কবি নবচন্দ্র দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ভালি রে গোপাল চূড়ামণি
কবি নবচন্দ্র দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ
পল্লব, সখ্য-রস-গোষ্ঠে গমন, পদসংখ্যা ১১৯৩।

.        ॥ ভাটিয়ারি॥

ভালি রে গোপাল চূড়ামণি।
বংশীবটের মাঠে গোঠের সাজনি॥ ধ্রু॥
বান্ধিয়া মোহন চূড়া গুঞ্জার আটনি।
বরিহা বকুল মালে ইষৎ টালনি॥
গালায় ফুলের দাম গো-ধূলি সব গায়।
নাচিয়া যাইতে সে মঞ্জীর বাজে পায়॥
মণিময় অভরণ শ্যাম কলেবর।
তড়িতে জড়িত যেন নব জলধর॥
সভার সমান বেশ নাটিয়া-কাচনি।
সঘনে পবন-বেগে ফিরায় পাচনি॥
ব্রজ-বালকের সঙ্গে রঙ্গে চলি যায়।
নবচন্দ্র দাস পায় পড়িয়া লোটায়॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মোহন যমুনা-মাঠে অশোকের বন
কবি নবচন্দ্র দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৩শ
পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, পদসংখ্যা ১২৩৯।

.        ॥ সারঙ্গ॥

মোহন যমুনা-মাঠে অশোকের বন।
নবীন পল্লব সব অতি সুশোভন॥
তার মধ্যে দুই ভাই কৃষ্ণ বলরাম।
সখা সঙ্গে বিহরয়ে অতি অনুপাম॥
নবীন-জলদ-শ্যাম-তনু মনোহর।
ধাতু-রাগ-নব-গুঞ্জা-শৃঙ্গ-বেণুধর॥
কদম্ব-মঞ্জরী কাণে শিখি-চন্দ্র চূড়ে।
পীতবাস পরিধান বনমালা উড়ে॥
শ্রীদামের অংসে বাম হস্ত-পদ্ম দিয়া।
দক্ষিণ হস্তেত এক পদ্ম ঘুরাইয়া॥
দাঁড়াইয়া তরু-তলে সঙ্গে বলরাম।
নব মেঘে চান্দে কিয়ে ভেল এক ঠাম॥
আহীর-বালক সব বেঢ়ি চারি পাশ।
মনের হরিষে দেখে নবচন্দ্র দাস॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পীত-ঘটি হেম-কাঁঠি ছান্দন ডুরি মাথে
কবি নবচন্দ্র দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৩শ
পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, পদসংখ্যা ১২৪০। পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার গ্রন্থ
থেকে নেয়া হয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

পীত-ঘটি হেম-কাঁঠি ছান্দন ডুরি মাথে।
গাবী-দোহন-ভাণ্ড শোভে বাম হাতে॥
শিঙ্গা বেণু মুরলী দক্ষিণ কক্ষ-মূলে।
ধবলি বলিয়া ধায় কালিন্দীর কূলে॥
লম্বিত গুঞ্জার মালা গোরোচনা ভালে।
গোধূলি-ধূসর অঙ্গ কাণে ফুল-ডালে॥
ছান্দনের ডুরি আর রাঙ্গা লড়ি হাতে।
নবচন্দ্র দাস রহে চাহি এক ভিতে॥


ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, পৃষ্ঠা ১০৬৮-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ শ্রীরাগ॥

পীত-ঘটী হেম-কাঁঠি মোহন চূড়া মাথে।
গাভী-দোহন-ভাণ্ড শোভে বাম হাতে॥
শিঙ্গা বেণু মুরলী দক্ষিণ কক্ষ মূলে।
ধবলি বলিয়া ধায় কালিন্দীর কূলে॥
লম্বিত গুঞ্জার মালা গোরোচনা ভালে।
গোধূলি-ধূসর অঙ্গ কানে ফুল-ডালে॥
ছান্দনের ডুরি আর রাঙ্গা লড়ি হাতে।
নবচন্দ্র দাস রহে চাহি এক ভিতে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর