবিলু কালারে জৌবন ধন দিআ দান। নিঠুর কালা বর এবে না ভেল মোর দৈবে সে তেজিমু প্রাণ॥ জাতিকুল ছিল সব তেআগিল তবোহো মোরে বিমতি। নিঠুর কালা বিনে আর না লএ মনে ন জানি কি হৈব গতি॥ মোর নিবেদন শুন সখীগণ কহিঅ বন্ধুর আগে। দরসন দিতে শ্যাম কেনে বা হইব বাম দেখিতে কথেক ধন লাগে॥ মির্জ্জা কাঙ্গালী ভণে কেনে দুঃখ ভাব মনে তোরে নাহি শ্যামের মন। পরের পিরীতি খানি ভাটি না জোআরের পাণি জানিলুৎ নিসির স্বপন॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |