কবি মুকুন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নীল কমল-দল শ্রীমুখমণ্ডল
ভণিতা ভণীতাহীন / মুকুন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব,
দান-লীলা ১৩৪৭-সংখ্যক পদে এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে পদটির কোনো ভণিতা নেই।

॥ তথা রাগ॥

নীল-কমল-দল                                   শ্রীমুখ-মণ্ডল২
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
নাচিতে নাচিতে যায়                   গো-ধূলি লাগ্যাছে গায়
আহীর-বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে                        কনয়া পাঁচনি হাতে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
আগে আগে ধেনু ধায়                    পাছে যায় শ্যামরায়
বরিহা উড়িছে মন্দ বায়॥
সভার সমান ঝুঁটা                        কপালে চন্দন-ফোঁটা
রাখাল কোন জন বিনদিয়া।
শ্রীদামের কান্ধে হাত                        ওই যায় প্রাণনাথ
রাই দিছেন চিনাইয়া চিনাইয়া॥

ই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”
১৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নীল কমল-দল                                     শ্রীমুখমণ্ডল
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
নব ঘন জিনি কালা                       গলাএ গুঞ্জার মালা
আভীর বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে                        অঙ্গদ বলয়া হাথে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
হাসিতে খেলিতে যায়                     গোধূলি ধূসর গায়
বর্হা উড়িছে মন্দ বায়॥
নবীন রাখাল হরি                            নটবর-বেশ ধরি
শিশু সঙ্গে গরুয়া চরায়।
ভূষণ বনের ফুল                        কি দিব তাহার তুল
মুকুন্দ আনন্দে গুণ গাএ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে, পদটি “মুকুন্দ দাসের” নামে দেওয়া হয়েছে।
চৈতন্য সমসাময়িক কবি নরহরি সরকার ঠাকুরের দাদাও মুকুন্দ দাস নামে পরিচিত ছিলেন।

গোষ্ঠবিহার

॥ সিন্ধুড়া॥

নীল কমল-দল                                    শ্রীমুখমণ্ডল
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
নব ঘন জিনি কালা                       গলায় গুঞ্জার মালা
আভীর বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে                        অঙ্গদ বলয়া হাথে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
হাসিতে খেলিতে যায়                      গোধূলি ধূসর গায়
বরিহা উড়িছে মন্দ বায়॥
নবীন রাখাল হরি                            নটবর-বেশ ধরি
শিশু সঙ্গে গরুয়া চরাএ।
ভূষণ বনের ফুল                         কি দিব তাহার তুল
মুকুন্দ আনন্দে গুণ গাএ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


নীল কমল-দল                                     শ্রীমুখ মণ্ডল
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
১নব ঘন জিনি কালা                       গলায় গুঞ্জার মালা
আভীর-বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে                        ২অঙ্গদ বলয়া হাথে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
৩হাসিতে খেলিতে যায়                      গোধূলি ধূসর গায়
বর্হা উড়িছে মন্দ বায়॥
৪নবীন রাখাল হরি                            নটবর-বেশ ধরি
শিশু সঙ্গে গরুয়া চরায়।
ভূষণ বনের ফুল                           কি দিব তাহার তুল
মুকুন্দ আনন্দে গুণ গায়॥

ব্যাখ্যা -
পদটি খুব সম্ভব, শ্রীগৌরাঙ্গের সহচর মুকুন্দ দত্তের রচনা। মুকুন্দ একজন শ্রেষ্ঠ কীর্তনীয়া ছিলেন। তরু-র
(পদকল্পতরুর) শেষ কলিটি “রাই দিছেন চিনাইয়া চিনাইয়া” পরবর্তী কালের সংযোজন মনে হয়। প্রথমে
পদটি বিশুদ্ধ সখ্যরসের ছিল ; পরে উহাতে শৃঙ্গাররস প্রক্ষেপ করা হইয়াছে।
--- বিমানবিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


নীল কমল-দল                                   শ্রীমুখ মণ্ডল
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
নব ঘন জিনি কালা                       গলায় গুঞ্জার মালা
আভীর-বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে                        অঙ্গদ বলয়া হাথে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
হাসিতে খেলিতে যায়                     গোধূলি ধূসর গায়
বর্হা উড়িছে মন্দ বায়॥
নবীন রাখাল হরি                            নটবর-বেশ ধরি
শিশু সঙ্গে গরুয়া চরায়।
ভূষণ বনের ফুল                        কি দিব তাহার তুল
মুকুন্দ আনন্দে গুণ গায়॥
.                                                        সংকীর্ত্তনামৃত, ১৩৫
.                                                                তরু, ১৩৪৭.

