কবি ন
গেন্দ্রনাথ গুপ্তর কবিতা
*
তুমি
কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
“ভারতী ও বালক” পত্রিকার আশ্বীন ১২৯৯ (অক্টোবর ১৮৯২) সংখ্যায় প্রকাশিত।
স্বপনের ছবি তুমি নন্দনের ছায়া,
প্রাণের পরশমণি জীবনের মায়া!
আকুল তনুর তরী ভাসিছে পাথারে,
ভেসে গিয়ে পাবে কূল শ্রী অঙ্গে তোমার ;
শুনিলে তোমার নাম প্রাণের আগারে
আলোক তরঙ্গমালা উঠে অনিবার ;
তোমার মিলন লাগি আকুল পরাণ,
যুগে যুগে ভ্রমিয়াছি তোমার লাগিয়া ;
জন্মান্তরে খুঁজিয়াছি তোমার বয়ান---
নীরবে কালের স্রোত গিয়াছে বহিয়া!
অতৃপ্ত নয়ন লয়ে জগতের পথে
আছিনু চাহিয়ে শুধু তোমার আশায় ;---
কোথায় ভ্রমিতে তুমি লাবণ্যের রথে,
পারিজাত বনে কভু মন্দার ছায়ায়!
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ন
গেন্দ্রনাথ গুপ্তর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
মৃত্যু
কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “প্রবাসী” পত্রিকার আষাঢ় ১৩০৮ (জুলাই ১৯০১) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
মাতৃ-অঙ্কে বাল্যকালে করিতাম ক্রীড়া---
পাশে তুমি নেহারিতে আনন আমার!
যৌবনে জাগিত প্রাণে যুবতীর ব্রীড়া---
সলজ্জ হৃসিত মুখ দেখেছ দোঁহার!
বিপদে বান্ধব গেছে, আত্মীয় স্বজন,---
তুমি হে একাকী নাহি যাও তেয়াগিয়া!
সংসার-অরণ্যে একা কোরেছি রোদন,
পেয়েছি সান্ত্বনা পুনঃ তোমারে স্মরিয়া।
নিত্যসখা, চিরসাথী, ভ্রমিতেছ সঙ্গে,
তথাপি তোমার নাহি পাই পরিচয় ;
তাই কি শিহরে প্রাণ তোমার ভ্রূভঙ্গে,
শুনিলে তোমার নাম কম্পিত হৃদয় ?
মিত্র তুমি, সখা তুমি, নহ তুমি অরি,
নেহারিলে ছায়া তব মিছে কেন ডকি!
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ন
গেন্দ্রনাথ গুপ্তর
পরিচিতির পাতায় . . .
*
রূপ
কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বাংলা গীতিকবিতা উনিশ শতক” কাব্যসংকলনে
(১৯৯৬) প্রকাশিত।
উছলিছে রূপরাশি লাবণ্য-সাগরে,
কূলে কূলে উছলিছে যৌবনের জল ;
তনুতে তরঙ্গমালা সাজে থরে থরে ;
অঞ্চলের পূর্ণরূপ হয়েছে চঞ্চল।
কপোলে তরঙ্গ দোলে চিবুকে খেলায়,
সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নয়নে ঠেকিয়ে,
উচ্ছ্বসিয়ে ওঠে যেন হৃদয়-দোলায়
শব্দহীন কলস্বর ঘিরিয়ে ঘিরিয়ে ;
উদ্বেলিয়া দেহসীমা ভেঙ্গে ফেলে কূল
ব্যপ্ত হতে চাহে যেন বিশ্ব চরাচরে ;
ত্রিজগতে আছে যত অস্ফুট মুকুল
ফুটাবারে চাহে সবে চাপিয়া অধরে ;
যাচিয়া জগতে দিবে প্রেম-আলিঙ্গন,
রূপের শীতল জলে জুড়াবে যাতন।
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ন
গেন্দ্রনাথ গুপ্তর
পরিচিতির পাতায় . . .