নগেন্দ্রনাথ গুপ্তর রচনা সম্ভার - পাতার উপরে . . .
প্রথম জীবনে তিনি রচনা করেন “স্বপন সঙ্গীত” গীতিকাব্য (১৮৮২) এবং পরে “সাহিত্য” ও “ভারতী” পত্রিকার
জন্য বহু ছোটগল্প এবং কয়েকটি উপন্যাস রচনা করেন। পরিণত বয়সে, বন্ধুবর রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি
কবিতার ইংরেজি অনুবাদ, বই আকারে প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও তাঁর বিশাল রচনাসম্ভারে রয়েছে
“পর্বতবাসিনী” (১৮৮৩), “তমস্বিনী” (১৯০১), “অমরসিংহ”, “জয়ন্তী” (১৯২৯), “লীলা”, “জীবন ও মৃত্যূ”, “রথযাত্রা
ও অন্যান্য গল্ক” প্রভৃতি গ্রন্থ।
তিনি সংকলন ও সম্পাদন করেন বিদ্যাপতি ঠাকুরের পদাবলী ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯), শ্রী সারদাচরণ
মিত্রের অর্থানুকুল্যে। বইটি প্রকাশিত হয় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে। বসুমতী সাহিত্য মন্দির থেকে
দুইখণ্ডে প্রকাশিত হয় “বৈষ্ণব মহাজন পদাবলী” (১৯৩৫)।
তাঁর ইংরেজী রচনার মধ্যে রয়েছে “Seven Noble Lives”, “Indian Nationalism”, “Gandhi and Gandhism”,
“Why India Lives”, “Eastern Poetry”, “The Place of Man and Other Essays”, “Reflections And Reminiscences”
প্রভৃতি। আমরা তাঁর মাত্র তিনটি কবিতা সংগ্রহ করতে পেরে, এখানে তুলে দিয়েছি।
আমরা মিলনসাগরে কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্তর কবিতা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৪.৭.২০১৭
কবির ছবি সহ পরিবর্ধিত পাতার সংস্করণ - ২৫.৮.২০১৮
...
তিনি একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ
কীর্তি অবশ্যই ছিল, বিহারের দ্বারভাঙা মহারাজের অর্থানুকুল্যে, বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাসের পদাবলীর
সম্পাদনা ও সঙ্কলনের প্রকাশনা। আধুনিক যুগে, বৈষ্ণব পদাবলীকে বাঙালীর হৃদয়ে পৌঁছে দেবার মূলে
রয়েছে তাঁর মতো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম। তিনি নিজে কোনো বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেছিলেন কি না
আমাদের জানা নেই। তবুও আমরা তাঁর কবিতার পাতা বৈষ্ণব পদাবলীর সূচীতেও রেখেছি। তাঁকে বাদ
দিয়ে বৈষ্ণব পদাবলীর কথা ভাবা যায় না।
কবি, ১৮৭৮ সালে জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে এনট্রান্স পাশ করে লাহোরে কিছুদিন
শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৮৮৪ সালে, করাচির “ফিনিক্স” পত্রিকার সম্পাদক হন এবং ১৮৯১ সালে লাহোরের
“ট্রিবিউন” এবং ১৯০৫ সালে এলাহাবাদের “ইন্ডিয়ান পিপল” নামক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক হন। ১৯০১
খ্রিস্টাব্দে তিনি এবং ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে “দি টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি” নামে একটি ইংরেজি
মাসিকপত্র প্রকাশ করেন। “ইন্ডিয়ান পিপল পত্রিকা” যখন “দৈনিক লিডার”-এরর সঙ্গে মিশে যায়, তখন তিনি
তার যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। পরে আবার ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দুই বছর “ট্রিবিউন” পত্রিকা সম্পাদনা
করেন। কিছুদিন প্রদীপ এবং প্রভাত পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি মৃত্যূর পূর্বে কিছুকাল
মুর্শিদাবাদের, কাশিমবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।
কবি নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত - জন্মগ্রহণ করেন
বিহারের পূর্ব চম্পারন জেলার মোতিহারি-তে
। পিতা মথুরানাথ গুপ্ত মোতিহারির বাসিন্দা
ছিলেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল অবিভক্ত
বাংলার ২৪ পরগণা জেলার হালিশহরে।
আসল-নকল বিদ্যাপতি বিবাদে নগেন্দ্রনাথের সিদ্ধান্ত - পাতার উপরে . . .