পাঠান্তর -
এই পদটি ভণিতাহীন অবস্থায় কিছু পাঠান্তর সহ পদকল্পতরুতে (১৩৪৭) ধৃত হইয়াছে।
(১) নাচিতে নাচিতে যায়                        গো-ধূলি লাগ্যাছে গায়
আহীর-বালক চারি পাশ॥
(২) কনয়া পাঁচনি হাতে
(৩) আগে আগে ধেনু ধায়                        পাছে যায় শ্যামরায়
(৪) সভার সমান ঝুঁটা                        কপালে চন্দন-ফোঁটা
রাখাল কোন জন বিনদিয়া।
শ্রীদামের কান্ধে হাত                        ওই যায় প্রাণনাথ
রাই দিছেন চিনাইয়া চিনাইয়া॥

পদটি খুব সম্ভব, শ্রীগৌরাঙ্গের সহচর মুকুন্দ দত্তের রচনা। মুকুন্দ একজন শ্রেষ্ঠ কীর্তনীয়া ছিলেন। তরু-র
(পদকল্পতরুর) শেষ কলিটি “রাই দিছেন চিনাইয়া চিনাইয়া” পরবর্তী কালের সংযোজন মনে হয়। প্রথমে
পদটি বিশুদ্ধ সখ্যরসের ছিল ; পরে উহাতে শৃঙ্গাররস প্রক্ষেপ করা হইয়াছে।
--- বিমানবিহারী মজুমদার, ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
পদ সংখ্যা-৩৩৪১, ৯৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নীল কমল-দল শ্রীমুখমণ্ডল
ঈষত মধুর মৃদু হাস।
নব ঘন জিনি কালা গলাএ গুঞ্জার
মালা আভীর বালক চারি পাশ॥
মণিময় ঝুরি মাথে অঙ্গদ বলয়া হাথে
রতন-নূপুর রাঙ্গা পায়।
হাসিতে খেলিতে যায় গোধূলি ধূসর
গায় বরিহা উড়িছে মন্দ বায়॥
নবীন রাখাল হরি নটবর বেশ ধরি
শিশু সঙ্গে গরুয়া চরাএ।
ভূষণ বনের ফুল কি দিব তাহার তুল
মুকুন্দ আনন্দে গুণ গাএ॥

.           *************************         
.                                                                             
 সূচীতে . . .   
        



মিলনসাগর
*
দেখ রে মাই দেখ শচীনন্দনা
ভণিতা মুকুন্দদাস
কবি মুকুন্দ দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১০৫ ও ২২৩-পদসংখ্যায় দুইবার দেওয়া রয়েছে।

অথ বনাৎ কৃষ্ণচন্দ্রস্য গৃহাগমনম্।
গৌরচন্দ্র।
॥ শ্রীরাগ॥

দেখ রে মাই দেখ শচীনন্দনা।
আজানুলম্বিত ভুজ বাহু সবলনা॥
মদমত্ত-হাথি-গতি-ভাতি চলনা।
কিএ রে মালতীমালা গোরা অঙ্গে দোলনা॥
পদ দুই চারি চলত ডগমগিয়া।
প্রেমে পহুঁ ঢর ঢর ভূমে পড়ে ঢলিয়া॥
শারদ কালে ইন্দু-নিন্দিত বয়না।
অবিরত প্রেমভরে ঝরে দুটি নয়না॥
অমল-কমলদল রাতুল-চরণা।
কহএ মুকুন্দদাস মকরন্দশরণা॥

.           *************************         
.                                                                             
 সূচীতে . . .   
      



মিলনসাগর