কবি নরহরি সরকার বা নরহরি চক্রবর্তীর অনির্দিষ্ট পদাবলী
*
পিরীতি বলিয়া একটি কমল রসের সাগর মাঝে
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৭৪-পৃষ্ঠা।

॥ বরাড়ী॥

পিরীতি বলিয়া একটি কমল রসের সাগর মাঝে।
প্রেম পরিমলে লুবধ ভ্রমরা ধায়েল আপন কাজে॥
ভ্রমর জানয়ে কমল মাধুরী তেই সে তাহারি বশ।
রসিক জানয়ে রসের চাতুরী আন কহে অপযশ॥
ধরম করম লোক চরচা একথা বুঝিতে নারে।
এতিন আখর যাহার হৃদয়ে সেই সে বুঝিতে পারে॥
কহে নরহরি শুন সুনাররী (সুনাগরী ?) পিরীতি সুখের সার।
পিরীতি মরম মরমে নহিল কি ছার জীবন তার॥

.            *************************  

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পালঙ্ক উপরে গৌরাঙ্গ সুন্দর
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৯৮-পৃষ্ঠা। এই পদের রচয়িতা কোন নরহরি তা বলা সম্ভব হয়
নি। নরহরি সরকার ও নরহরি চক্রবর্তী ছাড়াও অন্য কোনো কবি নরহরির পদ কি না তাও বা কে বলতে
পারে!

॥ ধানশী॥

পালঙ্ক উপরে গৌরাঙ্গসুন্দর, বসিয়া বিরস মনে।
রাধার ভাবেতে, ভাবিত অন্তর, বাসকসজ্জার ভাণে॥
কহে শ্যাম বঁধু আসিবে বলিয়া শেজ সাজাইনু ফুলে।
গত প্রায় নিশি, কোথা কালশশী, রজনী গেল বিফলে॥
না আসিল কালা, আর প্রেমজ্বালা, কত বা সহিব প্রাণে।
কহে নরহরি ভাঙ্গিব পিরীতি, সে শ্যাম নিঠুর সনে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি কোন নরহরির তা বলা নেই।

বাসক সজ্জা।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ধানশী॥

পালঙ্ক উপরে                                গৌরাঙ্গ সুন্দর
বসিয়া বিরস মনে।
রাধার ভাবেতে                                ভাবিত অন্তর
বাসক সজ্জার ভাণে॥
কহে শ্যাম বঁধু                                আসিবে বলিয়া
শেজ বিছাইনু ফুলে।
গত প্রায় নিশি                                কোথা কাল শশী
রজনী গেল বিফলে॥
না আসিল কালা                                আর প্রেম জ্বালা
কত বা সহিব প্রাণে।
কহে নরহরি                                ভাঙ্গিব পিরীতি
সে শ্যাম নিঠুর সনে॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধন্য ধন্য বলি মেন চারিযুগ মধ্যে হেন
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯৯-পৃষ্ঠা। এই পদের রচয়িতা কোন নরহরি তা বলা সম্ভব হয়
নি। নরহরি সরকার ও নরহরি চক্রবর্তী ছাড়াও অন্য কোনো কবি নরহরির পদ কি না তাও বা কে বলতে
পারে!

॥ পাহিড়া॥

ধন্য ধন্য বলি মেন,                                চারি যুগ মধ্যে হেন,
কলির ভাগ্যে সীমা নাই।
সুন্দর নদীয়া পুরে                                  মাধব মিশ্রের ঘরে
কি অদ্ভুত আনন্দ বাধাই॥
বৈশাখের কুহুদিনে                                  জনমিলা শুঙক্ষণে
গৌরাঙ্গের প্রিয় গদাধর।
শ্রীমাধব রত্নাবতী                                   পুত্রমুখ দেখি অতি
উল্লাসে অধৈর্য্য নিরন্তর॥
কিবা গদাধর শোভা                                সভার নয়ন লোভা
যেন কত আনন্দের ধাম।
ঝলমল করে বর্ণ                                   জিনিয়া সে শুদ্ধ স্বর্ণ
সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর অনুপাম॥
যত নদীয়ার লোক                                পাসরিয়া দুঃখ শোক
পরস্পর কহে কুতূহলে।
মাধবের কিবা ভাগ্য                                হৈল যেন রত্ন লভ্য
না জানি কতেক পুণ্যফলে॥
বিপ্রপত্নীগণ আসি                                  আনন্দ-সাগরে ভাসি
রত্নাবতী মায়ে প্রশংসিয়া।
দেখিয়া সোণার সুতে                             ধান্য দুর্ব্বা দিয়া মাথে
আশীর্ব্বাদ করে হর্ষ হৈয়া॥
গদাধর প্রভাবেতে                                    বিবিধ মঙ্গল যাতে
বন্দীগণ করে ধাওয়া ধাই।
নরহরি কহে যেন                                     জনমে জনমে হেন
গদাইচাঁদের গুণ গাই॥


ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩৩-পৃষ্ঠা। কোন নরহরির পদ তা বলা নেই।

গদাধর পণ্ডিতের জন্মোত্সব।
॥ ধানশ্রী - যোতসমতাল॥

ধন্য ধন্য বলি মেন,                                চারিযুগ মধ্যে হেন,
কলির ভাগ্যের সীমা নাই।
সুন্দর নদীয়া পুরে,                                মাধব মিশ্রের ঘরে,
কি অদ্ভুত আনন্দ বাধাই॥
বৈশাখের কুহুদিনে,                                জনমিলা শুঙক্ষণে,
গৌরাঙ্গের প্রিয় গদাধর।
শ্রীমাধব রত্নাবতী,                                পুত্র মুখ দেখি অতি,
উল্লাসে অধৈর্য্য নিরন্তর॥
কিবা গদাধর শোভা,                              সভার নয়ন লোভা,
যেন কত আনন্দের ধাম।
ঝলমল করে বর্ণ,                                জিনিয়া সে শুদ্ধ স্বর্ণ,
সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর অনুপাম॥
যত নদীয়ার লোক,                              পাশরিয়া দুঃখ শোক,
পরস্পর কহে কুতূহলে।
মাধবের কিবা ভাগ্য,                               হৈল যেন রত্ন লভ্য,
না জানি কতেক পুণ্যফলে॥
বিপ্র পত্নীগণ আসি,                               আনন্দ সাগরে ভাসি,
রত্নাবতী মায়ে প্রশংসিয়া।
দেখিয়া সোণার সুতে,                           ধান্য দুর্ব্বা দিয়া মাথে,
আশীর্ব্বাদ করে হর্ষ হৈয়া॥
গদাধর প্রভাবেতে,                                বিবিধ মঙ্গল যাতে,
বন্দীগণ করে ধাওয়া ধাই।
নরহরি কহে যেন,                                  জনমে জনমে হেন,
গদাইচাঁদের গুণ গাই॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু কি আনন্দ শ্রীশচী ভুবনে
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪৯-পৃষ্ঠা। কোন কবি নরহরির তা বলা হয় নি।

॥ যথারাগ॥

আজু কি আনন্দ শ্রীশচীভুবনে রজনী প্রভাত কালে।
প্রিয়পরিকর মাঝে বিশ্বম্ভর বিলসে ভঙ্গিমা ভালে॥
যার যেই ভাব সে ভাবে ভাবিত সভারে করয়ে সুখী।
ভুবনমোহন গুণমণি হেন সুঘড় কভু না দেখি॥
বৃদ্ধ বৃদ্ধ নারী যত অতিশয় আতুর স্নেহের ভরে।
ও মুখচন্দ্রমা হেরি হেরি কহ ধৈরজ ধরিতে নারে॥
নয়নেতে বারি বহে অনিবার পরম আনন্দমনে।
নরহরি প্রাণ গৌরাঙ্গ চরিত পুনঃ পরস্পর ভণে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের ফলক্রয়।
ফলক্রয়।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥

আজু কি আনন্দ,                                শ্রীশচী ভবনে,
রজনী প্রভাত কালে।
প্রিয় পরিকর,                                   মাঝে বিশ্বম্ভর,
বিলসে ভঙ্গিমা ভালে॥
যার যেই ভাব,                             সে ভাবে ভাবিত,
সভারে করয়ে সুখী।
ভুবনমোহন,                                      গুণমণি হেন,
সুঘড় কভু না দেখি॥
বৃদ্ধ বৃদ্ধ নারি,                                  যত অতিশয়,
আতুর স্নেহের ভরে।
এমুখ চন্দ্রমা,                                  হেরি হেরি কহ,
ধৈরয ধরিতে নারে॥
নয়নেতে বারি,                                  বহে অনিবার,
পরম আনন্দ মনে।
নরহরি প্রাণ,                                  গৌরাঙ্গ চরিত,
পুন পরস্পর ভণে॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একদিন নিমাই প্রবেশি গৃহ মাঝে গো
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫২-পৃষ্ঠা। কোন কবি নরহরির তা বলা হয় নি।

॥ যথারাগ॥ (বিভাষ)

