কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
আমরা মিলনসাগরে কবি মুকুন্দের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি মুকুন্দ - আমরা, এই কবি মুকুন্দের দুটি মাত্র পদ পেয়েছি। তার মধ্যে একটি পদ বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে ১৩৪৭ সংখ্যক, ভণিতাহীন পদ হিসেবে রয়েছে। অপর পদটি রয়েছে দীনবন্ধু দাস সংকলিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” গ্রন্থে।
বিমানবিহারী মজুমদারের মতে ইনি সম্ভবত চৈতন্য সমকালীন প্রখ্যাত কীর্তনীয়া মকুন্দ দত্ত। অন্য দিকে ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৮৫- পৃষ্ঠায় এই পদটি মুকুন্দ দাসের নামে দেওয়া রয়েছে। তাই আমরা এই দুইজনের, মুকুন্দ দত্ত ও মুকুন্দ দাস এর সম্বন্ধে যেটুকু তথ্য যোগাড় করতে পেরেছি তা এখানে তুলে দিলাম।
মুকুন্দ দত্ত - পাতার উপরে . . . গৌরপদ-তরঙ্গিণীর সংকলক ও সম্পাদক জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গ্রন্থে জানিয়েছেন যে, ইনি ছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর সমকালীন প্রখ্যাত কীর্তনীয়া, প্রিয় পার্ষদ এবং ভক্ত। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামবাসী।
টীকা- ২ - মকুন্দ দত্ত - নবদ্বীপবাসী জনৈক বৈদ্য কুলোদ্ভব। ইঁহার সহিত চৈতন্য গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে পড়িতেন ও পরস্পর সর্ব্বক্ষণ বিচার বিতণ্ডা করিতেন। চৈতন্য যখন পাণ্ডিত্য হুঙ্কারে মত্ত, ইনি তখনও শান্ত ও শুদ্ধ ভাবে হরি ভক্তি গ্রহণ করিয়াছেলেন ; ও অদ্বৈত ও শ্রীবাসাদি বৈষ্ণবদিগের সহিত সহবাস করিতেন। ইনি অতি সুগায়কও ছিলেন। সঞ্জয় ও মুকুন্দের সহিত বাল্যকাল হইতেই চৈতন্যের সৌহার্দ্য জন্মিয়াছিল। ইনি কীর্ত্তন করিলে চৈতন্য নৃত্য করিতেন। ইঁহার পূর্ব্বে বাস শ্রীহট্ট।---জগদীশ্বর গুপ্ত॥
মুকুন্দ দত্তের কীর্তন সম্বন্ধে বৃন্দাবন দাস দ্বারা ষোড়শ শতকে বিরচিত, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী দ্বারা ১৯১৫ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, “শ্রীচৈতন্যভাগবত”, আদিখণ্ড, ৭ম অধ্যায়, ৭৭-পৃষ্ঠায় এই কথা রয়েছে . . .
মুকুন্দ দাস - পাতার উপরে . . . ইনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক পদকর্তা, চৈতন্যবিষয়ক পদরচনার পথীকৃত নরহরি সরকার ঠাকুরের দাদা ছিলেন। মুকুন্দ দাস পেশায় গৌড়ের নবাবের চিকিত্সক ছিলেন। মুকুন্দ দাস সম্বন্ধে জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গৌরপদতরঙ্গিণীর “পরিকর ও ভক্তদিগের পরিচয়”, ৪৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .
“বর্দ্ধমান জেলান্তর্গত শ্রীখণ্ড গ্রামে নরনারায়ণ দেব নামে অতি সুপণ্ডিত ও ভক্তিমান্ ও ব্যক্তি বাস করিতেন। তাঁহার দুই পুত্র,---জ্যেষ্ঠের নাম মুকুন্দ ও কনিষ্ঠের নাম নরহরি। গৌড়ীয় মঠ হইতে প্রকাশিত চৈতন্যচরিতামৃতের আদি, দশমে, ৭৮ শ্লোকের অনুভাষ্যে লিখিত হইয়াছে যে, নরনারায়ণের আর এক পুত্র ছিলেন এবং তাঁহার নাম মাধব। কিন্তু কোন প্রাচীন বৈষ্ণব-গ্রন্থে ইহার কোন উল্লেখ নাই। এমন কি শ্রীখণ্ডবাসী শ্রীযুক্ত গৌড়ানন্দ ঠাকুর কর্ত্তৃক সঙ্কলিত “শ্রীখণ্ডের প্রাচীন বৈষ্ণব” নামক গ্রন্থেও এই কথার পোষকতার কিছু নাই। মুকুন্দ দাস কোন শকে জন্মগ্রহণ করেন, তাহার উল্লেখ কোন গ্রন্থে নাই। তবে “শ্রীখণ্ডের প্রাচীন বৈষ্ণব”-গ্রন্থকার লিখিয়াছেন,---আমরা গুরুপরম্পরায় শুনিয়া আসিতেছি যে, ঠাকুর নরহরি শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাবসময়ের ৪/৫ বত্সর পূর্ব্বে অবতীর্ণ হয়েন, এবং নরহরি অপেক্ষা মুকুন্দ ৮/১০ বত্সরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। মুকুন্দ ও নরহরি পিতার নিকট শৈশব হইতেই ভক্তি-ধর্ম্ম শিক্ষা করিতে থাকে । ইহার ফলে তাঁহারা অল্প বয়সেই পরম ভাগবত হইয়া উঠিয়াছিলেন। মুকুন্দ চিকিত্সা-শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শীতা লাভ করায় তাঁহার সুখ্যাতি চারি দিকে ছড়াইয়া পড়ে। তাহার ফলেই সম্ভবতঃ গৌড়ের তাত্কালিক বাদশাহ তাঁহাকে রাজধানীতে লইয়া যান।”
গৌরপদতরঙ্গিণীর “পরিকর ও ভক্তদিগের পরিচয়”, ১৮৮-পৃষ্ঠায় আবার লেখা আছে . . .
“মুকুন্দ চিকিত্সা-শাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি লাভ করায় তখনকার বাদশা তাঁহাকে গৌড়ে লইয়া যান। মুকুন্দের গৌড়ে গমন করিবার পূর্ব্বেই নরনারায়ণ কৃষ্ণপ্রাপ্ত হন। তখন নরহরির সমস্ত ভার মুকুন্দের ুপর পড়িল। তিনি সবসময় ভক্তিরসে টলমল করিতেছিলেন। দুই সহোদরে প্রগাঢ় প্রণয়, কেহ কাহাকে ছাড়িয়া থাকিতে পারেন না। কিন্তু বাদশার আদেশো অমান্য করিতে পারেন না। কাজেই অধ্যয়নের জন্য নরহরিকে নবদ্বীপে রাখিয়া, মুকুন্দ গৌড়ে গমন করিতে বাধ্য হন। সেখানে তাঁহার বেশী দিন থাকিতে হয় নাই। কারণ, তিনি কৃষ্ণপ্রেমে এরূপ বিভোর হইয়া থাকিতেন যে, বাদশা তাঁহার অবস্থা দেখিয়া শেষে তাঁহাকে ছাড়িয়া দিতে বাধ্য হন। মুকুন্দ ফিরিয়া আসিয়া অনেক সময়ই নরহরির সহিত নবদ্বীপে বাস করিতেন।”