ব্রিটিশ শাসনের আই.সি.এস. আইরিশ বংশোদ্ভূত, ভারতীয় ভাষাতত্ত্ববিদ স্যার জর্জ অ্যাব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
(৭.১.১৮৫১ - ৯.৩.১৯৪১) প্রথমে মিথিলায় প্রচলিত বিদ্যাপতির পদাবলী সংগ্রহ ও প্রকাশনার সূত্রপাত করেন।
তিনি মিথিলায় বিদ্যাপতির ৮২টি পদ আবিষ্কার করেন। গ্রিয়ার্সন শাহেব, বাংলায় পাওয়া বিদ্যাপতির
পদাবলীকে অন্য কোনো বিদ্যাপতি বা জাল বিদ্যাপতির রচনা মনে করতেন। কিন্তু ১৮৮২ থেকে ১৮৯৩
সালের সময়ের মধ্যে ক্রমে তিনি তাঁর সেই মত থেকে সরে আসেন এবং তাঁরও মনে হয় যে
চতুর্দশ শতকের বিদ্যাপতি ঠাকুরের রচনা যা আমাদের কাছে মৌখিকভাবে এসে পৌঁছেছে, তা এখন
অবিকৃত ভাবে পাওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে “বিদ্যাপতির পদাবলী”র সংগ্রাহক নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, দারভাঙ্গায় আবিষ্কৃত বিদ্যাপতির পদাবলীর
প্রায় তিন শো বছরের প্রাচীন হস্তলিখিত পুঁথির সাহায্যে প্রমাণ করেছেন যে, বঙ্গদেশে প্রচলিত বিদ্যাপতির
পদাবলীর ভাষা অনেক স্থানে পরিবর্তিত হয়ে থাকলেও তা অধিকাংশই বিদ্যাপতির রচনা।
এদিকে বাংলা দেশেও কীর্তন গায়কদের মুখে মুখে বা প্রাচীন পুঁথি থেকে বিদ্যাপতির ভণিতাযুক্ত পদ
আবিষ্কৃত হয় এবং কে আসল ও কে নকল বিদ্যাপতি এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়। এই
বিষয় সতীশচন্দ্র রায় তাঁর “অপ্রকাশিত পদ রত্নাবলী গ্রন্থের” (১৯২৬) ভূমিকায় নগেন্দ্রনাথ
গুপ্তর “বিদ্যাপতি ঠাকুরের পদাবলী” গ্রন্থের ভূমিকা থেকে উদ্দৃতি তুলে দিয়েছেন --- . . .
“বিদ্যাপতির মৈথিল-পদাবলীর প্রথম সঙ্কলনকর্তা বলিয়া গ্রিয়ার্সন চির-কাল আমাদের কৃতজ্ঞতা ও
ধন্যবাদভাজন হইয়া থাকিবেন ; কিন্তু তাঁহার এই মতগুলি সমীচীন নয়। মিথিলার বিদ্যাপতির সর্বশুদ্ধ ৮২টি
মাত্র পদ আছে এবং তাহাতেই তাঁহার এত যশ, এই অনুমানই কিছু বিস্ময়জনক। পাঠান্তরসম্বন্ধেও তিনি
কিছু অসাবধানতার সহিত মত প্রকাশিত করিয়াছেন। মৈথিলব্যাকরণ সঙ্কলন করিয়া ছন্দ ও ব্যাকরণের
নিয়মাদির প্রতি তাঁহার লক্ষ্য হইবার কথা, কিন্তু শুধু সেই কারণে এদেশে প্রচলিত পদগুলিকে কৃত্রিম অথবা
জাল স্থির করিয়া অবহেলা করা স্বাধীনচেতা রসগ্রাহী ব্যক্তির উচিত হয় না। তাঁহার সংগৃহীত পদগুলিও
এদেশের সংগ্রহের কাব্যাংশে তুলনা করিয়া বিচার করা তাঁহার কর্তব্য ছিল। যদি বিদ্যাপতি দুই ব্যক্তির
নাম হয়, একজন মিথিলাবাসী ও আর একজন বঙ্গবাসী, একজন আসল, দ্বিতীয় ব্যক্তি জাল, এবং যিনি
আসল বিদ্যাপতি, তিনি গ্রিয়ার্সন কর্তৃক সংগৃহীত ৮২টি বই পদ রচনা করেন নাই, তাহা হইলে যে বঙ্গবাসী
জাল বিদ্যাপতি মিথিলাবাসী আসল বিদ্যাপতির অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কবি, তাহা প্রমাণ করিতে বিলম্ব হয় না। এ
দেশে চলিত মোহর যদি মেকি হয়, আর গ্রিয়ার্সন যদি খাঁটি মোহর আবিষ্কার করিয়া থাকেন, তাহা হইলে
মেকিতে সোনা অনেক বেশী।” পৃষ্ঠা ৩|o
নগেন্দ্রনাথ গুপ্তর সিদ্ধান্ত বিদ্যাপতির পদাবলীর বিশেষজ্ঞ মৈথিল পণ্ডিতগণ সমর্থন করেছিলেন।