কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে
আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান
তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
আমরা মিলনসাগরে  কবি মুকুন্দের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি মুকুন্দের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।          


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩১.১০.২০১৭   
পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৭.১২.২০১৮
                                      
...
মুকুন্দ দত্ত    
মুকুন্দ দাস    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
মুকুন্দ
মুকুন্দ
চৈতন্য সমসাময়িক কবি
পঞ্চদশ শতক
কবি মুকুন্দ - আমরা, এই কবি মুকুন্দের দুটি মাত্র পদ পেয়েছি। তার মধ্যে একটি পদ বৈষ্ণবদাস
সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে ১৩৪৭ সংখ্যক, ভণিতাহীন পদ হিসেবে রয়েছে। অপর পদটি রয়েছে
দীনবন্ধু
দাস সংকলিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” গ্রন্থে।

বিমানবিহারী মজুমদারের মতে ইনি সম্ভবত চৈতন্য সমকালীন প্রখ্যাত কীর্তনীয়া মকুন্দ দত্ত। অন্য দিকে
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৮৫-
পৃষ্ঠায় এই পদটি মুকুন্দ দাসের নামে দেওয়া রয়েছে। তাই আমরা এই দুইজনের, মুকুন্দ দত্ত ও মুকুন্দ দাস
এর সম্বন্ধে যেটুকু তথ্য যোগাড় করতে পেরেছি তা এখানে তুলে দিলাম।
মুকুন্দ দত্ত  -                                                                                পাতার উপরে . . .  
গৌরপদ-তরঙ্গিণীর সংকলক ও সম্পাদক
জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গ্রন্থে জানিয়েছেন যে,
ইনি ছিলেন
চৈতন্য মহাপ্রভুর সমকালীন প্রখ্যাত কীর্তনীয়া, প্রিয় পার্ষদ এবং ভক্ত। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামবাসী।

১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত,
কৃষ্ণদাস কবিরাজ বিরচিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত,
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদিলীলা, দশম পরিচ্ছেদ, ২৭৫-পৃষ্ঠায়
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের শাখা বর্ণনাতে রয়েছে . . .

শ্রীমুকুন্দ দত্ত শাখা প্রভুর সমাধ্যায়ী ; (২)
যাঁহার কীর্ত্তনে নাচে চৈতন্য গোসাঞি।

টীকা-
২ - মকুন্দ দত্ত - নবদ্বীপবাসী জনৈক বৈদ্য কুলোদ্ভব। ইঁহার সহিত চৈতন্য গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে পড়িতেন
ও পরস্পর সর্ব্বক্ষণ বিচার বিতণ্ডা করিতেন। চৈতন্য যখন পাণ্ডিত্য হুঙ্কারে মত্ত, ইনি তখনও শান্ত ও শুদ্ধ
ভাবে হরি ভক্তি গ্রহণ করিয়াছেলেন ; ও অদ্বৈত ও শ্রীবাসাদি বৈষ্ণবদিগের সহিত সহবাস করিতেন। ইনি
অতি সুগায়কও ছিলেন। সঞ্জয় ও মুকুন্দের সহিত বাল্যকাল হইতেই চৈতন্যের সৌহার্দ্য জন্মিয়াছিল। ইনি
কীর্ত্তন করিলে চৈতন্য নৃত্য করিতেন। ইঁহার পূর্ব্বে বাস শ্রীহট্ট।
---জগদীশ্বর গুপ্ত॥

মুকুন্দ দত্তের কীর্তন সম্বন্ধে
বৃন্দাবন দাস দ্বারা ষোড়শ শতকে বিরচিত, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী দ্বারা ১৯১৫
খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, “শ্রীচৈতন্যভাগবত”, আদিখণ্ড, ৭ম অধ্যায়, ৭৭-পৃষ্ঠায় এই কথা রয়েছে . . .

সর্ব্ববৈষ্ণবের প্রিয় মুকুন্দ একান্ত।
মুকুন্দের গানে দ্রবে সকল মহান্ত॥
বিকাল হইলে আসি ভাগবতগণ।
অদ্বৈত-সভায় সভে হয়েন মিলন॥
যেইমাত্র মুকুন্দ গায়েন কৃষ্ণগীত।
হেন নাহি জানি কে পড়য়ে কোন্ ভিত॥
কেহো কান্দে কেহো হাসে কেহো নৃত্য করে।
গড়াগড়ি যায় কেহো বস্ত্র না সম্বরে॥
হুঙ্কার করয়ে কেহ মালসাট্ মারে।
কেহো গিয়া মুকুন্দের দুই পা’য় ধরে॥
.
মুকুন্দ দাস  -                                                                                পাতার উপরে . . .  
ইনি
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক পদকর্তা, চৈতন্যবিষয়ক পদরচনার পথীকৃত নরহরি সরকার ঠাকুরের
দাদা ছিলেন। মুকুন্দ দাস পেশায় গৌড়ের নবাবের চিকিত্সক ছিলেন। মুকুন্দ দাস সম্বন্ধে
জগবন্ধু ভদ্র তাঁর  
গৌরপদতরঙ্গিণীর “পরিকর ও ভক্তদিগের পরিচয়”, ৪৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

বর্দ্ধমান জেলান্তর্গত শ্রীখণ্ড গ্রামে নরনারায়ণ দেব নামে অতি সুপণ্ডিত ও ভক্তিমান্ ও ব্যক্তি বাস করিতেন।
তাঁহার দুই পুত্র,---জ্যেষ্ঠের নাম মুকুন্দ ও কনিষ্ঠের নাম নরহরি। গৌড়ীয় মঠ হইতে প্রকাশিত
চৈতন্যচরিতামৃতের আদি, দশমে, ৭৮ শ্লোকের অনুভাষ্যে লিখিত হইয়াছে যে, নরনারায়ণের আর এক পুত্র
ছিলেন এবং তাঁহার নাম মাধব। কিন্তু কোন প্রাচীন বৈষ্ণব-গ্রন্থে ইহার কোন উল্লেখ নাই। এমন
কি শ্রীখণ্ডবাসী শ্রীযুক্ত গৌড়ানন্দ ঠাকুর কর্ত্তৃক সঙ্কলিত “শ্রীখণ্ডের প্রাচীন বৈষ্ণব” নামক গ্রন্থেও এই কথার
পোষকতার কিছু নাই। মুকুন্দ দাস কোন শকে জন্মগ্রহণ করেন, তাহার উল্লেখ কোন গ্রন্থে নাই। তবে
“শ্রীখণ্ডের প্রাচীন বৈষ্ণব”-গ্রন্থকার লিখিয়াছেন,---আমরা গুরুপরম্পরায় শুনিয়া আসিতেছি যে, ঠাকুর নরহরি
শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাবসময়ের ৪/৫ বত্সর পূর্ব্বে অবতীর্ণ হয়েন, এবং নরহরি অপেক্ষা মুকুন্দ ৮/১০
বত্সরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। মুকুন্দ ও নরহরি পিতার নিকট শৈশব হইতেই ভক্তি-ধর্ম্ম শিক্ষা করিতে থাকে
। ইহার ফলে তাঁহারা অল্প বয়সেই পরম ভাগবত হইয়া উঠিয়াছিলেন। মুকুন্দ চিকিত্সা-শাস্ত্রে বিশেষ
পারদর্শীতা লাভ করায় তাঁহার সুখ্যাতি চারি দিকে ছড়াইয়া পড়ে। তাহার ফলেই সম্ভবতঃ গৌড়ের
তাত্কালিক বাদশাহ তাঁহাকে রাজধানীতে লইয়া যান।



গৌরপদতরঙ্গিণীর “পরিকর ও ভক্তদিগের পরিচয়”, ১৮৮-পৃষ্ঠায় আবার লেখা আছে . . .

মুকুন্দ চিকিত্সা-শাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি লাভ করায় তখনকার বাদশা তাঁহাকে গৌড়ে লইয়া যান। মুকুন্দের
গৌড়ে গমন করিবার পূর্ব্বেই নরনারায়ণ কৃষ্ণপ্রাপ্ত হন। তখন নরহরির সমস্ত ভার মুকুন্দের ুপর পড়িল।
তিনি সবসময় ভক্তিরসে টলমল করিতেছিলেন। দুই সহোদরে প্রগাঢ় প্রণয়, কেহ কাহাকে ছাড়িয়া থাকিতে
পারেন না। কিন্তু বাদশার আদেশো অমান্য করিতে পারেন না। কাজেই অধ্যয়নের জন্য নরহরিকে নবদ্বীপে
রাখিয়া, মুকুন্দ গৌড়ে গমন করিতে বাধ্য হন। সেখানে তাঁহার বেশী দিন থাকিতে হয় নাই। কারণ, তিনি
কৃষ্ণপ্রেমে এরূপ বিভোর হইয়া থাকিতেন যে, বাদশা তাঁহার অবস্থা দেখিয়া শেষে তাঁহাকে ছাড়িয়া দিতে
বাধ্য হন। মুকুন্দ ফিরিয়া আসিয়া অনেক সময়ই নরহরির সহিত নবদ্বীপে বাস করিতেন।


১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত,
কৃষ্ণদাস কবিরাজ বিরচিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত,
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদিলীলা, দশম পরিচ্ছেদ, ২৮০-পৃষ্ঠায় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের শাখা বর্ণনাতে রয়েছে . . .

খণ্ড বাসী মুকুন্দদাস, শ্রীরঘুনন্দন ; (২)
নরহরি, দাস চিরঞ্জীব, সুলোচন।
এই সব মহাশাখা চৈতন্য কৃপা ধাম
প্রেম ফল ফুল করে যাঁহা তাঁহা দান।

টীকা -
২ - খণ্ডবাসী মুকুন্দ দাস - বর্দ্ধমান জেলার কাটোয়া উপরিভাগের সামিল শ্রীখণ্ডবাসী  বৈদ্য  কুলোদ্ভব  
ব্যক্তিগণ। ইহাদের বংশ পরম্পরা অদ্যাপিও গুরুগিরি ব্যাবসা করিতেছেন। কাশীম বাজারের শ্রীমতি  
মহারাণী স্বর্ণময়ী ও তাঁহার স্বামীর পূর্ব্ব পুরুষগণ ঊর্দ্ধতন কান্ত বাবু পর্য্যন্ত এই বংশের শিষ্য।
---জগদীশ্বর গুপ্ত॥
.
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .