| কবি নরহরি চক্রবর্তীর বৈষ্ণব পদাবলী |
| আরে মোর সোণার নিমাই ভণিতা নরহরি কবি নরহরি চক্রবর্তী। কবি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত ও সংকলিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৭৭২-পৃষ্ঠা। ॥ গীতে ধানশী॥ আরে মোর সোনার নিমাই। আপনার ঘর ছাড়ি, না যাবে পরের বাড়ি, বসিয়া খেলাবে এই ঠাঁই॥ ধ্রু॥ শিশুগণ খেলাইতে, আসিবে তোমার সাঁথে, এথাই রাখিবে তা সবারে। যখন যে চাও তুমি, তাহা আনি দিব আমি, কিসের অভাব মোর ঘরে॥ যদি কেহো কিছু কয়, তারে দেখাইহ ভয়, বাপের নিষেধ জানাইয়া। চঞ্চল বালক মেলে, বাড়ির বাহির গেলে, মায়ে কি ধরিতে পারে হিয়া॥ তিলেক আঁখের আড়ে, পরাণ না রহে ধড়ে, নরহরি জানে মোর দুখ। মায়ের বচন ধর, ঘরে বসি খেলা কর, সদা যেন দেখি চান্দ মুখ॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নরহরি চক্রবর্তী বিরচিত ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদ। ॥ ধানশী॥ আরে মোর সোণার নিমাই। আপনার ঘর ছাড়ি না যাবে পরের বাড়ী বসিয়া খেলাবে এই ঠাঁই॥ ধ্রু॥ শিশুগণ খেলাইতে আসিবে তোমার সাতে এথাই রাখিবে তা সবারে। যখন যে চাও তুমি তাহা আনি দিব আমি কিসের অভাব মোর ঘরে॥ যদি কেহ কিছু কয় তারে দেখাইও ভয় বাপের নিষেধ জানাইয়া। চঞ্চল বালকমেলে বাড়ীর বাহির গেলে মায়ে কি ধরিতে পারে হিয়া॥ তিলেক আঁখের আড়ে পরাণ না রহে ধড়ে নরহরি জানে মোর দুখ। মায়ের বচন ধর ঘরে বসি খেলা কর সদা যেন দেখি চাঁদমুখ॥ . ************************* === নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . === নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . . সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . . নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভাবে গর গর নিতাইসুন্দর ভণিতা নরহরি কবি নরহরি চক্রবর্তী কবি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত ও সংকলিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৮৭৪-পৃষ্ঠা। ॥ গীতে যথা মায়ুর॥ ভাবে গর গর, নিতাই সুন্দর, হেরি গোরা-মুখচান্দের ছটা। কত উঠে চিতে, নারে থির হৈতে, প্রতি অঙ্গ নব পুলক ঘটা॥ কিবা উনমাদ, খেনে সিংহনাদ, খেনে লোটায়য়ে ধরণীতলে। খেনে দীর্ঘশ্বাস, খেনে মহাহাস, খসে বাস ভাসে আঁখের জলে॥ খেনে যোড় লম্ফ, খেনে দেহে কম্প, খেনে ধায় কেহ ধরিতে নারে। খেনে কিবা কৈয়া, রহে থির হৈয়া, সামাইয়া বিশ্বম্ভরের কোরে॥ নিত্যানন্দে কোলে, লৈয়া নেত্রজলে, ভাসে কিবা পহুঁ প্রেমের রীতি। কহে নরহরি, শ্রীবাসাদি চারি, পাশে কান্দে কেউ না ধরে ধৃতি॥ এই পদটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নরহরি চক্রবর্তী বিরচিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের “নরহরি” ও “নরহরি দাস” ভণিতাযুক্ত পদের মধ্য থেকে নেওয়া বলে এই পদটি নরহরি চক্রবর্তীর পদ বলে বিবেচিত হয়েছে। ॥ মায়ুর॥ ভাবে গর গর নিতাইসুন্দর হেরি গোরাচাঁদের ছটা। কত উঠে চিতে নারে থির হৈতে প্রতি অঙ্গে নব পুলক ঘটা॥ কিবা উনমাদ ক্ষণে সিংহনাদ ক্ষণে লোটে ধরাতলে। ক্ষণে দীর্ঘশ্বাস ক্ষণে মহাহাস খসে বাস ভাসে আঁখের জলে॥ ক্ষণে জোর লম্ফ ক্ষণে দেহ কম্প খেনে যায় কেহ ধরিতে নারে। ক্ষণে কিবা কৈয়া রহে থীর হৈয়া সামাইয়া বিশ্বম্ভরের কোরে॥ নিত্যানন্দে কোলে লৈয়া নেত্রজলে ভাসে কিবা প্রভু প্রেমের রীতি। কহে নরহরি শ্রীবাসাদি চারি পাশে কাঁদে কেহ না ধরে ধৃতি॥ . ************************* === নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . === নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . . সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . . নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ও মোর পরাণ বন্ধু শ্যামানন্দ সুখসিন্ধু ভণিতা নরহরি কবি নরহরি চক্রবর্তী। কবি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত ও সংকলিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, পঞ্চদশ তরঙ্গ, ১০৫৯-পৃষ্ঠা। ॥ গীতে যথা---কামোদঃ॥ ও মোর পরাণ বন্ধু, শ্যামানন্দ সুখসিন্ধু, সদাই বিহ্বল গোরা-গুণে। গৃহ পরিহরি দূরে, আনন্দে অম্বিকাপুরে, আইলেন প্রভুর ভবনে॥ হৃদয়চৈতন্য দেখি, অঝরে ঝরয়ে আঁখি, ভূমিতে গড়য়ে লোটাইয়া। শিরে ধরি সে চরণ, করি আত্ম সমর্পণ, এক ভিতে রহে দাঁড়াইয়া॥ দেখি শ্যামানন্দ রীত, ঠাকুর করিয়া প্রীত, নিকটে রাখিয়া শিষ্য কৈল। করি অনুগ্রহ অতি, শিখাইয়া ভক্তি-রীতি, নিতাইচৈতন্যে সমর্পিল॥ কথোক দিবস পরে, পাঠাইতে ব্রজপুরে, শ্যামানন্দ ব্যাকুল হইলা। প্রভু নিতাই চৈতন্য, শ্যামানন্দে কৈলা ধন্য, যাত্রাকালে আজ্ঞা-মালা দিলা॥ শ্যামানন্দ পথে চলে, ভাসয়ে আঁখির জলে, সোঙরিয়া প্রভুর গুণগণ। একাকী কথোক দিনে, প্রবেশিলা ব্রজভূমে, বহু তীর্থ করিয়া ভ্রমণ॥ দেখিয়া শ্রীবৃন্দারণ্য, আপনা মানয়ে ধন্য, আনন্দে ধরিতে নারে থেহা। সিক্ত হৈয়া নেত্রজলে, লোটায় ধরণী-তলে, বিপুল পুলকময় দেহা॥ গিয়া গিরি গোবর্দ্ধনে, কৈল যে আছিল মনে, শ্রীরাধাকুণ্ডের তটে আসি। প্রেমায় বিহ্বল হৈলা, দেখি অনুগ্রহ কৈলা, শ্রীদাসগোসাই গুণরাশি॥ শ্রীজীব নিকটে গেলা, নিজ পরিচয় দিলা, তেহোঁ কৃপা কৈলা বাত্সল্যেতে। যেবা মনোরথ ছিল, তাহা যেন পূর্ণ হৈল, হৃদয়চৈতন্য-কৃপা হৈতে॥ ভ্রমিলা দ্বাদশ বন, কৈলা গ্রন্থ অধ্যয়ন, হৈলা অতি নিপুণ সেবায়। শ্রীগৌড়-অম্বিকা হৈয়া, রহিলা উত্কলে গিয়া, শ্রীগোস্বামিগণের আজ্ঞায়॥ পাষণ্ডী-অসুর-গণে, মাতাইলা গোরাগুণে, কারে না বা কৈলা ভক্তিদান। অধম আনন্দে ভাসে, শ্যামানন্দ-কৃপালেশে, কেবা না পাইল পরিত্রাণ॥ কে জানিবে তাঁর তত্ত্ব, সদা সঙ্কীর্ত্তনে মত্ত, অবনীতে বিদিত মহিমা। নিজ-পরিকর-সঙ্গে, বিলসে পরমরঙ্গে, উত্কলে সুখের নাই সীমা॥ যে বারেক দেখে তাঁরে, সে ধৃতি ধরিতে নারে, কিবা সে মূরতি মনোহর। নরহরি কহে কভু, রসিকানন্দের প্রভু, হবে কি এ নয়নগোচর॥ এই পদটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নরহরি চক্রবর্তী বিরচিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের “নরহরি” ও “নরহরি দাস” ভণিতাযুক্ত পদের মধ্য থেকে নেওয়া বলে এই পদটি নরহরি চক্রবর্তীর পদ বলে বিবেচিত হয়েছে। ॥ কামোদ॥ ও মোর পরাণ-বন্ধু শ্যামানন্দ সুখসিন্ধু সদাই বিহ্বল গোরাগুণে। গৃহ পরিহরি দূরে আনন্দে অম্বিকাপুরে আইলেন প্রভুর ভবনে॥ হৃদয় চৈতন্য দেখি অঝোরে ঝরয়ে আঁখি ভূমিতে গড়য়ে লোটাইয়া। শিরে ধরি সে চরণ করি আত্মসমর্পণ একচিতে রহে দাঁড়াইয়া॥ দেখি শ্যামানন্দ রীত ঠাকুর করিয়া প্রীত নিকটে রাখিয়া শিষ্য কৈল। করি অনুগ্রহ অতি শিখাইয়া ভক্তিরীতি নিতাই চৈতন্যে সমর্পিল॥ কতক দিবস পরে পাঠাইতে ব্রজপুরে শ্যামানন্দ ব্যাকুল হইলা। প্রভু নিতাই চৈতন্য শ্যামানন্দে কৈলা ধন্য যাত্রাকালে আজ্ঞা মালা দিলা॥ শ্যামানন্দ পথে চলে ভাসয়ে আঁখের জলে সোঙরিয়া প্রভুর গুণগণ। একাকী কতক দিনে প্রবেশিলা বৃন্দাবনে বহু তীর্থ করিয়া ভ্রমণ॥ দেখিয়া শ্রীবৃন্দারণ্য আপনা মানয়ে ধন্য আনন্দে ধরিতে নারে থেহা। সিক্ত হইয়া নেত্র জলে লোটায় ধরণীতলে বিপুল পুলকময় দেহা॥ গিয়া গিরি গোবর্দ্ধনে কৈল যা আছিল মনে শ্রীরাধাকুণ্ডের তটে আসি। প্রেমায় বিহ্বল হৈলা দেখি অনুগ্রহ কৈলা শ্রীদাস গোঁসাই গুণরাশি॥ শ্রীজীব নিকটে গেলা নিজ পরিচয় দিলা তেঁহ কৃপা কৈলা বাত্সল্যেতে। যেবা মনোরথ ছিল তাহা যেন পূর্ণ হৈল হৃদয়-চৈতন্য-কৃপা হৈতে॥ ভ্রমিলা দ্বাদশ বন কৈলা গ্রন্থ অধ্যয়ন হৈলা অতি নিপুণ সেবায়। শ্রীগৌড় অম্বিকা হৈয়া রহিলা উত্কলে গিয়া শ্রীগোস্বামিগণের আজ্ঞায়॥ পাষণ্ডী অসুরগণে মাতাইলা গোরাগুণে কারে না বা কৈলা ভক্তিদান। অধম আনন্দে ভাষে শ্যামানন্দ-কৃপালেশে কেবা না পাইব পরিত্রাণ॥ কে জানিবে তাঁর তত্ত্ব সদা সঙ্কীর্ত্তনে মত্ত অবনীতে বিদিত মহিমা। নিজ পরিকর সঙ্গে বিলসে পরম রঙ্গে উত্কলে সুখের নাহি সীমা॥ যে বারেক দেখে তারে সে ধৃতি ধরিতে নারে কিবা সে মূরতি মনোহর। নরহরি কহে কভু রসিকানন্দের প্রভু হবে কি এ নয়নগোচর॥ . ************************* === নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . === নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . . সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . . নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ও মোর করুণাময় শ্রীঠাকুর মহাশয় ভণিতা নরহরি কবি নরহরি চক্রবর্তী। কবি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত ও সংকলিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, চতুর্দশ তরঙ্গ, ১০৫০-পৃষ্ঠা। ॥ গীতে যথা---কামোদঃ॥ ও মোর করুণাময়, শ্রীঠাকুর-মহাশয়, নরোত্তম প্রেমেপ মূরতি। কিবা সে কোমল তনু, শিরীষকুসুম জনু, জিনিয়া কনক দেহ-দ্যুতি॥ অলপ বয়স্ তার, কোন সুখ নাহি ভায়, গোরাগুণ শুনি সদা ঝুরে। রাজ্যভোগ তেয়াগিয়া, অতি অলক্ষিত হৈয়া, গমন করিলা ব্রজপুরে॥ প্রবেশিয়া বৃন্দাবনে, পরম আনন্দমনে, লোকনাথে আত্মসমর্পিল। কৃপা করি লোকনাথ, করিলেন আত্মসাৎ, রাধা-কৃষ্ণ মন্ত্র দীক্ষা দিল॥ নরোত্ত-চেষ্টা দেখি, বৃন্দাবনে সবে সুখী, প্রাণের সমান করে স্নেহ। শ্রীনিবাসাচার্য্য সনে, যে মর্ম্ম তা কেবা জানে, প্রাণ এক ভিন্নমাত্র দেহ॥ শ্রীরাধাবিনোদে দেখি, সদাই জুড়ায় আঁখি, প্রভু-লোকনাথ-সেবারত। ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়নে, মহানন্দ বাঢ়ে মনে, পূর্ণ হৈল অভিলাষ যত॥ প্রভু-অনুমতি-মতে, শ্রীব্রজমণ্ডল হৈতে, শ্রীগৌড়মণ্ডলে প্রবেশিলা। প্রভু-অনুগ্রহবলে, নবদ্বীপ নীলাচলে, ভক্তগৃহে ভ্রমণ করিলা॥ কিবা সে মধুর রীতি, খেতরিগ্রামেতে স্থিতি, সেবে গৌর শ্রীরাধারমণে। শ্রীবল্লবীকান্ত নাম, রাধাকান্ত রসধাম, রাধাকৃষ্ণ শ্রীব্রজমোহনে॥ এ ছয় বিগ্রহ মেন, সাক্ষাৎ বিহরে হেন, শোভা দেখে কেবা নাহি ভুলে। প্রিয়-রামচন্দ্র-সঙ্গে, নরোত্তম মহারঙ্গে, ভাসে প্রেমরসের হিল্লোলে॥ নরোত্তম গুণ যত, কে তাহা কহিবে কত, প্রেমবৃষ্টি যাঁর সঙ্কীর্ত্তনে। শ্রীঅদ্বৈত নিত্যানন্দ, গণসহ গৌরচন্দ্র, নাচয়ে দেখিল ভাগ্যবানে॥ গৌরগণ-প্রিয় অতি, নরোত্তম মহামতি, বৈষ্ণব সেবনে যাঁর ধ্বনি। কি অদ্ভুত দয়াবান্, কারে বা না করে দান, নির্ম্মল ভকতি-চিন্তামণি॥ পাষণ্ডী-অসুরগণে, মাতাইলা গোরাগুণে, বিহ্বল হইয়া প্রেমাবেশে। অলৌকিক ক্রিয়া যার, হেন কি হইবে আর, সে না যশঃ ঘোষে দেশে দেশে॥ কহে নরহরি হীন, হ’বে কি এমন দিন, নরোত্তমপদে বিকাইব। সঘনে দু’বাহু তুলি, প্রভু-নরোত্তম বলি, কাঁদি কি ধূলায় লোটাইব॥ এই পদটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নরহরি চক্রবর্তী বিরচিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের “নরহরি” ও “নরহরি দাস” ভণিতাযুক্ত পদের মধ্য থেকে নেওয়া বলে এই পদটি নরহরি চক্রবর্তীর পদ বলে বিবেচিত হয়েছে। ॥ কামোদ॥ ও মোর করুণাময় শ্রীঠাকুর মহাশয় নরোত্তম প্রেমেপ মূরতি। কিবা সে কোমল তনু শিরীষ কুসুম জনু জিনিয়া কনক দেহজ্যোতি॥ অল্প বয়স তায় কোন সুখ নাহি ভায় গোরাগুণ শুনি সদা ঝুরে। রাজ্যভোগ তেয়াগিয়া অতি লালায়িত হৈয়া গমন করিলা ব্রজপুরে॥ প্রবেশিয়া বৃন্দাবনে পরম আনন্দমনে লোকনাথে আত্ম সমর্পিল। কৃপা করি লোকনাথ করিলেন আত্মসাথ রাধাকৃষ্ণ মন্ত্রদীক্ষা দিল॥ নরোত্তম-চেষ্টা দেখি বৃন্দাবনে সবে সুখী প্রাণের সমান করে স্নেহ। শ্রীনিবাসাচার্য্য সনে যে মর্ম্ম তা কেবা জানে প্রাণ এক ভিন্নমাত্র দেহ॥ শ্রীরাধাবিনোদ দেখি সদাই জুড়ায় আঁখি প্রভু লোকনাথ-সেবারত। ভক্তিশাস্ত্র-অধ্যয়নে মহানন্দ বাঢ়ে মনে পূর্ণ হৈল অভিলাষ যত॥ প্রভু-অনুমতি মতে শ্রীব্রজমণ্ডল হৈতে শ্রীগৌড়মণ্ডলে প্রবেশিলা। প্রভু অনুগ্রহ বলে নবদ্বীপ নীলাচলে ভক্ত-গৃহে ভ্রমণ করিলা॥ কিবা সে মধুর রীতি খেতুরী গ্রামেতে স্থিতি সেবে গৌর শ্রীরাধারমণে। শ্রীবল্লভীকান্ত নাম রাধাকান্ত রসধাম রাধাকৃষ্ণ শ্রীব্রজমোহনে॥ এ ছয় বিগ্রহ মেন সাক্ষাত বিহরে হেন শোভা দেখি কেবা নাহি ভুলে। প্রিয় রামচন্দ্র সঙ্গে নরোত্তম মহারঙ্গে ভাসে প্রেমরসের হিল্লোলে॥ নরোত্তম গুণ যত কে তাহা কহিবে কত প্রেমবৃষ্টি যাঁর সঙ্কীর্ত্তনে। শ্রীঅদ্বৈত নিত্যানন্দ গণ সহ গৌরচন্দ্র নাচয়ে দেখিল ভাগ্যবানে॥ গৌরগণ প্রিয় অতি নরোত্তম মহামতি বৈষ্ণব সেবনে যার ধ্বনি। কি অদ্ভুত দয়াবান কারে বা না করে দান নির্ম্মল ভকতি চিন্তামণি॥ পাষণ্ডী অসুরগণে মাতাইলা গোরাগুণে বিহ্বল হইয়া প্রেমাবেশে। অলৌকিক ক্রিয়া যার হেন কি হইবে আর সে না যশ ঘোষে দেশে দেশে॥ কহে নরহরি হীন হবে কি এমন দিন নরোত্তম পদে বিকাইব। সঘনে দুবাহু তুলি প্রভু নরোত্তম বলি কাঁদিয়া ধূলায় লোটাইব॥ . ************************* === নরহরির বিভিন্ন সূচীতে যেতে . . . === নরহরি নামের কবিদের একত্রে সকল পদাবলীর সূচীতে . . . সকল নরহরি ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরি দাস ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . সকল নরহরিয়া ভণিতাযুক্ত পদের সূচীতে . . . বিভিন্ন পদ-সংকলনে প্রাপ্ত অনির্দিষ্ট নরহরির পদের সূচীতে . . . নরহরি সরকারের নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর নির্দিষ্ট ভাবে জ্ঞাত সকল পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের পদের সূচীতে . . . নরহরি চক্রবর্তীর বিভিন্ন সংকলনে প্রাপ্ত পদের সূচীতে . . . মিলনসাগর |