একদিন নিমাই                                    প্রবেশি গৃহ মাঝে গো
করিল দুরন্তপনা কত।
মিশাইল একসঙ্গে                                  চাউল ডাল নুন তৈল
দধি দুগ্ধ নবনীত ঘৃত॥
নিমাইর দৌরাত্ম্য                                  সহিতে না পারি মায়
লগুড় লইয়া এক হাতে।
নিমাইর পাছে পাছে                                   ধাইয়া চলিল, শিশু
দৌড়াইল মায়ের অগ্রেতে॥
উচ্ছিষ্ঠ হাঁড়ির রাশি                                    সেইখানে ছিল গো
নিমাই বসিল তারোপরে।
শচী কহে ছি ছি বাপ                                অশুচি তেজিয়া আয়
স্নান করি নিব তোরে ঘরে॥
শিশু কহে যে হাঁড়িতে                                বিষ্ণুর রাঁধিলে ভোগ
সে হাঁড়ি অশুচি কি প্রকারে।
অশুচি তোমার মনে                                আমি দেখি শুচি সব
বল মা অশুচি কি সংসারে॥
শিশু মুখে তত্ত্ব কথা                                 শুনিয়া অবাক মাতা
স্নান করাইয়া লয় কোলে।
এ শিশু ত শিশু নয়                                   বৈকুণ্ঠ-বিহারি হরি
পুত্র তব নরহরি বোলে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাত্সল্য রস।
॥ ভাটিয়ারি মিশ্র বিভাস - মধ্যম দুঠুকী॥

একদিন নিমাই,                                        প্রবেশি গৃহ মাঝে গো
করিল দুরন্তপনা কত।
মিশাইল একসঙ্গে,                                      চাউল ডাল নুন তৈল,
দধি দুগ্ধ নবনীত ঘৃত॥
নিমাইর দৌরাত্ম্য,                                    সহিতে না পারি মায়,
লগুড় লইয়া এক হাতে।
নিমাইর পাছে পাছে,                                    ধাইয়া চলিছে মায়ে,
(শিশু) দৌড়াইল মায়ের অগ্রেতে॥
উচ্ছিষ্ঠ হাঁড়ির রাশি,                                    সেইখানে ছিল গো,
নিমাই বসিল তারো পরে।
শচী কহে ছি ছি বাপ,                                অশুচি তেজিয়া আয়,
স্নান করি নিব তোরে ঘরে॥
শিশু কহে যে হাঁড়িতে,                                বিষ্ণুর রাঁধিলে ভোগ,
সে হাঁড়ি অশুচি কি প্রকারে।
অশুচি তোমার মনে,                                  আমি দেখি শুচি সব,
বল মা অশুচি কি সংসারে॥
শিশু মুখে তত্ত্ব কথা,                                  শুনিয়া অবাক মাতা,
স্নান করাইয়া লয় কোলে।
এ শিশু ত শিশু নয়,                                    বৈকুণ্ঠ-বিহারি হরি
পুত্র তব নরহরি বলে॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি হের দেখসিয়ে রঙ্গ
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৫৭৭-পৃষ্ঠা। পদটি কোন নরহরির তা বলা নেই।

নিদ্রা লীলা।
॥ পূরবী - দুঠুকী॥

সখি হের দেখসিয়ে রঙ্গ।
মণি মরকত,                                   কাঞ্চনে জড়িত,
নাগরী নাগর সঙ্গ॥ ধ্রু॥
শুতলি কিশোরী,                                নাগরের কোরে,
আলসে অবশ গা।
নিন্দালি সুন্দরী,                                আপনা পাসরি,
শ্যাম অঙ্গে দিয়ে পা॥
দিয়ে মুখে মুখ,                                ভুজলতা বেড়ি,
সুখে ঘুমায়ল দুহুঁ।
চরণ পরশে,                                  আনন্দ আবেশে,
জাগল নাগর পহুঁ॥
হেরইতে মুখ,                                    কত উঠে সুখ,
তরাসে হেলিছে গা।
পাছে নড়ে ধনি,                                     চাঁদ বদনী,
জাগিলে ঘুচাবে পা॥
ইহ রসভরে,                                       নিমগন পহুঁ,
মনেতে ভাবিয়া বাধা।
নরহরি বাণী,                                     শুনলো রমণী,
যে গুণে ভজিল রাধা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরত্নাকর পুথি থেকে প্রাপ্ত।

রসালস।
॥ বরাড়ী॥

সখি হের দেখ সিয়া রঙ্গ।
মণি মরকত                                কাঞ্চনে জড়িত
নাগরী নাগর সঙ্গ॥ ধ্রু॥
নাগরের কোরে                                শুতলি নাগরী
আবেশে অবশ গা।
নিন্দ যায় ধনী                                   ও চাঁদ-বদনী,
শ্যাম-অঙ্গে দিয়া গা॥
মুখে মুখ দিয়া                               ভুজ-লতা বেড়ি
সুখে ঘুমাওল দুহুঁ।
চরণ-পরশে                                আনন্দ-আবেশে,
জাগিলা নাগর-পহুঁ॥
হেরিতে ও মুখ                               চিতে উঠে সুখ
তরাসে হালিছে গা।
পাছে জাগে ধনী                                ও চাঁদ-বদনী,
জাগিলে ঘুচাবে পা॥
এই রস-ভরে                                   আছয়ে নাগর
ভাবিয়া মনেতে সাধা।
কহে নরহরি                                    শুনহ নাগর
এ-গুণে পায়্যাছ রাধা॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু সে বিনোদ-রায়
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২৮-
পৃষ্ঠা। এই পদটি গাঁড়াদহের পুথি থেকে প্রাপ্ত। এই পদ কোন কবি নরহরির তা বলা হয় নি।

রূপোল্লাস।
॥ ধানশী॥

কানু সে বিনোদ-রায়।
বিনোদ চূড়ায়                                বিনোদ বরিহা
উড়িছে বিনোদ-রায়॥ ধ্রু॥
বিনোদ কপালে                                বিনোদ-তিলক
বিনোদ বিনোদ সাজে।
বিনোদ-অধরে                                  বিনোদ-মুরলী
বিনোদ বিনোদ বাজে॥
বিনোদ-গলায়                                   বিনোদ মালা
বিনোদ বিনোদ দেলে।
কোন্ বিনোদিনী                                বিনোদ-গাঁথনি
গাঁথ্যাছে বিনোদ-ফুলে॥
বিনোদ-কটিতে                                  বিনোদ-বসন
বিনোদ-বিনোদ রাজে।
বিনোদ-চরণে                                    বিনোদ-নূপুর
বিনোদ-বিনোদ বাজে॥
কহে নরহরি                                     বিনোদ-নাগর
রহই কদম্ব-তলে।
কত বিনোদিনী                                বিনোদ হেরিয়া
কলসী ভাসাল্য জলে॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আপনা না চিনে কোপে পিয়ারী
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২৮-
পৃষ্ঠা। এই পদটি পদরসসার পুথি থেকে প্রাপ্ত। এই পদ কোন কবি নরহরির তা বলা হয় নি।

খণ্ডিতা।
॥ ধানশী॥

আপনা না চিনে                             কোপে পিয়ারী
আপনা না চিনে কোপে।
নয়ন-ভাঙর                                ভঙ্গিমা দেখিয়া
তরাসে নাগর কাঁপে॥ ধ্রু॥
সব ফুল নিয়া                                চন্দনে মাখিয়া
দাঁড়াল্য মানিনী আগে।
অঞ্জলি অঞ্জলি                              পায় দিছে ফেলি
ঠেলিয়া ফেলিছে রাগে॥
ও পদ-কমল                                পরশিতে চাহি
যদি বিহি নহে বামা।
তোমার চরণে                                  শরণ লইনুঁ
সদয় হইল রামা॥
এ কুল চাহিতে                                আকুল-অন্তর
ধৈরজ না মানে চিতে।
কহে নরহরি                                শুন লো সুন্দরি
কানু সনে কর প্রীতে॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নয়ানের কাজর বয়ানে লাগ্যাছে
ভণিতা নরহরি
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর অথবা নরহরি চক্রবর্তী।
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২৮-
পৃষ্ঠা। এই পদটি পদরসসার পুথি থেকে প্রাপ্ত। এই পদ কোন কবি নরহরির তা বলা হয় নি।

শ্রীরাধার উক্তি।
॥ বিভাষ॥

নয়ানের কাজর                                বয়ানে লাগ্যাছে
কালোর উপরে কালো।
প্রভাতে উঠিয়া                                দেখিলুঁ বদন
দিন যাবে আজ ভালো॥
তাম্বুলের দাগ                                নয়ানে লাগ্যাছে
ঘুমে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
আমা পানে চায়্যা                        ফিরিয়া দাঁড়াও হে
ভাল করি রূপ দেখি॥
নীল-কমল                                ঝামরু হৈয়াছে
মলিন হৈয়াছে দেহ।
কোন্ রসবতী                                পায়্যা রস নিধি
নিঙ্গাড়ি লৈয়াছে সেহ॥
কোন্ রসবতী                                পায়্যা প্রাণপতি
সবরস হরি নেল।
কমল-বদনে                                মধু পিবইতে
ভ্রমর-বরণ ভেল॥
কুটিল নয়নে                                কহিছে সুন্দরী
করিয়া অধিক তোরা।
কহে নরহরি                                আপন স্বভাব
ছাড়িতে না পারে চোরা॥

.            *************************              

=== নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . ===
নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . .   
সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . .   
বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . .  
নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . .   
নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর